পুরাতন সংবাদ: June 23rd, 2018

ঘর জামাই

তা-রে-ক-লি-ম-ন

উঠি বসি তোমার কথায়
তোমার কথায় ঘুমাই খাই
মাথা পেতে সব সয়ে নেই
কারণ আমি ঘর জামাই,

তোমার বাবার বাড়িতে থাকি
এই কারণেই দেখাও ঝাল
কথায় কথায় শুনাও আমায়
মন্দ ভাষায় গালাগাল,

তোমার বাড়ির সবাই আমায়
চাকর ভেবে কাটায় ঘাস
তুমিও সোনা, কম করো না
একাই করো সুখ বিলাস,

কেনো যে তোমায় করলাম বিয়ে
জীবনটাই আজ গেলো
বেদের মেয়ে জোছনা আমার
অনেক ভালো ছিলো,

তোমার বাবার টাকার লোভে
তোমায় করে বিয়ে
টানাটানি পড়েছে এখন
আমার জীবন নিয়ে,

জীবন বাঁচানো দায় পড়েছে
পড়েছি জমের হাতে
ভেবে দেখলাম, বাঁচতে হলে
পালাতে হবে রাতে,

পাশের বাড়ির লায়লা আমায়
ফোন করেছে আজই
পালিয়ে গিয়ে করবো বিয়ে
আমিও তাতে রাজি,

কপাল তোমার পুড়বে এবার
জ্বলবে আগুন বুকে
লায়লায় আমি মজে রবো
থাকবো মহা সুখে……..

 

অনাদরে অবজ্ঞায়

নেছার আহমদ নেছার

আমি হারিয়ে যেতে চাই-
অনেক সুদূরে যেখানে মানব কোলাহল নেই
আমি হারিয়ে যেতে চাই-
সুদূর গহনকাননে-গভীর বন-বনানীর
বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে সীমাহীন নিঝুম নিরবতায়
তোমাদের বন্ধন ছিন্ন করে-
অনেক স্বপ্নময় বাসনা ছুড়ে ফেলে দিয়ে
আমি কঠোর হবো-
একাকী নিঃসঙ্গতায় ব্যাকুল প্রাণে আকুল হবো
অনন্ত প্রিয়ার নিগুঢ় রহস্যের পানে ছুটে যেতে চাই।
আমাকে নষ্ট প্রেম ঢেলে দিও না
আসক্তির প্রগাঢ় কামনা বাসনায় জড়িয়ে রেখনা,
ভোগ বিলাসের অজস্র স্বপ্নে স্বপ্নময় করে।
এই পৃথিবীর নষ্ট চোখে প্রতিদিন
অজস্র চাওয়া পাওয়ার কত ফুল ফুটে;
নির্বাক চোখে চেয়ে থাকা প্রাণে স’য়না-
মনের মুকুরে কোন ফুলেই সুবাস
ছড়ায়নি আমার-
তাই মেকী ফুল ঝরে অনাদরে অবজ্ঞায়।

 

বাস্তব

ছাদিকুর রহমান

মধ্যবিত্তের দিন কাটে মৌনতা আর দৈন্যতায়
বড়লোকরা ঐ আকাশে প্রতিক্ষণে ডানা উড়ায়
মধ্যবিত্তের রাত কাটে অতৃপ্ত বাসনায়
বড়লোকরা ডুবে থাকে রঙ্গ আর তামাশায়
নুন আনতে পানতা ফুরায় মধ্যবিত্তের ঘরে
বড়লোকদের খানা খায় কুকুর বিড়ালে
বড়লোকের ভালবাসা বদলে জামার মত
মধ্যবিত্তের ভালবাসায় অপবাদ শত
মধ্যবিত্তের কষ্টের কথা শুনতে চায় না কেউ
বড়লোকের ঘরে বহে শান্তি সুখের ঢেউ।

 

শব্দযুগল

আবু আফজাল মোহা. সালেহ

কিছু অভিমান, কিছু কষ্ট
দ্বিধা-দ্বন্দ কিংবা ভ্রষ্টতা
থেকেই যাবে- থেকেই যায়!
স্বপ্ন দেখি- স্বপ্ন দেখায় বলে।
আবার ভুলে যায়-
ফিরে আসে কিছু অভিমান,
কিছু কষ্ট
এরা ভেংচি কাটে দুঃসময়ে, বড়ই নির্দয়ভাবে;
সুসময়ে নাকি আমরা ভেংচি দিয়েছিলাম-
বাজিয়েছিলাম বগল!

শোধ-প্রতিশোধের জ্বলন্ত উনুনে
খেলা করে ফেরতগুলি সব-
আমরা নাকি দেখতে পাই না এই নির্মম খেলা।
শোধ-প্রতিশোধ নাকি দুর্নিবার শব্দযুগল।

বাবা ফিরে এসো

মাযহারুল ইসলাম অনিক

দুঃখগুলো মনের মাঝে দিচ্ছে শুধু উঁকি,
সূর্যি মামা মেঘের পরে আছে বড়ো সুখি।

হঠাৎ দেখি রহিম কাকা কিনছে রাঙা গাড়ি,
খাবার আশে ছাবাল যে তার ভাঙছে ঘরবাড়ি।

বিনতি পিসী ভাত মাখিয়ে ডাকছে খোকা আয়,
দলটা বেঁধে তারা যে আজ কোন বনেতে যায়?
আঁখি খুলে একলা আমি দেখছি সবার সুখ,
ব্যামোর রোগে বাবা মরে পাচ্ছি শুধু দুখ।

চায়ের আশে দোকান পানে দিই যে কতো ঝাড়ু,
বোয়েম থেকে বের করে ভাই খায় যে সবে নাড়ু।

শীতের দিনে সূর্য তাপে গরম করি হাত,
চাঁদের পানে চেয়ে চেয়ে নামছে কালো রাত।

ঘুমের মাঝে হঠাৎ কবে দেখছি বাবার মুখ,
দুঃখের গানে পাইনা খুঁজে স্নেহ মায়ার সুখ।

বাবা তুমি আসবে কবে আমার হৃদয় পুরে?
তোমায় নিয়ে ভাসবো দেখো নিত্যনতুন সুরে।

তোমার আশে ঘুম আসেনা গাই যে কতো গান,
ছবির দিকে চাইলে পরে আসে জলের বান।

বাবা তোমায় বলছি আমি এসো এবার ফিরে,
হাতের ওপর হাতটি রেখে যাবো নদীর তীরে।

দুঃখ সাথে খেলতে আমি পারছি না যে আর,
তোমার আশে জানলা পাশে দেখছি যে বারবার।

তাইতো বাবা বলছি তোমায় এসো এবার ফিরে,
সুখের গানে বাঁধবো যে ঘর আমার ছোট্ট নিড়ে।

 

বাবা তোমার স্মরণে

রমজান আলী রনি

বাবা তোমার জন্য আজও
চেয়ে থাকি আমি
চোখের মাঝে মনের মাঝে
আজও তুমি দামি।

আজকের দিনে আমায় ছেড়ে
চলে গেলে দূরে
আসবেনা আর কভু ফিরে
রোদেলা ওই ভোরে।

মনের মাঝে দুঃখের ছবি
বিষে হাহাকার
স্বপ্ন মাঝে হঠাৎ করে
আজও একাকার।

বাবা তোমার স্মরণে আজ
করি প্রার্থনা
হে দয়াময় ক্ষমা করো
ত্রুটি মার্জনা।

 

প্রকৃত রূপ

রুহুল আমিন আপ্পু

মানুষ বলিবো কারে?
মৌলবাদী গিঁটি ধারি বাঁধিছে এক দড়ে।

ধর্মের নামে চলে কর্তৃত্বের অধিকার,
মধ্যে পড়ে নির্দোষ ব্যক্তি খেয়ে যায় মার।

জঙ্গি হানা আজি বিশ্বে গেছে ছেয়ে,
তারা যে সত্যিই কোন ধর্মের দেখেছো কী চেয়ে?

আপাত দৃষ্টিতে করিওনা তারে বিচার,
কোনো ধার্মিক ব্যক্তির নয় এরূপ আচার।

ধর্ম তাদের মুখ্য বুলি নেপথ্যে অন্য কিছু,
যদি করতে চাও সত্যের সন্ধান নাও তাদেরি পিছু।

সমীক্ষা সঠিক নয় যখন সেটা সার্বজনীন,
ধরা মারা কাটা শেখায়নি গো আমাদের দ্বীন।

মনে মনে বারতা

দীপক কুমার বেরা

মনের মানুষ আছে একটাইতো
একটুখানি মিষ্টি হাসি লজ্জাবনত
মনে মনে আজ কথা যতো
আছো তুমি আগেরই মতো।

আমি জানি,…… তুমিও জানো
ভালোবাসা হয় হৃদয় নিংড়ানো
বসন্তের হাওয়ায় ভাসে প্রেম
আমাদের সেই চিরন্তন প্রেম।

হাঁটবো দু’জনায় পাশাপাশি
থেকে যাবে ভালোবাসাবাসি
হাতে হাত, মনে মনে বারতা
চেয়ে রবে একঝাঁক নীরবতা!

মনের মাঝে তুমি

মোজাম্মেল সুমন

ওগো সুপ্রভাত জানাই-
বলো কেমন আছো?
ভাবতে পারো জামাই-
আমায় নিয়ো বাঁচো?

রূপসী তোমার বদন-
যেনো ঝলমলে চাঁদ,
হরিণী তোমার নয়ন
আমার দেখার সাধ!

ভালো আমি বাসি-
দেখবো দুটি ঠোঁটে,
ফুলের মতো হাসি-
কেমন করে ফোটে?

বুঝি নাকো হায়-
আছি আমি শুয়ে,
মনটা কিযে চায়-
তোমার স্বপ্ন ছুঁয়ে।

আপন করে ডাকি-
করো আমায় ধন্য,
প্রেমের আশায় থাকি-
আমি তোমার জন্য।

যদিও থাকা দূরে-
মন বলছে ডাকো,
অনুভূতি মন জুড়ে-
বলা হচ্ছে নাকো

রঙিন কল্পনা চুমি-
নয় অন্য কারো,
মনের মাঝে তুমি-
বুঝতে কি পারো?

পর্যটনের স্বার্থে সড়ক সংস্কার

অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা যেমন এখানে ছুটে আসে, তেমনি দেশের অভ্যন্তর থেকেও পর্যটকরা বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যায়। বাংলাদেশের পর্যটনের লীলাভূমি বলা হয়ে থাকে সিলেটকে। সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো বরাবর পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে। ঈদ ও অন্যান্য ছুটির সময় এসব স্পটে পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। কিন্তু এবারের ঈদের ছুটিতে সিলেটে গত বছরের তুলনায় পর্যটকদের উপস্থিতি অর্ধেকেরও কম বলে জানা গেছে। এতে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িতরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সিলেটের জাফলং প্রকৃতিকন্যা নামে পরিচিত। সিলেটের সুন্দরবন নামে খ্যাত রাতারগুল জলাবন। বিছানাকান্দি নামের পর্যটন স্পট সম্পর্কেও পর্যটকদের আগ্রহ আছে। বৃহত্তর সিলেটের ভোলাগঞ্জ, হাকালুকি হাওর ও টাঙ্গুয়ার হাওর জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। পাহাড়, হাওর, সমতলভূমি, চা-বাগান নিয়ে সিলেট আগ্রহ সৃষ্টি করলেও এবার ঈদের ছুটিতে সেখানে পর্যটকদের ভিড় নেই শুধু বেহাল সড়কের কারণে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবস্থা অনেক দিন থেকেই খারাপ। অন্যদিকে সিলেট থেকে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে যাওয়ার সড়কগুলোর অবস্থাও নাজুক। দীর্ঘদিন থকে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে সিলেট-জাফলং, সিলেট-রাতারগুল, সিলেট-বিছানাকান্দি সড়কসহ অন্যান্য সড়ক। সংস্কারের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একেবারেই উদাসীন বলে মনে হয়। এর প্রভাব পড়েছে এবার পর্যটনশিল্পে।
বর্তমান বিশ্বে পর্যটনশিল্পকে অদৃশ্য রপ্তানিপণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পর্যটন এমন এক শিল্প, যেখানে আয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তৃতীয় বিশ্বের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে পর্যটনশিল্প বরাবরই উপেক্ষিত থেকে গেছে। অথচ সবারই জানা পৃথিবীর অনেক দেশ শুধু পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভর করে থাকে। ২০১১ সালে লোনলি প্লানেট নামের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, বিদেশি পর্যটকদের জন্য পৃথিবীর সেরা দেশ হওয়ার সব সম্ভাবনা বাংলাদেশের আছে। সেই সম্ভাবনার কতটুকু কাজে লাগাতে পেরেছি আমরা?
পর্যটনশিল্পের বিকাশের জন্য সবার আগে প্রয়োজন অবকাঠামো। পর্যটন স্পটে যাওয়ার জন্য সড়ক অবকাঠামো যদি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তাহলে সেখানে পর্যটক খুঁজে পাওয়া যাবে না। পর্যটন স্পটের অর্থনীতিও নির্ভর করে পর্যটকদের ওপর। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সুন্দর না হলে সেখানে পর্যটকদের আকৃষ্ট করা যাবে না। বিষয়টি অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোর বেহাল সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেবে বলে আমরা মনে করি।