বালাগঞ্জে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ

ওসমানীনগর থেকে সংবাদদাতা :
বালাগঞ্জে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী স্বামী এবিষয়ে গ্রাম আদালতে অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। উল্টো তিনি আরও নানা ভাবে হয়রাণীর শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
জানা যায়, বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের শাহ্ মো: ফরমান আলীর ছেলে দিলদার হোসেন খছরুর সাথে ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ ওসমানীনগর উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের মুমিন আলীর মেয়ে তানজিনা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী খছরু প্রবাসে থাকার সুবাদে স্ত্রী তানজিনা বিদেশ থেকে পাঠানো স্বামীর টাকা ও বিয়ের যাবতীয় স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে তার (তানজিলা) মামার বাড়ীতে গিয়ে ওঠেন। স্বামী খছরু প্রবাস থেকে দেশে এসে স্ত্রীর কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ আদায়ের জন্য চলতি বছরের ২০ জুলাই বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দেন। দিলদার হোসেন খছরু অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার অগুচরে আমার স্ত্রী তার মামা মামুন মিয়ার পরামর্শে নিয়ে চলতে থাকে। এমনকি তার মামার কথামত আমাকে নিয়ে স্থায়ীভাবে তার মামার বাড়ি উপজেলার জিনারপুর গ্রামে বসবাস করার কথা জানায়। কিন্তু তাতে আমি রাজি না হয়ে সৌদি আরবে চলে গেলে সে আমাকে না জানিয়ে আমার পরিবারের সবার অজান্তে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা নিয়ে তার মামার বাড়িতে চলে যায়। বিষয়টি আমি জানার পর তার সাথে যোগাযোগ করলে সে আমাকে জানায় আমি দেশে আসলে সে চলে আসবে। এরপর সরল বিশ্বাসে আমি তার একাউন্টে ক্রমান্বয়ে কয়েক লক্ষ টাকা মত পাঠাই। আমি দেশে অবস্থান করার পর তার কাছে পাঠানো আমার সমুদয় টাকা ফেরৎ চাইলে তার মামার বাড়ির লোকজন আমার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়ে আমাকে নানা ভাবে নাজেহাল করেন। অবশেষে আমি নিরুপায় হয়ে বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে বালাগঞ্জ সদর ই্উনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ প্রদান করি। কিন্তু চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিমও বিষয়টির কোন সুরাহ না করে নানা টালবাহানা করে যাচ্ছেন।
তবে অভিযোগুলি অস্বীকার করে তানজিনার মামা মামুন মিয়া বলেন, এ বিষয়ে নিয়ে খছরু পক্ষ থেকেও আমাদের মান-মর্যাদা ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। আমরা সামাজিক ভাবে সমাধানের পক্ষে আছি। তাই স্থানীয় চেয়ারম্যান’র ডাকে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম। কিন্তুু খছরু মিয়া উপস্থিত না হওয়ায় কোন সুরাহা হয়নি।
এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম বলেন, খছরুর অভিযোগটি পাওয়ার পর অভিযোগপত্রটিতে অসঙ্গতি থাকার পরও অপর পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেছি। পাশাপাশি অভিযোগপত্রটি সংশোধন করে দেয়ার কথাও খছরুকে বলেছিলাম। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পর অপর পক্ষের লোকজন আমার অফিসে আসলেও অভিযোগকারী খছরুর পক্ষ থেকে কেউ আমার কাছে আসেননি। এমনকি অভিযোগপত্রটিও সংশোধন করে দেননি। অভিযোগটিপত্রটিতে অসঙ্গতি থাকায় এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না।