Tag:

প্রধান বিচারপতি হিসাবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে নিয়োগ, ওয়াহাব মিয়ার পদত্যাগ

কাজিরবাজার ডেস্ক :
আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ শনিবার (৩ ফেব্র“য়ারি) সন্ধ্যায় তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
শুক্রবার (২ ফেব্র“য়ারি) দুপুরে আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় শপথ অনুষ্ঠিত হবে।’
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি পদে থাকবেন।
বিএসসি ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে দু’টি কোর্স সম্পন্ন করা বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৯৯ সালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি নিয়োগ পান অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে। দুই বছর পর ২০০৩ সালে হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন।
পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২৩ ফেব্র“য়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
গত বছরের ১০ নভেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পর থেকে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এর আগে অক্টোবরে অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটি নেন তিনি।
ওই সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা।
এদিকে, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় দ্বিতীয় নম্বরে থাকা সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি করার দিন পদত্যাগ করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে এতদিন দায়িত্ব পালন করে যাওয়া আবদুল ওয়াহহাব মিয়া। তিনিই আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি ছিলেন।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আবদুল ওয়াহহাব মিয়ার পদত্যাগপত্র নিয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী বঙ্গভবনে গেছেন। তবে কী কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন সেটা জানা যায়নি।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘আজকে ছুটির দিন। আমি বাসায়। আমার কাছে কোনো পদত্যাগপত্র আসেনি। তবে দিলে গেটে দিয়ে যেতে পারে।’
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ওয়াহহাব মিয়া। ১০ নভেম্বর সিনহা সিঙ্গাপুর থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেয়া আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর শুক্রবার প্রধান বিচারপতি হিসেবে মাহমুদ হোসেনকে বেছে নেন রাষ্ট্রপতি।
ওয়াহহাব মিয়া হাইকোর্ট বিভাগে অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মাহমুদ হোসেনের দুই বছর আগে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর সাহাবুদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে উচ্চ আদালতে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নিয়োগ পান তারও দেড় বছর পর, ২০০১ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি। তখনও ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ, রাষ্ট্রপতি ছিলেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ।
ওয়াহহবার মিয়ার অবসরে যাওয়ার কথা আগামী ১০ নভেম্বর। অন্যদিকে মাহমুদ হোসেন অবসরে যাবেন ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর।
ফলে ওয়াহহাব মিয়াকে প্রধান বিচারপতি করতে হলে কয়েক মাসের ব্যবধানেই রাষ্ট্রপতিকে আবার প্রধান বিচারপতি বাছাই করতে হতো। আর মাহমুদ হোসেন প্রধান বিচারপতি হওয়ায় তিনি আরও প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগদানে রাষ্ট্রপতি স্বাধীন। তিনি অন্য সব কাজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করতে বাধ্য হলেও প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত একাই নিতে পারেন।
আবার প্রধান বিচারপতি নিয়োগে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকেই নিয়োগ দিতে হবে, এমন কোনো বিধান নেই।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বলেন, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করার কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হবে না। এর আগেও বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতসহ বিভিন্ন দেশেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এটা অভিনব কোনো ঘটনা নয়।
প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গত ১০ নভেম্বব পদত্যাগ করার প্রায় দেড় মাস আগেই তিনি ছুটিতে যান। আর তার ছুটির আবেদন করার পর ১ অক্টোবর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া।
১৩ অক্টোবর এক মাসের জন্য বিদেশে যাওয়া সিহনার দেশে ফেরার কথা ছিল ১০ নভেম্বর। কিন্তু সেদিন তিনি না ফিরে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত ১৪ নভেম্বর সেই পদত্যাগপত্র অনুমোদন করলেও সেটি কার্যকর হয় আর পদত্যাগপত্রে সই করার তারিখ থেকেই।