পুরাতন সংবাদ: June 21st, 2018

চোলাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার :
এয়ারপোর্ট রোডে ৬ টি প্লাস্টিকের জার ভর্তি চোলাই মদসহ ১ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯’র সদস্যরা। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় এসএমপি এয়ারপোর্ট থানা এলাকার পুবালী ব্যাংক সামনে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃত মাদক বিস্তারিত

ক্যাম্পাসে ঈদ আনন্দ

মাসুদ আল রাজী
মুক্ত মঞ্চ, বি-বিল্ডিং এর টং কিংবা লাইব্রেরী বিল্ডিং এর সামনে প্রাণোচ্ছল কোনো আড্ডা নেই । ইউ সি কিংবা শহিদ মিনারের সিঁড়িতে জটলাও চোখে পড়ে না। সন্ধার পর “এক কিলো”তে দল বেঁধে হাঁটাও দেখা যায় না। সুনশান নীরবতা সবখানে।
গত ৩১ মে থেকে ভার্সিটির হলগুলো বন্ধ হওয়ার পর থেকে এমনই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিলো শাবিপ্রবি ক্যা¤পাসে। দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের বন্ধে হল খোলা থাকলেও শাবিপ্রবির হলগুলো ছিলো বন্ধ। তাই ক্যা¤পাস ঈদের আগ পর্যন্ত জনশূন্য থাকলেও ঈদের দিন দেখা গেলো ভিন্ন এক চিত্র ।
ঈদ এবং ঈদের পরের দুদিন ক্যা¤পাসে ছিল অগণিত পর্যটকদের ভিড়। ছাত্র-ছাত্রীরা না থাকলেও ৩২০ একরের সৌন্দর্যে ঘেরা এই ক্যা¤পাসে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ক্যা¤পাসের আই.সি.টি বিল্ডিং, শহিদ মিনারসহ এক কিলোতে শহর থেকে আগত মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। কেউ এসেছেন প্রিয় মানুষকে সাথে নিয়ে ঘুরতে, কেউ এসেছেন ক্যা¤পাসের জনপ্রিয় ফুচকা খেতে, কেউবা বন্ধুদের সাথে দলবেঁধে এসেছেন ফটো তুলতে।
ঈদে ক্যা¤পাসে পরিবারসহ ঘুরতে আসেন সিলেটে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাই আবার ঈদের ছুটিতে সিলেট এসে প্রিয় ক্যা¤পাসকে এক নজর দেখার জন্য আসেন। ক্যা¤পাস ঘুরতে এসে ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান জাকারিয়া বলেন, “চাকরি করা হয় ঢাকায়, অনেকদিন ক্যা¤পাস দেখি না, তাই ফ্যামেলির সবাইকে নিয়ে চলে আসলাম ক্যা¤পাসটাকে দেখতে।” শহরের অনেক আকর্ষণীয় পর্যটন ¯পট বাদ দিয়ে শাবিপ্রবিতে কেন ?? এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকই জানান যে, “শহরের কোলাহল ও যান্ত্রিকতা বাদ দিয়ে এমন সবুজে ঘেরা কোলাহল বিহীন জায়গা আসলেই অনেক ভালো লাগে, তাই ঈদের দিনটাকে সুন্দরভাবে উৎযাপন করতে এখানে আসা ।”
রোজা ও ঈদের ছুটিতে প্রায় এক মাস ক্যা¤পাস বন্ধ থাকায় ক্যা¤পাসের ভ্রাম্যমান খাবার দোকানগুলোও ছিল বন্ধ। কিন্তু ঈদে পর্যটকদের আগমনে ক্যা¤পাসের টং এবং চটপটি-ফুচকার দোকানগুলোতে অনেক ভিড় দেখা যায়। ঈদের আমেজে দর্শনার্থীদের পেয়ে দোকানীরাও অনেকটাই উচ্ছ্বাসিত।
৩২০ একরের সবুজ শ্যামলিমায় ঢাকা ক্যা¤পাসে প্রতিনিয়ত পর্যটকরা ভিড় করুক, দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হোক স্বপ্নের “এক কিলো”- এটাই সবার প্রত্যাশা।

দুর্বৃত্তপনা রোধ করুন

ঈদের ছুটিতে ঢাকাসহ সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। খুনখারাবির একাধিক ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন এলাকায়। রাজধানীতে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্ব পালনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৈথিল্যের কারণে এবার ঈদের ছুটির সময় খুনখারাবির ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যে সময় দেশের আইন-শৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবচেয়ে বেশি সতর্ক অবস্থায় থাকার কথা, সেই সময়ই এ ধরনের ঘটনাগুলো সাধারণের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া এলাকায় খুন হয়েছে শিশু নিনাদ, যার নাম রেখেছিলেন দেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। ঈদের দিন দুপুরে বাড়ির পাশের ফাঁকা জায়গায় দাঁড় করানো তালাবদ্ধ ভ্যান থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। যাত্রাবাড়ীতে স্বামীর মারধরের পর এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া। ঈদের ছুটির আগে বৃহস্পতিবার ভোরে সীমান্ত স্কয়ারের কাছে এক জার্মান তরুণীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে প্রাইভেট কার আরোহী ছিনতাইকারীরা। ঈদের ছুটির তিন দিনে পাহাড়ে জনসংহতি সমিতির তিন সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত রবিবার ভোরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার একটি গজারি বন থেকে এক শিশুর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে নাটোর, নোয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, ঝালকাঠি, জামালপুর, গাজীপুর ও পঞ্চগড় জেলায় ৯ জন খুন হয়েছে। আরো তিন জেলায় তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন্ স্থানে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর সবার জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আরেকটি সাধারণ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসবে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততই অবনতি হতে পারে বলে অভিজ্ঞমহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছিল। সেই আশঙ্কাই যেন সত্যে প্রমাণিত হতে যাচ্ছে। যেকোনো নির্বাচনের সময় দেশের অভ্যন্তরে দুর্বৃত্তরা সক্রিয় হতে শুরু করে। একটি বিশেষ মহলও এ সময় তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। এমনিতেই দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নতুন করে সংগঠিত হতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি সন্ত্রাসীরাও শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এখন মাদক নিয়ন্ত্রণ ও মাদক কারবারিদের দমনে বেশি মনোনিবেশ করছে। এই ফাঁকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো আবার সক্রিয় হতে চাইছে বলে ধারণা করা যেতে পারে। এ ছাড়া আমাদের দেশে ব্যক্তি ও গোষ্ঠী পর্যায়ের দ্বন্দ্বও অনেক সময় খুনখারাবির মতো ঘটনায় রূপ নেয়। কাজেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।