বাজার স্থিতিশীল করতে পদক্ষেপ জরুরী

নির্বাচনের বছরে এসে ব্যাংকঋণ কমানো এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার গুজবে আবার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজার। সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার বড় ধরনের ধস নামে। প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতনের ঘটনা ঘটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে। সূচকে ব্যাপক পতনের পাশাপাশি দুই বাজারে লেনদেনে থাকা কম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৯০ শতাংশের বেশি শেয়ারের দাম কমে যায়। সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন প্রথম আড়াই ঘণ্টায় পুঁজিবাজারের মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে কিছুটা নেতিবাচক ছিল। পরে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়। ব্যাংক আমানতে সুদের হার বৃদ্ধি, মুদ্রানীতি, ব্যাংক আমানত-ঋণের অনুপাত কমানো নিয়ে কয়েক দিন ধরেই পুঁজিবাজার ধুঁকছিল। ক্রমাগত নিম্নমুখী হওয়ায় অনেকে আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করেছে। পুঁজিবাজারের দরপতন নিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ৩০ ব্রোকারেজ হাউস জরুরি সভা করেছে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, ব্যাংকের ঋণ-আমানত ইস্যুকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আতঙ্ক থেকে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায় বাজারে পতন ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ব্যাংক আমানত-ঋণের হার কমানোর কোনো প্রভাব বাজারে পড়ার কথা নয়। তাদের মতে, পুঁজিবাজার নিয়ে ভয় পাওয়ার মতো কিছুই এখনো ঘটেনি। মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, আমানতের হার বাড়ানো হলে পুঁজিবাজারে অনাগ্রহ সৃষ্টি হবে। সঞ্চয়পত্রে সুদের হার বেশি হওয়ায় এখনো বিনিয়োগযোগ্য বড় ফান্ড বাইরে যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়লে তা সামাল দিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন বা অস্থিরতার প্রধান কারণ হতে পারে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার গুজব। কিন্তু একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে, ২০১৪ সালের বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময়ও বাজারে এত দরপতন হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রা সরবরাহ সংকোচনের যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তার প্রভাবও বাজারে পড়বে। কিন্তু এভাবে বাজারের পতন হওয়ার কথা নয়। পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নামার আগে উল্লম্ফন দেখা যায়। এবার তা হয়নি। কাজেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।