পুরাতন সংবাদ: February 3rd, 2018

কমরেড আসাদ্দর আলী স্মরণে আলোচনা সভা আজ

মহান ভাষা সৈনিক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাম্যবাদী দলের সাবেক সভাপতি কমরেড আসাদ্দর আলীর ২৮তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় সিলেট আইনজীবী সমিতি ভবনের ২নং বার লাইব্রেরী হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিস্তারিত

শিমুল ফুল

রমজান আলী রনি

শিমুল গাছে লাল বেনারসি
হালকা হাওয়ায় দুলে
কোকিল পাখি কুহুসুরে
প্রেমের সুর যে তুলে।

বসন্তের লাল চাঁদোয়া আজ
লাজুক লতার শাখায়
রঙ লেগেছে দিগন্ত-নীড়ে
ফুলের পাখায়-পাখায়।

সকল কবি মগ্ন ধ্যানে
‘তপ্ত প্রেমের মায়ায়
শিমুল ফুলের ভ্রমরগুলো
চলছে অলি ছায়ায়।

মন যেনো আজ উড়–উড়–
শিমুল ফুলের লালে
চলতে গিয়ে থমকে দাঁড়াই
তালবেতালে-তালে।

 

এই শীতে

হাজেরা সুলতানা হাসি

আমরা যখন আয়েশ করে
খাচ্ছি বসে খাবার,
পথ শিশুটা ডাস্টবিনেতে
খুঁজে তখন আহার!

এই শীতে খুব আরামে
জড়াই গায়ে চাদর,
পথশিশু কাঁপছে শীতে
পথ মাঝে থরথর।

ওদের পানে একটু যদি
বাড়াও ওই হাত,
হাসবে ওরা খুশিতে খুব
কষ্ট যাবে নিপাত।

খুব বেশি না একটু তাই
এসো কিছু করি,
ভালোবেসে গরিব দু:খির
হাতটা এসো ধরি।

 

আছো হৃদ মাঝে

আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
নদীর ঐ কলতানে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
পাখির মুগ্ধ গানে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
প্রভাতের ঐ স্নিগ্ধতায়
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
গোধুলীর রক্তিম আভায়।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
সাগরের ঢেউয়ের মাঝে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
আমার প্রতিটি কাজে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
মধুর ঐ আজানে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
ভালোবাসার টানে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
ঝুমঝুম বৃষ্টির মাঝে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
সকাল বিকাল সাঁঝে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
আকাশের ঐ নীলে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
ঐ পদ্মপাতার ঝিলে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
রাতের ঐ আঁধারে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
সবকিছুতেই বারেবারে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
সৃষ্টির সর্ব কাজে
তুমিতো আছো দয়াময় প্রভূ
আমার হৃদ মাঝে।

 

শ্রেষ্ঠ গোলাপ ফুল

আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

প্রিয় রাসূল ( সা:) তব নাম
আমার হৃদে লেখা
পেতে চাইগো একটিবার হলেও
শুধু তোমার দেখা।

আছোগো তুমি সবসময়ই আমার
ছোট হৃদ জুড়ে
তোমাকে ছাড়া এই অন্তর
যায় যে পুড়ে।

তোমার নামের দরুদ পড়ি
হে প্রিয় রাসূল ( সা:)
তুমি আমার বাগানের মাঝে
শ্রেষ্ট গোলাপ ফুল।

 

শুধু তোমার জন্য

আইরিন আসাদ

আমার এ অলস মনের ভাবনা শুধু তোমার জন্য,
আমার বেলা,অবেলা,সময়,অপেক্ষা করা শুধু তোমার জন্য।
আমার এ পৃথিবীতে জন্ম হওয়াটা শুধু তোমার জন্য,
আমার আশা ভরসা ও স্বপ্ন শুধু তোমার জন্য,
আমার যতো দুঃখ, কান্না, কষ্ট শুধু তোমায় জন্য,
আমার যতো সাজ-গোজ পরিপাটি শুধু তোমার জন্য,
আমার যতো পথ চলা তোমার পথেই শুধু তোমার জন্য,
আমার সারারাত জেগে কবিতা লিখা শুধু তোমার
জন্য,
আমার যতো ভালোবাসা শুধু তোমার জন্য।
আমার যতো কবিতা, প্রতিটি শব্দ লিখা শুধু তোমার জন্য।
আমার মরণটাও হবে শুধু তোমায় এ পৃথিবীতে না পাওয়ার জন্য।

 

আগের নতূন লুপ্ত

সুবীর সেনগুপ্ত

দুটো বা তিনটে, হলে তো চলবে
তার বেশী আমি চাই না
একটা হলে তো, আরো ভালো হয়
বেশী সামলাতে হয় না।

এটাও লাগবে, ওটাও লাগবে
কত কিছুই তো লাগবে
যত লাগে, তত সামলাতে হবে
মনে বিরক্তি জাগবে।

আজকে লাগলো, এটা আর ওটা
কালকে লাগলো অন্য
প্রত্যেকদিন, লাগবেও যা যা
কেন যে হয় বিভিন্ন!

সকালে লাগবে, রাতেও লাগবে
সব বেলাতেই লাগবে
যা মনে আসলো, সবই তো লাগবে
না পেলে, দুঃখ ভরবে।

যতই লাগছে, ততই আসছে
ঘরে ঘরে সব জমছে
জমতে জমতে, অযতেœ সব
প্রয়োজনহীন হচ্ছে।

যেটা লাগবে না, সেটাও তো চাই
সবাই তখনি আনছে
যারা অপারগ, তারা আনছে না
অনুশোচনায় ভুগছে।

যখন লাগলো, নতূন আসলো
নতুন পেলো গুরুত্ব
আবার নতূন যেই না আসলো
আগের নতূন লুপ্ত।

একটা থাকলে, খুঁজতে হয় না
বাছতে কখনো হয় না
অনায়াসে, ব্যবহার হয়ে যায়
তৃপ্তিও দূরে যায় না।

অর্থ না দেখে, দেখা প্রয়োজন
জিনিসের উপযোগ
আনতে থাকো-না, তার ভিত্তিতে
নেই কোনো অভিযোগ।

 

কিছু কথা

শেখ ফরিদ

তুমি কি অনুভব করতে পাচ্ছো
কারো হৃদয়ে আজ পোড়া গন্ধ,
ওহ তুমি তো পাবে না
কারণ তোমার তো অনুভূতির সব দ্বার বন্ধ।

আচ্ছা তুমি কি আওয়াজ শুনতে পাচ্ছো
কারো বুকজুড়ে বয়ে যাওয়া ঝরণার,
ওহ তুমি তো পাবে না কারণ
তোমার শ্রবণে পৌঁছে না কোন আওয়াজ করুণার।

আচ্ছা তুমি কি দেখতে পাচ্ছো
কারো জন্য একটি মনের কন্দ,
ওহ তুমি কিভাবে দেখবে
তোমার দুচোখ তো আজ অন্ধ।

আচ্ছা তুমি কি ভাবতে পাচ্ছো
একটি মানুষও হয়ে যায় পাথর,
ওহ তুমি কিভাবে ভাববে
তুমি তো নিজের সুখ লাভে কাতর।

আচ্ছা তুমি কি জানো
কারো হৃদয় মন্দির আজো নতুন করে সাজে।
ওহ তুমি কিভাবে জানবে
তোমার তো মনে নতুন কোন ঘন্টা বাজে।

আচ্ছা তুমি কি মানো
কারো ভালবাসার মেঘ তোমার জন্য বর্ণহীন,
ওহ তুমি তো মানবে না
তুমি তো এখন নতুন ছোঁয়ায় হয়েছো রঙিন।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হউক

নির্বাচনের বছরে এসে বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্কতামূলক মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকেই দেশের দুই পুঁজিবাজারে অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। লোকসান কিংবা কম দামে শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগকারীরা সরে যাচ্ছে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে গণমাধ্যমে। গুজব ছড়ানো হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায় নিয়েও। বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করার মিথ্যা তথ্য ও গুজবের কারণে এরই মধ্যে বাজারে পতন ঘটেছে। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী মুদ্রানীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার দোহাই দিয়ে বাজার প্রভাবিত করতে চাইছে। সাম্প্রতিক দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ডিএসইর ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বিনিয়োগকারীদের গুজবে কান দিয়ে ভালো শেয়ার বিক্রি না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, সুযোগসন্ধানীরা গুজব ছড়িয়ে বাজার অস্থির করতে চাইছে। এই সুযোগসন্ধানীরাই কম দামে কেনা শেয়ার বেশি দামে বাজারে বিক্রি করবে। উভয় সংগঠনের নেতাদের ভাষ্য মতে, দ্রুতই বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। বাজার বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, মুদ্রানীতিতে এমন নেতিবাচক কোনো কিছু নেই, যার জন্য বাজারের পতন ঘটতে পারে। মুদ্রানীতিতে টাকাপ্রবাহ, মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে নির্দেশনা থাকে। এর প্রভাব শেয়ারবাজারে কেন পড়বে? বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে পুঁজিবাজার করপোরেট গ্রাহক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে গ্রহণযোগ্য করবে। তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। ব্যাংকে আমানতের সুদ বাড়লে তাতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ কিছুটা কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হওয়াটা স্বাভাবিক; কিন্তু তার ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার কথা নয়। মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে বাজার প্রভাবিত করতে ব্যাংকের ঋণ ও আমানত অনুপাতের দোহাই দেওয়া হয়েছে। আগের ব্যাংক কম্পানি অ্যাক্ট অনুযায়ী মোট দায়ের ১০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সীমা ছিল। বর্তমান ব্যাংক কম্পানি অ্যাক্ট অনুযায়ী রেগুলেটরি ক্যাপিটালের ২৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষিত মুদ্রানীতির কোনো প্রভাব বাজারে পড়বে না এমন পরিস্থিতি দেখার পর ছড়ানো হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতার গুজব।
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে ডিএসই ও সিএসই বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে মূল বিষয়টি তাদের অবহিত করা প্রয়োজন। আমরা আশা করব, পুঁজিবাজারের অস্থিরতা কাটাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।