পুরাতন সংবাদ: January 6th, 2018

সাধ্য থাকলে নির্বাচন ঠেকাতে আসুক বিএনপি – ওবায়দুল কাদের

কাজিরবাজার ডেস্ক :
বিএনপি আসুক বা না আসুক, আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘বিএনপির যদি সাধ্য থাকে, বিস্তারিত

হবিগঞ্জে নারীসহ দুজনের লাশ উদ্ধার

হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জে এক নারীসহ দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সকালে জেলার শায়েস্তাগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদী থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বিস্তারিত

কদমতলীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলায় আহত ৩

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সুরমার কদমতলীতে দুর্বৃত্তরা একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ৩ জনকে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি লুটে নিয়েছে নগদ ২ লক্ষ টাকাসহ অন্যান্য মালামাল। এ ছাড়া সন্ত্রাসীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করার বিস্তারিত

ইচ্ছেরা বেঁচে থাকে

শম্পা ঘোষ

আমি সেই ক্লান্ত নারী
সময়ে কেউ দেয়নি সাড়া
আমার এই শুকনো আবেগ
কিভাবে পড়লো ধরা।

ভগ্ন হৃদয় ব্যকুল
খসে পড়ে কান্না হয়ে
ফেলে আসা ব্যর্থ জীবন
মনকে দেয় যে ধুয়ে।

শ্বাস ফেলা দীর্ঘশ্বাসে
ডুবে যাওয়া অন্ধকারে
অনুতাপের কালো ছায়া
ধীরে ধীরে যায় যে সরে।

বয়ে চলে ইচ্ছেনদী
মনেরই গভীর তলে
ছোটো ছোটো স্বপ্নের ঢেউ
উথলে পড়লো জলে।

এলে তুমি বহুপরে
জীবনের কাছাকাছি
হাতটি বাড়িয়ে দিলে
চলবে পাশাপাশি।

ঠিক যেমন ধ্র“বতারা
প্রতীক্ষিত ক্ষুদ্র আশা
জ্বলজ্বল জ্বলতে থাকে
জেগে ওঠে ভালবাসা।
সুর তোলে ইমন রাগে
কন্ঠের নানান খাঁজে
ফাগুনের পরশ লাগে
শরীরের ভাঁজে ভাঁজে।

বিছানো সুখের চাদর
আদরে দাও জড়িয়ে
অভিমানের কুয়াশার ভার
অনুরাগে যায় হারিয়ে।

মৌন আঁধার রাতে
জোনাকির আলোর মেলা
শান্ত নদীর বুকে
ভেসে চলে প্রেমের ভেলা।

না পাওয়ার আশা যত
স্বপ্নে ডানা মেলে
স্বাদ জাগা ইচ্ছেগুলো
রয়ে গেলো মনের তলে।

মনের উপর যাদুর খেলা
কল্পনায় আসবে যাবে
জীবনের যত আশা
ইচ্ছের ভিতর লুকিয়ে রবে।

 

খুঁজি তোমাকে

কাজী জুবেরী মোস্তাক

তোমার ভাঁজ খুলে বারবার পড়তে চেয়েছি
অথচ এই আমি কিন্তু বারবারই ব্যর্থ হয়েছি ,
তোমাকে কখনোই আমার পড়া হয়ে উঠেনি ৷

প্রতি ওয়াক্তেই তোমাকে অন্তরে ধারন করি
দাড়ি, কমা, সেমিকোলনহীন ভাবে লালন করি ,
কখনো আবার তোমাকে দুর্ভেদ্যও করে তুলি ৷

আজকে আমি তীর্থে তীর্থে বেড়াই ঘুরে ঘুরে
তোমার ভালোবাসা আর সান্নিধ্যের খোঁজে ,
জানিনা কবে সান্নিধ্য পাবো,পাবো তোমাকে ৷

বহু ভালোবাসার মাঝেও ভালোবাসাই খুঁজি
যে ভালোবাসাই হবে আমার ওপারের পুঁজি ,
তাইতো প্রতি ওয়াক্তে নিজেকে সমর্পণ করি ৷

তোমাকে পড়তেও চাই, চাই লালনও করতে
সেজদায় নতজানু হয়ে আমি খুঁজি তোমাকে ,
তোমার ভালোবাসায় আজ সঁপেছি নিজেকে ৷

 

তুমি ছিলে ভিন্ন

টি এইচ বিল্লাল

আমি মুসলমান তুমি ছিলে ভিন্ন
ধর্মের কারণে মোদের জীবনে
হয়েছে প্রেমের ছিন্ন
তুমি হীনা এ আমি, আমি হীনা সে তুমি
রয়েছে জীবন দু-টি শূন্য
আমি মুসলমান তুমি ছিলে ভিন্ন।

এক আকাশে চঁন্দ্র, সূর্য, তারার বসতি
আমি তুমি বাঁধলে ঘর কি হত ক্ষতি
ধর্মের দিয়ে দোহাই, মন কে আজো বুঝাই
যা করেছে ভাল বিধি, আমাদের জন্য
আমি মুসলমান, সে ছিল ভিন্ন
ধর্মের কারণে আমাদের জীবনে
হয়নি ভালবাসা পূর্ণ।

একি গ্রহে বাস করে মানুষ আর প্রাণী
আমরা দুজন এক হলে সমাজের মান হানি
আমাদের জীবনে, ধর্মের ব্যবধানে
ভেঙ্গে চুরে ভালবাসা হয়ে গেছে চূর্ণ
আগুন জ্বেলে বুকে, ধর্মের মান রেখে
নীরবে কাঁদি তাহারি জন্য
আমি মুসলমান, সে ছিল ভিন্ন।

 

দুঃখে আমায় জ্বালো

এইচ আর মুন্না

তোমার কাছে খুব বেশি কি
চাইছি আমি কভু?
নয় যদি তা আমায় কেন
রাখছো দূরে তবু?

তোমায় আমি চাইছি বলে
করছো তুমি রাগ,
চাইছি আমি করতে প্লাস
করছো তুমি ভাগ।

তোমায় ভেবে গভীর রাতে
ঘুম থেকে যেই উঠি,
ঠিক তখনি সুখের ছোঁয়ায়
মনটা বেরায় ছুটি।

ভোরের সুরুজ ফুটলে পূবে
কষ্ট জাগে মনে,
কেমনে রবো সারা দিনটা?
নেই যে তুমি সনে!

তুমি আমায় নাই বা বাসো
বাসবো আমি ভালো,
সুখটা তুমি নাই বা দিলে
দুঃখে আমায় জ্বালো।।

 

খুঁজি

নেছার আহমদ নেছার

বিশাল ভূ-মন্ডলে খুঁজি তোমার ঠিকানা
কোথায় আছ-কেমন আছ!
জানতে ইচ্ছে করে।

নভ:মন্ডলে উড়ে চলা বিরহী বিহঙ্গ
চলছে কোথায় জানি না;
হয়তো-বা ব্যাকুল হয়ে খুঁজে
চলছে প্রিয় সাথীকেÑ
তেমনি আমিও খুঁজি তারে।

তার স্মৃতিময় দিনগুলো গানে গানে
প্রাণের বন্ধনে উজাড় করা প্রীতি আর
স্বপ্ন ঘেরা নিবিড় ভালবাসায়;
কতনা স্মৃতি মনে পড়েÑ
কেবলি মনে পড়ে
খুব বেশী মনে পড়ে।

রাত্রীটা যখন গভীর হয়
নিঝুম নিস্তব্ধ হয়ে আসে চারিপাশ,
অন্তর দুমড়ে মুচড়ে দিতে ঝড় আসে
শূন্যতায় হাহাকার বয়ে যায়।

কত বছর চলে গেছে
তুমিও গেছ হারিয়ে;
জানি না কোথায় কেমন আছ,
আমার সত্ত্বায় জড়িয়ে থাকা তোমার
প্রেম অমলিন অম্লান-
তাই আজও ব্যাকুল মনে তোমায় খুঁজি।

 

শীতের পিঠা

রমজান আলী রনি

শীতের দিনে সবার ঘরে
শীতের পিঠার ছোঁয়া,
মায়ের হাতে দারুণ শৈলী
নতুন গুড়ের মোয়া।

শিশির ভেজা সতেজ ভোরে
চাদর মুড়ি দিয়ে,
দেশি গুড়ের গরম পিঠা
খাচ্ছি পাতে নিয়ে।

মা,বাবা,ভাই দাদি আর বোন
সঙ্গে আছে সবাই,
শীতের দিনে এমন মজা
কোথায় পাবো মশাই?

মায়ের হাতে শীতের পিঠা
লাগছে ভারী বেশ,
কোথায় পাবে এমন পিঠা
গুণের নেইকো শেষ।

এমপিওভুক্তির প্রতি গুরুত্ব দিন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরে এসে দেশের শিক্ষা খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশনের পর এখন অনশনে আছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ১০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ধর্মঘট ও অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি দেশের সব সরকারি কলেজ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তরে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। জাতীয়কৃত কলেজগুলোর শিক্ষকরাও ক্যাডারভুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানা গেছে। শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটিও দেশের সব উপজেলা সদর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ৯ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করবে।
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের দাবি নতুন নয়। ২০১০ সাল থেকে সরকার সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি বন্ধ রেখেছে। নন-এমপিও অনেক শিক্ষকই ১৫ থেকে ২০ বছর বিনা বেতনে চাকরি করছেন। ওদিকে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হলেও বাইরে থেকে যায় ইবতেদায়ি মাদরাসা। এসব মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের সর্বোচ্চ বেতন দুই হাজার ৫০০ টাকা। সহকারী শিক্ষকরা পান দুই হাজার ৩০০ টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে শিক্ষকদের বেতন-ভাতার এ বৈষম্য কেন। বর্তমান সরকারের আমলে অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হয়েছে। কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বাইরে থাকবে? এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত থাকা প্রয়োজন। সর্বসাধারণের মধ্যে শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হলে এ খাতকে সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া শিক্ষার প্রসার কখনো সম্ভব নয়। শিক্ষার মান বৃদ্ধির বিষয়টি যদি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা না হয়, তাহলে সংকট আরো বাড়বে। পাসের হার কিংবা জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাবৃদ্ধি দিয়ে মান নির্ধারণ করা যাবে না। মানসম্পন্ন শিক্ষক তৈরি করতে হবে। মেধাবীদের এই পেশায় আগ্রহী করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যে মেধাশূন্য হয়ে গড়ে উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কাজেই সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। শিক্ষকরা দাবি আদায়ে রাজপথে অনশন করছেন, এই দৃশ্য জাতির জন্য সম্মান বয়ে আনে না। নন-এমপিও শিক্ষকদের অনশনস্থলে শিক্ষামন্ত্রী গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি শিক্ষকদের আশ্বস্ত করতে পারেননি। শিক্ষকরা সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এমপিওভুক্তির বিষয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। কিন্তু তারও একটি নির্দিষ্ট সময় থাকা প্রয়োজন। শিক্ষকদের দাবি বিবেচনা করতে হবে।
আমরা আশা করি, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করবে। শিক্ষকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের মান উন্নত করার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকরাই মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে মূল ভূমিকা পালন করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।