পুরাতন সংবাদ: September 8th, 2018

চাঁদ

জুয়েল আহমদ

যদি আকাশেতে থাকিতো না চাঁদ
তবে কেমন দেখাতো বলো রাত?
মূল্যহীন হয়ে থাকতো তখন প্রভাত
সূর্যের দীপ্তিময় অগ্নিস্নান।

তখন কবিদের চিন্তা ধারা কেমন হতো?
থাকতো তখন তারা কিসে ভ্রত?
লেখতো না তারা আর কবিতার ছন্দ
চাঁদকে নিয়ে আছে কবিতা যত শত।

তখন জোয়ার-বাটার কি হতো?
কক্সবাজারের মতো শত প্রান্ত
দর্শকের আগমন কমেই যেতো
উপভোগের থাকতো না কোনো মন্ত্র।

তাই চাঁদ অনেক দামী সবার কাছে
যতদিন আছে চাঁদটা বেঁচে
লেখে যাক কবি কবিতা থাকে নিয়ে
এটাই প্রত্যয় আমার কাছে।

প্রিয় তুমি

হাজেরা সুলতানা হাসি

হৃদয় মাঝে প্রতিটা ক্ষণ
তোমার ছবি আঁকি
দেখা পাওয়ার পরম আশে
তাইতো ডুবে থাকি।

দিও দেখা এই আমারে
হে প্রিয় নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
আমার মনের খুব গভীরে
এঁকেছি তব ছবি।

মনের কতো কল্পনা
হে নবি তোমায় নিয়ে
ধন্য করিও,করিও ধন্য
তোমার দেখা দিয়ে।

আখেরাতে সুপারিশ তব
পেতে আমি ব্যাকুল
দিও দেখা, দেখা দিও
আমার প্রিয় রাসূল।
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

দেখা দিবে কবে

ফাতেমাতুয যাহরা স্মৃতি

আমার এই হৃদয় গহীনে
আছ তুমি শুধু
তুমি ছাড়া এই জীবনটা
যেন মরু ধূধূ।

তুমি ছাড়া শূন্য সবি
কাটেনা যে রাত-দিন
তুমি ছাড়া মনের মাঝে
বাজে খুব কষ্টের বীণ।

কবে বলো দেখা দিবে
হতভাগী আমায়
প্রতি রাতে আশায় থাকি
স্বপ্ন দেখবো তোমায়।

দেখা দিয়ে জীবন আমার
করো প্রিয় ধন্য
তোমার ছোয়ায় জীবন আমার
হবে যে অনন্য।

 

মরণ

খালেদা আক্তার অনন্যা

পিঞ্জিরাতে আটকা পাখি
যখন যাবে উড়ি,
রইবে পড়ে মাটির ঘরে
সাদা কাপড় পরি।

এই পাখি সেই পাখি না
এ যে প্রাণ পাখি,
বুকের খাঁচায় থাকলে তবে
রয় খোলা আঁখি।

তখন তুমি ইচ্ছে স্বাধীন
করেছো খুশি যা,
আল্লাহ্ রাসুলের হুকুম
মাননি তখন তা।

ভেবেছিলে আছে দেহে
এখনো তো জান,
যুবা আছি, আমলে তাই
ছিল না কোন টান।

কিন্তু হায় মরণ থাবা
আসে যখন তখন,
মরণ কাল আসবে
কেউ জানে না কখন।

শরৎকাল

কবির কাঞ্চন

লুকোচুরি খেলে রবি
মেঘের ফাঁকে ফাঁকে
কখনও মেঘ কখনও বৃষ্টি
এই দেশেরই বাঁকে।

মন ছুটে যায় নদীর চরে
কাশফুলেরি টানে
ঝির বাতাসে পরান জুড়ায়
বৃষ্টিভেজা গানে।

শিল্পী আঁকেন দেশের ছবি
দেহ ও মন জুড়ে
হিজল বনের পুষ্পরাজি
লালে লালে পুড়ে।

গাছের ডালে মুগ্ধ পাখি
কিচিরমিচির ডাকে
বাংলাদেশের রূপের ছবি
শরৎকালে আঁকে।

প্রজাপতি ফড়িং ওড়ে
মাঠেঘাটে বনে
খোকাখুকি ছন্দে মাতে
ফড়িংছানার সনে।

করচ গাছের পাতাগুলো
বুনে নবজাল
বাংলা পরে সবুজশাড়ী
যখন শরৎকাল।

শ্রাবণের মেঘমালা

আবু আফজাল সালেহ

মেঘমালা উড়ে যায়
শ্রাবণবৃষ্টি বাতাসে
তুলার ন্যায় পাজাকরা মেঘ সাথে নিয়ে।
দেখি তোমার ঠোঁটের একচিলতে হাসি-
যেন হারিয়ে দিয়েছ খ্যাতিমান কোন এক পুরুষকে!
মেঘমালা ওড়ে- হাসির ফোয়ারা বাড়ে তোমার
শ্রাবণের অঝোর বৃষ্টি আসে আশির্বাদ হয়ে তোমার
যেন স্বর্গসুখ পেয়ে গেছ!

শ্রাবণের মেঘমালা আর তোমার হাসি
মিলেমিশে একাকার।

 

মায়ের আঁচল

রমজান আলী রনি

আমার মায়ের আঁচলখানি
সোনা দিয়ে মোড়া
মায়ের কোলের জোড়া মাণিক
একটি ফুলের তোড়া।

নদীর ভিতর মুক্তা-ঝিনুক
যেমন করে জ্বলে
আনন্দ আর খুশির পরশ
মায়ের আঁচল তলে।

মায়ের মুখে যদি তাকাই
তুচ্ছ লাগে সবই
তারই মত সুন্দর নয় গো
ঐ আকাশের রবি!

এই দুনিয়ার চেয়ে অধিক
মা-কে ভালোবাসি
মা যে আমার সুখের স্মৃতি
মা যে মুখের হাসি।

 

শরৎ প্রেমে

রেজাউল রেজা

ঘাসের ডগায় শিশির কণা বাঁধছে সাধের ঘর,
শিশির-ঘাসের দারুণ পীরিত জমছে বছর পর।

মেঘ কুমারী আপন রূপে সাজ নিয়েছে বেশ,
দিগন্তে আজ মিশে গেছে নেই যে রূপের শেষ।

হলদে-সাদা কদম ফুলে ভ্রমর জমায় মেলা,
শীতের আগে শরৎ এসে দেখায় রূপের খেলা।

কাশের বনে সাদার ভেলা নরম নরম ছোঁয়া,
স্বচ্ছ আকাশ চাঁদের আলো মনটা গেল খোয়া।

ঋতুর রানীর রূপের নেশায় হলাম পাগলপরা,
নেশায় পড়ে মন হারিয়ে খেলাম আমি ধরা।

বাবা

আব্দুল কাদির জীবন

বাবা আমার সহজ সরল
বাবা আমার জান
বাবার জন্য রাখি যেন
জীবন আমার মান।

বাবা যখন কথা বলেন
আমি থাকি চুপ
বাবার মাঝে তখন দেখি
সুন্দর একটি রূপ।

বাবা করেন আমার জন্য
দিন রাত কষ্ট
মানুষ তুমি হতে হবে
তার বাণী স্পষ্ট।

বাবা আমায় ভালোবাসেন
সব চেয়ে নয়কি
বাবা থাকেন আমার পাশে
তাই তো ভয় কি।

বাবার জন্য চাইবো আমি
সুন্দর একটি ফুল
আমার কাছে বাবা আমার
জান্নাতেরই মূল।

নব প্রজন্ম

সৌমেন দেবনাথ

 

ছোট্ট শিশু ট্রাফিক পুলিশ
নয় মিথ্যা নয় গল্প,
কাগজ পত্রাদি করছে চেক
মনে হচ্ছে কল্প ।

রাজপথে আজ শিশু কেনো
কাঁপছে ভয়ে সত্তা,
আমরা কেনো দিতে ব্যর্থ
তাদের নিরাপত্তা।

তোমরা আমরা কেউ পারিনি
পারছে দেখো কারা,
মার খেয়ে রক্তাক্ত হচ্ছে
তবু হার না হারা।

তোমরা একদিন বড় হবে
উঠবে নতুন রবি,
সবার চোখে আঙুল দিয়ে
পাল্টে দেবে সবি।