পুরাতন সংবাদ: August 4th, 2018

ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট’১৮ ॥ ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের মিলনমেলা

মাসুদ আল রাজী

গত ২৭ ও ২৮ জুলাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেশের সকল ক্যা¤পাসের সাংবাদিকদের নিয়ে প্রথমবারের মত দুই দিন ব্যাপি “ন্যাশনাল ক্যা¤পাস জার্নালিজম ফেস্ট’১৮”। অনুষ্ঠানে দেশের ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় তিনশত সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। ক্যা¤পাস সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে মেল বন্ধনকে আরো দৃঢ় করতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব এ ফেস্টের আয়োজন করে। দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে মিলনমেলার পাশাপাশি ছিলো ক্যা¤পাস সাংবাদিকতার সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তর আলোচনা।
দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ২৮ জুলাই শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে পায়রা উড়িয়ে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। পরবর্তীতে সেখান থেকে ক্যা¤পাসে একটি আনন্দ র‌্যালি বের করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার, প্রক্টর জহীর উদ্দিন আহমদ, চ্যানেল টুয়েন্টিফোর এর বিজনেস এডিটর ফারুক মেহেদী, ডেইলি বাংলাদেশ কন্ঠ’র স¤পাদক ফারুক খান ও বাংলাদেশ জার্নালের যুগ্ম বার্তা স¤পাদক মুস্তফা মনওয়ার সুজন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালগুলোর মান খুবই খারাপ হয়ে গেছে। কেননা এখনকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লবিংয়ের মাধ্যমে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দেয়া হয়। যাদের ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ার যোগ্যতাই নাই।”
ক্যা¤পাস সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জাফর ইকবাল বলেন, “সাংবাদিকদের অনেকেই বলেন আমি নিরপেক্ষ। নিরপক্ষে বলতে তোমরা কি বুঝ? ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে যেটা সেটাতো নাকি? কিন্তু না, আমি সব জায়গায় নিরপেক্ষ থাকবো না। আমাকে যদি ন্যায় এবং অন্যায়ের মাঝখানে নিরপক্ষে থাকতে বলা হয়, তবে আমি ন্যায়ের পক্ষেই থাকবো। এটা খেয়াল রাখতে হবে। নিরপেক্ষ শব্দটার মাধ্যমে তোমাদেরকে যেন ভুল পথে পরিচালিত না করে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
সকাল ১০ টায় লার্নিং লার্নিং সেশনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা শোনান মাছরাঙা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বদরুদ্দোজা বাবু, যমুনা টেলিভিশনের মুহসিনুল হাকিম, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের বিজনেস এডিটর ফারুক মেহেদী।
বিকেল ৫টায় আগত সকল অতিথিদেরকে সমগ্র ক্যা¤পাস ঘুরিয়ে দেখানো হয় ।
পরদিন ২৯ জুলাই শনিবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে গ্র“প আলোচনায় অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন বিবিসি বাংলা এর বাংলাদেশ ব্যুরো এর প্রধান আকবর হোসেন, সমকালের যুগ্ম বার্তা স¤পাদক রমাপ্রসাদ সরকার বাবু, শাবি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সায়েদ আব্দুল্লাহ যীশু। অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ।
বেলা আড়াইটায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভারের স¤পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সম্মানিত অতিথি শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি একুশে টিভির প্রধান স¤পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।
বিকেলে চারটায় “কেমন চাই আগামীর ক্যা¤পাস” উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শাবিপ্রবি ক্যা¤পাসে ছেলেদের দুইটি নতুন হল ও মেয়েদের একটি হল তৈরির কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। ছাত্রীদের শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপদ ক্যা¤পাস প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ড. জাফর ইকবালের উপর হামলার পর আমার কাছে সকলের দাবি ছিল ক্যা¤পাসে সীমানা প্রাচীর তৈরি করা।
সীমানা প্রাচীর না থাকায় অনেক বহিরাগত যে কোন সময় যে কোন স্থান দিয়ে ক্যা¤পাসে প্রবেশ করে অপকর্ম করতে পারে। তাই ঈদের পরপরই ক্যাপাসে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছেন। জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শেখ হাসিনা অগ্রনায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। এ জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, জ্ঞান, দেশপ্রেম; যার মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্মের সৈনিকরা আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে।” তিনি আরো বলেন, “সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখতে সাংবাদিকরা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। তেমনি ক্যা¤পাস সাংবাদিকরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা তাদের মূল্যবোধ ও সাহস দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়। তাদের যৌক্তিক দাবি ওয়েজবোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানোর জন্য আমি আহ্বান করব এবং তা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি।”
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবশেনের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
উৎসবমুখর পরিবেশে সমগ্র বাংলাদেশের ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা তাদের আনন্দ, বেদনা, লাঞ্ছনা-গ্লানির কথা একে অপরের সাথে শেয়ার করেন। কোন ক্যা¤পাস সাংবাদিকদের উপর রাজনৈতিক বা একাডেমিক কোন আঘাত না আসুক, সুন্দর হোক প্রত্যেকের নিজের নিজের ক্যা¤পাস- এটাই ছিল সকলের চাওয়া।

বর্ষার রূপ

রেজাউল রেজা

কখনও আসে সেজে গুজে
কখনও আসে আচমকা!
কখনও আসে একলা একা
কখনও নিয়ে ঝড় দমকা!

মাঝে মাঝে দিন-দুপুরে
সূর্যটা দেয় ডুব,
বর্ষাকালে তাল বেতালে
বৃষ্টি আসে খুব।

ঝির ঝির কিংবা মুষল ধারায়
বৃষ্টি দেখায় নাচ,
নাচের তালে শহর-পাড়ায়
বন্ধ থাকে কাজ।

নদী-নালা পুকুর ডোবা
পানিতে যায় ভরে,
চারিদিকে কোলা ব্যাঙে
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর করে।

 

শরৎ এলে

কবির কাঞ্চন

নদীর চরে ফুটে যখন
সাদা কাশফুল
তখন বুঝি শরৎ এসে
করে ব্যাকুল।

ব্যাকুলতা বাড়ে আবার
বৃষ্টি হলে
ফুলপরীরা নৃত্যে মাতে
মিষ্টি জলে।

বৃষ্টি ফোটা ঘাসের বুকে
তুফান তুলে
প্রজাপতি পাখি উড়ে
ফুলে ফুলে।

ফুলের মধু আহরণে
অলি ছুটে
সৃষ্টি সুখের জোয়ার আসে
দুঃখ টুটে।

বাংলা সাজে রূপের রানী
শরৎ এলে
অপার সুখে ফড়িং নাচে
ডানা মেলে।

 

 

 

 

 

 

বন্ধু মানে

আবু আফজাল সালেহ

বন্ধু মানে উন্মাদনা
নেই তো বাছবিচার
বন্ধু মানেই হাসিখুশি
আড়াল হয়ে আচার।

কঁচিকাঁচা বুড়াবুড়ি
বন্ধুই চরম কথা
খেলার সাথী সহপাঠি
বন্ধু হয় যথা।

বন্ধু মানেই হারিয়ে যাওয়া
অন্যরকম ফ্লেভার
সুখেদুখে পাশাপাশি
সব করে কাভার।

 

ব্যাঙ বৃষ্টির খেলা

মাযহারুল ইসলাম অনিক

বৃষ্টি দিনে মন ছুটে যায়
অচিন কোন গাঁয়,
বাঙের সাথে করছি খেলা
তাধিন তাধিন পায়।

ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ডাকে তারা
করছে এসে ভিড়,
পোকা মাকড় খাবার আশে
হচ্ছে যে অস্থির।

পানির তোড়ে বাসা ভেঙে
পোকা মাকড ছোটে,
উভচরী ওই প্রাণীটি
অস্থির হয়ে ওঠে।

রেগে-মেগে তেড়ে গিয়ে
যেই না ধরে পোকা,
রৌদ্র এসে হঠাৎ করে
বনে গেলো বোকা।

রৌদ্র এলো মানুষ এলো
পোকা গেলো বেঁচে,
বৃষ্টি শেষে একলা আমি
যাচ্ছি তাধিন নেচে।

পোড়া কপাল সাথে নিয়ে
ব্যাঙের বাবা লাফাই,
বৃষ্টি শেষে একলা আমি
পুকুর পানে ঝাপাই।

এইভাবে যে ব্যাঙ বৃষ্টির
চললো বিশাল খেলা,
পোকার আশে ব্যাঙের ব্যাটা
কাটাই সারাবেলা।

 

কিশোর আন্দোলন

রমজান আলী রনি

রাস্তাঘাটে শিশুর ওপর
হামলা চালায় যারা
মুখে বলে সুশীল সমাজ
বাংলাদেশী তারা?

আমরা যারা চুপটি করে
বসে আছি ঘরে
তারা আবার কেমন করে
সাধুর রূপও ধরে?

রাস্তাঘাটের বেহাল দশা
ঠিক হবে যে কবে?
সোনার বাংলার লাশের ছবি
রাস্তায় পড়ে রবে!

তোমরা যারা ছাত্র-ছাত্রী
তারাই জাতির প্রাণ
ফুলের শাখার কলি তবু
কতই ছড়াস ঘ্রাণ!

কতদিন আমি কষ্ট পাবো

নেছার আহমদ নেছার

আজও ভাবি কেবলি একাগ্রতায় ভাবি
নিবিড় করে মনের দুয়ার খোলে-
বাহিরের পৃথিবীতে চোখ মেলে রাখি
অনুভবে ছুঁয়ে যায় সারাটি অন্তর;
কেন যে শত কষ্টের কারণ হয়ে যায় আমি জানিনা!
উদাস এ-মনে শত আনন্দ প্রেম ভালবাসায়
চাওয়া-পাওয়ার এই পৃথিবীটাকে ঘিরে
আমার অশেষ ভাল লাগা বয়ে যায়।
প্রতিদিন সূর্য্য উঠে-রাত হয়-
আবার সূর্য্য উঠে-এভাবে গতিময়তার
চিরন্তন পথে আমার জীবন বয়ে চলে
নিরব নিভৃতে কোন এক জীবন কাননে,
অদেখায় অলক্ষ্যে আমার জীবন স্রোতে বয়ে গেলাম
সীমাহীন পথে অথচ–
প্রতিদিন সূর্য্য উদয়ের ভুবন মোহন উজ্জ্বলতায়
জীবনের কোলাহলে কোন তরুণীর মায়াবী মুখ,
কোন সুবেলা কন্ঠের নিবিড় আবেগের গান
কোন নৈসর্গিক দৃশ্যের প্রাণ ছুঁয়া আবেদন,
কারো স্নেহের স্মৃতি, প্রেমের আবেদন
আমাকে উতলা করে;
একাকী নিরবতায় বুকের ভেতর হাহাকার করে-
সারাক্ষণ ব্যকুলতায় হৃদয়ে ঝড় বয়ে যায়-
বড় কষ্ট পাই
এভাবে কতদিন আমি কষ্ট পাবো!!

মানুষের জ্ঞান

তোফায়েল আহমেদ টুটুল

পরম তত্তের সাধন তত্ত জ্ঞান তত্ত বিজ্ঞানে
মানুষ বড় হয় জ্ঞানে মঙ্গল কল্যাণ ভুবনে।
মানুষের উচ্চ আসন শুধু মাত্র জ্ঞানের কারণ,
আশরাফুল মাখলুক আল্লাহর কুদরতে সৃজন।

মহান আল্লাহ পরোয়ারে প্রশ্ন যখন করে,
ফেরেস্তাগণ নিরুত্তর সন্তুষ্ট আদমের উত্তরে।
আদম আর ফেরেস্তার মাঝে শ্রেষ্ট মর্যাদা,
জ্ঞান বিচারে দিতে হল আদমকে সেজদা।

পবিত্র কুরআন শরীফ মাঝে সুরা লোকমান,
লোকমান অর্থ হয় জ্ঞানী হেকমতে বিজ্ঞান।
হাদীসে আল ওলামা ওয়ারেসাতুল আম্বিয়া,
আলেম শব্দের অর্থ জ্ঞানী জ্ঞানে আওলিয়া।

জ্ঞানীর নিকটে রয় আল্লাহ রাসুলের ওয়াদা,
অজ্ঞানী কি যোগ্য কভু পেতে জ্ঞানীর মর্যাদা।
আল্লাহর প্রিয় ইনসান করিল যাকে জ্ঞান দান,
যেখানে জ্ঞান সেখানে খোদা মিলিবে সন্ধান।।

 

অবুঝ বধূ

তাহসিন আবির

তুমি তো বোঝো না,
আমার কথার মানে।
তা আমি আর ঐ বিধাতা জানে।
তুমি তো জানো না প্রিয়,
কটু কথার প্রাণে কত মধু!
বুঝিয়া নিতে হবে তা শুধু।

দোষ তো রাখি না তোমা
হে নব বধূ,
নতুন আসিছো এ সংসার
সংসার তো করনি আগে কভু।

তাই তো বোঝো না এত কিছু,
সদা তাই হতাশা
নেয় তোমার পিছু।

কচি মোন তোমার,
রক্তে অতি রাগ,
তাই তো চাও না কারো সাথে
আমায় করতে ভাগ।

তুমি বড় অবুঝ
কিছুই চাওনা বুঝতে।
পারো না একটু নিজেকে মানিয়ে নিতে।
তাই তো তোমার ওপর এত অভিমান।

ভাবো শুধু আমি রাগি,
রাগেতে হই বেবাগী।
জানো না তো তুমি
রাগ যে মনে প্রেমের অন্য রূপ!
বলো না তো কভু, কী চলে মনে,
হয়ে রও শুধু চুপ।

তুমি তো জানো না
রাগী পাষাণের মনে বহে রসের ধারা।
জানে শুধু তারা প্রকাশে নিভৃতে
বুঝেছে আমায় যারা।

তুমিও বুঝিবে হয়তো সেদিন,
যেদিন সময় যাবে ক্ষয়ে।
থাকবো না আমি
শুধু মনেতে তোমার,
স্মৃতিটুকু যাবে রয়ে।

তুমি যে নারী, তুমি কল্যাণী,
পারবে যেতে সয়ে।
হবে তুমি জ্ঞানী, হবে শ্রীময়ী
যত সময় যাবে বয়ে।

আজ তো তুমি জানো না কিছুই
দুনিয়ার রীতি নীতি।
তাই দিবা নিশি বয়ে চলে মনে
এতই শঙ্কা ভীতি।
শুধু খুশি কোরো তারে,
যে তোমারে সিঁদুরে রাঙাবে সীঁথি।

যানি তোমার কোমল মনে
আমার বাণী, হানবে আঘাত।
সইবে তুমি না করে প্রতিবাদ।

তাই তো বলতে চেয়েও,
অনেক কিছুই,
বলি না তোমায় কভু।
মায়া হয় বড়, অমন করতে,
তুমি যে অবুঝ বধু।

 

নিরাপদ সড়ক চাই

রুনা লায়লা

ইচ্ছে করে বাঁচতে আমার এই দেশেরই বুকে
বাঁচতে যদি না দাও আমায় মরবো মাথা ঠুকে,
কী বা বল দোষ করেছি মারবে চাকায় পিষে
এমন করে মারো তোমরা রাজপথেই যাই মিশে।

কত বুকের রক্ত নিলে হিসেব করে দেখো
নিয়মনীতি কোথা গেল একটু খানি শেখো !
কাঁদতে কাঁদতে মায়ের আঁচল সবই গেল ভিজে
আর দেবো না কাঁদতে মাকে রক্ত দাও হে নিজে।

ভাই মরেছে বোন মরেছে শিক্ষা হয়নি তবু
এভাবেই চললে তো আর লাজ হবে না যে কভু ,
তাই তো বলি শোনো সবাই নিরাপদ সড়ক চাই
সুস্থ ভাবেই বাঁচতে চাই আর কোনো দাবি নাই।