মাওলানা সাদ ছাড়াই তুরাগ তীরে বিশ্ব এজতেমা আজ শুরু

কাজিরবাজার ডেস্ক :
বিশ্ব এজতেমার ময়দানে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুপস্থিতিতেই আজ শুক্রবার বাদ ফজর টঙ্গীতে শুরু হচ্ছে এবারের বিশ্ব এজতেমা। বিশ্ব এজতেমায় মাওলানা সাদ’র যোগ দেয়া না দেয়া নিয়ে যে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তার অবসান ঘটিয়েছেন মাওলানা সাদ নিজেই। এবারের বিশ্ব এজতেমায় মাওলানা সাদসহ দু’পক্ষের প্রধান দুই মুরব্বি যোগ দিচ্ছেন না। তবে তাদের প্রতিনিধিগণ এজতেমায় অংশ নিচ্ছেন। টঙ্গীতে বিশ্ব এজতেমা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মাওলানা সাদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে কাকরাইল মসজিদ ও ঢাকার ডিএমপি কমিশনার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে মাওলানা সাদকে নিয়ে এজতেমা ময়দানের বাইরে বিতর্ক থাকলেও এজতেমা ময়দানে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এর কোন প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি। এদিকে কনকনে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে বাস-ট্রাক, কার-পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে দলে দলে মুসল্লিরা ইতোমধ্যে টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমা স্থলে আসছেন। তারা কাঁধে-পিঠে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে এজতেমা স্থলে এসে নিজ জেলার খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন। অবশ্য গত কয়েকদিন থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জামাতবদ্ধ মুসল্লিরা এসে ময়দানের খিত্তায় খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। টঙ্গীর এজতেমা স্থল এখন মুসল্লিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠছে। হজের পর মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ হলো বিশ্ব এজতেমা। আগত মুসল্লিদের জন্য বৃহস্পতিবার বাদ ফজর প্রস্তুতিমূলক বয়ান শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের মাওলানা মোশারফ হোসেন ওই বয়ান করেন। মাগরিবের পর মূল বয়ান শুরু হবে।
টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমা ময়দানের সরকারী বেসরকারী সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়োজিত স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল জানান, সম্প্রতি মাওলানা সাদ’র দেয়া বয়ানকে ঘিরে তাবলিগ জামাতের সৃষ্ট দু’পক্ষের অভ্যন্তরীণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে মাওলানা সাদ এবারের বিশ্ব এজতেমায় যোগ দিচ্ছেন না। মাওলানা সাদ চান বিশ্ব এজতেমা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হউক। তাই এবারের বিশ্ব এজতেমায় মাওলানা সাদসহ উভয় পক্ষের প্রধান দু’মুরব্বি যোগ দিচ্ছেন না। তবে তাদের প্রতিনিধিগণ এজতেমায় অংশ নিবেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, তাবলিগ অনুসারী শীর্ষ পর্যায়ের মুরব্বিদের দু’পক্ষের আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তাবলিগ জামাতের আমির এবং আখেরি মোনাজাত কে পরিচালনা করবেন।
এদিকে এবারও দুই দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব এজতেমা। প্রথম দফা ১২ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় দফা ১৯ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি এজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। দুই দফারই শেষ দিন অনুষ্ঠিত হবে তাবলিগ জামাতের প্রধান আকর্ষণ আখেরি মোনাজাত। তবে এবার আখেরি মোনাজাত কে পরিচালনা করবেন তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে ভারতের মাওলানা সাদ বিশ্ব এজতেমায় বয়ান ছাড়াও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু এবার তাকে নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ব এজতেমায় বয়ান ও মোনাজাত পরিচালনা নিয়ে অনেকটা অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
তাবলিগ জামাতের মুরব্বি ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুরে মাওলানা সাদ বিশ্ব এজতেমায় যোগ দেয়ার উদ্দেশে বিমানযোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। কিন্তু হেফাজতপন্থী তাবলিগ জামাতের অপর একটি অংশ তাকে বিশ্ব এজতেমায় যোগদানে বাধা দিতে বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সাদ বিরোধী স্লোগান দেয়। পরে পুলিশ সাদের নিরাত্তাহীনতার জন্য তাকে বিমানবন্দর থেকে স্কট দিয়ে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে নিয়ে যায়। এ সময় সাদ বিরোধীদের একাংশ কাকরাইলের উদ্দেশে এবং অপর অংশ বিশ্ব এজতেমার ময়দানের দিকে রওনা হন। কাকরাইল মসজিদে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে সেজন্য পুলিশ ওই মসজিদের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। বিমানবন্দর থেকে মাওলানা সাদের টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমায় যাওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে তিনি খুব শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সাদ বিতর্ক নিয়ে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে তেমন কোন প্রভাব নেই ॥ বিশ্ব এজতেমার বাইরে সাদ বিতর্ক থাকলেও এজতেমা ময়দানে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এর কোন প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি। দেশী-বিদেশী মুসল্লিরা ইতোমধ্যে বুধবার ভোর থেকেই কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে এজতেমা ময়দানে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। মাওলানা সাদকে কেন্দ্র করে বাইরের সৃষ্ট বিতর্ক ও উত্তেজনা এজতেমা ময়দানের ভেতরে মুসল্লিদের মধ্যে কোন প্রভাব ফেলেনি। আগত মুসল্লিদের যার যার মত নামাজ আদায় বয়ান শোনা ও ধর্মীয় ধ্যানে মগ্ন থাকতে দেখা গেছে। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের ওই আগমন অব্যাহত থাকবে।
প্রথম দফায় ১৪ জেলার মুসল্লিরা ২৮ খিত্তায় ॥ বিশ্ব এজতেমার মাঠে প্রতিজেলার মুসল্লিদের অবস্থানের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারিত থাকে। এ স্থানকে খিত্তা বলে।
প্রথম দফায় অংশগ্রহণকারী জেলাগুলোর মধ্যে হল- ঢাকা (১-৮নং, ১৬নং, ১৮নং, ২০নং ও ২১নং খিত্তা), নারায়ণগঞ্জ (১২নং ও ১৯নং খিত্তা), মাদারীপুর (১৫নং খিত্তা), গাইবান্ধা (১৩নং খিত্তা), শেরপুর (১১নং খিত্তা), লক্ষ্মীপুর (২২-২৩নং খিত্তা), ভোলা (২৫-২৬নং খিত্তা), ঝালকাঠি (২৪নং খিত্তা), পটুয়াখালী (২৮নং খিত্তা), নড়াইল (১৭নং খিত্তা), মাগুরা (২৭নং খিত্তা), পঞ্চগড় (৯নং খিত্তা), নীলফামারী (১০নং খিত্তা) ও নাটোর (১৪নং খিত্তা)।