পুরাতন সংবাদ: August 18th, 2018

স্বপ্ন যায় হারিয়ে

আবু আফজাল সালেহ

একটি স্বপ্ন বেড়ে উঠেছিল।
ফানুস উড়িয়ে ডালপালা বেড়ে ডানামেলে উড়ছিল।
লক্ষ্যহীনভাবে, নিজের ওজন ভুলে।
তবুও তা স্বপ্ন তো!
স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিল রোকন
একটু একটু করে বৃদ্ধ পিতা-মাতার
সাথে ছোট্ট ভাই-বোনেরও।

একদিন দেখা গেল উৎসুক জনতার জটলা
লালশার্ট পরা রোকনের নিথর দেহ ভাসছে বুড়িগঙ্গায়!
সংসার গেল বুড়োবুড়ির,
ভাই-বোনের চোখ তাদের ঝাপসা আজ-
গতকালের অহংকার গেল ধুয়ে
স্বপ্ন গেল গুঁড়িয়ে- হারিয়ে গেল দূর অজানায়।

ঈদ এলো ভাই

রমজান আলী রনি

ঈদ এলো ভাই ঈদ এলো ভাই
খুশিরই ঈদ এলো
ঈদ এলো ভাই ঈদ এলো ভাই
ত্যাগেরই ঈদ এলো।

ত্যাগের নজির বুকে নিয়ে
মুসলমানের ঘরে
আসে খুশির ঈদের বাণী
দেখি পরাণ ভরে!

কিশোরেরা দীপ্ত প্রাণে
বাজায় খুশির বাঁশি
ছোট-বড়ো সবার মুখে
একই চাঁদের হাসি!

বছর ঘোরে দুইটি ঈদে
বাজে খুশির শানাই
হিন্দু-মুসলিম বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান
ঈদের দাওয়াত জানাই।

বড় প্রয়োজন ছিল

নেছার আহমদ নেছার

সাথী-
পথে হলো দেখা কতকাল পর
হয়তো কোনদিন ভাবনি কেমন আছি
কোথায় আছি-
মরে গেছ না বেঁচে আছি-
হয়তো জানতে পারনি;
জানিনা কত রাত কাটিয়েছি চোখের জলে
না-পাওয়ার নিদারুণ হাহাকারে।

কতদিন কত কাল পরে-
এভাবে তোমাকে পেয়ে
আমি বিমুঢ় কোন কথাই বলতে পারিনি,
বিরহ শোক অনল আমার হৃদয় সত্ত্বা
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নিঃশেষ করে দিয়েছে;
অথচ তোমার সেই নিবিড় ভালবাসায়
জড়ানো স্নেহ মমতার একটু
স্নিগ্ধ পরশ জীবনে বড় বেশী প্রয়োজন ছিল।

 

প্রবাস এসে করেছিলাম মস্ত ভুল

তা-রে-ক-লি-ম-ন

কতটা দিন হয়নি ঘুরা চারিপাশ
হয়নি দেখা দু’চোখ মেলে দূর আকাশ
বন্দি খাঁচার পাখির মতো জেলখানায়
জেলের ভেতর আজ আমাদের বেশ মানায়,

বয়স কুড়ি হবার আগেই, পরিবারের হাল ধরে
প্রবাস এসে নিত্যদিন-ই- কষ্টের সাথে যাচ্ছি লড়ে
জীবন যুদ্ধে লড়তে গিয়ে, মরছি ধুঁকে
স্বপ্ন তবু আপনজন-রা -থাকুক সুখে,

ময়লা কাপড়, ছেড়া জুতো, থেকে নোংরা বেশে
মাস শেষে জমিয়ে টাকা,পাঠাতে হয় দেশে
তার পরও খুশি থাকেনা,পরিবারের মন্টা
যাদের জন্য খেটে মরি, রাতদিন
চব্বিশ ঘন্টা,

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,ভেঙ্গে শক্ত পাথর
আগের মত হয়না চলা,দেহটা বেশ কাতর
পরিবারের কথা ভেবে,হয়নি করা বিয়ে
বুড়ো বলে মশকারা তাই,করে লোকে নিয়ে,

হারিয়ে যাওয়া দিন গুলোতে হবেনা আর ফেরা
মরণটা আজ চারিপাশে করছে শুধু তাড়া
জীবনের এই করুণ দশা, কিসের জন্য
জীবন নামের পরীক্ষায় আজ শূন্য শূন্য,

প্রবাস এসে স্বাধীনতা হরণ হলো
টাকার পিছু ছুঁটতে গিয়ে,সকল সুখের মরণ হলো
দেহ গেলো, যৌবন গেলো,মাথায় আজ পাকনা চুল
প্রবাস এসে করেছিলাম মস্ত ভুল…..।।

 

যাত্রী চলাচল সুগম হোক

আমাদের দেশে প্রায় সব ধর্মের মানুষ, যারা স্থায়ী ঠিকানা অর্থাৎ পৈতৃক ভিটার বাইরে কর্মরত, মূল ধর্মীয় উৎসবের সময় বাড়িতে ফেরে। অন্যদের বাড়ি ফেরা ততটা চোখে পড়ে না, যতটা চোখে পড়ে মুসলমানদের যাত্রা। সংখ্যাধিক্য ও যাত্রাপথের পরিস্থিতির কারণে এমনটি হয়। মুসলমানরা ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বছরে দুইবার বাড়ি ফেরে। এ যাত্রায় ভোগান্তির শেষ নেই, প্রতিবার একই পরিস্থিতি। এবারও ব্যতিক্রম হবে না, বরং বিড়ম্বনা বাড়বে, বিশেষ করে সড়কপথে। এর পরও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঝুঁকি নিয়ে ঘরমুখো হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।
সড়কপথে ঝুঁকি, ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। অনিরাপদ সড়কের মূল কারণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অদক্ষ চালক। সড়কে দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৩ জন প্রাণ হারায়। ঈদের আগে-পরে দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে আজ থেকে পাঁচ দিন সড়ক, রেল ও নৌপথে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেশি থাকবে। সবচেয়ে বেশি থাকবে সড়কপথে। কারণ ৮৮ শতাংশ যাত্রীই সড়কযানে চলাচল করে। স্কুল শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের কারণে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার তাগিদ রয়েছে, চালক ও যানের ওপর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কড়া নজর রয়েছে। ফলে এবার বাস সংকট দেখা দেবে। এর অভিঘাত অন্যান্য পথের ওপরও পড়বে।
ঈদ যাত্রায় ঝুঁকি ও বিড়ম্বনার কিছু কারণ রয়েছে। মূল কারণ তিনটি ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালানো এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। অতিরিক্ত ভাড়া ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ভোগান্তি-বিড়ম্বনার কারণ। আর অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিবার ঈদের আগে-পরে পাঁচ দিন দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী? সড়কে যে যান সংকট দেখা দিচ্ছে তার সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সড়ক, নৌ ও রেলপথে সমন্বয়ের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করা যেতে পারে। যাত্রীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের দিকে নজর কম দিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে নজর বেশি দিতে হবে। তারা যেন ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি ও অদক্ষ চালকদের এড়িয়ে চলে। সরকার শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য ছুটির আলাদা ব্যবস্থা করতে পারে। গত ১১ আগস্ট বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে ঈদ যাত্রার যানবাহন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য সব চালক ও গাড়িকে আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া যেতে পারে।
লক্ষ্য সঠিক হলে, উদ্দেশ্য স্বচ্ছ হলে সমাধানের ব্যবস্থা করা সম্ভব। প্রণেতা ও পরিচালক নীতিনিষ্ঠ ও আন্তরিক হলে ব্যবস্থাটি সঠিকভাবেই চলমান থাকবে। এবারের ঈদ যাত্রার জন্য নগর-মহানগর, বিশেষ করে ঢাকা থেকে কোন পরিবহনব্যবস্থায় কত যাত্রী পরিবহন করা হয় তার নিরিখে সমন্বিত সূচি তৈরি করা হোক, যাতে সড়কের ওপর চাপ কম পড়ে। এবার রেল ও নৌ মন্ত্রণালয়কে বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাত্রাপথকে, বিশেষ করে সড়কপথকে নিরাপদ রাখার জন্য, চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকপক্ষকেও। সড়ককে নিরাপদ রাখায় যাত্রীরাও সহায়তা করতে পারে। তাড়া থাকবে, তার পরও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি ও অবৈধ চালকদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।