দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, কমেছে পেঁয়াজের দাম

কাজিরবাজার ডেস্ক :
দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। চাল, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ এবং সবজির দাম নিয়ে বাজারের অস্থিরতা দূর হচ্ছে। দেশী পেঁয়াজ ৭০-৭৫ এবং আমদানিকৃত ভারতীয় জাতেরটি ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কমেছে মোটা চালের দাম। জাত ও মানভেদে প্রতিকেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৬ টাকায়। আমদানি বাড়ায় সরকারী গুদামে বাড়ছে চালের মজুদ। দু’দফায় এক লাখ টন চিনি আমদানি করছে সরকার। বর্তমান খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। এতে করে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরবরাহ বেড়েছে শীতকালীন সবজির। এছাড়া ভোজ্যতেল, আটা, ডাল, চিনি এবং ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এ সপ্তায় কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। মিঠাপানির মাছের সরবরাজ বেড়েছে, কিছুটা সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে ইলিশ মাছ।
শুক্রবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিতে দেশী পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া আমদানিকৃত ৭০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৫৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এই দামও অনেক বেশি। কারণ গত এক মাস আগেও প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনে বাজারে পেঁয়াজ কিনছিলেন, আসলাম আলী। তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম আরও কমা উচিত। বর্তমান দামও অনেক বেশি। তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম ৩০-৪০ টাকার মধ্যে নেমে আসলে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে, চালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কমতে শুরু করায় সাধারণ ভোক্তাদের অস্থিরতা দূর হচ্ছে। সম্প্রতি মোটা চালের দাম বেড়ে গেলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ১৫ লাখ টন চাল ও ৫ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে আমদানিকৃত চাল ও গমের মজুদ বাড়িয়েছে সরকার। এছাড়া বেসরকারী পর্যায়েও বিপুল পরিমাণ চালের আমদানি বেড়েছে। চাল আমদানি বাড়ায় মোটা চালের দাম কমেছে। এছাড়া উন্নতমানের নাজির ও মিনিকেটের মতো চিকন চালের দাম কেজিতে ৩-৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমান খুচরা পর্যায়ে ভালমানের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।
এছাড়া বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতের সবজি। ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের আগাম সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, ঝিঙা, পটল, করলা, ঢেড়স, ধুনদল, চিচিংগা, বেগুন এখন বাজারে ভরপুর। এছাড়া লালশাক, ডাটা শাক, পাটশাক, মুলা শাক, পুই শাক, লাউ শাকের কমতি নেই বাজারে। সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে পালংশাক ও নতুন আলু। তবে নতুন আলু ও পালন শাকের দাম বাড়তি। প্রতিকেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। আর পালংশাক বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা আটি দরে। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কমার দিকে থেকে সবার ওপরে রয়েছে শিম। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিটির দাম কেজিতে কমেছে প্রায় ৪০ টাকা। বাজার ও মানভেদে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।