কাজিরবাজার ব্রীজে লোহার বারের কারণে ॥ বিদ্যুৎ পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর আঙ্গুলই বিচ্ছিন্ন

স্টাফ রিপোর্টার :
কাজিরবাজার ব্রীজে লোহার বার এর কারণে বরইকান্দি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহীর হাতের ৪টি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ব্রীজের মধ্যস্থানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী হিরন আহমদকে (২৮)কে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সঙ্গে তারা কেটে যাওয়া ৪টি আঙ্গুলও রাস্তা থেকে তুলে তার সাথে নিয়ে যান হাসপাতালে।
আহত হিরন আহমদ বিশ^নাথ থানার ধনপুর গ্রামের ছোয়াব আলীর পুত্র। বর্তমানে তিনি নগরীর মিয়া ফাজিল চিশত্ এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় লোকজন এ ঘটনার পরপরই রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ওই পিকআপ ভ্যানটি আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে পিকআপ ভ্যান চালক পালিয়ে যায়। এ সময় রাস্তার উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছালে তারা রাস্তা থেকে অবরোধ তুলে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, কাজিরবাজার সেতু উদ্বোধনের পর থেকে সওজ কর্তৃপক্ষ ব্রীজের প্রবেশমুখে ভারী যানবাহন চলাচল না করার জন্য লোহার বড় পাইপের বার বসিয়ে দেন। এর ফলে এই লোহার বারের কারণে প্রায় সময় ব্রীজে দুঘর্টনা ঘটতে থাকে। অনেক সময় দক্ষিণ সুরমায় অগিকান্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের কোন গাড়িও এ ব্রীজ দিয়ে যেতে পারে না। ফলে অগ্নিকান্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে এরই ধারাবাহিকতায় একটি পিকআপ মিনি ভ্যানটি বরইকান্দি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে যাওয়ার জন্য জিতু মিয়ার পয়েন্ট থেকে কাজিরবাজার ব্রীজ হয়ে রওয়ানা হয়। ব্রীজে প্রবেশধারে লোহার বারের কারণে পিকআপ ভ্যানটি ব্রীজ পার হচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক হতে আসা (সিলেট-ল-১১-৪৯৬০) নং মোটর সাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয় নাম্বারবিহীন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লেখা ওই পিকআপ ভ্যানটি। তখন মোটর সাইকেলটি রাস্তায় ছিটকে পড়ে যায়। এ সময় মোটর সাইকেল আরোহী হিরন আহমদের পিকআপের ধাক্কা লেগে তার ডান হাতের ৪টি আঙ্গুলই কেটে রাস্তায় পড়ে যায়। পরে পিকআপ ভ্যান চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমার ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই মাসুম ঘটনাস্থলে যান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা দায়েরের কোন খবর পাওয়া যায়নি।