১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হচ্ছে খানাখন্দে ভরা জৈন্তা-জাফলং সড়ক

গোয়াইনঘাট থেকে সংবাদদাতা :
দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে সিলেট-তামাবিল মহা সড়কের যোযোগের ক্ষেত্রে এক আতঙ্কের নাম জৈন্তাপুরÑজাফলং সড়ক। খানাখন্দে ভরা এই রাস্তায় গাড়ী আটকে প্রাশয়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে পাথর, কয়লা ও বালুবাহি ট্রাক এবং পর্যটক ও যাত্রীবাহী বাসসহ সব ধরণের যান চলাচল মারত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবার প্রতিদিনই এই সড়কেই জাফলং ভ্রমণের জন্য আসা যাওয়া করেন সরকারের মন্ত্রী, এমপি, সচিব, ডিসি, এসপি, দেশিÑবিদেশি পর্যটকসহ প্রশাশনের কর্তারা। আগত পর্যটকসহ স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির জন্য এই সড়ক সংস্কারে দাবিতে এলাকাবসী বিভিন্ন কর্মসূচি ও পালন করেছেন। অবশেষে এলাকাবসীর দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে বেহাল দশায় পরে থাকা সিলেট-তামাবিল মহা সড়কের জৈন্তাপুর থেকে জাফলং পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের জন্য ১৯০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৬ দশমিক ০৯ কিলোমিটার এ সড়কটির প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কংক্রিট ব্লকে নির্মাণ করা হবে। সিলেট তামাবিল ল্যান্ডপোর্ট কানেকটিং ও বল্লাঘাট সংযোগ সড়ক এটি। পাহাড়ি এই সড়ক দিয়ে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে পাথর ও কয়লা আমদানি করা হয়। এই সড়ক দিয়ে বিপুল সংখ্যক ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতি বছরই নষ্ট হচ্ছে সড়কের বিটুমিন। সড়কটির বিভিন্ন যায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলে প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল।
এদিকে একনেক’র সভায় এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সেতু ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ বলেন, এই প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় পর্যটন এলাকা জাফলংসহ তামাবিল স্থল বন্দর এলাকায় সড়কের যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল অচিরেই তার সমাধান হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অত্রাঞ্চলের যাতায়ত বিড়ম্বনার আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করে।