পুরাতন সংবাদ: May 5th, 2018

রমজান উপলক্ষে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু কাল থেকে

কাজিরবাজার ডেস্ক :
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) রবিবার থেকে সারাদেশে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করবে। এই কর্মসূচির আওতায় রাজধানীসহ দেশ জুড়ে ভোজ্য তেল, চিনি, ডাল, ছোলা এবং খেজুর বিক্রি করা হবে। বিস্তারিত

আমি আজ নরকবাসী

তা/রে/ক /লি/ম/ন

ওপারের ডাক এসেছে
ও ভাই তোরা কেউ কি যাবি আমার সাথে আয়,
আমি কি একলা যাবো রে
অন্ধকারে
মাটির ঘরে
কি করে একলা রবো রে
ও ভাই তোরা আমার সাথে কেউ কি যাবি রে….

আমি কোন পথে যাই
অচিন দেশের পথ চিনি না
একলা রেখে আমায় তোরা যাসনি ও ভাই,
পিপাসায় হৃদয় ফাটে
পানি নেই নদীর ঘাটে
চারি পাশে আগুন দেখে থমকে দাঁড়াই…

সামনে আমার বিশাল সাগর
পকেটে নেই টাকা কড়ি
নেইতো আমার সাঁতার জানা
কি করে দেই সাগর পাড়ি
সবাই যায় খেয়া চড়ে
আমি থাকি একলা পড়ে
কি করে যাই আমি এখন ঐ পারে…

অশ্র“ ঝরছে দুচোখ দিয়ে
হাসছে সবাই আমায় নিয়ে
পাড়ি দিয়ে যাচ্ছে সবাই আমি শুধু পিছে,
করেছি রূপের বাহার
গড়েছি পাপের পাহাড়
হিসাবে গন্ডগোল আজ জীবন গেলো মিছে….

বিচারের কাঠগড়াতে
শিকল পরা পায়ে হাতে
শেষ বিচারে আমি হলাম দোষী,
আজ আমি একলা একা
কেউ নেই আমার আশেপাশে
আমি আজ নরকবাসী…..

কিসের আসায় দিন কাটালাম
কোথায় সাধের ঘরবাড়ি
মাটির দেহ মাটিতে আজ
চলে আসলাম সব ছাড়ি…

বন্ধু বান্ধব স্বজন সবাই
সুখে আছে যে যার – তাঁর,
আমি একা নরকবাসী
সঙ্গে কেউ আজ নেই আমার……।।

 

 

 

 

তুমি আসবে বলে

নেছার আহমদ নেছার

মন বলছে-
প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে আবার
অশান্ত মন জুড়াতে তুমি আসবে।
মন বলছে-
তুমি আসবে মহাশূন্যে উড়ে উড়ে
অসীমের সন্ধানে আসক্ত হৃদয়ে
ব্যকুল বাসনায় সংগোপনে জড়াতে আমায়
তুমি আসবে-মন বলছে-
উচ্ছ্বাস হাহাকারে অসমাপ্ত তৃষ্ণা নিয়ে
তুমি আসবে আমার মনের প্রশান্তিতে স্নাত
সুশীতল শত স্বপ্নের অনুভব স্পর্শতায়-
ভালোবাসার এক ভূবন স্বপ্ন স্নাত ঝরণা ধারায়-
নদী ও সাগরের মিলন আবেশ নিয়ে-
তুমি আসবে — মন বলছে।

রবির জন্য ধন্য

আবু আফজাল সালেহ

কোলকাতার সেই জোড়াসাঁকোয়
জন্ম নিলেন কবি
বাংলা ভাষা পেল পূর্ণ
নাম হল তাঁর রবি।

গল্প-ছবি কবিতা আর
গান প্রবন্ধ ছড়া
লিখেই গেলেন অবিরত
নাটক-চিঠি কড়া।

সাহিত্য আর শিশুতোষে
পূর্ণতা তাঁর জন্য
বাংলা ভাষায় এলো নোবেল
আমরা হলাম ধন্য।

 

বৈশাখীর প্রথম ছোঁয়া

রমজান আলী রনি

বৈশাখের এই প্রথম আলো
ভরবে নতুন সাজে
বিচিত্র ওই মুখের ভিড়ে
তুমি আমি মাঝে।

চোখের ভুবন জুড়ে রবে
কতশত আলো
বৈশাখীর এই প্রথম দিনে
বাসবো তোমায় ভালো।

হে বৈশাখী তুমি এলে
আমার মনে ফিরে
আলোর মিছিল জ্বালবে বলে
তুমি আমায় ঘিরে।

বৈশাখী আজ রঙের দোলায়
প্রেমের চিঠি লেখে
বৈশাখীর এই প্রথম ছোঁয়া
তোমার চোখে দেখে।

 

ছেলেবেলা

মুহাম্মদ রেজাউল ইসলাম

নাই ভুলি নাই ছেলেবেলা দিন পাতার বাঁশীতে সুর।
ছুটেছি কোথায় বিরতি বিহীন গ্রাম ছেড়ে বহু দুর।।
ঝোপ ঝাড়ে খুঁজি কত ফল ও মূল তৃপ্তি দিয়েছে মন।
সাথীরা কয়েক খুজেছি এমন ঘুরেছি সারাটা বন।।

খাতার কাগজ বানিয়েছি ঘুড়ি কাঁটাদাড়া সেই বিল।
কিনারে তাহার সুতার বাঁধন আকশে উড়ছে চিল।।
কালি ঘাটা মেঘ গরজে এমন পবণ তুলিতো শোর।
দিনের আলো রহিতে সহসা আঁধার করিত ঘোর।।

আমের কানন দুলিত দোদল ঝরিত কত না আম।
কুড়াতে তাহা মিলে সাথী দল ভুলেনি তাদের নাম।।
সাঁতারের পর চলিতো সাঁতার এপার ওপারে জল।
দুপুরের বেলা আনিতো বিকাল শৈশব সাথী দল।।

কুয়াশায় ঘোর এমনি সকাল কচুর পাতাতে জল।
হাত লাগাতেই এধার ওধার ঝরিত ধরার তল।।
হৃদয় খাতা খুলিয়া দেখি ছেলেবেলা সেই দিন।
কৃষ্ণ রাতে তারার মিছিল হৃদয় বাজায় বীণ।।

আর কবে বুঝবি

সন্দীপন দাস

আর কবে বুঝবি তুই! বলে দে এবার
তুই ছাড়া ফাঁকা বড়, শূন্য এ খেলাঘর।

যদি আমি চাঁদ হই,
আমার চাঁদনী তুই,
যদি আমি রাত হই,
আমার ভোর তুই।
আমার নীরবতা, আমার অস্থিরতা,
আমার নিশ্বাস, দৃঢ় বিশ্বাস,
তুই।।
ভালোবাসা তুই,ভালোলাগা তুই,
আমার ভালো থাকা তুই।

তুই হোস রঙধনু মেঘলা দুপুরে,
তুই হোস রূপকথা ঘুমলাগা চাদরে।
তুল এলে ফুল ফোটে জঙ ধরা শহরে,
তুই এলে পাখা মেলে প্রজাপতি বাহারে।
তোর ছবি আঁকি আমি একলা এ হৃদয়ে,
তোকে ছাড়া মন পোড়ে অবেলার বিদায়ে।

আমি জানি,কিছু নেই আমার এই তরফে
লিখে যাব তোকে আমি আনকোরা হরফে।।

 

খুব মনে পড়ে

মোঃ শাহাবুদ্দীন সম্রাট

আমার যে খুব মনে পড়ে তোকে!
বৃষ্টি ভেজা ভোরে,
আমার ক্লান্তি মাখা দুপুর,
অস্ত রবির আভায় রাঙা
শেষ বিকেলে,

বিরহী গোধূলিতে নিঃসঙ্গ একা-
হেঁটে যেতে যেতে মেঠো পথে,
আমার যে খুব মনে পড়ে তোকে!
তোর কি এমন করে মনে পড়ে তারে?
সকাল দুপুর কিংবা সন্ধ্যা সাঁঝে,

গভীর রাতের কোলে- খুব গোপনে,
তোর কি এমন করে মনে পড়ে তারে?
নরম বিছানায় গা এলিয়ে,
ঘুম জড়ানো দুচোখ জুড়ে,
তুই কি কভু দেখিস তারে?

তোকে ছেড়ে যে গেছে চলে,
যাকে ফেলে এসেছিস পায়ে দলে,
হাজার ক্রোশ পথের দূরে,
সাত সমুদ্দুর তেরো নদী পারে!
মনে কি পড়ে তারে?

তোর স্মৃতির সাথে কথা কইতে কইতে,
যখন আমার দুচোখ ভিজে-
গন্ড বেয়ে অশ্রু ঝরে,
তোরও কি চোখ ভিজে যায় জলে!
তোর কি এমন করে মনে পড়ে তারে?
কি করব বল!
আমার যে খুব মনে পড়ে তোকে!

 

বাদলের ডাক

মোঃ মামুন হোসেন

বাদল দিনের মেঘলা আকাশ
ধেয়ে আসে দক্ষিণা বাতাস
হঠাৎ হঠাৎ আসে বৃষ্টির জোয়ার
ডুবে যায় পথ ঘাঁট, ভেসে যায় ঘর দুয়ার।

হঠাৎ বিজলীর চমকানিতে
মনের ভিতর কেঁপে উঠে বজ্রাঘাতে,
যেখানে সেখানে পড়ে বজ্রপাত
সারা দেশ জুড়ে এটা হয়েছে এখন মরণের ফাঁদ।

এ কি নিশানা দেখাইতেছেন বিধাতা
আমরা অধম বিধায় বুজিনা তার নিপুণতা,
দুনিয়াটা আজ দূষণে ভরপুর
ধর্ষণ, ব্যভিচার কিংবা অত্যাচার ও শোষণ চলছে রাত দুপুর।

বৃষ্টির জোয়ারে ভেসে যায় ঠিক বাহ্যিক আবর্জনা
তবে পরিষ্কার হয়না মানুষের মন, শুদ্ধ হয়না মনের আলপনা,
বৃষ্টি হল বিধাতার নেয়ামত মানুষের কল্যাণে
যাহারা করতে পারে উপভোগ এ বিশ্ব ভুবনে।

বাদলের ঐ মেঘলা আকাশ
বয়ে আনে বার্তা, ধেয়ে আসে ঝড় ও বাতাস,
তবে কষ্ট তাদের, যারা খেটে খাওয়া দিনমজুর
পেটের দায়ে বেয়ে যায় তরী কিনারাহীন অচিনপুর।

এ দুনিয়ার বুকে
যারা আছেন চির সুখে,
ভুলে গেছেন যতো সব
বলে বসেন কে আবার আমার রব।

এটার জন্যই যতো সব গজব
এটা ওদেরই প্রাপ্য, পাবে না এর লাঘব,
ওদের অহংকার আর নেশার মাশুল
সমাজের নিরীহ মানুষের উপর বয়ে আনে পাপের ফল।

তাই বাদলা হাওয়ার তালে তালে
জীবনকে আর না ভাসিয়ে দেই হেলে দুলে,
বৃষ্টির জোয়ার বইবে যখন
জীবনকে পরিশুদ্ধ করে নিব তখন।

নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল চাই

প্রতিবছর যেমনটি হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটল না। রমজানের আগেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্বের সর্বত্র খুচরা বাজারের কিছু নিয়ম থাকে। আমাদের দেশে তা নেই। এখানে নানা ছুতায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো হয়। একটা পর্যায়ে যখন আর দাম বাড়ে না তখন বলা হয় পণ্যমূল্য স্থিতিশীল। আবার বাজার অস্থিতিশীল করতে নানা ছলের আশ্রয়ও নেওয়া হয়। কখনো কখনো তৈরি করা হয় কৃত্রিম সংকট। আমদানিপণ্যের ক্ষেত্রে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেওয়া হয়। বর্ষার ক্ষতি কিংবা সড়কপথে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাত দেখানো হয়। মূল লক্ষ্য হচ্ছে অনৈতিকভাবে অধিক মুনাফা অর্জন। সেই লক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা সব সময় একজোট বলে ধরে নেওয়া যায়। বাজারে সরবরাহ ও মজুদ যথেষ্ট থাকার পরও ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর প্রবণতা কখনো দূর করা যায়নি। অন্যান্য দেশে যখন উৎসব-পার্বণ সামনে রেখে বাজারে পণ্যমূল্য কমানো হয় তখন আমাদের দেশে ব্যবসায়ীদের কাছে উৎসব মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। বাজারে যেকোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে সেই পণ্যের সরবরাহ বা মজুদ কমে যাওয়া। উৎপাদন কম হলেও অনেক সময় বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। কিন্তু আজকের দিনে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যেকোনো পণ্য আমদানি করা যায়। উত্পাদন কম হলে বা চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেলে বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত যেকোনো দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা যেতে পারে। এতে বাজারে পণ্যের দামে প্রভাব পড়ার কথা নয়।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সবজি বাজারে। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। শবেবরাতের আগে বেড়ে যায় ব্রয়লার মুরগির দাম। আগের সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও চলতি সপ্তাহে তা আবার বেড়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৩৫ টাকা কেজি। রমজানের চাহিদাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের আলাদা মজুদ গড়ে তোলে। এতে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু তার পরও দাম বাড়ানো হয়েছে। টিসিবির হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজ ৮.৩৩ শতাংশ এবং দেশি পেঁয়াজে ১০.৬৭ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা আদা-রসুনের দামও বেড়েছে। বোরো মৌসুমের নতুন ধান-চাল আসতে শুরু করলেও বাজারে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
বাংলাদেশের বাজারে সঠিক নজরদারি নেই। ব্যবসায়ীদের কাছে ভোক্তারা জিম্মি। সঠিক নজরদারি ও বিকল্প বাজার ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। টিসিবিকে সক্রিয় করার কোনো চিন্তা আছে বলে মনে হয় না। রমজান সামনে রেখে দুই দিন পর থেকে টিসিবিকে নামানোর কথা। তার প্রভাব বাজারে কতটা পড়ে, তা দেখতে হবে।