পুরাতন সংবাদ: January 12th, 2018

ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে আহত ২০

জকিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে স্কুল শিক্ষার্থী, মহিলাসহ ২০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। কালারুকা ইউনিয়নের রায়সন্তেুাষপুর ও উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে এঘটনা ঘটে। আহতদের ছাতক হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে বিস্তারিত

বাংলাদেশ যুব গেমস সারাদেশে যুব জাগরণের সৃষ্টি করেছে – আশিকুর রহমান

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যুব গেমস-২০১৮ সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে আন্তঃজেলা কাবাডি প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে তরুণ এবং বিস্তারিত

জকিগঞ্জে শিশুর লাশ উদ্ধার, পুলিশের ধারণা হত্যা

জকিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
জকিগঞ্জ পৌরশহরের গন্ধদত্ত এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশু সালমান আহমদ (১১) গন্ধদত্ত গ্রামের রফিক আহমদের ছেলে। পরিবারের লোকজন জানান, সালমান বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিলো। বৃহস্পতিবার বিকেলের বিস্তারিত

মাধ্যমিক শিক্ষাই স্বপ্ন বুননের উপযুক্ত সময় – অধ্যক্ষ মঈনুল ইসলাম

বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ বলেছেন, মাধ্যমিক শিক্ষা ছাত্রজীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মাধ্যমিক পর্যায়ের ভালো ফলাফল ছাত্রছাত্রীদের জীবন গঠন করে দেয়। উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার বিস্তারিত

তানিম খুনের ঘটনা ॥ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলসহ ৩৪ নেতাকর্মীকে আসামী করে হত্যা মামলা

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর টিলাগড়ে ছাত্রলীগ কর্মী তানিম খান খুনের ঘটনায় গত বুধবার রাতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তানিমে বন্ধু দেলোয়ার হোসেন রাহি বাদী হয়ে ৩৪ জনকে আসামী করে শাহপরান থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নং-৪। এছাড়াও আরো বিস্তারিত

নগরী থেকে রিভলবারের খালি ম্যাগজিনসহ যুবক আটক

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর শাহজালাল ব্রীজের কাছ শেখ আল মামুন রাজু (২৬) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাব-৯। এ সময় তার কাছে থাকা রিভলবারের একটি খালি ম্যাগজিন জব্দ করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার সময় শাহজালাল ব্রীজ সংলগ্ন গার্ডেন বিস্তারিত

ফেঞ্চুগঞ্জের কটালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় টেম্পু চালক নিহত

স্টাফ রিপোর্টার :
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার কটালপুরে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক টেম্পু চালক নিহত হয়েছে। নিহত রাহেল আহমেদ (২৭) কুলাউড়া উপজেলার লালপুরের এলাইছ মিয়ার পুত্র। খবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার এস আই অমৃত কুমার জানান, গতকাল বিস্তারিত

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আবারও সিটি কর্পোরেশনের অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আবারও অ্যাকশন চালিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, লালবাজার, বন্দরবাজার, মহাজনপট্টি ও কালিঘাট বিস্তারিত

শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় রাসূলুল্লাহ (স.) এর পদক্ষেপ

॥ মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান ॥

(পূর্ব প্রকাশের পর)
সমাজের সকলের মাঝে সাম্য প্রতিষ্ঠা ঃ রাসূলুল্লাহ (স.) এর আগমনের সময় মানবজাতি বিভিন্ন শ্রেণী ও সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিল। এদের কেউ কেউ নিজেদের দেবতার বংশধর মনে করত, আবার কেউ কেউ মনে করত তাদের শরীরে রাজ-রাজাদের রক্তধারা প্রবাহিত। এক কারণে তারা নিজেদেরকে অন্য থেকে শ্রেয় মনে করত। আবার কাউকে মনে করত আল্লাহর মস্তকে থেকে সৃষ্ট। সে জন্য অন্যরা তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করত। অন্যদিকে কাউকে ভাবত আল্লাহর পদযুগল থেকে সৃষ্ট। এক কারণে তাকে অস্পৃশ্য ও কুলাঙ্গার হিসেবে গণ্য করত। সমাজের প্রভু শ্রেণীদের জন্য তাদের দাস-দাসীদের শাস্তি দেওয়া বা হত্যা করাকে বৈধ মনে করা হত। এ রকম একটি সমাজকে রাসূলুল্লাহ (স.) এমনভাবে পরিবর্তন করেন, যেখানে কোন মানবিক ভেদাভেদ ছিল না। সেখানে তিনি কোন ভাষাগত, দেশগত, শ্রেণিগত, বর্ণগত ও মর্যাদাগত বৈষম্যের চিহ্ন রাখেননি। এ ব্যাপারে তাঁর ঘোষণা ছিল- ওহে মানুষেরা! নিশ্চয় তোমাদের রব এক। তোমাদের পিতা এক। সাবধান! তাক্বওয়া ছাড়া কোন আরবের প্রাধান্য নেই আজমের উপর এবং আজমের উপর এবং আজমেরও প্রাধান্য নেই আরবের উপর। আর কোন লালের প্রাধান্য নেই কালোর উপর এবং কোন কালোর প্রাধান্য নেই লালের উপর। নিশ্চয় আল্লাহর দরবারে তোমাদের মধ্যে সেই সার্বোত্তম যে অধিক মুত্তাকী। সাবধান! আমি কি (রিসালাতের দায়িত্ব) পৌঁছিয়েছি? তাঁরা বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বললেন, সুতরাং যে উপস্থিত যে যেন অনুপস্থিতের কাছে পৌঁছে দেয়। রাসূলুল্লাহ (স.) শক্র-মিত্র, সমর্থক বা বিরোধী, মুসলিম বা অমুসলিম সবার সাথে ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করতেন। নিজের নিকট আত্মীয় হলেও কোন রকম পক্ষপাতমূলক বিচার করতেন না। একবার মাখযুম গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের জনৈকা মহিলা চুরি করল। উসামাহ (রা.) তার উপর আল্লাহর বিধান কার্যকর না করার সুপারিশ করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি মওকুফের সুপারিশ করছো? এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং লোকদের উদ্দেশ্য, “হে মানুষেরা তোমাদের পূর্ববর্তীরা এজন্য ধ্বংস হয়ে গেছে যে, যখন তাদের মধ্যে মর্যাদাশীল কেউ চুরি করত তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন দুর্বল কেউ চুরি করত তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর শপথ! যদি মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমাও চুরি করত আমি অবশ্যই আর হাত কেটে দিতাম। বানু নাযীর যখন বানু কুরাইয়ার কাউকে হত্যা করত তখন অর্ধেক রক্তমূল্য প্রদান করত, আর যখন বানু কুরাইযা যখন বানু নাযীরের কাউকে হত্যা করত তখন তাদেরকে পূর্ণ রক্তমূল্য পরিশোধ করতে হত। কিন্তু যখন আল-কুরআনের এই আয়াত নাযিল হলো- আর তারা যদি কখনো (কোন বিচার নিয়ে) তোমরা কাছে আসে তাহলে তুমি (চাইলে) তাদের বিচার করতে পারো কিংবা তাদের উপেক্ষা করো। যদি তুমি তাদের উপেক্ষা করো, তা হলে (নিশ্চিত থাকো), তারা তোমরা কোনই অনিষ্ট করতে পারবে না। তবে যদি তুমি তাদের বিচার-ফায়সালা করতে চাও, তাহলে অবশ্যই ইনসাফ সহকারে বিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স.) তাদের মধ্যে সমান রক্তপণ ধার্য করেন। পৃথিবীর কোন বিচারক রাসূলুল্লাহ (স.) -এর মত ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেনি। সত্য ও ন্যায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন একমাত্র তিনিই তাঁর প্রতিষ্ঠিত সমাজে করে দেখিয়েছেন।
সম্পদের সুষম বন্টনব্যবস্থা প্রবর্তন ঃ রাসূলুল্লাহ (স.) এর সামাজিক ন্যায়বিচারের অন্যতম দিক ছিল ধন-সম্পদের সুষম বন্টনব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে তিনি বৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদে পূর্ণ ব্যক্তিগত মালিকনার স্বীকৃতি দেন। সাথে সাথে মুসলিম সম্পদশালীদের যাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক করেন এবং তা অনাদায়ে শাস্তির নির্দেশ দেন। এছাড়া অমুসলিমদের ওপর জিয়ইয়া ধার্য করেন। এর পাশাপাশি ধন-সম্পদ যাতে কারো হাতে কুক্ষিগত হয়ে না থাকে সে জন্য তিনি মানুষদের ধন-সম্পদ দান করতে উৎসাহ দেন। সমাজের কল্যাণের স্বার্থে এবং সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য অকাতরে দান করতে অনুপ্রেরণা দান করেন। তিনি নিজেও কোন সম্পদ নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতেন না। এ ব্যাপারে আবু যার আল-গিফারী (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ (স.) এর সাথে মদীনার কঙ্করময় প্রান্তরে হেঁটে চলছিলাম। ইতোমধ্যে উহুদ আমাদের সামনে পড়ল। তখন তিনি বললেন, হে আবু যার! আমি বললাম, লাব্বাইক, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেন, আমার নিকট এ উহুদ পরিমাণ সোনা হোক আর তা ঋণ পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে রেখে দেওয়া ব্যতীত একটি দীনার ও তা থেকে আমার কাছে জমা থাকুক আর এ অবস্থায় তিন দিন অতিবাহিত হোক, তা আমাকে আনন্দিত করবে না। তবে যদি তা আমি আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এভাবে তাকে ডানদিকে, বামদিকে ও পেছনের দিকে বিতরণ করে দেই তা স্বতন্ত্র। এরপর তিনি চললেন। কিছুক্ষণ পর আবার বললেন, জেনে রেখো, প্রাচর্যের অধিকারীই কিয়ামতের দিন স্বল্পাধিকারী হবে। অবশ্যই যারা এভাবে, এভাবে, এভাবে ডানে ও পেছনে ব্যয় করবে, তারা এর ব্যতিক্রম। তবে এ জাতীয় লোক অতি অল্পই। এমনকি বেশি মুনাফা করার আশায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দ্রব্য সামগ্রী আটকে রাখাকে তিনি অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য আটকিয়ে রাখল সে পাপী ও অপরাধী।
জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা ঃ রাসূলুল্লাহ (স.) তার প্রতিষ্ঠিত সমাজে সকলের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। অপরের ধন সম্পদ জবর দখল, আত্মসাৎ ও লুন্ঠন করাকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেন। এটাকে অবৈধ বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, যে অন্যায়ভাবে অপরের জমির এক বিঘত পরিমাণ অংশও জবর দখল করবে, তার গলায় সপ্ত যমীনের হার ঝুলিয়ে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, যে কোন মুসলমানের অধিকার কেড়ে নিবে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে দিবেন এবং জান্নাত হারাম করে দিবেন। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, প্রত্যেকে মুসলিমের জন্য অপর মুসলমানের রক্ত, ধন-সম্পদ ও মান-সম্মানের উপর অন্যায় হস্তক্ষেপ হারাম। এ কারণে অন্যের অধিকার আদায়ের বেলায় কোন রকম শৈথিল্য প্রদর্শন করতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রত্যেকে অপরের অধিকারের ব্যাপারে পূর্ণ সচেতন থাকবে। উচু-নীচু, ধনী-গরীব, শ্রমিক-মজুরসহ সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের নিজ নিজ হকের ব্যাপারে যদি প্রত্যেক নজর রাখে তাহলে এক শান্তিময়, সৌহার্দ্যপূর্ণ সামাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আল্লাহর রাসূল (স.) বলেন আল্লাহ বলেছেন : কিয়ামতের দিনে আমি নিজ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হব। যে ব্যক্তি আমার নামে ওয়াদা ও চুক্তি করে তা ভঙ্গ করেছে, যে ব্যক্তি স্বাধীন মানুষ বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করেছে এবং যে ব্যক্তি কাউকে মজুর নিয়োগ করে সম্পূর্ণ কাজ আদায় করে নিয়েছে, কিন্তু তাকে মজুরী প্রদান করেনি। রাসূলুল্লাহ (স.) তাঁর সমাজে সকলের পূর্ণ মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করেন। তিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, সাদা-কালো নির্বিশেষে প্রত্যেককে তার মর্যাদা অনুযায়ী মূল্যায়ন করতেন। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করে কোন কথা বলতেন না এবং কেউ সেটা করলে তা অপছন্দ করতেন। এমনকি তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন, আমাকে তোমরা সে রকম উচ্চ প্রশংসা করো না, যেমনটি খ্রিস্টানরা ঈসা ইব্ন র্মাইয়ামকে করেছিল। আমি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। “যুদ্ধবন্দী শক্রদেরকেও তিনি ন্যায়সঙ্গত মানবিক মর্যাদাদানের নির্দেশ দেন। অন্যায়ভাবে তাদের হত্যা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি যিম্মীদের কাউকে হত্যা করল সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ চল্লিশ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকে জান্নাতের সুঘ্রাণও অবশ্যই পাওয়া যাবে। এছাড়া আল্লাহর রাসূল (স.) স্বয়ং সব সময় ভয়ে থাকতেন যে, কাউকে জুলুম করে বসেন কিনা। একবার এক মুনাফিক রাসূলুল্লাহ (স.) ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি জবাবে বলেন, ‘আমি যদি আল্লাহর অবাধ্য হই তবে কে তাঁর আনুগত্য করবে? (অসমাপ্ত)

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত

সরকারের শেষ বছরে এসে বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শেষে অনুষ্ঠিত হতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার আগেই মোটামুটিভাবে সম্পন্ন হতে পারে সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিতব্য পদ্মা সেতুর কাজ। অবশ্য রেলসেবা চালু হতে কিছুটা দেরি হতে পারে। বিশ্বব্যাংক মাঝখানে দুটি বছর নষ্ট না করলে এই সেতুর কাজ আরো আগেই শেষ হতে পারত। পটুয়াখালীর পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। সেখানে দেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ হাব নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। পায়রায় মোট ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে চীনা অর্থায়নে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ ৩১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এর প্রথম ইউনিটটি ২০১৯ সালের এপ্রিলে উৎপাদনে আসতে পারে। রাজধানীর উত্তরা থেকে পল্লবী হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো রেলের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। জাপানি অর্থায়নে নির্মিতব্য মেট্রো রেলের উত্তরা-আগারগাঁও অংশ ২০১৯ সালেই চালু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানি অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ হাব তৈরি হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে। আগামী ২৫ জানুয়ারি এটির মূল নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এখানে একটি গভীর সমুদ্রবন্দরও নির্মিত হবে। গত ৩০ নভেম্বর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পারমাণবিক চুল্লির নির্মাণকাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে রাশিয়া ঋণ দিচ্ছে ৯০ হাজার কোটি টাকা। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহসহ বেশ কয়েকটি মহাসড়ক চার লেন করার কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেন করার কাজ ৫১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক চার লেন করার কাজও এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভার চালু হয়েছে। বিমানবন্দর সড়ক থেকে আশুলিয়া ইপিজেড পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলেছে।

১০টি মেগা প্রকল্পসহ হাতে নেওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের পশ্চাৎপদতা অনেকটাই ঘুচে যাবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আসবে। আর তার ফল হবে সুদূরপ্রসারী। শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে। বাড়বে কর্মসংস্থান। একসময় দেশে দেশে রোড শো করেও বাংলাদেশ বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ বা এফডিআই টানতে পারেনি। গত কয়েক বছরে এফডিআই বেড়েছে কয়েক গুণ। অদূর ভবিষ্যতে তার রীতিমতো উল্লম্ফন ঘটবে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর ও পায়রা বিদ্যুৎ হাবকে কেন্দ্র করে গোটা দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হবে। অবহেলিত দক্ষিণবঙ্গ উন্নয়নের নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে। একই সঙ্গে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টির চলমান প্রক্রিয়া সারা দেশের উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে।
বাংলাদেশ এরই মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যে গতি এসেছে, তা অব্যাহত থাকলে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়া কোনো অবাস্তব স্বপ্ন নয়। আমরা চাই, উন্নয়নের এই গতি অব্যাহত থাকুক।