পুরাতন সংবাদ: August 15th, 2018

ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন ৭ হাজার ভিসা দিচ্ছে ভারত

কাজিরবাজার ডেস্ক :
ঈদের আনন্দ মানেই কেনাকাটা-ভ্রমণ। কেনাকাটার পাশাপাশি এখন প্রচুর সংখ্যক মানুষ ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। আর তালিকার প্রথম দিকেই থাকে পাশের বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারত। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিদিন ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করেছে ঢাকার বিস্তারিত

চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জে পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জ উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ আগষ্ট) দুপুরে চুনারুঘাটের গাজীপুর ইউনিয়নের ইকরতলী গ্রাম ও নবীগঞ্জের আউশকান্দি ইউনিয়নের মিনহাজপুরে এ ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত

যাত্রীর অভাবে ২০টি হজ্ব ফ্লাইট বাতিল

কাজিরবাজার ডেস্ক :
যাত্রী না পাওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আরও দু’টি হজ্ব ফ্লাইট বাতিল করেছে বাংলাদেশ বিমান। বাতিল করা ফ্লাইট দু’টি হলো বিজি১০৯৩ ও বিজি৩০৯৩। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ২০টি হজ্ব ফ্লাইট বাতিল করা হলো। এতে বিমানের ক্যাপাসিটি বিস্তারিত

গোলাপগঞ্জে গ্রামীণ ফোনের অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি, ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট

গোলাপগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
সিলেট ট্রেডিং গ্রামীণ ডিষ্ট্রিবিশন হাউজ গোলাপগঞ্জ শাখার প্রধান অফিস চুরি করে ১০ লাখ টাকার মোবাইল কার্ড লুট করে নিয়ে গেছে চোর চক্রের সদস্যরা। এ সময় চোর চক্রের সদস্যরা আরো ৪টি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতের কোন এ বিস্তারিত

ছাতকে তিন সন্তানের জননীন আত্মহত্যা

ছাতক থেকে সংবাদদাতা :
ছাতকে রানী বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় কৈতক হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছে। সে জাউয়াবাজার ইউনিয়নের লক্ষ্মমসোম গ্রামের ছব্বির আলীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী। বিস্তারিত

ফিরে এসো বঙ্গবন্ধু

নুশরাত রুমু

চেতনার নিমীলিত চোখে ঘুমিয়ে পড়েছে বাঙালি,
প্রতারণার আখড়া হয়েছে স্বপ্নের সোনার বাংলা।
লিপ্সার বৃষ্টি ডুবিয়ে দিচ্ছে জাতির বিবেক।
দুর্নীতির দমকা হাওয়ায় ছিঁড়েছে সততার পাল।
কৃত্রিম আবেগের কাছে নন্দিত স্বপ্নগুলোর দাফন হলো সম্পন্ন।

বসন্তের পলাশ দেখে ভাবুক হয় না মানুষ।
বরং দুমড়ে মাড়িয়ে চলে যায় উন্মাদ চোখে।
একাত্তরের হায়েনার মতো নারীর সম্ভ্রম খুবলে খাচ্ছে পথভ্রষ্ট কামার্তের দল অস্তিত্বের বসতভিটায় লেগেছে তীব্র সংকট।

নৈতিক বিচ্যুতির গ্রহণের কালে তোমাকে আবার বড় প্রয়োজন ওগো বঙ্গবন্ধু!
উদয়ের বাণী নিয়ে তুমি আসবে…
সেই প্রতীক্ষায় বিষাদ রোদনে অপেক্ষারত দিশেহারা জাতি।
তোমার মহান কীর্তিকে জানাই লাখো সালাম।
হাজার বঙ্গবন্ধু হয়ে প্রতিটি মায়ের ক্রোড়ে ফিরে এসো হে চিরভাস্বর!

ভালো থেকো বঙ্গপিতা

মাযহারুল ইসলাম অনিক

জাতির পিতা অমর তুমি রবে চিরদিন,
সত্যি বলছি ফুরোবেনা কভু তোমার ঋণ।
তুমি যেদিন এ ধরাতে এলে শিশু রূপে,
বড়ো গোঁফা শত্রুগুলো ছিলো না নিশ্চুপে।
রক্ত আশে এদিকওদিক ছুটেছিলো তারা,
বুড়ো-বুড়ি শিশু-কিশোর গিয়েছিলো মারা।
গাড়ি -বাড়ি কলকারখানা নিয়েছিলো লুটে,
শত্রুগুলো চলছিলো ভাই কালো কালো বুটে।
শাসন বারণ কেউ মানেনি সব করেছে ছাপ,
বৃদ্ধ পিতাও তাদের থেকে পায় নি কভু মাফ।
এমন ভাবেই অনেক বছর হলো একাই পার,
সাহস নিয়ে তুমিই তখন দেখাও স্বাধীন দ্বার।
তর্জনীটা উঁচোয় ধরে দিলে তেজি ভাষণ,
সেই ভাষণে কাঁপলো ধরা কাঁপলো পাকির আসন।
তারপরেতে বঙ্গ জাতি পেলো স্বাধীন স্বাদ,
হঠাৎ করে ভাঙালো দেখো সকল দুঃখ বাঁধ।
তোমার দেওয়া সেই ভাষণে স্বাধীন হলো জাতি,
ঘরে ঘরে জ্বলছে দেখো খুব যে আলো বাতি।
ভালো থেকো সুখে থেকো বঙ্গ জাতির পিতা,
শত্রু বুকে জ্বলবে দেখো বিশাল অনল চিতা।

মুজিব

জিল্লুর রহমান পাটোয়ারী

টঙ্গী পাড়ার সেই ছেলেটি,
মুজিব নামে জানি –
জ্ঞানগরিমায় বিদ্যা বুদ্ধিতে,
ছিলেন অনেক জ্ঞানী
সেই ছেলেটির ছড়ায় সুনাম,
খ্যাতি আর সম্মান –
গর্বে মোদের বুক ভরে যেতো,
হইনি মোরা অপমান ।
স্বপ্ন তাহার সোনার বাংলা,
গড়িয়েছেন নিজ হাতে –
সোনার বাংলার মানুষগুলো,
নিয়েছিলেন তার সাথে।
তাদের নিয়ে চালায় এদেশ,
চলেছিল বেশ ভালো –
হঠাৎ করে কোন ছোবলে,
নিভায় যেন তার আলো।
শোকের ছায়া সোনার দেশে,
শোকের বইছে ঢল –
কোন পাষণ্ড ঘটাল হায়,
সবার ভাঙ্গল বাহুবল।

মানুষের কল্যাণই হোক শোক দিবসের অঙ্গীকার

তরিকুল ইসলাম
১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস। এই দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার। এই দিনে হত্যা করা হয়েছিল স্বাধীন বাংলার স্থপতি, আধুনিক বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টাকে। যার জন্ম না হলে আমরা পেতাম না সবুজের মাঝে লাল পতাকা, আমরা পেতাম না আমাদের জাতীয় সঙ্গীত, আমরা পেতাম না একটি মানচিত্র, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির রাখাল রাজা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আজ এই মহান নেতার ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী। এই দিনটি বাঙালি জাতিকে বিশ্বের কাছে অকৃতজ্ঞ জাতিতে পরিণত করেছে। এই দিনে আরও হত্যা করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে যিনি পিছন থেকে উৎসাহ ও প্রেরণা যোগাতেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে সৃষ্টি সকল আন্দোলন সংগ্রামে বিভিন্নভাবে যিনি পরামর্শ দিতেন। যার ত্যাগ শেখ মুজিবকে জাতির পিতা বানিয়েছে সেই মহীয়সী নারী জাতির পিতার সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল, মেজো পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেলকে হত্যা করেছিল। পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতিআব্দুর রব সেরনিয়াবাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি, আরজু মনি, শহীদ সেরিনিয়াবাত, শিশু বাবু, কর্নেল জামিল, আরিমা রিন্টু খানসহ আরও অনেককে।
১৫ আগষ্ট হঠাৎ করে ঘটা কোন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের লালিত লিপ্সা ও পরাজিত পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের সমন্বয়ে সংঘটিত একটি ঘটনা। পাকিস্তান একাত্তর সালের তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে বীর বাঙালিদের দাবাতে পারেনি। যখন দেখল বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির শক্তি। তখন তারা তাদের পুরনো বন্ধু রাজাকারদের দিয়ে ষড়যন্ত্রের শুরু করে। পাকিস্তান চিন্তা করল এবার যদি বঙ্গবন্ধুকে মারা যায় তাহলে আর পাকিস্তানের ওপর দায়ভার যাবে না যাবে বাঙালির ওপর। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আরও অনেকে দেশ জড়িত ছিল। বিশেষ করে পাকিস্তান চিন্তা করল এভাবে যদি শেখ মুজিবকে হত্যা করা যায় তাহলে একসঙ্গে দুটি স্বার্থ সিদ্ধি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ধ্বংস হয়ে যাবে অপরদিকে আস্তে আস্তে একটি সময় বাংলাদেশে আবার পাকিস্তানের শাসনে চলে আসবে। পাকিস্তানসহ বিদেশী অনেক দেশ মিলে এই ষড়যন্ত্র শুরু করে দেয়। অকৃতজ্ঞ বাঙালি এবং বেইমান রাজাকার সবাই ক্ষমতার লোভে পড়ে যায়। জাতির পিতার অন্যতম ঘনিষ্ঠতা অর্জন করে তারা জাতির পিতার সঙ্গে বেইমানি শুরু করে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা জাতির পিতাকে অনেকবার সেটি হুঁশিয়ার করেছেন কিন্তু জাতির পিতা বলত পাকিস্তানীরা যেখানে আমাকে হত্যা করতে পারেনি আর সেখানে যে বাঙালির জন্য আমি এত কিছু করে দেশ স্বাধীন করেছি তারা আমাকে হত্যা করবে এটা হতে পারে না। জাতির পিতাকে রাষ্ট্রপতির বাসভবন থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বাংলার জনগণকে অনেক ভালবাসতেন বলে তিনি চিন্তা করতেন বঙ্গভবনে থাকলে সবাই সবসময় দেখা তার সঙ্গে দেখা করতে পারবে না তাই ৩২নং বাড়িতে থাকতেন। জনগণের প্রতি জাতির পিতার এত ভালবাসা যে একদিন কাল হয়ে দাঁড়াবে সেটা তিনি কখনও বুঝতে পারেননি। ঘরের মধ্যে থেকে মোস্তাকরা যে তার সঙ্গে এত বড় বেইমানি করবে সেটা তিনি কখনও কল্পনাও করতে পারেননি। ১৫ আগষ্ট সকালে জাতির পিতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু সে অনুষ্ঠানে তার আর যাওয়া হলো না।
১৫ আগষ্ট কালরাতে সেনাবাহিনীর কিছু বিপদগামী সদস্য জাতির পিতার ৩২নং বাড়িসহ তার বিভিন্ন আত্মীয় বাড়িতে হামলা করে। ৩২নং বাড়িতে প্রথম যখন গুলি করে সেটি শেখ কামাল শুনতে পেয়ে সেখানে এগিয়ে যায়। শেখ কামাল দেখতে পায় একদল সৈনিক তাদের বাড়িতে হামলা করেছে শেখ কামাল বঙ্গবন্ধুকে সংবাদ দেয়। তারপর শেখ কামাল নিচে নামেন। যাওয়া মাত্রই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। জাতির পিতা সংবাদ শোনার পর সেনাপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য টেলিফোনে চেষ্টা করে কিন্তু টেলিফোনের লাইন কেটে ফেলায় তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি। জাতির পিতা তখন সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলতে থাকে এই তোরা কারা, তোরা কী চাস। তখন কিছু কুলাঙ্গার জাতির পিতাকে গুলি করে হত্যা করে। পরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ পরিবারের সবাইকে হত্যা করে। সেদিন স্বামী-সন্তানসহ জার্মানিতে থাকার কারণে প্রাণে বেঁচে যান আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
১৫ আগষ্ট বাঙালির জন্য একটি কলঙ্কিত রাত আর এই জঘন্য ঘটনার জন্য আজও পৃথিবীর কাছে বাঙালি একটি অকৃতজ্ঞ ও খুনী জাতি হিসেবে পরিচিত। জার্মানি থেকে ফেরার পথে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পাসপোর্ট দেখে সেখানকার লোকেরা বলেছিল তোমরা বাঙালিরা এত খারাপ যে তোমরা তোমাদের জাতির পিতাকে হত্যা করেছ। কিন্তু সেদিন আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী তাকে বলতে পারেন নেই যে আমরাই সেই জাতির পিতার কন্যা। জাতির পিতাকে হত্যার পর ঘাতকরা এই দেশকে আবারও পাকিস্তানের পরামর্শে পাকিস্তানের একটি রাজ্যে পরিণত করতে থাকে। কিন্তু ১৯৮১ সালে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তারপর থেকে বাঙালিরা আবার প্রাণ ফিরে পায় এবং আবার বাংলার জনগণ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা এই দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নিজের জীবনবাজি রাখার প্রতিজ্ঞা করেন।
১৯৮১ সালে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, আমার মা-বাবা-ভাই কেউ আজ বেঁচে নেই কিন্তু আপনাদের মাঝে আমি আমার মা-বাবা-ভাইদের খুঁজে পেয়েছি। এই দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে প্রয়োজন হলে বাবার মতো আমি আমার জীবন উৎসর্গ করে দেব। সেই থেকে তিনি তার জীবনবাজি রেখে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা ১৫ আগষ্ট থেকে শক্তি নিয়ে পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। আজ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনার স্বপ্ন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করবেন। আজকের পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভারসহ সকল প্রকল্প ১৫ আগষ্টের শোক থেকে নেয়া শক্তি। আজকের প্রযুক্তি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ১৫ আগষ্টের শোক থেকে নেয়া শক্তি।

 

ব্যর্থ হবে ষড়যন্ত্র

মাহমুদুল আলম খান (বেনু)
অন্যের মতো আমি তাকে ষড়যন্ত্রকারী বলব না, যা আমি জানি না। এও বলব যে, তিনি নামকরা আইনবিদ এবং বাংলাদেশের সংবিধান তৈরিতে তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে. যা মাত্র ৯ মাসে বাংলাদেশের গণপরিষদ সম্পাদন করতে পেরেছে। তবে এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, তিনি বিপ্লবীও নন, যোদ্ধাও নন। নিরেট সত্য হলো যে, তিনি ভীতু। শহীদ বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ আমাকে বলেছিলেন, তিনি ও কামাল হোসেন ২৫ মার্চ রাত ৯টার দিকে বঙ্গবন্ধুকে অনেক বলার পরও যখন ধানমন্ডির ৩২নং বাড়ি থেকে বের করতে পারলেন না (বরঞ্চ তিনি তাদের বলেছিলেন তোরা ঢাকা শহর ছেড়ে চলে যা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়, সব ব্যবস্থা করা আছে), তখন তিনি, ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিষ্টার আমীর-উল ইসলামসহ তাজউদ্দীন আহমদের বাসায় গিয়ে চাচিকে বললেন, আমি চললাম, সন্তানদের নিয়ে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির সঙ্গে মিশে যেও। পথিমধ্যে ড. কামাল হোসেন তার বাসায় গিয়ে কাপড় চোপড় আনার কথা বলে আর ফিরলেন না। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে ব্যারিষ্টার আমীর-উল ইসলামসহ কেরানীগঞ্জের আওয়ামী লিগ নেতা গগন ভাইয়ের বাড়ি হয়ে কুষ্টিয়া দিয়ে ভারতে গমন করেন তারা। পরবর্তীতে কামাল হোসেন পাকিস্তানে চলে যান, কারণ সিন্ধুতে তার শ্বশুরবাড়ি। সেখানে তিনি অন্তরীণ ছিলেন, না বহাল তবিয়তে ছিলেন, সেটা তিনিই ভাল জানেন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ যখন চূড়ান্ত বিজয় লাভ করল এবং পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে মিনওয়ালি জেল থেকে লয়ালপুরের রেষ্ট হাউসে স্থানান্তর করলেন, তখন জনাব ভুট্টো তার সঙ্গে দেখা করলেন এবং বঙ্গবন্ধুর খেদমত করতে চাইলেন। তখন বঙ্গবন্ধু বললেন ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে আসতে। কারণ বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে ঝোলানোর মামলায় যখন সওয়াল জবাব চলছিল, বিশিষ্ট আইনজীবী মি. ব্রোহীর কাছে তিনি শুনেছিলেন, ড. কামাল হোসেন পশ্চিম পাকিস্তান আছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাধারণ মেধাবী এবং প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। তার পরের ইতিহাস সবার জানা। বঙ্গবন্ধু ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে লন্ডন হয়ে ঢাকা ফিরলেন। ড. কামাল হোসেনকে প্রথমে আইনমন্ত্রী ও পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করলেন। বঙ্গবন্ধু তাকে অসম্ভব স্নেহ করতেন ও ভালবাসতেন, যা ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বভাবজাত ধর্ম। বাকশাল করার পর ড. কামাল হোসেন নানা ছল-ছুতায় বিদেশে যাওয়া-আসা শুরু করলেন। সবশেষে ১৫ আগষ্টের কয়েকদিন আগে বঙ্গবন্ধুকে না জানিয়ে সপরিবারে বিদেশে চলে গেলেন। বিদেশ থেকে জানালেন, শীঘ্রই ফিরবেন না, পড়াশোনা করবেন। আমার প্রশ্ন, তিনি কি ১৫ আগষ্টের ঘটনা পূর্বেই জানতেন? কিংবা তিনি যদি বাকশালের পক্ষে নাই থাকতেন, তা হলে জেনারেল ওসমানীর মতো পদত্যাগ করতে পারতেন। তাহলে বুঝতাম, তার সৎসাহস আছে। ইতিহাসের নিকৃষ্টতম হত্যাকা-ের পর যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এতিম হয়ে গেলেন, পেশাদার আমলা হয়েও যখন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী দুই বোনকে আশ্রয় দিলেন, তখন বার বার অনুরোধ সত্ত্বে¡ও কিংবা বিবেকের তাড়নায় ড. কামাল হোসেন একবারও দুই বোনের সঙ্গে দেখা করলেন না বা হত্যার নিন্দা করে কোন বিবৃতি দিলেন না বা প্রতিবাদ সভা করলেন না। বিশিষ্ট সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ভাষ্যমতে, বহুবার ওয়াদা সত্ত্বেও ড. কামাল হোসেন লন্ডনের কোন প্রতিবাদ সভায় যোগদান করেননি। এই হলো ড. কামাল হোসেন! আর তিনি করবেন বিপ্লব! দুনিয়ার সবাই বিশ্বাস করলেও কোন বাঙালি এটা বিশ্বাস করে না। তিনি এখন চান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। তার উচিত হবে না বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা। কারণ বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে তিনি বেইমানি করেছেন। স্বাধীনতাবিরোধী, মানবতাবিরোধী এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন এবং শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করবেন- সে আশায় গুড়ে বালি। বাংলার মানুষ কোনদিন বঙ্গবন্ধুর খুনীদের এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা দিবসে নিজেদের জন্মদিবস পালনকারীদের ক্ষমতায় আসতে দেবে না। মনে রাখবেন, ১৯৮১ সালের শেখ হাসিনা আর ২০১৮ সালের শেখ হাসিনা এক নন। ইতোমধ্যে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনায় অনেক জল গড়িয়ে গেছে। বাংলার মানুষ বুঝতে পেরেছে এবং তাদের অন্তর থেকে বিশ্বাস করে, তাদের প্রকৃত বন্ধু কে? মায়েরা-বোনেরা বুঝতে পেরেছে সত্যিকার অর্থে এ দেশের মঙ্গল করতে পারবেন কে? কে পারবে তাদের মায়ের স্নেহে, বোনের স্নেহে আগলে রাখতে? কে পারবে দেশের-দশের সত্যিকার উন্নয়ন করতে? কে পেরেছে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে! কে পেরেছে ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দিতে। কে পেরেছে নিজস্ব অর্থায়নে বিশাল পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করতে।
সবশেষে বলি, এই মুহূর্তে বাঙালি জাতির আশা-ভরসার স্থল একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনিই পারেন ত্রিশ লাখ শহীদের, ৩ লাখ নির্যাতিত মা-বোনের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে। তিনিই পারেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে।