পুরাতন সংবাদ: May 12th, 2018

হাজারো স্মৃতির ছায়া

শাহিন আলম সরকার

সুখী হতে পর করে গেলে তুমি চলে
বুঝলে না প্রেম জ্বালা বুকে কত জ্বলে।
সুখী হয়ে সুখী কান্না ঝরে ও নয়নে
তাই ব্যথা ধরে না তো আর ওই মনে।
যে হাসিতে ছিল মধু ছিল কত মায়া
সে হাসি আমার বুকে আজো ফেলে ছায়া।
আজো আঁধারের মাঝে একা বসে হাসি
কেন জানি মনে হয় আজো ভালবাসি।

হাজারো স্মৃতির ছায়া বুক চেপে ধরে
আঁধারের মাঝে স্মৃতি অশ্রু হয়ে ঝরে।
তোমার মুখের কথা যদি কানে বাজে
বসে না মন তখন আর কোন কাজে।
হৃদয়ের সব সুখ গেছে সব দূরে;
তোমার পিছন ধরে অচেনা সুদূরে।

মেঠো পথ

মোঃ মামুন হোসেন

আঁকা বাঁকা মেঠো পথে
গাঁয়ের লোকেরা যায় হেঁটে
মনের সুখে গান গেয়ে
চরণ তালে যায় মাতিয়ে।

সহজ সরল মানুষ বটে
চরে বেড়ায় মাঠে ঘাটে,
সন্ধ্যা হলে হাট বাজারে
সময় কাটে সবার তরে।

সরল মনের বড্ড হাসি
বিকেল বেলা দক্ষিণ দ্বারে বসে বাজাই বাঁশি
দক্ষিণা হাওয়ার তালে তালে
মন হারিয়ে যায় মায়ার জালে।

চারিদিকে রমণীদের ঘোরাঘুরি
দামাল ছেলেদের মনের ভিতর তরী চলে তড়িঘড়ি
প্রেম ছন্দে মন আনন্দে
প্রবাহিত হয় মৃদু ছন্দে।

পাকিস্তানের ভন্ডামী

পাকিস্তান নামক নির্লজ্জ রাষ্ট্রের মিথ্যাচারের সীমা পরিসীমা নেই। সম্প্রতি তাদের আরেকটি নির্লজ্জ মিথ্যাচার ফাঁস হয়ে গেছে। সেটি হলো মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ওআইসি সম্মেলনে যোগদানের বিষয়টি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব তেহমিনা জানজুয়া মিথ্যা পরিচয়ে ইসলামী সহযোগিতা সম্মেলনের (ওআইসি) ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ‘পররাষ্ট্র সচিব’ হলেও নিজেকে ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী’ পরিচয় দিয়ে ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। জেনেশুনেই পাকিস্তান এই মিথ্যাচার করেছে। মন্ত্রীর প্রটোকল তো একজন সচিব পেতে পারে না। পরিচয় লুকোনোর বিষয়টি যে দেশের ভাবমূর্তির জন্যে কতটা ক্ষতিকর সেটি পাকিস্তান বুঝেও এড়িয়ে গেছে। তারা ভেবেছিল এই মিথ্যাচার ধরা পড়বে না।
পাকিস্তানের মিথ্যাচার, নির্লজ্জতা ও ধৃষ্টতা নিয়ে বলতে গেলে একটু পিছনে ফিরে তাকাতে হবে। ১৯৭১ এর আগে আমাদেরকে অর্থনৈতিক শোষণের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান আরাম-আয়েশে থাকত। একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজয়ের কষ্ট তারা মন থেকে মুছতে পারেনি। অবশ্য পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর পাকিস্তানের কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কারণ এরপর পাকিস্তানপন্থী সরকারই রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এবং পথ হারিয়ে ফেলা দেশের চাকাকে আবারও সঠিক রাস্তায় নিয়ে এসে গতিশীলতা দানের পর থেকেই পাকিস্তানের ফের গাত্রদাহ শুরু হয়। বর্তমানে পাকিস্তানের সামাজিক অবস্থার মতো অর্থনৈতিক অবস্থাও সকরুণ। অন্যপক্ষে বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে উন্নতি করে চলেছে। ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানের মুদ্রার মান পড়ে গেছে, অথচ বাংলাদেশ স্থিতিশীলতা বজায় রেখে চলেছে। পাকিস্তানে নিত্যপণ্যের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। এজাতীয় সুস্পষ্ট ব্যবধান পাকিস্তানের জন্য বিপুল মর্মপীড়ার কারণ হয়ে উঠেছে। কিছুতেই তারা বাংলাদেশেকে সহ্য করতে পারছে না। ফলে মাঝেমধ্যেই তারা উন্মাদের মতো আচরণ করছে, পাগলের মতো প্রলাপ বকছে। তারই আরেকটি উদাহরণ নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাধা প্রদান।
স্মরণ করা যেতে পারে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যাকে পাকিস্তানের অস্বীকারের পাশাপাশি গণহত্যার জন্য উল্টো মুক্তিবাহিনীর ওপর দোষ চাপানোর মতো বিকৃত তথ্য-চিত্র সংবলিত ‘ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ : মিথস এক্সপ্লোডেড’ নামে একটি বই লিখে প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের জনৈক নাগরিক। বাংলাদেশের সৃষ্টি নিয়ে লেখা বিভ্রান্তিমূলক বইটি পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা-আইএসআই পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে পাঠিয়ে এটি ‘মূল্যবান দলিল’ হিসাবে সংরক্ষণের জন্য রীতিমতো চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছিল। এই অনুরোধ করেন পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব ইন্টেলিজেন্স। সে সময়ে সংসদে এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘লাখো শহীদের রক্ত ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ নিয়ে এই ধরনের অপপ্রচার অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের। এই স্পর্ধা ও সাহস ওরা পেল কোথায়?’
খুনী ও যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অসভ্য ও প্রতিক্রিয়াশীল এক রাষ্ট্র হিসেবে। পাকিস্তান একের পর এক ধৃষ্টতা দেখিয়ে চলেছে। সর্বশেষ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাশেমের ফাঁসির পর তাদের পেয়ারা পাকিস্তান চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিল। সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেছে পাকিস্তান।