আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো…..

জেড.এম. শামসুল :
ভাষা আন্দোলনের অন্যান্য দিনের মত আজও বাংলাভাষা রাষ্ট্রীয় ভাষায় পরিণত করার দাবীতে সমগ্র পূর্ববঙ্গের ছাত্রজনতা এক হয়ে সভা সমাবেশ ছাত্র ধর্মঘট পালন করতে থাকে। পাকিস্তানী চক্র বাংলাভাষার আন্দোলন সংগ্রামকে দমিয়ে রাখতে বিভিন্ন মেকানিজম শুরু করে। কিন্তু বাংলার সাহসী ছাত্রদেরকে কোন প্রকারে প্রভাবিত করতে পারেনি। এদিকে যেসব পত্র-পত্রিকা বাংলাভাষার পক্ষে কথা বলছে ও বিভিন্ন প্রবন্ধ প্রকাশ করছে, এসব কিছু পত্রিকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবুও বাঙালি ছাত্র জনতা ভাষা আন্দোলন থেকে একটুও পিছিয়ে পড়েনি। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫১ সালের ১২ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে এক সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, পাকিস্তান সংবিধান সভায় পূর্ববঙ্গের কিছু সংখ্যক সদস্যের কাছে টেলিগ্রামের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয় যাতে বাংলাভাষা সম্পর্কে পার্লামেন্টে নোটিশ উপস্থাপন করেন। অব্যাহত আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে পাকিস্তান সরকার আন্দোলনকে স্তিমিতকরণের নানান পদক্ষেপ শুরু করে। কিন্তু রাষট্রভাষা বাংলার দাবীতে বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ গণপরিষদ সদস্য ও মন্ত্রীবর্গের কাছে টেলিগ্রাম প্রেরণ করতে থাকে। ১৯৫১ সালে ১৭ এপ্রিল এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে তাজউদ্দিনের সভাপতিত্বে সংগ্রাম পরিষদ এক সভায় আব্দুল মতিন, বদিউর রহমান, সালেহ উদ্দিন, রুহুল আমীন চৌধুরী প্রমুখের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় পাকিস্তান গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে আলোচনার জন্যে গণপরিষদ সদস্য ও মন্ত্রীবর্গ যেন সহযোগিতা করেন, এই মর্মে অনুরোধ জ্ঞাপন সহ নুরুল আমীন, ফজলুল হক, নূর আহমদ মিয়া, ইফতেখারুদ্দিন, শওকত হায়াত খান, হাবিবুল্লাহ বাহার সহ অন্যান্য নেতাদের কাছে টেলিগ্রামের মাধ্যমে অনুরোধপত্র পাঠানো হয়। এ সময় যেসব অনুরোধ বার্তা ও টেলিগ্রাম করা হয় এসবের মধ্যে ছিল “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আপনাদের কাছে জরুরী আবেদন জানাচ্ছে যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে সর্ট নোটিশ হিসাবে প্রশ্ন উপস্থাপন করতে। কিন্তু স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে পাকিস্তান সরকার গণপরিষদে বাংলা রাষ্ট্রীয়ভাষা সংক্রান্ত কোন পদক্ষেপ না নিলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং তমদ্দুন মজলিশ পর্যায়ক্রমে সর্বত্র “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই শ্লোগান সম্বলিত” প্রচারণা অব্যাহত রাখে। ভাষা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেমে আসে মামলা ও গ্রেফতার আতংক। মামলা ও গ্রেফতার আতংক এড়িয়ে সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে লাগলেন। দেশব্যাপী ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচী বিস্তীর্ণ হতে থাকলো। প্রতিটি জেলা শহরে সংগ্রাম পরিষদ গঠন, বাংলাভাষা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার লড়াই ধাপে ধাপে এগুতে লাগলো। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের সাথে সাথে মাতৃভাষার সংগ্রাম চলতে থাকে।