পুরাতন সংবাদ: March 2018

কোম্পানীগঞ্জে শাহ আরফিন টিলায় নিহত ১, নিখোঁজ ২

এবার কোম্পানীগঞ্জে শাহ আরফিন টিলায় পাথর তোলার গর্তে চাপা পড়ে কাছা মিয়া (৪৫) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো দুজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয় আব্দুল গনি (৫৫) নামে আরও এক শ্রমিক। ওই কোয়ারিতে বিস্তারিত

অগ্নি ঝরা মার্চ

জেড.এম. শামসুল :
অগ্নি ঝরা মার্চ মাসের প্রথম দিন আজ। এই মার্চ মাসই বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। বাংলার আন্দোলন সংগ্রামের ঘটনাবহুল ও বেদনাবিধুর স্মৃতি বিজড়িত ১৯৭১ এর এই মার্চ মাসেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। বিস্তারিত

সড়ক দুর্ঘটনারোধে পদক্ষেপ চাই

আমাদের জাতীয় চরিত্রে অস্থির, অসহিষ্ণু এক প্রবণতা গেড়ে বসেছে। যুক্তি-অধিকারের ভিত্তিতে নয়, অর্থের জোরে, ক্ষমতার জোরে, গায়ের জোরে অগ্রবর্তী হওয়াই এ প্রবণতার বৈশিষ্ট্য। সামনের জন বা পাশের জন তাতে মুখ থুবড়ে পড়লেই কী! গা-জোরি প্রবণতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায় সড়কে-মহাসড়কে, বিশেষ করে রাজধানীর গলি-অ্যাভিনিউতে। বাস-টেম্পো প্রভৃতি যাত্রী ওঠানোর জন্য বা আগে যাওয়ার জন্য রীতিমতো মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হয়। গায়ে মল্লযুদ্ধজনিত ‘ক্ষত’ নিয়েই অহর্নিশ চলছে গাড়িগুলো। অসহিষ্ণু এই প্রবণতার প্রত্যক্ষ ফল দুর্ঘটনা; প্রতিদিনই ঘটছে, আহত বা নিহত হচ্ছে মানুষ। সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের এক দুর্ঘটনায়ই ১০ জন নিহত হয়েছে। ওই ঘটনায় আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক লোক। ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের অভিযোগ, বাসচালকের বেপরোয়া মানসিকতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে চালক পেছন থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানকে ধাক্কা দিলে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। কিছু আগে বাসটির চালক কাঁচপুরে একটি রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে আসে। সোমবার আরো ৯ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছে।
রাজধানী সহ দেশে প্রত্যন্তঞ্চলে প্রতিদিন কত দুর্ঘটনা ঘটে তার হিসাব নেই। বড় কিছু না ঘটলে অর্থাৎ কেউ আহত বা নিহত না হলে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলতে চাই না আমরা। দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে প্রাণহানি। আগের বছরের তুলনায় ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ২২ শতাংশ বেশি হয়েছে। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের অভিমত, ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ নিয়ন্ত্রণহীন গতি। এ জন্য চালকরাই দায়ী। ৫৩ শতাংশ ঘটনার কারণ অতিরিক্ত গতি এবং ৩৭ শতাংশ ঘটনার কারণ বেপরোয়া মানসিকতা। বাকি ১০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে অন্যান্য কারণে। দুর্ঘটনাগুলোর ৪৩ শতাংশই ঘটছে মহাসড়কে। বিভিন্ন গবেষণার ফলে দেখা যায়, শুধু বেপরোয়া মানসিকতাই নয়, চালকদের প্রশিক্ষণও যথাযথ নয়, সড়কে গাড়ি চালনার আইন সম্পর্কেও তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। দায়িত্ববোধের বালাই নেই অধিকাংশের মধ্যে। এ অবস্থায়ই তারা লাইসেন্স বাগিয়ে নিচ্ছে ‘ম্যানেজ’ করে। লাইসেন্স পাওয়ার পদ্ধতি খুবই দুর্বল। এর সুযোগ যেমন চালকরা নিচ্ছে, তেমনি ফায়দা লুটে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগও নেই। যাত্রীবীমা করে ইনস্যুরেন্স কম্পানিগুলো টাকা নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা পায় না। এসব নিয়ে তো কম কথা হচ্ছে না, কম লেখালেখি হচ্ছে না। তার পরও সড়ক আইনের প্রয়োগ চোখে পড়ে না। আইনের প্রয়োগহীনতা চালকদের বেপরোয়া হওয়ার আরো সুযোগ করে দিচ্ছে। কবে এসবের অবসান হবে, সড়কে-মহাসড়কে কবে বন্ধ হবে বলিদান?