সুনামগঞ্জের ইভটিজার পুলিশে সোপর্দ

সুনামগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
সুনামগঞ্জ শহরতলীর এক ইভটিজারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন পঙ্গু সাংবাদিক আল-হেলালসহ ২ সাংবাদিক। আটককৃত ইভটিজারের নাম নুর হোসেন (২৮)। সে সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর পশ্চিমহাটি গ্রামের আব্বাছ আলীর পুত্র ও ভিকটিমের দায়েরকৃত অভিযোগের ৪নং আসামী। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের মধ্যবাজারস্থ চাঁদনী এলাকা থেকে তাকে প্রথমে আটক করেন সাংবাদিক আল-হেলাল। এর আগে আল-হেলাল ভিকটিমের অভিযোগের বিষয়টি সদর থানার ওসি মোঃ শহিদুল্লাহকে অবগত করেন। পরে সদর থানার এসআই একেএম জালাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানা হাজতে নিয়ে আসেন।
অভিযোগে প্রকাশ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর পশ্চিমহাটি গ্রামের নিরীহ আশরাফ আলীর ভিকটিম কন্যাকে সুনামগঞ্জ শহরের আদর্শ শিশু শিক্ষা নিকেতনের ২ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে গত ২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ইব্রাহিমপুর প্রাইমারী স্কুলের দক্ষিণের রাস্তায় একই গ্রামের বখাটে মীর হোসেন,নূর হোসেন ও জামাল ভিকটিমকে দেখে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনসহ উত্যক্ত বিরক্ত করে। অপরাপর সকল সহযোগীদের প্ররোচনা ও হুকুমে বখাটে মীর হোসেন ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে দেখে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করত: অসদুদ্দেশ্যে ভিকটিমের পরনের ওড়না ধরে টানাটানি করে। আসামী নূর হোসেন হাতে লোহার রড নিয়ে ভিকটিমকে প্রাণে হত্যার ভয় দেখায় এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনসহ খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে। এ ঘটনায় ভিকটিম পরিবারের পক্ষে পূর্ব সদরগড় গ্রামের মৃত গেদা মিয়ার পুত্র ফুল মিয়া (৪৭) ও তার ভাই মোঃ নুরুজ আলী (৪০), ইব্রাহিমপুর পশ্চিমহাটি গ্রামের আব্বাছ মিয়ার ৩ পুত্র যথাক্রমে আক্তার হোসেন (৩৫), মির হোসেন (৩০), নূর হোসেন (২৮), পুত্রবধূ খাদিজা বেগম (২৫), মধুমালা বেগম (৪০) আব্বাছ আলীর স্ত্রী আম্বিয়া বেগম (৪৫), একই গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার পুত্র জামাল মিয়া (৩৪) ও মিলন মিয়ার স্ত্রী রাবিয়া বেগম (৩২) সহ ১০ জনকে আসামী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ভিকটিমের অভিযোগের আসামীরা সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার দায়েরকৃত (ক) মামলা নং ০১ (জিআর ১/২০১৭) তাং ১/১/২০১৭ইং অভিযোগপত্র (চার্জসীট) নং ১৬ তাং ৩১/১/২০১৭ইং (খ) মামলা নং ২৫ (জিআর ১০৭/২০১৭) তাং ২৩/৩/২০১৭ইং, অভিযোগপত্র নং ১৩০ তারিখ ৩০/৪/২০১৭ইং (গ) মামলা নং ৬ (জিআর ২৩৮/২০১৫) তাং ৫/৮/২০১৫ (ঘ) মামলা নং ৭ (জিআর ২৩৯/২০১৫) তাং ৬/৮/২০১৫ ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬ দ:বি: (ঙ) মামলা নং ১০ (জিআর ২৪২/২০১৫) তাং ৭/৮/২০১৫,(চ) মামলা নং ২৫ (জিআর ২৫৭/২০১৫) তাং ২৪/৮/২০১৫ইং (ছ) মামলা নং ২৬ (জিআর ২৫৮/২০১৫) তাং ২৫/৮/২০১৫, (জ) মামলা নং ৫ (জিআর ২৭২/২০০৫) তাং ৮/১১/২০০৫ ইংসহ একাধিক মামলার আসামী বলে জানান, ভিকটিমের মামলার অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোশাররফ হোসেন। এছাড়া গত ২৬/৩/২০১৭ইং সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই মোঃ সাকির হোসেন ১৪১১/ভি তাং ২৫/০৩/২০১৭নং স্মারকের আদেশ মোতাবেক ২৭/৩/২০১৭ইং তারিখে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য তাদেরকে নোটিশ প্রদান করেন।
এর আগে উক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ভিকটিমের মাতা নুরুন্নাহার বেগম বাদিনী হয়ে গত ২৬/৩/২০১৭ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ দায়ের করিলে দায়েরকৃত অভিযোগটি সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) ইমতিয়াজ সরকার (বিপি নং ৮৩০৪০৭৯৩৪) এবং ৩০/৮/২০১৭ইং তারিখে ভিকটিমের ভাই ইব্রাহিম মিয়া বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করিলে দায়েরকৃত অভিযোগটি সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) পবিত্র কুমার সিনহা (বিপি নং ৬৩৮২০৬৯২৮৭) এর কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। প্রভাবশালী আসামী ফুল মিয়া কালো টাকার প্রভাবে ভিকটিম পরিবারের দায়েরকৃত অভিযোগগুলো এফআইআর করা থেকে পুলিশ প্রশাসনকে বিরত রেখে তাদেরকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত রাখে। পরে বিষয়টি সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আল-হেলাল জানতে পেরে সহকর্মী সাংবাদিক হোসাইন মাহমুদ শাহীনকে নিয়ে বখাটে নুর হোসেনকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।