পুরাতন সংবাদ: January 13th, 2018

মনের কথাগুলো

নেছার আহমদ নেছার

কলমটা হাতে নিয়ে
লিখতে চেষ্টা করি
সমস্ত ভাবনাগুলো
কেন জানি এলোমেলো হয়ে যায়।
যেন তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়,
কলমটা ছুড়ে ফেলে দিতে মন চায়,
কি লিখবো-কোনটা লিখবো আগে
কার জন্যে বুকের মাঝে শত গোপন ব্যথা
কার কথা লিখি আগে?
প্রশ্নের উত্তরটা দ্রুত মিলে যায়;
ভাবনা গুলো বিবেক তাড়িত করে
অজস্র কষ্টগুলো হাহাকার করে,
তাই লিখতে মন চায়।
খুব নিষ্ঠার সাথে সাধ্যের ক্ষুদ্র
প্রয়াস দিয়ে সাজাই মনের কথাগুলো।

 

বিশ্ব ইজতেমা

রমজান আলী রনি

বিশ্ব মুসলিম আলোর পথে
তুললো মহা ঝড়
ইজতেমার ঐ নতুন দুয়ার
নেই যে আপন পর।

দূর-দূরান্ত থেকে কত
আসছে মুসলমান
দেশ-বিদেশের জনে-জনে
একই ধর্মপ্রাণ।

টঙ্গীর ঐ তুরাগ নদে
বসলো মিলন মেলা
চলো সবাই তজবি হাতে
পশ্চিমে যায় বেলা?

নিখিল বিশ্বের আপন মায়ায়
রইবোনা আর পড়ে
চলো সবাই মুসলিম বেশে
ইজতেমার ঐ ঘরে?

 

এ যুগের লাইলী-মজনু

মো: আলাউদ্দিন তালুকদার

আমি তোমায় ভালোবাসি
তুমি আমার জান,
কত বিউটির ডিউটি করে
শুনলাম এসব গান!

দড়ি লয়ে মরি যায়
এমন জীবন রাখবে না,
ভালোবেসে পায়নি সখা
এ জগতে থাকবে না!

কত নাটক কত গান
পার্ক, রেষ্টুরেন্টে দেখতে চান,
বাংলাদেশের লাইলী-মজনুর
ভাবটা একবার দেখে যান!

না মরে বাংলার মজনু
না মরে লাইলী,
বন্ধুকে ছেড়ে বন্ধুকেই বলে
তুই আমায় কি পাইলি?

ভাবে বন্ধু নিরূপায়
বিউটি তো আর ডাকে না,
বাংলাদেশের লাইলী মজনুর
প্রেম বেশি দিন থাকে না!

 

হাউসের ঘর

লুবনা জেরিন সীমা

দু’চোখে স্বপ্ন নিয়ে
হাউসের ঘর বান্ধিলাম
খড় কুটা দিয়া
একটুখানি ভালোর জন্য
প্রতিদিন যতœ করে
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালি।

সুখের আশায় চাইয়া থাকি
বন্ধুর মুখের দিকে
রসের পিরীতে ভরে দিলাম
বন্ধুর অন্তর দেহে।
তবু আমার বন্ধুর মন বসেনা
ঘরের নিঝুম কোণে
এথায় সেথায় তাকায় হেথায়
লম্ফঝম্প মারি
ফুঁড়ুত ফাঁড়ুত ঘুরে শুধু মন ভ্রমরার মত
ফুলে ফুলে মধু খেয়ে করে উড়ুউড়ু।

এক বেলা দেখা মেলে
অন্য বেলা খোঁটে খাটে
দেয় না ধরা মোটে
দিবা কিংবা রাতে।
হায়রে আমার পোড়া কপাল
অশান্তির আগুনে পোড়ে
সুখের আশায় ঘুরলাম আমি
আমার বন্ধুর পিছে
সুখ যে আমার সতীন কোটা
বুঝলাম এতদিনে।

সুখের চিহ্ন দেখছিনাকো
আশার আলোয় উড়ছে বালি
দুঃখ, কষ্ট, নিত্য সঙ্গী
সর্বদাই ধায় আমার পিছু।

 

নতুন সালের ভালোবাসা

আইরিন আসাদ

নতুন
বছরে নতুন করে আমার ভালোবাসা,
প্রকাশ করার কিছুই নাই তবে এতোটুকু বলতে পারি, আমি তোমার আগেও ছিলাম এখনও আছি ভবিষ্যৎ বুঝাবো,
আমি কতোটা তোমায় ভালেবাসি,
তুমি তার উত্তরটা পেয়ে যাবে।

তুমি,
এ জীবনে অনেক মানুষের সাথে সময় কাটিয়েছো
তারা তোমাকে কেমন ভালোবেসে আর,
আমি কতোটা তোমায় ভালোবাসি,
তুমি তার উত্তরটা পেয়ে যাবে।

তবে,
তোমার মনের কষ্টিপাথরে আমার মনটাকে ঘঁষে দেখো,
কতো টা খাটি আর কতোটা খাদ মিশানো দেখলে ভুঝবে,
আমি তোমায় কতোটা ভালোবাসি,
তুমি তার উত্তরটা পেয়ে যাবে।

শুনো,
তোমার জীবনে শিক্ষার যোগ-বিয়োগ এর সূত্রগুলো আমার জীবন সূত্রের সাথে মিলিয়ে দেখ,
আমি তোমায় কতোটা ভালোবাসি,
তুমি তার উত্তরটা পেয়ে যাবে।

দেখ,
আমি যতটা সময় তোমার সাথে অতিবাহিত করেছি,
সেই সময়গুলোকে মিলিয়ে দেখো,
আমি আমাকে কতোটা ভালোবাসি,
তুমি তার উত্তরটা পেয়ে যাবে।

তবে,
নতুন বছরের নতুন করে আবার তোমার প্রেমে পড়ে
আমি তোমাকে দেখাতে চাই,
আমি তোমাকে কতোটা ভালোবাসি।
তুমিও আমাকে একটু ভালোবাসলে উত্তরটা পেয়ে যাবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষায় পদক্ষেপ জরুরী

মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য, জাতির মুক্তির জন্য যাঁরা লড়াই করেন তাঁরা সে দেশের, সে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এ মূল্যায়ন দেশ-কালের গণ্ডিতে সীমিত নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে এ মূল্যায়ন শাশ্বত। তবু কখনো, কোথাও বিরুদ্ধপক্ষ অন্তঃস্থ বা বাহ্যিক কারণে ক্ষমতাপুষ্ট হলে তাঁরা উপেক্ষা, নিগ্রহের শিকার হন। মানব ইতিহাসে এমন উদাহরণও রয়েছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের ক্ষেত্রেও সেসব ঘটেছে। তাঁদের উপেক্ষা-অবজ্ঞার শুরু মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের এক সামরিক শাসকের আমলে। সেই শাসকের দলে হরেক রকমের রাজনীতিকের সমাবেশ ঘটলেও স্বাধীনতাবিরোধীপক্ষের উপস্থিতিই ছিল বেশি। ২১ বছর লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা এ প্রবণতার রাশ টেনে ধরেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। তাঁর রাজনীতি নিয়ে অনেকের ভিন্নমত থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করার বিষয়ে তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা বিরুদ্ধপক্ষ ছাড়া সবাই করে। এ উদ্যোগের অনুকূল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল ২১ বছরের পরিক্রমায়। পরেও কিছু বাধা এসেছে, তবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মানের অভিযাত্রাকে থামানো সম্ভব হয়নি। সরকারের বাইরেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানোর, সহযোগিতা করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। বিভিন্ন সংস্থা স্বাধীনতাসংগ্রামীদের সংবর্ধিত করার, সহযোগিতা করার আয়োজন করে যাচ্ছে।
সম্মাননা পেয়ে তাঁরা আনন্দিত, অভিভূত। উৎসবস্থল সাজানো হয়েছিল তাঁদের ছবি দিয়ে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যে ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধার সংগ্রাম ও বীরত্বের সম্মাননা জানানো হয়েছিল। তাঁরা হলেন পিরোজপুরের হাবিবুর রহমান শিকদার ও আবুল হাশেম হাওলাদার, ময়মনসিংহের আবুল হোসেন মোল্লা ও মো. চান মিয়া, গাজীপুরের মো. হাতেম আলী, নীলফামারীর আলতাফ হোসেন, কুড়িগ্রামের আব্দুল কাদের, খুলনার শেখ ইলিয়াস, দিনাজপুরের মো. জসিম উদ্দিন, শেরপুরের গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রামের মোস্তফা কামাল পাশা, মেহেরপুরের সিরাজ উদ্দীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতিলাল বণিক, সুনামগঞ্জের সুশান্ত রঞ্জন ও ফরিদপুরের হেমায়েতউদ্দিন তালুকদার। সংবর্ধনার সময় তাঁদের প্রত্যেককে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রত্যেকের হাতে ক্রেস্ট ও ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের অবজ্ঞা করার, হেয় করার, লাঞ্ছিত-বঞ্চিত করার সেই সব দিনের অবসান হয়েছে। তবু ওই অপপ্রবণতার, অপমানসিকতার ধারক-বাহক লোকের উপস্থিতি আমাদের সমাজে ও রাষ্ট্রে এখনো রয়ে গেছে। সময় অসূয়াগ্রস্ত এসব লোকের বিচার করবে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের আন্তরিক ভূমিকায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উজ্জ্বলতর হোক; সব মুক্তিযোদ্ধা প্রাপ্য মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হোন।