জমির ফসল ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য ॥ কানাইঘাট সিঙ্গাইরখালের ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবী

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
এলাকার ফসলী জমি বন্যার পানির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কানাইঘাট বড়চতুল ইউপির সীমানার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সিঙ্গাইর খালের দুর্গাপুর পূর্ব গ্রাম হতে ত্রিগাঙ্গা ব্রীজ পর্যন্ত মাটির ডাইক নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী বড়চতুল ইউপি ও পাশর্^বর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের মধ্যখানে সিঙ্গাইরখাল অবস্থিত। উজান থেকে নেমে আসা দীর্ঘ সিঙ্গাইরখাল চতুল বাজার অতিক্রম করে লাইন নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। বর্ষা মৌসুম সহ বিভিন্ন সময়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও লাইন নদী থেকে তীব্র স্রোতের কারণে সিঙ্গাইরখালের পানির প্রভাব উভয় দিক থেকে বিস্তৃত হয়ে বড়চতুল ইউপির বেশ কয়েকটি গ্রাম ও বিস্তৃর্ণ ফসলী জমিতে পানি ঢুকে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। বর্ষা মৌসুমে বানের পানি মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয় বলে বড়চতুল ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সহ এলাকাবাসী জানান। ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিঙ্গাইরখালের পাশদিয়ে জৈন্তাপুর চারিকাটা ইউপির মাটির সড়ক রয়েছে। উক্ত সড়ক দিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। ওপারে মাটির রাস্তা থাকায় সিঙ্গাইরখাল ও লাইন নদীর পানির প্রবাহে তাদের কোন জমির ফসলের ক্ষতি হয় না। কিন্তু চতুল বাজার থেকে শুরু হয়ে দুর্গাপুর পূর্ব গ্রাম পর্যন্ত সিঙ্গাইরখালের সীমানা কানাইঘাটের অংশ মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হলেও অবশিষ্ট ৬নং ওয়ার্ডের রতনপুর গ্রাম হতে ত্রিগাঙ্গা ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ অবশিষ্ট থাকায় বর্ষা মৌসুম ও বিভিন্ন সময়ে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে চতুল ইউপির দুর্গাপুর, রতনপুর, ভাটিপাড়া, পর্বতপুর, ডুংগ্রাগ্রাম, সরুফৌদ, বেতু, আগফৌদ, দলকিরাই, মুক্তাপুর সহ বেশ কয়েটি গ্রামের জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। স্থানীয় এলাকাবাসীর জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কানাইঘাটের হাওর এলাকার উন্নয়নে নদী খনন বিভিন্ন জায়গায় স্লুইচ গেইট নির্মাণ মাটির রাস্তার কাজ চলছে। মাত্র কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে নদী খননের আওতায় এনে লাইন নদী ও সিঙ্গাইরখালের পানির প্রভাবের হাত থেকে এলাকাবাসীর ফসলী জমি রক্ষা করতে এবং কৃষকের মুখে হাসি ফুটাতে এই ২ কিলোমিটার মাটির বাঁধ দ্রুত নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার জোর দাবী জানিয়েছেন। লাইন নদীর মোহনা চতুল বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া অংশ এবং ত্রিগাঙ্গা ব্রীজে সরকারী ভাবে স্লুইচ গেইট নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন বলে বড়চতুল ইউপির দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক শামীম আহমদ সহ অনেকে মতামত ব্যক্ত করেছেন। বড়চতুল ইউপি চেয়ারম্যান মাওঃ আবুল হোসেন জানিয়েছেন, লাইন নদী ও সিঙ্গাইরখালের পানি বর্ষা মৌসুমে ফসলী জমিতে ঢুকে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এলাকার ফসলি জমি রক্ষার্থে তিনি বেড়ি বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।