পুরাতন সংবাদ: May 2018

পবিত্র শবে বরাতে এসএমপি’র গণবিজ্ঞপ্তি

স্টাফ রিপোর্টার :
দেশব্যাপী মুসলিম উম্মার পবিত্র রজনী শবে বরাত আজ মঙ্গলবার উদ্যাপিত হবে। শবে-বরাত ধর্মীয় ভাবগাম্ভিয্যের সাথে উদ্যাপনের লক্ষে নিম্নেবর্ণিত নির্দেশনাসমূহ অনুসরণের জন্য সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে এসএমপি পুলিশ। বিস্তারিত

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে দিনভর ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার :
কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি, আবার কখনও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে দিনভর ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে। বিশেষ করে অফিস এবং স্কুল-কলেজগামীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিকেল ৪ টার পর বৃষ্টিপাত কমে আসলেও গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিস্তারিত

বিশ্বনাথে নির্বাচনী সহিংসতার মামলা ॥ ছাত্রদল-যুবদলের ১৯ নেতাকর্মী খালাস

স্টাফ রিপোর্টার :
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশ্বনাথ উপজেলায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার মামলায় ছাত্রদল-যুবদল নেতাসহ ১৯ আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। সোমবার সিলেটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু ওবায়েদ এই খালাসের রায় প্রদান করেন। বিস্তারিত

নারী চিকিৎসক ছিনতাইয়ের শিকার

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর ব্যস্ততম এলাকা নয়াসড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন ডা: তাহমিনা মালিক শিমু নামের এক নারী। গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ছিনতাইর ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত

পবিত্র শবে বরাত এর ফজিলত ও ইবাদত

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী

মহান আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের ওপর দয়া ও ক্ষমার কেবল অসিলা তালাশ করেন, যেকোনো পথেই হোক ক্ষমা করার বাহানা খোঁজেন। তাই দয়াময় আল্লাহ তায়ালা তাঁর গুনাহগার বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য বিভিন্ন স্থান ও সময়-সুযোগ বাতলে দিয়েছেন, যাতে বান্দা নিজ কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়, আর আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেবেন।
সেসব সময়ের একটি হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যাকে আমাদের প্রচলিত ভাষায় শবে বরাত বলা হয়। কোরআনুল কারিমের ভাষায় একে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ বা বরকতময় রাত, আর হাদিস শরিফে এটি ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ বলে উল্লেখ রয়েছে।
আমাদের বর্তমান সমাজে মানুষ পক্ষান্তরে বিরোধিতা করতে গিয়ে শবে বরাতের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে বসেছে এবং তারা এ রাতের কোনো বৈশিষ্ট্যই মানে না; বরং এ রাতের সব কিছুকেই বিদআত বলে থাকে। বাস্তবে এ দলটিও ভ্রষ্টতায় রয়েছে, কেননা শবে বরাতের একাধিক ফজিলত, তাৎপর্য ও বিভিন্ন করণীয় কোরআনুল কারিমে ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে অতি সংক্ষেপে এর বিবরণ পেশ করা হলো।
ক্ষমা ও রহমতের রজনী শবে বরাত
হযরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকূলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক-বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা. ৫৬৬৫, আল মু’জামুল কাবীর ২০/১০৯, শুআবুল ইমান, হা. ৬৬২৮)।
অষ্টম শতাব্দীর যুগশ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) বলেন, হাদিসটির সূত্রের সব বর্ণনাকারী ‘নির্ভরযোগ্য’। (মাজমাউজ জাওয়াইদ ৮/৬৫)।
এছাড়া এ মর্মে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.), আবু মুসা আশআরি (রা.), আবু হুরাইরা (রা.), আয়েশা (রা.) প্রমুখ সাহাবি থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) উঠে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন, এতে এত দীর্ঘ সময় ধরে সিজদা করলেন যে আমার ভয় হলো তিনি মারাই গেছেন কি না। এ চিন্তা করে আমি বিছানা থেকে উঠে রাসুল (সা.)-এর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিই, এতে আমার বিশ্বাস হলো তিনি জীবিত আছেন। তারপর নিজ বিছানায় ফিরে এলাম। এরপর তিনি সিজদা থেকে মাথা ওঠালেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা হয়েছে যে নবী তোমার সঙ্গে সীমা লঙ্ঘন করেছে? আমি বলি, জি না, হে আল্লাহর রাসুল! তবে আপনার দীর্ঘ সময় ধরে সিজদার কারণে আমার মনে হয়েছে আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি জানো, আজকের এ রাতটি কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, এ রাতটি অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের দয়া করেন। তবে হিংসুক লোকদের তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন। (শুআবুল ইমান, হা. ৩৮৩৫)। যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম বায়হাকি (রহ.) বলেন, এটি উত্তম মুরসাল হাদিস। (শুআবুল ইমান ৩/৩৮৩)।
শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদত করা ও পরদিন রোজা রাখা
হযরত আলী (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘১৪ শাবানের রাত যখন হয়, তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে পালন করো এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে এসে বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।
কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছে কি? আমি তাকে রিজিক প্রদান করব। আছে কি কোনো রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ১৩৮৮)।
হাদিস বিশারদগণের গবেষণা মতে, এ হাদিসের সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তবে এতে শুধু ইবনে আবি সাবরা নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে হাদিসটি সামান্য দুর্বল বলে গণ্য হবে। আর এ ধরনের দুর্বল হাদিস ফাজায়েলের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য।
এছাড়া শবে বরাত সম্পর্কীয় হাদিসগুলোকে যুগশ্রেষ্ঠ হাদিসবিশারদ ইমামগণ সমষ্টিগতভাবে ‘সহিহ’ বা বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন, যাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে হিব্বান, হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলি, হাফেজ ইবনে তাইমিয়া (রহ.) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
বছরব্যাপী ভাগ্যনির্ধারণের রজনী শবে বরাত
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এই রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত ২-৩) কোরআনের ব্যাখ্যাকারদের অনেকে আয়াতে উল্লিখিত ‘লাইল’ থেকে শবেকদর উদ্দেশ্য বললেও কয়েকজন ব্যাখ্যাকার এর অর্থ শবেবরাত বলেছেন।
এ ব্যাপারে ইকরামা (রহ.) সূত্রে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অর্ধশাবানের রাতে যাবতীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন। আর শবে কদরে তা নির্দিষ্ট দায়িত্বশীলদের অর্পণ করেন। (তাফসিরে কুরতুবি ১৬/১২৬)।
হযরত আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধশাবানের রাতের কার্যক্রম হলো, এ বছর যারা জন্মগ্রহণ করবে এবং যারা মারা যাবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। এ রাতেই মানুষের আমল পৌঁছানো হয়। এতেই তাদের রিজিকের বাজেট করা হয়। (ফাজায়েলে আওক্বাত, বায়হাকি, হা. ২৬)।
তাই এ রাতে তসবিহ-তাহলিল, ইসতিগফার, কোরআন তেলাওয়াত বেশি বেশি করতে হবে। কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে হবে। এছাড়া উমরি কাজা ও নফল নামাজ অধিক পরিমাণে পড়তে হবে। এ রাতে কবর জিয়ারতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আল্লাহ আমাদের নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন আল্লাহুম্মা আমিন ছুম্মা আমিন।

‘মহান মে দিবস’ প্রতিষ্ঠিত হোক শ্রমজীবী মানুষের অধিকার

প্রভাষক জ্যোতিষ মজুমদার

এ পৃথিবীতে যা কিছু সুন্দর, সৌন্দর্যময় সৃষ্টিশীল এবং নান্দনিক শিল্প, সবকিছুর মূলেই রয়েছে শ্রমজীবী মানুষের অবদান। পৃথিবীর মেহনতি শ্রমজীবী মানুষরাই আমাদের মহান সম্পদ এবং অহংকার। কিন্তু কৃষি সভ্যতা বিকাশের সময় থেকে দাসপ্রথা, বেগারখাটা এবং উৎপন্ন শষ্যভান্ডার কুক্ষিগত করার প্রবণতা সমাজে শ্রমজীবী মানুষদের বঞ্চিত করে চলছে প্রতিনিয়ত। স্ফীতকায় ধনতান্ত্রিক অচলায়তনে শ্রমিকদের চোখের জল আর বুকের রক্ত কোন মানবিক স্বীকৃতি পায়নি। ১৭৮০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দাবী দাওয়া, প্রতিবাদ এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়া সহ বিভিন্ন আন্দোলনে ব্যাপৃত থাকে জুতা প্রস্তুতকারী শ্রমিক, ছুতার ও মুদ্রণ শিল্পে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রমিকরা। মূলতঃ এ সময়টা ছিল শ্রমিক ও মালিকে মতানৈক্যের ইতিহাস।
১৮০৬ সালে আমেরিকায় ফিলাডেলফিয়ার জুতা শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকরা কার্যঘন্টা কমানোর দাবীতে ধর্মঘট করেন এবং ১৮২৭ সালে কর্মঘন্টা কমানোর দাবীতে ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয় ফিলাডেলকিয়ার মেকানিক শিল্পের শ্রমিকের সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে।
আটঘন্টা কাজের সময়ের দাবীতে আন্দোলনের সর্বপ্রথম উদ্যোগ নিয়েছিল ইংল্যান্ডের ‘গ্রান্ড ন্যাশনাল কনসোলিডেটেড ট্রেডস ইউনিয়ন’। প্রথমে ২রা জুন ১৮৩৩ এবং তারপর সময় পিছিয়ে ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা ওই দাবীতে ধর্মঘটের ডাক দেয়। ওই একই দাবীতে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৭ থেকে ২৫ এপ্রিল ১৮৩৪ সালে লন্ডনে। আবার ১৮৩৬ সালেও লন্ডনে বিভিন্ন বৃত্তির সোসাইটিগুলোর জয়েন্ট কমিটি সপ্তাহে ৬০ ঘন্টার দাবিতে ৬ মাস সফলতার সাথে ধর্মঘট চালিয়েছিল।
১৮৪৫ সালে বিভিন্ন তুলা শিল্পে নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ, স্যানিটেশন, ও কার্য্য সময় নিয়ে ম্যাচাচুয়েস্ট এ “দি ফিমেল লেবার রিফর্ম অ্যাসোসিয়েশন” গঠিত হয়। মে দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ১৮৫৭ খ্রি: ৮ই মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি সুচ কারখানায় নারী শ্রমিকগণ তাদের প্রাপ্য মজুরীর বৈষম্য ও দৈনিক ১২ ঘন্টা কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠে।
১৮৬০ সালে নিউ ইংল্যান্ডে ২০ সহ¯্রাধিক জুতা তৈরীর শ্রমিক দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সফল ধর্মঘট করেন। শ্রমিকদের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের দাবীতে বিশ্বের প্রথম শ্রমিক ধর্মঘট হয়েছিল অবিভক্ত বঙ্গে ১৮৬২ সালের মে মাসে অর্থাৎ শিকাগো ঘটনায় আরো ২৪ বৎসর পূর্বে। ঐ ধর্মঘট ডেকেছিল রেলওয়ে শ্রমিকেরা। ১৮৬১-৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ক্রীতদাসদের মুক্তিদানের সিদ্ধান্ত আমেরিকায় শ্রমিক আন্দোলনে জোয়ার বয়ে দিয়েছিল। ৮ ঘন্টা কাজের দাবীতে আন্দোলন এ সময় থেকেই সেখানে তীব্রতা লাভ করে। ১৮৬৬ সালে বাল্টিমোরে ৬০টি ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিগণ কর্মঘন্টা ৮ ঘন্টা নির্ধারণের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন ১৮৮৪ সালে আমেরিকাার শিকাগো শহরে একদল শ্রমিক দৈনিক আট ঘন্টা কাজ করার জন্য আন্দোলন শুরু করেন এবং তাদের এ দাবী কার্যকর করার জন্য ১৮৮৬ সালের ১লা মে পর্যন্ত সময় সীমা রেখে দেন।
১৮৬৮ সালে আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রীয় আইন সভায় সরকারি শ্রমিকদের কার্যসময় ৮ ঘন্টা নির্ধারনের আইন পাস করা হয়, কিন্তু বেসরকারি শ্রমিকদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না।
এক সময় অমোঘ নিয়মে আবির্ভূত হলেন কার্ল মার্কস এবং ফ্রেডারিক এঙ্গেলস। বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হল পৃথিবীব্যাপী শ্রমিকদের ঐক্য ঘোষণা। ১৮৪০ এর দশকে কাল মার্ক্স এবং ফ্রেডারিক এঙ্গেলসের দ্বারা পুঁজিবাদের উত্থান এবং নিয়মাবলী আবিষ্কার, এবং নিয়মাবলী অধিকার ১৮৬৪ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী সংঘঠনের প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিক আন্দোলনের বৈজ্ঞানিক প্রণালীসমূহের সূত্রায়ন, ১৮৭১ সালে ঐতিহাসিক প্যারি কমিউন এবং তার প্রথম আন্তর্জাতিক কেন্দ্রীয় দপ্তর আমেরিকাতে স্থানান্তরের ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে সমাজ তান্ত্রিক ভাবধারায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলন প্রসারের প্রথম শর্তাবলী গড়ে উঠে।
১৮৮১ সালে জর্জিয়া আটলান্টায় লন্ড্রি শিল্পের কাজে নিয়োজিত তিন সহ¯্রাধিক কৃষাঙ্গ নারী শ্রমিক প্রভাববিস্তারকারী আন্দোলনের জন্ম দেয়। ১৮৮৪ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে একদল শ্রমিক দৈনিক আট ঘন্টা কাজ করার জন্য আন্দোলন শুরু করেন এবং তাদের এ দাবী কার্য্যকর করার জন্য ১৮৮৬ সালের ১লা মে পর্যন্ত সময় সীমা বেঁধে দেন।
মালিক আর মজুতদারদের অন্যায় জুলুমের বিরুদ্ধে এবং নিজেদের ন্যূনতম প্রয়োজন সিদ্ধির দাবীতে আজ থেকে ১৩২ বছর পূর্বে ১৮৮৬ সালের মে মাসের প্রথম দিবসে শ্রমিকদের সমবেত পদাঘাতে প্রকম্পিত হয়েছিল শিকাগো শহর। শ্রমিকেরা কারখানায় না গিয়ে নেমে এলেন রাজপথে। আমেরিকার প্রায় ১৩ হাজার কল-কারখানায় তিন লক্ষাধিক শ্রমিক নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সমবেত হলেন। সফল সমাবেশ করে যার যার বাড়ী ফিরে গেলেন।
মে মাসের ৩ তারিখ সোমবার ধর্মঘট চলছে। ম্যাককর্মিক হার্ভেস্টার ওয়াকর্সের শ্রমিকরা ধর্মঘট ভাঙ্গতে আসা মালিক পক্ষ ও সরকারি পুলিশ বাহিনীর মোকাবিলা করতে গেলে পুলিশ গুলি চালায়। স¤্রাজ্য লোভী ধন-তান্ত্রিক রাজশক্তির চন্ডাল নৃত্য সেদিন প্রকাশিত হয়েছিল জান্তব নগ্নতায়। পুলিশের গুলিতে ৬ জন শ্রমিক নিহত ও আহত হন অনেক। এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আগস্ট স্পাইসের সংগ্রামী আহ্বানে পরের দিন ৪ঠা মে শিকাগো শহরের হে মার্কেটে স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বোমা হামলায় আরো ৪ জন নিহত হন। পুলিশ শ্রমিক নেতাদের গ্রেফতার করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ ও ধর্মঘটকারীরা মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উক্ত সংঘর্ষে অনেক শ্রমিক মারা যায় এবং শিকাগো হে মার্কেট স্কোয়ারে চরম গণবিদ্রোহের ফলশ্র“তিতে কয়েকজন পুলিশ অফিসার সহ একজন বেসাময়িক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। পুলিশ হত্যা মামলায় ৮ জন শ্রমিক নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়। বিচারের নামে হয় প্রহসন। ১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর উন্মুক্ত স্থানে ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। লু্যুইস লিং একদিন আগেই জেলের ভিতরে আত্মহত্যা করেন। ফাঁসির মঞ্চে স্পাইস বজ্রকণ্ঠে বলে উঠলেন আজ আমাদের এই নিঃশব্দতা তোমাদের আওয়াজ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হবে। ১৩ নভেম্বর তাদের শেষকৃত্যে আমেরিকার বৃহত্তম মিছিলে সমবেত হয়েছিল প্রায় ৫ (পাঁচ) লক্ষাধিক মানুষ।
আগস্ট স্পাইসদের যারা অন্যায় ভাবে ফাঁসি দিয়েছিল তারা আজ ঐতিহাসের আদালতে অভিযুক্ত হয়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে আঁস্তাকুড়ে আর আগস্ট স্পাইসরা অভিষিক্ত হন বীরের আসনে। ১৮৯৩ সালে ইলিয়নের গভর্ণর অভিযুক্ত ৮ জনকেই নিরাপরাধ ঘোষণা করেন এবং রায়ের হুকুম দাতা পুলিশ কমান্ডারকে অভিযুক্ত করা হয়।
মার্ক্সবাদের মহান পথ প্রদর্শক কার্ল মার্ক্সের অন্তরঙ্গ বন্ধু ও সহকর্মী ফেডারিক এঙ্গেলসের নেতৃত্বে ১৮৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের ১০০ বছর পুর্তিতে ১৪ জুলাই দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। ২০ টি দেশের কমিউনিস্ট প্রতিনিধিরা এ কংগ্রেসে যোগদান করেন। সেই কংগ্রেসে ‘পহেলা মে’ কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস বা ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জার্মান কমিউনিস্ট নেত্রী ক্লারা জেটকিন সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেন। ঘোষণাতে বলা হয় ১৮৯০ সালের ‘পহেলা মে’ থেকে প্রতিবছর ‘পহেলা মে’ কে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। ঐতিহাসিক এ মে দিবসে বিশ্বের শ্রমজীবী জনতার প্রতি অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

 

পবিত্র শবে বরাত

আজ পবিত্র শবে–বরাত। শবে-বরাত কথার অর্থ সৌভাগ্য রজনী। পবিত্র কোরান শরীফে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লায়লাতুল মুবারাকাতুন’, অর্থাৎ শুভ রজনী বা মঙ্গলময় রাত। প্রতিবছর শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতই হচ্ছে এই সৌভাগ্য রজনী। রাসূলে করিম (সা) বলেন, এই পবিত্র রাতে সমগ্র দুনিয়াবাসীর জন্য আল্লাহ্ পাকের করুণা বর্ষিত হয়। শব-ই-বরাতের পবিত্র রাতেই মানবজাতির জন্য লেখা হয় আমলনামা। যারা পরবর্তী বছর জন্মগ্রহণ ও মৃত্যুবরণ করবেন তাদের তালিকাভুক্ত করা হয় এ রাতে। আর এ কারণেই এ রাতকে বলা হয় ভাগ্য নির্ধারণের রজনী। পবিত্র এ রাতে কৃত অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে অনুশোচনার সঙ্গে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি ক্ষমা করে থাকেন। যারা এই পবিত্র রাতে বিনিদ্র থেকে একাগ্রচিত্তে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার এবাদত-বন্দেগি করবেন তাদের সকল গুনাহ আল্লাহ মাফ করবেন, কবুল করবেন তাদের আন্তরিক প্রার্থনা এবং আশা-আকাক্সক্ষা। এ রাতের বরকত ও ফজিলতের ওপর গুরুত্বারোপ করে সিদ্দিকে আকবর, মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রা) এবং পরবর্তীকালের সাধক, আলেম ও অলি-আল্লাহগণ বিশদ বিশ্লেষণমূলক অমূল্য বক্তব্য রেখেছেন। এই পবিত্র রাতে রাসূলে করিম (সা) স্বয়ং গভীর এবাদতে মশগুল থাকতেন। তিনি এই রজনীর মহিমা বর্ণনা করে বলেছেন, লায়লাতুল বরাতের রাতের প্রথম ভাগে স্বয়ং আল্লাহ পাক প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়ে বলেন, ‘কে আছ আমার প্রিয় বান্দা, যে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, কে আছ অভাবগ্রস্ত, কে আছ বিপদগ্রস্ত ও কে আছ সুখ-শান্তির প্রত্যাশী এবং আখেরাতের মঙ্গল কামনাকারী? তোমরা এই ফজিলতের রাতে আমার কাছে ফরিয়াদ কর। আমি নিঃসন্দেহে তোমাদের ফরিয়াদ কবুল করে নেব।’
হাদিস শরীফে পবিত্র শবে–বরাতের ফজিলত ও মর্তবা সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা আছে। পবিত্র এ রাতে নফল নামাজ আদায় ও কোরান তেলাওয়াত ছাড়াও জিকির-আসকার, মোনাজাত ও গরিব-মিসকিনদের মাঝে দান-খয়রাত ইত্যাদির মধ্যে রয়েছে অশেষ সওয়াব ও বরকত।
আমাদের দেশে এখনও রয়েছে নানা ধরনের সমস্যা। দারিদ্র্য এ দেশের মানুষের পিছু ছাড়ছে না। প্রচুর সম্ভাবনা থাকলেও রয়েছে পদে পদে সমস্যা। আজ এই পবিত্র রাতে আমাদের সবাইকে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে সব সঙ্কট থেকে মুক্তি এবং শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য মোনাজাত করতে হবে। এ রাতের ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট বা ক্ষুণœ করার, ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যাঘাত ঘটানোর মতো কোন কাজ আমাদের করা উচিত নয়। এই পবিত্র রহমতের রাতে সকলের জীবন অর্থবহ হয়ে উঠুক, মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ন্যায়নীতিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠুক, সবার জীবন সুখী, সমৃদ্ধ, সুন্দর ও মঙ্গলময় হোক!