অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন

চলতি বছরের শেষার্ধে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন সে লক্ষ্যে কাজ করছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে। দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি এখনো প্রচারে নামেনি। অন্তত চলতি মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত তাদের ব্যস্ততা জিয়া অরফানেজ মামলার রায় নিয়ে। এই রায় সামনে রেখে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়েছে। বিএনপি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত-সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আর সে কারণেই নির্বাচনের বছরে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেশি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী এরই মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক হয়েছে। সেসব বৈঠকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁদের পরামর্শ তুলে ধরেছেন। নির্বাচন কমিশনও বলেছে, সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে তাদের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। গত শুক্রবার সিইসির বক্তব্যেও ঠিক একই কথার পুনরাবৃত্তি হলো। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখন যে প্রশ্নটি সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো, বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি না। দেখা যাচ্ছে, রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে পরস্পরের দোষারোপ করে যাচ্ছে। বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। বিএনপির এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির দায়িত্ব। তাদের ভোটে আনা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নয়। আওয়ামী লীগ মনে করে, বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য টালবাহানা করছে। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, সে প্রসঙ্গে বক্তব্য রেখেছেন। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে তাদের দাবি থেকে সরে আসেনি। বিএনপির নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাবও গ্রহণযোগ্য নয় বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ৮ ফেব্রুয়ারি সামনে রেখে বিএনপি বলছে, সাজানো রায় দিয়ে তাদের নেত্রীকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ‘বিএনপি একটি বড় দল। তাদের ছাড়া সব দলের অংশগ্রহণ হয় কী করে? বিএনপি ছাড়া নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না।’
গণতন্ত্রে নির্বাচনই শেষ কথা নয়। কিন্তু তার পরও নির্বাচন হতে হবে। কোনোভাবেই তা বিতর্কিত হতে দেওয়া যাবে না। সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কমিশনকেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন যেমন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোও দায়িত্বশীল হবে। সবার সহযোহিতায় একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে।