প্রশ্ন ফাঁস রোধে বিকল্প ব্যবস্থা

পরীক্ষায় পাসের হার কিংবা শিক্ষার মান নয়, মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। প্রাথমিক সমাপনী থেকে শুরু করে এমন কোনো পরীক্ষা নেই, যেখানে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটছে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলতে গেলে গলদঘর্ম। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব হয়নি। এসএসসিতে প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায়ই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছে। বিকাশ নম্বরে টাকা লেনদেন হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অন্তত ১৫৩ জন গ্রেপ্তার হওয়ার পরও রহস্য উদ্ঘাটনে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি আছে বলে মনে হয় না। প্রযুক্তি ও জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ছয়টি গ্রুপের অর্ধশতাধিক অ্যাডমিনকে নজরদারিতে রাখার কথা জানানো হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে। কিন্তু এরই মধ্যে আগামী এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন দেওয়ার আগাম ঘোষণা দিয়েছে শতাধিক গ্রুপ, যাদের হোতাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা গোয়েন্দা তৎপরতা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব হবে না। এর জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। এইচএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেশ কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস হলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এবার বাড়তি সেট রাখা হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা শতাধিক কেন্দ্রও বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বোপরি ট্রেজারিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। এবার প্রশ্নপত্রের একাধিক সেটও ছাপার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে চার সেট প্রশ্ন করে লটারির মাধ্যমে দুই সেট প্রশ্ন ছাপা হতো। এবার চার সেটই ছাপা হবে। এতে মন্ত্রণালয়ের হাতে একাধিক বিকল্প থাকবে। অন্যদিকে প্রশ্ন প্রণয়ন, গ্র“ফ দেখা থেকে শুরু করে ছাপা ও বিতরণ পর্যন্ত যে দীর্ঘ কার্যক্রম, তা পরিচালনায় সিআইডির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, অটোমেটিক মেশিনে প্রশ্নপত্র ছাপানো। যেখানে ছাপা শুরু হওয়া থেকে শুরু করে প্যাকেট হওয়া পর্যন্ত কোথাও মানুষের হাতের স্পর্শ থাকবে না। একই সঙ্গে প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে শুরু করে ছাপার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর গোয়েন্দা সংস্থাকে দেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য বাক্সে প্রশ্নপত্র প্যাকেট করা হলে তা দ্বিতীয়বার বন্ধ করার কোনো উপায় থাকবে না।
প্রশ্ন ফাঁস এখন একটি বড় সামাজিক ব্যাধির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ থেকে মুক্তির পথ খুঁজে বের করতে না পারলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কাজেই প্রশ্ন ফাঁস রোধে সম্ভব সব ব্যবস্থা নিতে হবে। যেকোনো মূল্যে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে হবে।