পুরাতন সংবাদ: February 1st, 2018

মহাজনপট্টিতে ট্রাক চাপায় যুবকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরী মহাজনপট্টিতে ট্রাক চাপায় এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে মেইন রোডে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত যুবকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়- সকাল ৯টার দিকে ম বিস্তারিত

দক্ষিণ সুরমায় আইনজীবীর মা হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার
দক্ষিণ সুরমা বরইকান্দি এলাকার আইনজীবীর মা ধনাঢ্য মহিলা মোচ্ছা: আনোয়ারা খাতুন উরফে সোনারা বেগম হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন ও একজনকে বিস্তারিত

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো…..

জেড.এম. শামসুল :
আজ পহেলা ফেব্র“য়ারী। ভাষা অর্জনের স্মৃতিবাহী ভাষা শহীদের মাস। ছাত্র-জনতার রক্তমাখা এ মাস, মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কয়েক যুগের জমে থাকা কম্পিত ক্ষোভের গর্জে উঠার মাস। মায়ের ভাষার মান রক্ষা করতে সেদিন অকুতোভয়ে ছাত্র-জনতার বুকের বিস্তারিত

মোহাম্মদ মকন জামে মসজিদের উদ্যোগে ২য় তাফসীরুল কোরআন মাহফিল আজ

স্টাফ রিপোর্টার :
উত্তর কাজিরবাজারস্থ মোহাম্মদ মকন জামে মসজিদের উদ্যোগে ২য় তাফসীরুল কোরআন মাহফিল আজ বৃহস্পতিবার বাদ জোহর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উত্তর কাজিরবাজারস্থ নয়ামাটির মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। মোহাম্মদ মকন জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী আফছর উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিস্তারিত

বিশ্ব পরিমন্ডলে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা

॥ অধ্যাপক এমিরেট্সা ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ॥

(পূর্ব প্রকাশের পর)
যার মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে যায় মাত্র ৩৮ থেকে ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এ অর্থ পর্যাপ্ত নয়… সর্বসাকুল্যে ৩.১ শতাংশ মাত্র। সাউথ-সাউথ দেশগুলোর অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি যথাযথভাবে তদারকি ও মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ ‘সাউথ-সাউথ দেশগুলোর অর্থ ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রীদের একটি ফোরাম গঠনের প্রস্তাব করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহল কর্তৃক সমর্থিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। সম্প্রতি চীন সরকার সাউথ-সাউথ সহযোগিতার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।
আধুনিক বিশ্বে বাংলাদেশ আরও একটি কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে, তা হলো একটি শক্ত, সৃজনশীল ও পরিশ্রমী অভিবাসী শ্রমিকদের দেশ হিসেবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ বাংলাদেশের প্রায় ৯০ লাখ প্রবাসী নাগরিক রয়েছেন যারা কঠোর পরিশ্রম বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখছেন, তাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন।
শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্র“য়ারি মহান ভাষা শহীদ দিবসকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের’ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সক্ষম হয়। এ কথা আজ সারাবিশ্ব জানে যে, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশের জনগণ তাদের বুকের রক্ত দিয়েছে। সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ পৃথিবীর সব জাতির মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার ও উন্নয়নের প্রয়াসে সেই দিনটিকে জাতিসংঘ সম্মানিত করেছে, যা আজ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশে পালিত হচ্ছে।
সমুদ্র-সীমা নিয়ে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল সেই বিষয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র-আইন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনা গ্রহণ করেন, তারই ফলস্বরূপ বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমার ওপর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমারও তাদের আইনগত ন্যায্য পাওনা পেয়েছে। কোন সংঘাত বা যুদ্ধ ছাড়া আইনের মাধ্যমে এহেন বিরোধ নিষ্পত্তির ঘটনা পৃথিবীতে বিরল।
শেখ হাসিনার শাসনের প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) বাংলাদেশে কয়েকটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে। এর প্রথমটি ছিল ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সমস্যা গঙ্গা নদীর পানি বণ্টনের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর। এর মাধ্যমে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে অর্বাচীনের মতো গঙ্গা নদীর পানির সমস্যা জাতিসংঘে তুললে পর দীর্ঘ ১৮ বছর ভারত এ নিয়ে কোন আলাপ করতে চায়নি এবং জাতিসংঘেও এ নিয়ে কোন আলাপ করতে দেয়নি। ঐ সিদ্ধান্তটি ছিল খুবই দুর্বল। দ্বিতীয় যে ঐতিহাসিক ঘটনা সেই সময়ে ঘটে সেটি হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। যে সমস্যার আবর্তে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দোলাচলে সেই সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ নিয়ে শেখ হাসিনা সেই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের অবসান ঘটান বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে। পৃথিবীর সাম্প্রতিক ইতিহাসে শান্তি প্রতিষ্ঠার এমন নজির বিরল। মার্কিন কংগ্রেস এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই সাহসী দুই চুক্তির জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রসংশা করেছেন। সম্প্রতি কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে অর্ধশতক ধরে ঝুলে থাকা ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছেন ৬৮ বছর আগের ‘সীমান্ত নির্ধারণ চুক্তি’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। ফলে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার পেয়েছে দীর্ঘদিন ভাগ্যবিড়ম্বিত থাকা উভয় দেশের ছিটমহলবাসী। প্রকৃত অর্থেই শেখ হাসিনা শান্তি ও স্থিতিশীলতার মূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জন্য। আশার আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন বিশ্বের শত কোটি নিপীড়িত মানবতার জন্য।
আধুনিক বিশ্বে বাংলাদেশ আরও একটি কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে, তা হলো একটি শক্ত, সৃজনশীল ও পরিশ্রমী অভিবাসী শ্রমিকদের দেশ হিসেবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ বাংলাদেশের প্রায় ৯০ লাখ প্রবাসী নাগরিক রয়েছেন যারা কঠোর পরিশ্রম বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখছেন, তাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন। একই সঙ্গে নিজেদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা স্বদেশে পাঠিয়ে তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তবে এসব প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনে থাকে অজর দুঃখগাঁথা, বঞ্চনা আর প্রতারণা কাহিনী। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে তারা নিজেদের ন্যায্য বেতনটুকু থেকেও বঞ্চিত হন। অথচ এই প্রবাসীরাই মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কি অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন বিদেশের মাটিতে, বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসির কাঠগড়া থেকে মুত্ত করে আনতে। আবার আজ তারা সেই বিদেশে থেকেও নিজের দেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে রাখছেন ব্যাপক অবদান। সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আয় রেখেছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। দেশে বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে তাদের অবদান লক্ষণীয়। ৯০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের ওপর দেশের প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ নির্ভর করে, যাদের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই অভিবাসী শ্রমিক এবং বিদেশে অবস্থানরত দক্ষ বাংলাদেশী পেশাজীবীদের স্বীকৃতি প্রদান করেছে; তাদের সুরক্ষা এবং দেশে তাদের বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা করেছে এবং তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য গ্রহণ করেছে নানামুখী পদক্ষেপ। প্রবাসে তাদের সমস্যা সমাধানে নিজেদের দেশের সরকারী প্রতিনিধি/কূটনীতিকদের যেমন তিনি নির্দেশনা দিচ্ছেন ঠিক তেমনি বিশ্বসভায় তিনি এই দাবি তুলেছেন যে প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে হোস্ট কান্ট্রি বা শ্রমিকদের অবস্থানকারী রাষ্ট্রের দায়িত্ব অনেক। তাদেরই এটি নিশ্চিত করা কর্তব্য যাতে তাদের দেশে প্রবাসী শ্রমিকদের কেউ শোষণ, নির্যাতন বা কোন রকম বৈষম্য বা বঞ্চনার শিকার হতে না হয়। একই সঙ্গে উন্নত দেশগুলোরও এ বিষয়ে যতœবান হওয়া উচিত যাতে তাদের দেশে কর্মরত বিদেশী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত হয় এবং সেই সব সংগ্রামী শ্রমজীবী জনতা যেন কোন প্রকার শোষণ, নির্যাতন বা প্রতারণার শিকার না হন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে সম্প্রীতি দৈত্য নাগরিকত্ব আইন এমনভাবে সংশোধন করা হচ্ছে যা হবে প্রবাসীদের স্বার্থবিরোধী বিশেষ করে এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে তা হবে দেশের জন্য আত্মঘাতী, উন্নয়নের প্রতিবন্ধক ও প্রবাসীদের প্রতি অবিচার। তবে সুখের বিষয় যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের অনেক দিনের দাবি ‘প্রবাসী দিবস’ ঘোষণা দিতে নীতিগতভাবে রাজি আছেন এবং অতি সমপ্রতি সিলেটে অনুষ্ঠিত প্রথম “গোবাল এন-আর-বি সম্মেলনে” প্রতিবছর ৩০শে ডিসেম্বরকে ‘প্রবাসী দিবস’ বা ‘এন-আর-বি ডে’ হিসাবে ঘোষনা করা হয় এবং তা সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়।
দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশী নাগরিকদের অধিকার আদায়ে এবং নির্যাতিত জনগণের অর্থনৈতিক-সামাজিক উন্নয়নে এতটা সো”চার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কণ্ঠস্বর হতে পারে বলেই হয়ত বাংলাদেশ গত ৬ বছরে (২০০৯-২০১৫) জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে এবং বিভিন্ন কমিটি নির্বাচনে জয়লাভ করে নির্বাচিত হয়েছে। বস্তুত এ সময়ের মধ্যে কোন আন্তর্জাতিক নির্বাচনেই বাংলাদেশ পরাজিত হয়নি; বরং কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রসমূহ বাংলাদেশের কথা ভেবে, বাংলাদেশ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে ওইসব নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারও করে নিয়েছে। বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ তথা বিশ্ব নেতৃত্বের আস্থা এবং প্রগাঢ় ভরসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে প্রায় ৫২টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে।
জাতিসংঘের সেকেন্ড কমিটির চেয়ার হিসেবে অধিকাংশ বিতর্কেই বাংলাদেশ সকল সদস্যকে মতৈক্যে নিয়ে আসতে পেরেছে। পিস বিল্ডিং কমিটির (পিবিসি) চেয়ার হিসেবে বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ই-কো-সক এর) সহ-সভাপতি হিসেবে বিশ্বব্যাংকে জাতিসংঘ কমিটিসমূহের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশে। সাউথ-সাউথ কো-অপারেশনের সভাপতি হিসেবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাধাসমূহ ও করণীয় চিহ্নিতকরণে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ করে। জাতিসংঘের ব্যুরো সদস্য এবং এলডিসি গ্র“পের চেয়ার হিসেবে ইস্তামবুল কর্মপরিকল্পনা (আইপিএও) প্রণয়নে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখে। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের বিভিন্ন ফান্ড যেমন ইউনিসেফ, ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা কমিশন ইত্যাদির চেয়ার বা কার্যকরী সদস্য হিসেবে ওইসব অঙ্গ সংগঠনের কর্মপরিকল্পনায় ইস্তামবুল কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম ভূমিকা পালন করে।
সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতিসংঘ কমিটির ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে ২০১০ সালে বাংলাদেশ উক্ত কমিটির প্রস্তাবসমূহ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মতৈক্য অর্জনে সফল হয়। ‘মানবপাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতিসংঘের বন্ধু’ রাষ্ট্রসমূহের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। মানবপাচার প্রতিরোধ ও অবসানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে উটের জকি ও দাস হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে সোচ্চার জনমত গড়ে তুলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী শিশুদের উদ্ধারের নির্দেশ দেন ও তাদের উদ্ধার পরবর্তী পুনর্বাসনের পদক্ষেপ সংক্রান্ত সার্ক সম্মেলনে ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতিসংঘের ‘ফ্রেন্ডস অব মিডিয়েশন’, ‘ফ্রেন্ডস অব ইন-এ্যালিনেবল্ রাইটস অব প্যালেস্টাইন’, ‘ফ্রেন্ডস অব নো ফুড ওয়েস্ট, নো ফুড লস’, হি ফর সি’, ‘এডুকেশন ফাষ্ট’, ‘হেলথ ইনাসিয়েটিব’ ইত্যাদি ভূমিকায় মানবতার মর্যাদা রক্ষা এবং জাতিসংঘ সদনের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
বস্তুতপক্ষে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে একটি অত্যন্ত সম্মানজনক সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং বর্তমানে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশকেই চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। কেবল সর্বোচ্চ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবেই নয়, সক্ষমতার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাকারী দেশ হিসেবেও বাংলাদেশের সুনাম আজ জাতিসংঘে ব্যাপক। জাতিসংঘের ‘হি এ্যান্ড শী’ প্রোগ্রামের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও বাংলাদেশের নাম চলে আসে সবার আগে। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে মডেল কান্ট্রি হিসেবে গণ্য করা হয়। মহাসচিবের নেতৃত্বে শান্তিরক্ষী নিয়োগ সংক্রান্ত সিনিয়র পরামর্শক কমিটির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষীদের বা নীল হেলমেটের অভ্যস্ততার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এবং শান্তিরক্ষীদের বেতন-ভাতা শতকরা ৩৭ পারসেন্ট বাড়াতে সক্ষম হয়। তাছাড়া প্রতিটি মৃত্যুর জন্য ৫০ হাজার ডলার থেকে ৭০ হাজার ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের পর এটাই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা সংক্রান্ত প্রথম আঞ্চলিক রিভিউ কমিটির মিটিং বাংলাদেশ ঢাকাতে আয়োজন করে ২০১৪ সালের শুরুতে এবং সদস্য রাষ্ট্রসমূহের শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ দান করে। প্রতি ১০ শান্তিরক্ষীর মধ্যে একজন বাংলাদেশী। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নীল হেলমেট, বর্ম ও তলোয়ার চালানো এবং পুলিশের দু’দুটি নারী ইউনিট জাতিসংঘে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছে।
জলবাযু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে জাতিসংঘে অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অপূরণীয় ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জকে বিশ্ববাসীর সামনে যথার্থভাবে তুলে ধরতে তিনি সদাসচেষ্ট থেকেছেন। তিনিই বিশ্বের অন্যতম নেতা যিনি এ বিষয়টিকে বিশ্ববাসীর সামনে বারংবার তুলে ধরেছেন যে, পরিবেশ দূষণকারী না হয়েও স্বল্পোন্নত ও দ্বীপ-রাষ্ট্রসমূহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে বড় হুমকির মধ্যে রয়েছে। কেবল বাগাড়ম্বর বা উচ্চবাচ্য না করে এ বিষয়টি তিনি কর্মপরিকল্পনার মধ্যে গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে কিভাবে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোনো যায় তা নিজে তদারকি ও কাজ করে চলেছেন। সম্পদের স্বল্পতা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সংক্রান্ত দুটি ফান্ড গঠন করেছে এবং এ বিষয়ে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। তাই সঙ্গত কারণেই জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচী (ইউএনইপি) তাকে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ পুরস্কারে’ ভূষিত করেছে। কেননা পরিবেশ সুরক্ষার জন্য তিনিই বিশ্বের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর এবং পরিবেশ নীতিমালা গঠনের ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। ‘জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম’ (সিভিএফ) এবং ‘জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণতা তদারকি’ (সিভিএম) গঠন করেছেন তিনিই। তার প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে জাতিংঘে ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিষয়ের দায়িত্ব বিষয়ক রাষ্ট্রদূত ফোরাম’ (অসনধংংধফড়ৎং রিঃয জবংঢ়ড়হংরনরষরঃু ঃড় ঈষরসধঃব ঈযধহমব-অজঈ) এবং ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বন্ধু’ (ঋৎরবহফং ড়ভ ঈষরসধঃব ঈযধহমব-ঋঈঈ) গঠন করা হয়েছে, যারা জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ ঘোষণার পরই আমরা দেখতে পাই যে, অন্যান্য বিশ্ব নেতা এই জটিল ইস্যুতে এগিয়ে আসছেন। (অসমাপ্ত)

দীঘলি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সমস্যার অন্ত নেই

জাহাঙ্গীর আলম খায়ের বিশ্বনাথ থেকে :
বিশ্বনাথের দীঘলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। মেডিকলে অফিসারসহ ৪টি পদের মধ্যে ৪টি পদই শূন্য, আসবাবপত্র সঙ্কটসহ রয়েছে আরও নানা সমস্যা। চিকিৎসা সেবায় সরকার আন্তরিক হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি দিঘলী উপ স্বাস্থ্য বিস্তারিত

সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়সসীমা বাড়ানো সম্ভব নয় – প্রধানমন্ত্রী

কাজিরবাজার ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবীদের অবসরের বয়সসীমা আপাতত বাড়ানো সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী বুধবার (৩১ জানুয়ারি) সংসদে বিস্তারিত

এসআইইউ-তে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রর্দশনীর উদ্বোধন

৩১ জানুয়ারী বুধবার সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের উদ্যেগে ফল ২০১৭ সেশনে অধ্যয়নরত বিবিএ প্রোগ্রামের ৩য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্মল বিজনেস এক্সিবিশন প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। বিস্তারিত

এসএসসি পরীক্ষা আজ থেকে শুরু

কাজিরবাজার ডেস্ক :
আজ বৃহষ্পতিবার থেকে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হচ্ছে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। সুষ্ঠুভাবে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ বিস্তারিত

তথ্য প্রযুক্তি আইন

তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এই ধারার কারণে বহু সাংবাদিককে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। অনেককে কারাগারেও যেতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে এই ধারার বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। কিন্তু তাতে কোনো ফলোদয় হয়নি বলেই মনে করছেন নেতৃস্থানীয় সাংবাদিকরা। সোমবার ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮’-এর যে খসড়াটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে, তার ৩২ ধারা এবং বাতিল হওয়া ৫৭ ধারার মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই বলেই মনে করেন তাঁরা। তাঁদের মতে, ৫৭ ধারার মতোই এই ধারার কারণেও সাংবাদিকদের হয়রানির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এর ফলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ব্যাহত হবে।
সভ্য দুনিয়ায় গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের অসংগতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ইত্যাদির তথ্য তুলে ধরে জনগণের অর্থের অপচয় রোধ করে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে। গণমাধ্যমের সেই কাজগুলো এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার গোপনীয় বা অতিগোপনীয় তথ্য-উপাত্ত ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কেউ ধারণ করলে তা হবে ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির শামিল। প্রথমবারের অপরাধে শাস্তি হবে ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। দ্বিতীয়বার কেউ একই অপরাধ করলে শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা। এ অপরাধে গ্রেপ্তার হলে জামিনও পাওয়া যাবে না। এসব সংস্থার প্রায় সব ফাইলেই গোপনীয় বা অতিগোপনীয় কথাটি লেখা থাকে। বিভিন্ন সূত্রে সেসব নথির কপি সংগ্রহ করে তা যাচাই-বাছাইয়ের পর সাংবাদিকরা সাধারণত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করে থাকেন। এখন তাঁকে যদি গুপ্তচরবৃত্তির মতো কঠিন অপরাধের পর্যায়ভুক্ত করা হয় এবং এমন কঠোর দণ্ড দেওয়া হয়, তাহলে কোনো সাংবাদিকই সেই ঝুঁকি নিতে রাজি হবেন না। তাতে লাভ হবে দুর্নীতিকারীদের। ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ ও দেশের মানুষ। শুধু সাংবাদিক নয়, অনেক শ্রেণি-পেশার মানুষও এই আইনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। খসড়া আইনে মোট ১৪টি ধারার অপরাধকে আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আদালতে অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগেই অনেককে বছরের পর বছর কারাগারে কাটাতে হতে পারে। তাই একে অনেকে মৌলিক মানবাধিকারের ক্ষেত্রে একটি বড় হুমকি হিসেবেও বিবেচনা করছেন।
প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে সংগতি রেখে স্বাধীন সাংবাদিকতাও এগিয়ে যাবে এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। সে ক্ষেত্রে এমন কোনো আইন প্রণয়ন করা মোটেও কাম্য হবে না, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে কিংবা মানুষের বাক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে। আমরা মনে করি, সংসদে পাস হওয়ার আগে আইনটি আবার বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।