দারিদ্র্যতার কারণ ও প্রতিকার

॥ মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান ॥

(পূর্ব প্রকাশের পর)
আল্লাহ্ সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।’’ ‘‘আল-কুরআন, ১১:১১৫’’। আর তাই হাত পা গুটিয়ে বসে কেবল আল্লাহর উপর ভরসা করে থাকার মানসিকতা ত্যাগ করে হালাল কর্মের মাধ্যমে নিজ দারিদ্র্য মোচনের চেষ্টায় ধৈর্য্য ধারণ করলে আল্লাহ্ সহায় হন।
ক্ষমতার কেন্দ্রায়ন ও সংহতকরণ: আল্লাহ্ বলেন: ‘‘বল, হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ্! তুমি যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর এবং যাহার নিকট হইতে ইচ্ছা ক্ষমতা কাড়িয়া লও; যাহাকে ইচ্ছা তুমি পরাক্রমশালী কর, আর যাহাকে ইচ্ছা তুমি হীন কর। কল্যাণ তোমার হাতেই। নিশ্চয় তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান’’। ‘‘আল-কুরআন, ৩:২৬’’। সুতরাং সার্বভৌম ক্ষমতা কেবল আল্লাহর হাতেই কেন্দ্রীভূত এবং সংহত, মানুষের হাতে নয়। কিন্তু আমরা যা দেখি তা হলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা জনগণের নামে মুষ্টিমেয় ক্ষমতাশালী লোকের হাতে কেন্দ্রীভূত এবং সংহত হয়, যাদের আর্থ-সামাজিক সিদ্ধান্ত প্রায়শ: দরিদ্রজনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। আল্লাহ্র বক্তব্য হচ্ছে: ‘‘যাহারা তাহাদের প্রতিপালকের আহবানে সাড়া দেয়, সালাত কায়েম করে, নিজেদের মধ্যে পরামর্শের মাধ্যমে নিজেদের কর্ম সম্পাদন করে এবং তাহাদিগকে আমি যে রিযক দিয়াছি তাহা হইতে ব্যয় করে’’। ‘‘আল-কুরআন, ৪৪:৩৮’’। তারাই সফলকাম হয়। এখানে উত্তরাধিকার’’ ‘‘আল-কুরআন, ৪:১১-১২’’ ও যাকাতের ‘‘আল-কুরআন, ২:৪৩’’ শরীয়তি বিধান মেনে সম্পদের ন্যায্য ব্যয় ও বণ্টনের মাধ্যমে দরিদ্রদের মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা বলা হয়েছে, যা বিত্তশালীরা এড়িয়ে চলে। আল্লাহ্ ন্যায়বিচারক, তাই তিনি বলেন: ‘‘তিনিই তোমাদিগকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করিয়াছেন। সুতরাং কেহ কুফরী করিলে তাহার কুফরীর জন্য সে নিজেই দায়ী হইবে। কাফিরদের কুফরী কেবল উহাদের প্রতিপালকের ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং কাফিরদের কুফরী উহাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে’’। ‘‘আল-কুরআন, ৩৫:৩৯’’। একমাত্র আল্লাহ্ ও তাঁর দেয়া বিধানকে সকল ক্ষমতার উৎস ও কেন্দ্র বিবেচনা করে দরিদ্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে সমাজ ও রাষ্ট্রকে ক্ষমতা ও বিত্তের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। কেননা আল্লাহ্ বলেন: ‘‘তোমার প্রতিপালক এইরূপ নহেন যে, তিনি অন্যায়ভাবে জনপদ ধ্বংস করিবেন অথচ উহার অধিবাসীরা পুন্যবান’’। ‘‘আল-কুরআন, ১১:১১৭’’। অতএব, দারিদ্র্যমুক্ত পুণ্যবান জাতি হিসেবে ইহলোকে ও পরলোকে আত্মরক্ষা ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে ইসলামের আলোকে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের কল্যাণে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া জরুরি।
রিবা: আল্লাহ্ বলেন: ‘‘মানুষের ধনে বৃদ্ধি পাইবে বলিয়া তোমরা যে সুদ দিয়া থাক, আল্লাহ্র দৃষ্টিতে তাহা ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করে না। কিন্তু আল্লাহর সন্তষ্টি লাভের জন্য যে যাকাত তোমরা দিয়া থাক তাহাই বৃদ্ধি পায়; উহারাই সমৃদ্ধিশালী’’ ‘‘আল-কুরআন, ৩০:৩৯’’। আল্লাহ আরো বলেন: ‘‘ভাল ভাল যাহা ইয়াহুদীদের জন্য বৈধ ছিল আমি তাহা উহাদের জন্য অবৈধ করিয়াছি তাহাদের সীমালংঘনের জন্য এবং আল্লাহ্র পথে অনেককে বাধা দেওয়ার জন্য, এবং তাহাদের সুদ গ্রহণের জন্য, যদিও উহা তাহাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হইয়াছিল; এবং অন্যায়ভাবে লোকের ধন-সম্পদ গ্রাস করার জন্য’’। ‘‘আল-কুরআন, ৪:১৬০-১৬১’’। ‘‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন’’। ‘‘আল-কুরআন, ২:২৭৬’’। এর অর্থ এই যে, জনগণের দারিদ্র্য মোচনের ক্ষেত্রে সুদ কোন কাজেই আসে না বরং এর মাধ্যমে দরিদ্রের ধন-সম্পদ সুকৌশলে আত্মসাৎ ও গ্রাস করে কতিপয় বিত্তশালী আরো ধনী হয় আর জনগণের দারিদ্র্য বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ্ বলেন: ‘‘হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করিও না।’’ ‘‘আল-কুরআন, ৪:২৯’’। তাই ইহকাল ও পরকালে সফলতা অর্জনের জন্য আল্লাহ্ বিত্তশালীদেরকে সুদে দরিদ্রদের ঋণ দেয়ার বদলে দান করার কাজে উৎসাহিত করেন। আল্লাহ্ সুদকে নিরুৎসাহিত করে উপদেশ দেন: ‘‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং সুদের যাহা বকেয়া আছে তাহা ছাড়িয়া দাও যদি তোমরা মুমিন হও’’। ‘‘আল-কুরআন, ২:২৭৮’’। যুগে যুগে প্রমাণিত হয়েছে সুদী ব্যবসা ব্যাপক জনগণের দারিদ্র্যের মূল; মুষ্টিমেয় লোক এতে উপকৃত হয় এবং সমাজে দারিদ্র্য, পাপ ও বৈষম্য বাড়ে। ‘‘কযধষবফ, ঝধৎধিৎ গফ. ঝধরভঁষষধয, ঋষধংি ড়ভ ঃযব চৎবাধরষরহম গরপৎড়-পৎবফরঃ ঋরহধহপরহম ঝুংঃবস ধহফ ঝবধৎপয ভড়ৎ ধহ ওংষধসরপ অষঃবৎহধঃরাব, উযধশধ, ঞযড়ঁমযঃং ড়হ ঊপড়হড়সরপং, ওংষধসরপ ঊপড়হড়সরপং জবধংবধৎপয ইঁৎবধঁ, ঠড়ষ. ২১, ঘড়. ০২, অঢ়ৎরষ-ঔঁহব ২০১১, চঢ়, ২৭-৫০.’’
দুর্নীতির প্রভাব: আল্লাহ্ বলেন: ‘‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করিও না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিয়দংশ জানিয়া শুনিয়া অন্যায়রূপে গ্রাস করিবার উদ্দেশ্যে উহা বিচারকগণের নিকট পেশ করিও না’’। ‘‘আল-কুরআন, ২:১৮৮’’। সমাজের প্রভাবশালীদের অনেকেরই আল্লাহর এ নির্দেশ উপেক্ষা করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং দরিদ্র শ্রেণীর লোকদের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করার হীন প্রচেষ্টা প্রায়শ: আমাদের চোখে পড়ে। এ জাতীয় দুর্নীতির প্রভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দরিদ্র আরো দরিদ্র এবং ক্ষেত্র বিশেষে নি:স্ব হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও ঘুষ, প্রতারণা, জুয়া, মাদক, বাজারে পণ্যাদির ব্যাপারে ভুয়া প্রচারণা ও ওজনে কম দেয়া ইত্যাদি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে মহল বিশেষ অন্যায়ভাবে নিরীহ ও দরিদ্র শ্রেণীর লোকদের ঠকিয়ে থাকে। আল্লাহ্ বলেন: ‘‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা উহা বর্জন কর যাহাতে তোমরা সফলকাম হইতে পার’’। ‘‘আল-কুরআন, ৫:৯০’’। আল্লাহ্ আরো বলেন: ‘‘তোমরা মাপ ও ওজন ঠিকভাবে দিবে, লোকদিগকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবে না এবং দুনিয়ায় শান্তিস্থাপনের পর বিপর্যয় ঘটাইবে না; তোমরা মুমিন হইলে তোমাদের জন্য ইহা কল্যাণকর’’। ‘‘আল-কুরআন, ৭:৮৫’’। শ্রমিকের পারিশ্রমিক নির্ধারণের ক্ষেত্রেও দেখা যায় ধনীক শ্রেণী শ্রমিককে পূর্ণমাত্রায় খাটিয়েও তার পারিশ্রমিক ন্যায্য ও সঠিক পরিমাণে নিয়মিত দেয় না, এবং প্রভাবশালীরা লোকদের নিকট থেকে তাদের প্রাপ্য পুর্ণমাত্রায় আদায় করে কিন্তু অপরের প্রাপ্য সঠিকভাবে পরিশোধ করে না। এ বিষয়ে আল্লাহ্ বলেন: ‘‘দুর্ভোগ তাহাদের জন্য যাহারা মাপে কম দেয়, যাহারা লোকের নিকট হইতে মাপিয়া লইবার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে এবং যখন তাহাদের জন্য মাপিয়া অথবা ওজন করিয়া দেয়, তখন কম দেয়। উহারা কি চিন্তা করে না যে, উহারা পুনরুত্থিত হইবে মহাদিবসে’’? ‘‘আল-কুরআন, ৮৩:১-৫’’। মহাপ্রভু সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ মানুষের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণে ন্যায়ের পক্ষে এবং যাবতীয় দুর্নীতির বিপক্ষে।
উপসংহার ঃ এ দুনিয়ায় ধনী দরিদ্রের বৈষম্য মানুষেরই সৃষ্টি। এ পৃথিবীর যাবতীয় নেয়ামত আল্লাহ্ তাআলা সকল মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন। এর মধ্যে কিছু নেক বান্দা আছেন যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অতি সাধারণ ও পার্থিব লোভ-লালসাহীন সৎ জীবন যাপন করতে ভালবাসেন এবং তাতেই অভ্যস্ত ও সন্তুষ্ট। আপাত দৃষ্টিতে বৈষয়িক লোকের কাছে তাঁদের দরিদ্র মনে হলেও প্রকৃত অর্থে আধ্যাত্মিক বিবেচনায় তাঁরা এতটাই উন্নত ও সমৃদ্ধ যে, এ পৃথিবীর ধন-দৌলতের প্রতি তাঁদের কোন লোভ বা মোহ নেই। এ লক্ষ্যে তাঁরা নিজের বিপুল অর্থ-সম্পদও নির্দ্বিধায় অভাবী জনগণের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে নিজের জন্য তেমন কিছুই রাখেন না। তাঁদের পার্থিব দৃষ্টিভঙ্গি আল্লাহভীতি এবং ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ নির্ভর। সাধারণ সংসারাসক্ত লোকের কাছে তাঁদের বৈষয়িক আচরণ বোধগম্য না হলেও তাঁরা আল্লাহকে বুঝেন এবং আল্লাহ্ও তাঁদের বুঝেন। এতেই তাঁরা সন্তুষ্ট। ইসলামী পরিভাষায় এঁদের যাহিদ বলা হয়েছে।
এ থেকে এমন অনুমান করার কোন সুযোগ নেই যে, ইসলাম সংসার ধর্ম বর্জনকে আদর্শায়িত করে। এ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব নবী করীম স. সংসার জীবন যাপন, রাষ্ট্র পরিচালনা, যুদ্ধ পরিচালনা ও যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং ধর্ম প্রচার-সবই করেছেন। তবে যেটা মনে রাখা দরকার তা হলো এ সবই তিনি করেছেন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য। তিনি আদর্শ মানুষ ছিলেন, আদর্শ স্বামী ছিলেন এবং সমগ্র মানব জাতির সামনে তাঁর জীবন সর্বকারীন আদর্শ এবং অনুকরণীয়। তিনি দারিদ্র্যকে অপছন্দ করতেন ঠিকই কিন্তু দরিদ্রদের ভালবাসতেন বলে দরিদ্র্যের মতো জীবন যাপন করতেন। তাঁর সাহাবীরাও তাই করতেন। আল্লাহ্ বলেন: ‘‘যে কেহ পার্থিব জীবন ও উহার শোভা কামনা করে, দুনিয়াতে আমি উহাদের কর্মের পূর্ণ ফল দান করি এবং সেথায় তাহাদিগকে কম দেওয়া হইবে না। উহাদের জন্য আখিরাতে অগ্নি ব্যতীত অন্য কিছুই নাই এবং উহারা যাহা করে আখিরাতে তাহা নিষ্ফল হইবে এবং উহারা যাহা করিয়া থাকে তাহা নিরর্থক’’। ‘‘আল-কুরআন, ১১:১৫-১৬। আর তাই আল্লাহ্ বলেন: ‘‘যাহারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাহাদিগকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে আল্লাহ্ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখিবেন এবং যাহারা যালিম আল্লাহ্ উহাদিগকে বিভ্রান্তিতে রাখিবেন। আল্লাহ্ যাহা ইচ্ছা করেন’’। ‘‘আল-কুরআন, ১৪:২৭,’’।
আমরা উপরে উল্লেখ করেছি দুনিয়াতে পার্থিব আয় বণ্টনের ব্যাপারে ইসলাম শরীয়াভিত্তি ন্যায্য সমবণ্টনে বিশ্বাসী। তাই আল্লাহ্ মানবজাতিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন: ‘‘জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিবে। কিয়ামতের দিন তোমাদিগকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হইবে। যাহাকে অগ্নি হইতে দূরে রাখা হইবে এবং জান্নাতে দাখিল করা হইবে সে-ই সফলকাম এবং পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়। তোমাদিগকে নিশ্চয় তোমাদের ধনৈশ্বর্য ও জীবন সম্বন্ধে পরীক্ষা করা হইবে’’। ‘‘আল-কুরআন, ৩:১৮৫-১৮৬’’। পার্থিব জীবনে যাবতীয় ভোগ-বিলাস-ব্যসন, দুর্নীতি, অন্যায়, অবিচার, ব্যভিচার হতে মুখ ফিরিয়ে আল্লাহ্ নির্দেশিত পথে সংযমী জীবন যাপন করে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই মানব জীবনের লক্ষ্য বলে ইসলাম বিবেচনা করে।
আজ কাল কেউ কেউ মনে করেন, ‘‘কুরআনের সামাজিক বিষয় ও আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোর মধ্যে অবশ্যই একটি পার্থক্য নিরূপণ করতে হবে। প্রথমটি যেহেতু সপ্তম শতকের আরবের সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রদত্ত হয়েছে, সেহেতু বর্তমান যুগ-সমস্যার প্রেক্ষিতে তা অসঙ্গতিপূর্ণ; অতএব তা পরিত্যাজ্য এবং কেবলমাত্র আধ্যাত্মিক অনুশাসনগুলোই চিরন্তন সত্য রূপে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য। তাঁরা এ বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। তাঁরা এটাও ভুলে যান যে, পাশ্চাত্যজগত এ যাবৎ যত অবদান পেশ করেছে, ইসলামের সৌন্দর্য ও অবদান সে তুলনায় অপরিসীম ও অতুলনীয়’’। ‘‘জামিলা, মরিয়ম, পাশ্চাত্য জড়বাদের দার্শনিক ভিত্তি: ইসলামী দর্শন, ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ৪:১৫০-১৫১’’। ইসলামী বিধি-বিধানের এ জাতীয় পছন্দ ও সুবিধা মাফিক ব্যবহার আল্লাহ্ পছন্দ করেন না এবং তিনি বলেন, “যাহারা আল্লাহকে অস্বীকার করে ও তাঁহার রাসূলদিগকেও এবং আল্লাহে ও তাঁহার রাসূলের মধ্যে ঈমানের ব্যাপারে তারতম্য করিতে চাহে এবং বলে, আমরা কতককে বিশ্বাস করি ও কতককে অবিশ্বাস করি আর তাহারা মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করিতে চাহে, ইহারাই প্রকৃত কাফির এবং কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছি”। “আল-কুরআন, ৪:১৫০-১৫১” এ কথা মনে রাখা দরকার যে, ইসলামকে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তি জীবনে প্রসাধন হিসেবে ব্যবহার করার কোন সুযোগ নেই, গ্রহণ করতে হবে পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল জীবন বিধান হিসেবে। (সমাপ্ত)