পুরাতন সংবাদ: June 2nd, 2018

সুখের যদি

অতনু দত্ত

সুখের যদি ওড়না থাকে
অন্ধকারের ভোর না থাকে
সঠিক সেটা কি?
নেশায় যদি ঘোর না থাকে
নদীর স্রোতে জোর না থাকে
সব বেজায় ফাঁকি।

বউয়ের হাসি মিষ্টি ভালো
ঘাড় ঘোরানো দৃষ্টি ভালো
হৃদ সায়রে বান
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি ভালো
তেনার অনাসৃষ্টি ভালো
ভাবের ঘরে টান।

মিথ্যে কথা শুনতে ভালো
শিউলি সকাল গুণতে ভালো
খুশির কি জোয়ার
স্বপ্নেরই জাল বুনতে ভালো
অনেক পেলে চুনতে ভালো
জোটেই বল কার।

মাটির সোঁদা গন্ধ নেশা
কেউ ধরেছে মন্দ নেশা
নেশায় বাঁচে মন
কারুর মনে স’ন্দ নেশা
আমার বাপু ছন্দ নেশা
ছন্দময় জীবন।

 

অপ্রতিম গান

সুবীর সেনগুপ্ত

সুরের থেকে দূরে হলেও
ভাল লাগে গাইতে গান
মনটা তখন ভাবায় থামায়
জাগায় গানে নতুন প্রাণ।

মুগ্ধ হয়ে নিজের গানে
মনটা খুশী হয় তখন
যে জট খোলার কাজে লাগি
সহজে হয় উন্মোচন।

গান প্রবাহিত সুর ও ছন্দে
তাই তো গাওয়া গুণগুণিয়ে
থাকলে সাথে পাতার বাহার
মনটা আমার যায় হারিয়ে।

গান আমাদের একটি কড়ি
মানি আমি সবার মতন
গানের কথা আমার কাছে
নূতনত্বের এক দর্শন।

প্রকার ভেদে গান বিচরণ
বাছতে কোনো বাধাই নেই
যে গান আমার লাগে ভাল
দিই তাকে স্থান অন্তরেও।

গুণগুণ গান গাইলেই হয়
কি প্রয়োজন তার তরে!
খুশী মনের এই পরিচয়
গাইতে গাইতে মন ভরে।
পাইনি খুঁজে কোনো মানুষ
যার কাছে গান অবান্তর
গানের তানে হারিয়ে যায়
নিঃসঙ্গতার আবরণ।

অপ্রতিম গান

ভালোবাসি

মোঃ শাহারুখ হোসেন

ভালোবাসি তোমায় আমি
পারিনি তা বলতে
পারিনি তো তোমার সাথে
পাশাপাশি চলতে

তুমি জানো না কতটা
বাসি তোমায় ভালো
তুমি তো আমার জীবনে
অন্ধকারের আলো

তোমার ঐ কাজল পরা চোখ
দেখে আমি বিভোর
তোমার ঐ মিষ্টি ঠোঁট দেখে
কাটে না আমার ঘোর

তোমার মুখের মিষ্টি হাসি
অনেক ভালোবাসি
তাইতো তোমার কাছে আমি
বারে বারে আসি

চোখটা তোমার অনেক ছোট
দেখে লাগে ভালো
তোমার রূপের ঝলক যেন
পূর্ণ চাঁদের আলো

আজ তোমাকে বলব আমি
আমার মনের কথা
ভালোবাসি তোমায় আমি
দিওনা যে ব্যথা

 

লাগবে না কোন বন্ধু

শাহিন আলম সরকার

প্রয়োজনে বন্ধু আমি কত যে আপন
তারপর মোরে ছাড়া করে সে যাপন।
ধূলি মাঝে হাসি দিয়ে নিয়েছিনু বুকে
বুঝলো না সে আমায় মারে ধুঁকে ধুঁকে।
রঙিন পথের ধারে দিয়ে আমি তারে
ছুটে যাই বাঁকা পথে যেন বারে বারে।
তার সুখে হাসি আমি কাঁদি দুঃখ পেলে
সেই বন্ধু এই বুকে অগ্নি দিল জ্বেলে।

জীবনের সব কিছু যাক পর ধার
উপকার না করলে কি হবে আমার?
কষ্ট তরী বেয়ে সুখ নাহি খুঁজে পাবো
না হয় এই ভুবনে আগে মরে যাবো।
হবেই তো একদিন জীবনের শেষ
থাকবে না কোন বন্ধু গেলে সেই দেশ।

 

কিছু কথা

সাজ্জাদ হোসেন সাকিব

কিছু কিছু কথা
চাপা পড়ে রয়।
কিছু কিছু কথা
ইতিহাস কাঁপিয়ে যায়।
কিছু কথা থেকে যায়,
মানুষে মুখে মুখে।
কিছু কিছু কথা
পড়ে যায় কাদার নিচেতে।
সব কথা থাকে না
এই পৃথিবী জুড়ে।
কিছু কথা থেকে যায়
আকাশে বাতাসে চরে।
বাবা তোমার কথা
আমার আজও মনে পড়ে,
কিছু কিছু কথা আমায়
চোখের জলে ভাসায়,
কিছু কিছু কথা আমায়
বড় হতে শিখায়।

 

বাঁচার জন্যে চাওয়া

খলিলুর রহমান

করবে ধনী অঢেল ধনে
শুধুই বিলাস এই জীবনে
চাইনি কোনদিনই
অভাব যা, তা কোরো পূরণ
অনাড়ম্বর জীবন ধারণ
আর রেখো না ঋণী।

ভিক্ষাতে নয়, কর্মে দিও
কর্মপ্রীতি, এ মর্মে দিও
আর দেহে সামর্থ্য
শক্তি দিও আমার মনে
বাঁচার তরে নিত্য রণে
হই যখনই ব্যর্থ।

দাও যদি ধন আমার হাতে
কারোর পাওনা রেখে তাতে
নির্লোভ কোরো মন
যার যা পাওনা তারে দিতে
না পাই ব্যথা ভ্রান্ত চিতে
না নিই দীর্ঘ ক্ষণ।

নাইবা দিলে বিশাল প্রাসাদ
মাথার উপর দিও গো ছাদ
কাটাতে রাতদিন
দ্বারখানা তার রেখো খুলে
আপন পরের হিসাব ভুলে
আসলে গৃহহীন।

দাও যদি গো অভাব-ক্ষতি
নিভাইয়ো না তোমার জ্যোতি
বিশ্বাস দিও অটল
অভাব ব্যথায় হারিয়ে দিশে
আঁধারে যেন না যায় মিশে
তুমিহীন যেথা অতল।

 

কতটা চেনো

সোমা বিশ্বাস

কবিকে কতটা চেনো
সোমা বিশ্বাস
কবিতা লিখে কি কবির দিন কাটে ?
তাদের কি আবেগ থাকে না ????
কিছু কষ্ট থাকে, প্রকাশ হয় না।
কিছু আবেগ চাপা থাকে না।
কবিরা অলীক স্বপ্নে ভাসে,
তারা অনেক প্রলাপ ও বকে।
কিছু সত্যও মাঝে মাঝে,
স্তবকে উঁকি দিয়ে থাকে।
তুমি কতটা কবিকে চেনো ?
ভাবো, কবিরা স্বার্থপর।
কবিকে বুঝবে কবিমন,
বুঝবে, কে আপন কে পর ?
কবিরা লাঞ্ছিত হয় পলে পলে,
কবিরা কষ্টকে ঢোঁক গেলে,
তবুও হেসে হেসে কথা বলে,
ভালোবাসে দুঃখ ভুলে!
তুমি জানো কতটা কবিকে,
চরিত্রে দোষ ধরতেই জানো,
বলো, “কী হবে কবিতা লিখে ?”
কবিকে মানুষ বলে কী মানো ?
হাসবে তাচ্ছিল্য করে দেখে,
“ওরে দেখ দেখ, এক কবি ।”
তুমি কবিকে কতটা চেনো,
দেখেছো, কখনো কবির বুকে
পাহাড় ভাঙা ছবি ?

মাদক বিরোধী অভিযান সফল হউক

মাদকের বিস্তার এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে তা নিয়ে সমাজের সচেতন অংশ চরমভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিল। যুবসমাজের একটি বড় অংশই ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। সমাজে অস্থিরতা বাড়ছিল। মাদকের কারণে ছেলে-মেয়ের হাতে মা-বাবা খুন, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন হওয়াসহ খুনখারাবির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছিল। সেই সঙ্গে বাড়ছিল মাদকের অর্থ জোগাড়ের জন্য চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো নানা অপরাধও। আগে মাদক আসত সীমান্ত পেরিয়ে। এখন দেশের ভেতরেই একের পর এক মাদক তৈরির কারখানা গড়ে উঠছে। ইয়াবা তৈরির বেশ কিছু কারখানা ধরাও পড়েছে। মাদক পরিবহনেও নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। বরিশালে গত বুধবার এক ব্যক্তির পেটে অস্ত্রোপচার করে এক হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের এই বাড়বাড়ন্ত নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখির অন্ত ছিল না। এ ব্যাপারে সরকারের নিষ্ক্রিয়তারও কড়া সমালোচনা হচ্ছিল। অবশেষে গত ৪ মে থেকে সরকার মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি। গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোথাও কোথাও মাদক কারবারিদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। তারা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি চালিয়েছে। পুলিশও তখন পাল্টা গুলি চালিয়েছে। এভাবে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে শতাধিক অভিযুক্ত মাদক বিক্রেতা। এরই মধ্যে কেউ কেউ মাদকবিরোধী অভিযানের নানা দিক নিয়ে সমালোচনাও শুরু করেছেন। এসব সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদকবিরোধী এ অভিযান মোটেও অপরিকল্পিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দারা মাদক কারবারিদের তালিকা করেছে। সেই তালিকা ধরেই অভিযান চলছে। বড়-ছোট কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকেও জানা যায়, দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থাই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এখানে গডফাদার যেমন আছে, তেমনি খুচরা বিক্রেতাও আছে। এমনকি কয়েকটি থানার ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তারও নাম এসেছে এই তালিকায়, যাঁরা কোনো না কোনোভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, ‘আমি যখন যেটা ধরি, ভালোভাবেই ধরি। যে যেই অবস্থানেই থাকুক না কেন, তালিকার কেউই ছাড় পাবে না।’ আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ়তার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। আশা করছি, বর্তমান মাদকবিরোধী অভিযান সর্বাঙ্গীণ সাফল্য লাভ করবে। দেশের তরুণ সমাজ যেভাবে ধ্বংসের পথে পা বাড়িয়েছিল, তা থেকে রক্ষা পাবে। তাদের হাত ধরেই দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।