জাসদের লাল পতাকা মিছিলে লোকমান আহমদ ॥ সাম্যের পৃথিবী গড়ার সংগ্রামে কর্ণেল তাহেরের বিপ্লবী প্রচেষ্টা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে

শোষণহীন-বৈসম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর কমরেড ভ. ই. লেনিন এর নেতৃত্বে সংঘটিত সমাজতান্ত্রিক রুশ বিপ্লবের শততম বার্ষিকী এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কর্ণেল আবু তাহের বীর উত্তম এর নেতেৃত্বে সংঘঠিত সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানের ৪২তম বার্ষিকীতে জাসদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় লাল পতাকা মিছিল নগরির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শোষণ ও বৈষম্য পৃথিবীতে আজও বিরাজমান থাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তে সামাজিক মালিকানার সাম্যের পৃথিবী গড়ে তোলা ছাড়া কোন বিকল্প নেই, তাই রুশ বিপ্লবের চেতনায় শানিত হয়ে সাম্যের পৃথিবী গড়ার সংগ্রাম বেগবান করতে হবে।
১৯৭৫ এর ২ নভেম্বরের ক্যু ও পাল্টা ক্যু এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী ও রাষ্ট্র কাঠামো যখন ধংসের দারপ্রান্তে এমনি অবস্থায় কর্ণেল আবু তাহের (বীর উত্তম) সেনা বাহিনী ও রাষ্ট্র কাঠামোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠির হাত থেকে বাংলাদেশ কে রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৭৫ এর ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। আদালত কর্তৃক স্বীকৃত ঠান্ডা মাথার খুনী জিয়াউর রহমানের বিশ^াসঘাতকতা সে অভ্যুত্থানকে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে বাধাগ্রস্ত করে, কিন্তু মেহনতী মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে সমাজততান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কর্ণেল তাহেরের অবদান আমাদের জাতীয় জীবনে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। খুনী জিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাধীনতা বিরোধী চক্র বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি তথা জঙ্গিবাদের বীজ বোপণ করেছিলো যা সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিষফোঁড়া হিসেবে আর্বিভূত হয়, জঙ্গি নির্মূলের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ জাতীয় আন্দোলন আজ সময়ের দাবী, এই সংগ্রামে বিজয়ের মধ্য দিয়ে সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা হবে। সামজিক মালিকানার সাম্যের পৃথিবী গড়ার সংগ্রামে কর্ণেল তাহেরর বিপ্লবী প্রচেষ্টা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাসদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার লাল পতাকা মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা জাসদ সভাপতি জননেতা লোকমান আহমদ উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে জঙ্গি আর জঙ্গি-সঙ্গীর সাথে আপোষ-মিমাংসার কোন সুযোগ নেই। জঙ্গি আর জঙ্গি-সঙ্গীকে গণতন্ত্র বা নির্বাচনী ব্যবস্থায় পুষে রাখা হবে আত্মঘাতি ।
মহানগর জাসদের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস আহমদের পরিচালানায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা জাসদ সাধারণ সম্পাদক কে. এ. কিবরিয়া চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আহমদ মুক্তা, জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের মধ্যে সৈয়দ আনসার আলী, সোলেমান আহমদ, মহসিন আলী চুন্নু, এ.বি.সিদ্দিক, সাদিকুর রহমান, মাহতাব উদ্দিন, আব্দুল হাসিব চৌধুরী, ইছহাক আলী, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, গোপেশ দেব, শামছুল আলম, শামিম আহমদ, নজরুল ইসলাম নজির, আব্দুল মতিন, আফতাব আলী, খসরু মিয়া, মুকুল আহমদ পুতুল, আরব আলী, হুমায়ুন কবীর, তবারক হোসেন, শামসুল ইসলামস স্বপন, ছাত্রনেতা তাওহীদ এলাহী প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি