পুরাতন সংবাদ: September 2018

ইসলামে ওযুর গুরুত্ব ও উপকারিতা

ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর

ই সলামি বিধান মতে অযু হল দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের একটি উত্তম পন্থা। যার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায় এবং এর মাধ্যমে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাতগুলোর মধ্যে বিশেষ করে নামাজ আদায় ও কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। নামাজ ও কুরআন তেলাওয়াত করার জন্য অবশ্যই পবিত্রতা অর্জন করা প্রয়োজন । কারণ পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহ তাআলার কাছে নামায গৃহীত হবে না। এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ
ﻻَ ﻳَﻘْﺒَﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺻَﻼَﺓَ ﺃَﺣَﺪِﻛُﻢْ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺣْﺪَﺙَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄَ “আল্লাহ তাআলা তোমাদের কারও নামায গ্রহণ করবেন না, যখন সে অপবিত্র হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে অযু করে। (বুখারী ও মুসলিম)
অন্য এক হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী “নামাজকে বলা হয় জান্নাতের চাবি আর ওযুকে বলা হয় নামাজের চাবি” পবিত্র কোরানে আছে “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তওবাকারীকে ভালবাসেন এবং যাহারা পবিত্র থাকে তাদেরকেও ভালবাসেন।” অনুরূপভাবে কুরআন শরীফ পড়তে ও স্পর্শ করতেও অযুর প্রয়োজন হয়। পবিত্র কোরানে আছে -“যাহারা পূত-পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করো না।“[১] (সূরা ওয়াক্কিয়াহ্, আয়াত:৭৯)। দেহ ও পরিধেয় কাপড়ের পবিত্রতা আর্জনকে বলা হয় তাহারাত্। অযু বা গোসলের মাধ্যমে সেই তাহারাত্ আর্জন করা যায়। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেন – “পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ধর্মের অর্ধেক।“ (সহীহ মুসলিম)। অতএব প্রত্যেকটা মুমিনের উচিত ওযু বা তাহারাত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা রাখা ও সব সময় ওযু অবস্থায় থাকা।
অযুর ফরজ ফরজসমূহ : যেমন
১. মুখমন্ডল পরিপূর্ণ ধৌত করা। ২. দুই হাত কনূই পর্যন্ত ধৌত করা। ৩. মাথার এক চতুর্থাংশ মাসেহ করা (ভেজা হাত মাথায় বুলানো)। ৪. দুই পায়ের টাকনু পর্যন্ত উত্তম রূপে ধৌত করা। (ক্ষেত্র বিশেষ চামড়ার মোজার উপর মসেহ্ করা যাবে যাকে খুফস বলা হয়)।
এ ফরজগুলি ছাড়াও আছে কিছু সুন্নাত ও মুস্তাহাব কাজ যার মাধ্যমে সুন্দরভাবে ওযু করা সম্ভব। তবে ফরজের কোন একটি কাজ বাদ পড়লে ওযু হবে না।
এ সম্পর্কে কোরআনে বর্নিত আছে : “হে মু’মিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল ও হাতের কনুই পর্যন্ত ধৌত করে নিবে এবং তোমাদের মাথা মসেহ্ করবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে; যদি তোমরা আপবিত্র থাক, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হয়ে নিবে।তবে তোমরা যদি অসুস্থ হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেহ শৌচস্থান হইতে আগমন করে, অথবা তোমরা স্ত্রীদের সহিত সংগম কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তখন তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত মসেহ্ করবে। আল্লাহ্ তোমাদিগকে কষ্ট দিতে চান না; বরং তিনি তোমাদিগকে পবিত্র করিতে চান ও তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করতে চান, যাহাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।(সূরা মায়িদা, আয়াত:৬)।
অযু ভঙ্গের কারণসমূহ :
কোন ব্যক্তি অযু করার পর কিছু নির্দিষ্ট কাজ না করলে তার অযু বলবৎ থাকে। কিন্তু ঐ কাজগুলো যখনই করা হয় তখনই অযু অকার্যকর হয়ে যায় যা অযু ভেঙ্গে যাওয়া বলে।
উযু ভঙ্গের কারণ ৭টি :
১. পায়খানা-পেশাবের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়া।
২. অযু অবস্থায় মুখ ভরে বমি হলে।
৩. শরীরের ক্ষতস্থান হতে রক্ত, পুঁজ বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে।
৪. থুথুর সঙ্গে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হলে।
৫. চিৎ, কাৎ বা হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে গেলে।
৬. পাগল, মাতাল বা অচেতন হলে ।
৭. নামাযে উচ্চ আওয়াজে করে হাসলে।
যে পানি দিয়ে অযু করা যাবে : যেমন-
১. বৃষ্টির পানি ২. কুয়ার পানি যা ঢাকা থাকে ৩. ঝর্ণার, সাগর, নদীর পানি ৪. বরফ গলা পানি ৫. বড় পুকুর বা টেঙ্কের পানি
যে পানি দিয়ে অযু হবে না : যেমন-
১. অপরিচ্ছন্ন বা অপবিত্র পানি ২. ফল বা গাছ নিসৃত: পানি ৩. কোন কিছু মিশানোর কারণে যে পানির বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ এবং গাঢ়ত্ব পরিবর্তিত হয়েছে। ৪. অল্প পরিমাণ পানি: যাতে অপবিত্র জিনিস মিশে গেছে (যেমন: মূত্র, রক্ত, মল বা মদ)। ৫. অযু বা গোসলের জন্য ব্যবহৃত পানি। ৬. অপবিত্র (হারাম) প্রাণী, যেমনঃ শূকর, কুকুর ও আন্যান্য হিংস্র প্রাণীর পানকৃত পানির আবশিষ্ট।
ওযুর উপকারিতা
ওযুতে চারটি উপকারি রয়েছে-
দুটি উপকার ধর্মীয় যথা- ১. পবিত্রতা অর্জন যা মনে প্রশান্তি আনে ২. শয়তানের প্ররোচণা দূর হয় যা মন থেকে অশান্তি দূর করে প্রফুল্লতা ফিরে আনে।
অন্ন দুটি উপকার শারীরিক যথা-৩. অন্তকরণ সুদৃঢ় করে ৪. পদসমূহ মজবুত করে।
মস্তিষ্কের সাথে যেহেতু অন্তরের সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে তাই ওযুর মাধ্যমে মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করা হয় অর্থাৎ শরীর ও মন শক্তিশালী হয়। এর মাধ্যমে অন্তকরণ মজবুত ও পদসমূহ সুদৃঢ় করা যায়। যেমন পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন-
হে নবী স্মরণ কর সেই সময়ের কথা যখন আল্লাহ তোমাদের উপর তন্দ্রা স্থাপন করেছিলেন স্বীয় সান্নিধ্য হতে তোমাদের উপর শান্তি স্থাপনের জন্য। আর আসমান হতে তোমাদের উপর পানি বর্ষণ করেছিলেন যাতে সে পানি তোমাদেরকে পবিত্র করে। এবং তোমাদের থেকে শয়তানের প্ররোচণা দূর করেন এবং তোমাদের অন্তর সমূহ সুদৃঢ় করেন এবং তোমাদের পদসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। (সূরা আনফাল)
আর ক্রোধ দমনে রাসূল (সা.) বলেছেন — ক্রোধ প্রকাশ করা শয়তানের কাজ এবং শয়তান আগুন হতে সৃষ্টি হয়েছে। আগুন পানি দ্বারা নিভে যায়। অতএব তোমাদের মধ্যে কেউ রাগান্বিত হলে সে যেন ওযু করে নেয়
এ ছাড়াও কুরআন ও হাদীসের আলোকে ওযুর কিছু ফজিলত আলোকপাত করা হলো :
১) ওযুকারিকে আল্লাহ তাআলার ভালোবাসেন :
অযু /ওযু হল পবিত্রতা, আর পবিত্রতা অর্জনকারীকে আল্লাহ তাআলা ভালবাসেন। এরশাদ হচ্ছে:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺑِﻴﻦَ ﻭَﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻤُﺘَﻄَﻬِّﺮِﻳﻦَ
“নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের এবং পবিত্রা অর্জন কারীদেরকে ভালোবাসেন।” (সূরা বাকারাঃ ২২২)
২) পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ: রাসূল (সঃ) বলেছেনঃ ﺍﻟﻄُّﻬُﻮﺭُ ﺷَﻄْﺮُ ﺍﻹِﻳﻤَﺎﻥِ “পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ।” (মুসলিম)
৩) ওযু কারীর জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয় ”
যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “যে ব্যক্তি সুন্দর ভাবে অযু করবে অত:পর অযুর শেষে নিম্ন বর্ণিত দুআ পাঠ করবে তার জন্যে
জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে, সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।” দু’আটির বাংলা উচ্চারণ-
ঃ “আশহাদুআল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া
রাসূলুহু। আল্লাহুম্মাজআলনী মিনাত্ তাওয়্যাবীনা ওয়াজআলনী মিনাল মুতাত্বহহিরীন।” (তিরমিযী)
৪) ওযু কারীর জন্য জান্নাতের সুসংবাদ :
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
“যে কোন ব্যক্তি সুন্দর ভাবে অযু করে, একনিষ্ঠতার সাথে দুরাকাআত নামায আদায় করে তার জন্যে জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।” (মুসলিম)
৫) অযু এক নামায হতে অন্য নামাযের মধ্যে সংঘঠিত গুনাহের কাফফারাহ স্বরূপঃ
রাসূল (স.) এরশাদ করেনঃ
ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻢَّ ﺍﻟْﻮُﺿُﻮﺀَ ﻛَﻤَﺎ ﺃَﻣَﺮَﻩُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻓَﺎﻟﺼَّﻠﻮَﺍﺕُ
ﺍﻟْﻤَﻜْﺘُﻮﺑَﺎﺕُ ﻛَﻔَّﺎﺭَﺍﺕٌ ﻟِﻤَﺎ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻦَّ
“যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পরিপূর্ণ ভাবে অযু সম্পাদন করে, (তার জন্য) ফরয নামাযগুলোর মধ্যবর্তী সময়ে সংঘঠিত গুনাহের কাফ্ফারা হয়ে যায়।” (মুসলিম)
৬) ওযুর মাধ্যমে গুনাহ দূর হয় ঃ
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল (স.) বলেছেন: “যখন একজন মুসলিম বা মু’মিন ব্যক্তি অযু করে, সে যখন তার চেহারা ধৌত করে পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার চেহারার গুনাহ সমূহ দূর হয়ে যায় যা তার দৃষ্টি দ্বারা হয়েছে। এমনিভাবে সে যখন তার দুহাত ধৌত করে তার হাতের গুনাহ সমূহ যা হাত দিয়ে ধরার মাধ্যমে করেছে তা পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে দূর হয়ে যায়। আবার যখন দু’পা ধৌত করে পায়ের গুনাহ সমূহ যা পা দিয়ে চলার মাধ্যমে হয়েছে তা পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে দূর হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত- সে গুনাহ হতে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে যায়। (মুসলিম)
৭) অযুর অংগ প্রত্যংগগুলো কিয়ামতের দিন আলোকিত হবে :
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত তিনি বলেন, সাহাবাগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার উম্মত যারা আপনার পরে আসবে তাদেরকে আপনি কিভাকে পরিচয় পাবেন? তিনি বললেন” “আমার উম্মতগণ কিয়ামতের দিন অযুর স্থানগুলো আলোকীত অবস্থায় উপস্থিত হবে।” (মুসলিম)
৮) ঘুমানোর পূর্বে অযু করা দুআ কবুল হওয়ার কারণ :
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন মুসলিম ব্যক্তি যখন অযু করে নিদ্রায় যায়, রাত্রিতে জেগে দুনিয়া এবং আখেরাতের কোন কল্যাণের দুআ করলে দুআ কবুল করা হয়।” (নাসাঈ)

অসহনীয় অবস্থায় নারী শ্রমিকরা

বাংলাদেশ উন্নয়নের গতিধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বলয়ের বিভিন্ন সূচকে অর্ধাংশ নারীও সমানতালে ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে সরকারী, বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট পেশা থেকে শুরু করে কৃষি, নির্মাণ প্রকল্প, পোশাক শিল্প কারখানায় নারীর সচেতন কর্মযোগ সামগ্রিক সমৃদ্ধির নিয়ামক। শারীরিকভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং সামাজিক রক্ষণশীলতার জালে আবদ্ধ নারীদের হরেক রকম বিপত্তি আর বিভ্রান্তির শিকার হতে হয় কর্ম জীবনের উপস্থিত পরিস্থিতিকে সামলাতে গিয়ে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে আসে পেশাগত জীবনে সিংহভাগ নারীই অবহেলা, অপমান আর অবিচারের আবর্তে পড়ে। সামাজিক বিধি নিষেধের কঠোর বেড়াজাল আজ অবধি বহু নারীর চলার পথ নিরাপদ, নির্বিঘœ আর মুক্ত করতে পারেনি। সংসার সামলিয়ে নারীকে তার পেশাগত জীবনের দায়-দায়িত্ব সম্পন্ন করতে হয়। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই চাকরিজীবী। কিন্তু সন্তান পালন থেকে আরম্ভ করে তার শিক্ষা কার্যক্রম ছাড়াও সব ধরনের ঝক্কি ঝামেলা এসে পড়ে মায়ের কাঁধে। পারিবারিক সমস্ত কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যখন কোন নারী তার অফিসের গন্তব্যের দিকে রওনা হয় তখন তাকে নতুন আর এক বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয় সড়ক পরিবহনে। গণপরিবহনে নারীদের দুরবস্থার চিত্র এখন নিত্য সহনীয় অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে। চালক থেকে আরম্ভ করে হেলপারের অসৌজন্যমূলক আচরণে নারী যাত্রী যে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে, তা নতুন করে বলার আর কিছুই নেই। তার ওপর যদি পুরুষ সহযাত্রীর রোষানলে পড়ে তাহলে তো ষোলোকলা পূর্ণ হয়।
অপেক্ষাকৃত উন্নতমানের সম্মানজনক পেশায় নিযুক্ত নারীদের কর্মস্থল অনেকটা শোভন এবং শালীন। কিন্তু নির্মাণ শ্রমিক থেকে শুরু করে পোশাক শিল্পে নিয়োজিত নারী পেশাজীবীদের জীবন যে কত দুর্বিষহ এবং সমস্যায় আবর্তিত তা বলে শেষ করা যায় না। পুরুষ সহকর্মীর কটূক্তি, অশালীন ব্যবহার তার চেয়েও বেশি প্রাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চনার শিকার হওয়া-সব মিলিয়ে এক অসহনীয় অবস্থায় পড়ে নারী শ্রমিকরা। মজুরির বেলায়ও হয় চরম বৈষম্য। তার ওপর আছে শিল্প কারখানার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, যার সরাসরি প্রভাবে আক্রান্ত হয় নারীরাই বেশি। সেনিটেশন সমস্যা এসব গতরখাটা প্রতিষ্ঠানের নিত্য নৈমিত্তিক দুঃসহ যন্ত্রণা। নারীদের জন্য উপযোগী এবং স্বাস্থ্যসম্মত কোন ওয়াশরুমও থাকে না, যেখানে তারা প্রয়োজনীয় সঙ্কট নিরসন করতে পারে। নিম্ন কর্মজীবী নারী শ্রমিকরা তাদের বক্তব্যে কারখানার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করার দায়ভাগ চাপায় পুরুষ সহকর্মীদের ওপর। তাদের উত্ত্যক্ত করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য এমনকি অনেক সময় শারীরিকিভাবেও নিগৃহীত হতে হয় পুরুষ সহকর্মী কাছ থেকে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা যদি নিশ্চিন্তে, নির্বিঘেœ তাদের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে উন্নয়নের নিরবচ্ছিন্ন গতিধারায় তার প্রভাব দৃশ্যমান হতে সময় লাগবে না। অবাধ ও মুক্ত পরিবেশে নারীরা তাদের পেশাগত জীবনকে যেন সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নজর দিতে হবে। কর্মস্থলের পরিবেশ-পরিস্থিতি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন হওয়া একান্ত আবশ্যক।

 

শপথ নিলেন মেয়র সহ সিলেটের ৩৬ কাউন্সিলর ॥ জনপ্রতিনিধিরা যে দলেরই হোন না কেন সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে-প্রধানমন্ত্রী

কাজিরবাজার ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনপ্রতিনিধিরা যে দলেরই হোন, জনগণ যাকে নির্বাচিত করেছে তার সম্মান রাখবে সরকার। তাকে কাজ করার সুযোগ দিতে সব ধরণের সহায়তা করবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেছেন, সম্প্রতি সিটি বিস্তারিত

কুলাউড়ায় অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্য আটক

মৌলভীবাজার থেকে সংবাদদাতা :
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যেমে বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) তাদের আটক করা হয়। বিস্তারিত

কোম্পানীগঞ্জে ১৫৫ বোতল মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ

কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বুধবার ১৫৫ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই, ওসি তদন্ত দীলিপ কান্ত নাথ ও এসআই খায়রুল বাশার এর নেতৃতে বিস্তারিত

দলিল জালিয়াতি মামলায় কানাইঘাটের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জেল হাজতে

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
কানাইঘাট লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ সুলেমান কে একটি ফৌজদারী মামলায় বুধবার সিলেট জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা যায় কানাইঘাট থানায় একই ইউপির বিস্তারিত

গোয়াইনঘাটে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

গোয়াইনঘাট থেকে সংবাদদাতা :
গোয়াইনঘাটে নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় থাকা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (৫০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে ওই ব্যক্তির লাশটি উদ্ধার করা হয়। গোয়াইনঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিয়া নাসির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিস্তারিত

সাংবাদিক আফতাব উন-নবীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ৬ সেপ্টেম্বর সাবেক তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আফতাব-উন-নবী জায়গীরদার এর ১৯তম মৃত্যু বার্ষিকী। তিনি ০৬-০৯-১৯৯৯ খ্রিঃ সকাল ৮.৩০মিঃ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৭ বৎসর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ঐ দিন বাদ এশা হযরত বিস্তারিত

গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি দিন – তাহসিনা রুশদীর লুনা

বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদাজিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা ও জননেতা এম.ইলিয়াস আলীর সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর লুনা এক বিবৃতিতে ওসমানীনগর, বিশ্বনাথসহ সিলেটে গ্রেফতারকৃত বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও বিস্তারিত

সুনামগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানসহ সাত জনের দুই বছরের কারাদন্ড

সুনামগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা শেষে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক চেয়ারম্যানসহ অন্যদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আরেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ সাত জনকে দুই বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। বিস্তারিত