পুরাতন সংবাদ: December 7th, 2017

প্রকৃত মুসলমান হওয়ার জন্য জীবনের সর্বস্তরে ইসলামকে গ্রহণ করতে হবে ————- পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমির মুফতী সৈয়দ মো. রেজাউল করীম পীর চরমোনাই বলেছেন তাকওয়া অর্জন খোদাভীতি এমন একটি বিষয় যা মানুষকে প্রকাশ্য গোপন এমনকি রাতের অন্ধকারে নির্জন অবস্থায় সকল প্রকার দুর্নীতি-পাপাচার হতে মুক্ত থেকে একজন বিস্তারিত

সিলেট মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের মাসিক সাধারণ সভা কাল

সিলেট মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের মাসিক সাধারণ সভা আগামীকাল ৯ ডিসেম্বর শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরানের ছড়ারপারস্থ বাসভবনে অনুষ্ঠিত হবে।
উক্ত সাধারণ সভায় মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের বিস্তারিত

বানিয়াচংয়ে স্কুলের লাইব্রেরিয়ানকে জরিমানা

হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে গ্রাম্য দাঙ্গায় অস্ত্রসহ অংশগ্রহণ এবং পুলিশকে অসহযোগিতা করার দায়ে সেলিম মিয়া তালুকদার নামে এক স্কুলের লাইব্রেরিয়ানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বানিয়াচংয়ের সহকারী বিস্তারিত

মাধবপুরে বিদেশি মদ জব্দ

হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ৭০ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বের) সকালে ধর্মঘর সীমান্ত ফাঁড়ির সুবেদার সেলিম উল্লাহ’র নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা উপজেলার দেবনগর এলাকা থেকে এ মদ জব্দ করেন। বিস্তারিত

শিক্ষার বিদ্যমান অবস্থা নাজুক

দেশে শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু মানসম্মত শিক্ষার প্রসার ঘটেছে বলা যাবে না। তাই দেখা যাচ্ছে, ভাল মানের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। সরকারী বিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত শিক্ষার যথাযথ উপকরণ ও ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষা সেভাবে হচ্ছে না। মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের স্কুলভিত্তিক সর্বশেষ স্ব-মূল্যায়ন প্রতিবেদনে মাধ্যমিক শিক্ষার যে হাল-হকিতের চিত্র ফুটে উঠেছে তা আশাব্যঞ্জক নয়। বরং হতাশাই বাড়ায় ‘দেশে’ খুব ভাল মানের মাধ্যমিক স্কুল এখনও দশ শতাংশের কম। শিক্ষা নিয়ে এত হাঁকডাক শোনা গেলেও ভাল স্কুলের সংখ্যা এখনও দুই অঙ্কের কোটাতেও পৌঁছতে পারেনি। এমন করুণ দশা স্পষ্ট করে আদতে শিক্ষার মান বাড়ানোর কাজটি পিছিয়ে আছে। এই যদি হয় মাধ্যমিক স্তরের অবস্থা, তাহলে শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার কী ফল বয়ে আনবে? জাতির ভবিষ্যৎ তৈরি হচ্ছে তবে দুর্বল ও নিম্ন মানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে। শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় মূলত কোন সুফল বয়ে আনছে না। প্রতিবেদনই বলছে, দুর্বল ও অকার্যকর বিদ্যালয়ে ঠিকমতো পাঠদান হয় না। শিক্ষার পরিবেশও ভাল নেই। ফলে পরীক্ষার ফলাফলও ভাল হবার কোন কারণ দাঁড়ায় না। পাহাড়ী, হাওড়, উপকূলীয় এলাকা ছাড়াও নদীমাতৃক এলাকা এবং সমতল এলাকায় প্রায় দশ শতাংশের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে। সারাদেশের মোট আঠারো হাজার চারশ’ পনেরোটি স্কুল মূল্যায়নের ফলাফলই প্রমাণ, দুর্বল বিদ্যালয়গুলো লেখাপড়াবিমুখ অবস্থানে রয়েছে। শিক্ষণ ও শেখানোর পরিবেশ, প্রতিষ্ঠান প্রধানের নেতৃত্ব, শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব, শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব, সুপেয় পানি এবং টয়লেটের ব্যবস্থা ও সহ-শিক্ষাক্রমিক কর্মসূচী এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে মূল্যায়ন জরিপ করা হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায়। সফল যোগ্যতা বিচারে নব্বই শতাংশের ওপর প্রাপ্ত নম্বরের স্কুলগুলোকে। ‘এ’ ক্যাটাগরি ৮০ থেকে ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশ নম্বর ‘বি’, ৭০ থেকে ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাপ্ত নম্বর ‘সি’, ৫০ থেকে ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ ‘ডি’ ক্যাটাগরি এবং ৪৯ দশমিক ৯ শতাংশ নম্বর পাওয়া স্কুলগুলো ‘ই’ ক্যাটাগরি হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরি হচ্ছে অতি উত্তম, ‘বি’ ভাল, ‘সি’ মধ্যম, ‘ডি’ দুর্বল ও ই ক্যাটাগরি হচ্ছে অকার্যকর। ভাল এবং খারাপ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ‘একাডেমিক এক্সচেঞ্জ ভিজিটের’ ব্যবস্থা করা না গেলে এই বিপর্যয় থেকে উদ্ধার পাওয়া অসম্ভব। মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, পরিদর্শন এবং মনিটরিং জোরদার না হবার কারণে মানে হেরফের ঘটছে বলা যায়। দেশে ভাল মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব থাকলেও সে অভাব পূরণ হচ্ছে কমই। মূল্যায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলো আত্মবিশ্লেষণ করলেও সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছে না। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা লাঘবের কাজটি শিক্ষা দফতরের হলেও তারা এতে মনোনিবেশে আগ্রহী নয়। বরং নতুন নতুন বিদ্যালয় স্থাপিত হচ্ছে দফতরের অতি আগ্রহে। কিন্তু এসবের মান ভাল করার ক্ষেত্রটি রয়ে যাচ্ছে অবহেলিত। এটা তো বাস্তব যে, একজন শিক্ষার্থীর জীবনের দিকনির্দেশক কম্পাসের ভূমিকা পালন করে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু সে প্রতিষ্ঠান যদি হয় দুর্বল, অকার্যকর, মধ্যম মানের তবে উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত ও দীক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার সব আয়োজনই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য। জাতীয় শিক্ষানীতি এই করুণ দশা থেকে উদ্ধার করতে পারছে না। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ভাল মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের সকল বিদ্যালয় গড়ে উঠুক এই কামনা সবারই। কর্তৃপক্ষের যদি টনক নড়ে তবে বিদ্যমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

 

ইসলামে মানব সম্পদ উন্নয়নের গুরুত্ব

॥ মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান ॥

(পূর্ব প্রকাশের পর)
কর্তব্য পালন : ইসলাম সাধারণভাবে সকল মানুষকে কর্তব্যপরায়ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সকলের জন্য অর্পিত কর্তব্য পালন আবশ্যিক করেছে এবং এ ক্ষেত্রে যে কোন অবহেলাকে আল্লাহ তাআলার নিকট জবাবদিহিতার বিষয় বলে সতর্ক করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব, ইমাম বা নেতা, যিনি জনগণের ওপর দায়িত্ববান-তিনি তার অধীনদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবেন। আর ব্যক্তি, যে তার পরিবারের সদস্যদের দায়িত্বশীল- সে তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী দায়িত্বশীল তার স্বামীর পরিবারের সদস্যদের ও সন্তান-সন্ততির। সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। আর দাস ব্যক্তি তার মনিবের সম্পদের দায়িত্বশীল এবং সে এই সম্পদের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কাজেই সতর্ক হও! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে (পরকালে আল্লাহর নিকট) জিজ্ঞাসিত হবে। ইসলাম একন্তভাবে মানুষকে এ শিক্ষা দিয়েছে, কেউ কারো বোঝা বহন করবে না।
আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন, যারা সরল-সঠিক পথে পরিচালিত হবে নিশ্চয় তারা তাদের নিজেদের কল্যাণের জন্যই সঠিক পথে পরিচালিত হবে। আর যারা ভ্রান্ত পথে পরিচালিত হবে তারা ভ্রান্ত পথে পরিচালিত হবে তাদের নিজেদের ধ্বংসের জন্যই। কেউ কারো কাজের দায় বহন করবে না। আর আমি রাসূল পাঠিয়ে সতর্ক করা ছাড়া কাউকে শাস্তি দেই না। ইসলামের এ নীতি একান্তভাবে দায়িত্ব সচেতন করে এবং দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করে। এ নীতি মানুষকে এমনভাবে ভাবতে শেখায় যে, কেউ অন্য কারো কবরে যাবে না। কেউ অন্য কারো কাজের জবাবদিহিতা করবে না। সাধারণভাবে কেউ অন্য কারো কাজের সুফল বা দায় ভোগ করবে না। বরং প্রত্যেককে নিজ নিজ কাজের সুফল বা কুফল ভোগ করতে হবে। এ শিক্ষার ফলে মানুষ নিজেকে দায়িত্বশীল, কর্তব্যপরায়ণ হিসেবে গড়ে তোলে। এটি তার ব্যক্তি সত্তার উন্নতি বিধান করে।
যোগ্যতা অর্জন ও দক্ষতা বৃদ্ধি : ইসলাম মানুষে মানুষে মানবিক কোন ব্যবধান বা বৈষম্য স্বীকার করেনি। মানবিক মর্যাদায় সাধারণভাবে সকলকে সমান মর্যাদা ও গুরুত্ব প্রদান করেছে। মানুষের উৎস ও বিস্তার সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা এ বিষয়টি নির্দেশ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন, যিনি সৃষ্টি করেছেন সে ব্যক্তি থেকে তার জোড়া, আর তাদের দুজন থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন অসংখ্য পুরুষ ও নারী। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অন্যের নিকট কিছু চাও। আর তোমরা আত্মীয়দের (হক আদায় ও সম্পর্ক অটুট রাখার) ব্যাপারে সতর্ক হও। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে মানবজাতি! সাবধান! নিশ্চয় তোমাদের রব একজন, তোমাদের পিতাও একজন। সতর্ক হও! কোন আরবের উপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোন অনারবের উপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কোন কালোর উপর সাদার কিংবা সাদার উপর কালোর তাকওয়া ব্যতীত কোন মর্যাদা নেই। সাধারণভাবে সকল মানুষকে এভাবে সমান ঘোষণার পর কুরআন ও হাদীসে মানুষের উপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্বের জন্য বিশেষ যোগ্যতা অর্জনের তাগিদ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সে ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে সবেচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।
পরকালীন সফলতা-ব্যর্থতার মাপকাঠি : নিঃসন্দেহে মানবসম্পদ উন্নয়নে ইসলামের সবচেয়ে বড় প্রেরণা এর পরকাল বিষয়ক মূল্যবোধ ও নীতিমালা। দুনিয়াতে একজন লোক যদি আর্থিক বা শারীরিক কিংবা সামাজিক দিক থেকে গ্রহণীয় হয় অথবা কেউ যদি সকল দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য হয় তাহলে দুনিয়ার বিচারে লোকটির জীবন সফল হয়েছে বা ব্যর্থ হয়েছে বলা যায়। কিন্তু আখিরাতে ব্যক্তির সফলতা নির্ভর করে একান্তভাবে ব্যক্তির সঠিক বিশ্বাস, সৎকর্ম, সৎচিন্তা ও সৎ জীবনযাপনের উপর। এর অর্থ হল ব্যক্তি যদি সমাজের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য বা সমাজে সম্মানিত হওয়ার জন্য এমন কোন কাজ করে ইসলামের দৃষ্টিতে যা সম্মানজনক নয় তাহলে আখিরাতে তার জন্য কিছুই থাকবে না। আবার বাহ্যত অসম্মানজনক বা নিপীড়নমূলক প্রমাণ হলেও আখিরাতে হয়তো কাজটি অত্যন্ত সম্মানের হতে পারে। এ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দুনিয়ায় লাভ-লোকসানের বিবেচনা ছাড়া একজন মানুষ আখিরাতে সফল হওয়ার জন্য ভেতরে-বাহিরে সৎ জীবন-যাপন করার চেষ্টা করে। কাউকে দেখানোর কারো মনোঃতুষ্টির আকাক্সক্ষা সে একেবারেই পোষণ করে না। সে দুনিয়াকে ততটুকুই গুরুত্ব প্রদান করে যতটুকু গুরুত্ব প্রদানের নির্দেশ আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেছেন : তোমরা কি আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অত্যন্ত কম। অন্যত্র তিনি বলেন, আখিরাত তো নিশ্চয় শ্রেষ্ঠতম পর্যায় এবং মর্যাদায় মহত্তম। দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার্থে আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে আখিরাতের আবাস অনুসন্ধান কর, তবে তোমার দুনিয়ার অংশ ভুলে যেয়ো না।
আখিরাতের বিশ্বাস মানুষকে কেবল সৎকাজ করতেই উদ্বুদ্ধ করে না; বরং কাজটি একান্তভাবে আল্লাহ তাআলার জন্য করতে উদ্বুদ্ধ করে। কারণ আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে সৎকাজ করা হলে তা পুরস্কারযোগ্য হয় না। তাও শাস্তিযোগ্য আমলে পরিণত হয়। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : কিয়ামাতের দিন মানুষের মধ্যে প্রথম যার বিচার হবে সে হবে একজন শহীদ। তাকে আল্লাহর দরবারে নিয়ে আসা হবে। আল্লাহ তাকে তাঁর নিআমতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সেও তা স্মরণ করবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি দুনিয়াতে এর বিনিময়ে কী কাজ করেছো? সে উত্তর দেবে- আমি তোমার পথে যুদ্ধ করেছি; এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছো। বরং তুমি এ জন্যে যুদ্ধ করেছো যেনো তোমাকে বীরপুরুষ বলা হয়। আর তা তোমাকে বলা হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে ফেরেশতাগণকে আদেশ করা হবে। তারা তাকে উপুড় করে টেনে টেনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।
দ্বিতীয়ত যার বিচার হবে সে হবে একজন আলিম। সে নিজে শিক্ষা লাভ করেছে, অপরকে তা শিখিয়েছে এবং কুরআন পড়েছে। তাকে আল্লাহর দরবারে নিয়ে আসা হবে। আল্লাহ তাকে তাঁর নিআমতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সেও তা স্মরণ করবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি দুনিয়াতে এর বিনিময় কী কাজ করেছো? সে উত্তর দেবে, দুনিয়াতে আমি শিক্ষা লাভ করেছি, অন্যকে শিখিয়েছি এবং তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করছি। আল্লাহ বলবেন- তুমি মিথ্যা বলছো। বরং তুমি এ জন্যে জ্ঞান অর্জন করেছিলে যেনো তোমাকে জ্ঞানী বলা হয়। কুরআন মাজীদ এ জন্যে তিলাওয়াত করেছি যেনো তোমাকে কারী বলা হয়। আর তোমাকে তা বলা হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে ফেরেশতাগণকে আদেশ করা হবে। তারা তাকে উপুড় করে টেনে টেনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।
তৃতীয়ত যার বিচার হবে সে হবে একজন সম্পদশালী ব্যক্তি। আল্লাহ তাকে সচ্ছল করেছেন এবং বিপুল সম্পদ দিয়েছেন। তাকে আল্লাহর দরবারে নিয়ে আসা হবে। আল্লাহ তাকে তাঁর নিআমতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সেও তা স্মরণ করবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি দুনিয়াতে এর বিনিময়ে কী কাজ করেছো? সে উত্তর দেবে, যে পথে খরচ করলে তুমি খুশি হও, সে জাতীয় সব পথেই তোমার সন্তুষ্টির জন্য আমি খরচ করেছি। আল্লাহ বলবেনÑ তুমি মিথ্যা বলছো। বরং তুমিতো এগুলো এ জন্যে করেছো যেনো তোমাকে দানবীর বলা হয়। আর তোমাকে তা বলা হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে ফেরেশতাকে আদেশ করা হবে। তারা তাকে উপুর করে টেনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত সংক্ষেপে কিন্তু স্পষ্টভাষায় ঘোষণা করেছেন, কাজেই ধ্বংস সেই সকল সালাত আদায়কারীর জন্য, যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন, যারা লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করে। বস্তুত আখিরাতে সফলতা লাভই মুমিনের মূল লক্ষ্য। এ কারণে ইসলামে বিশ্বাসী একজন লোক দুনিয়ার সকল কাজই আল্লাহর সন্তুষ্টি জন্য করেন। যে কারণে তার মধ্যে লোক দেখানোর বিষয়টি একেবারেই থাকে না। ফলে মানসিক দিক থেকে তিনি পরম উৎকর্ষ লাভ করতে সক্ষম হন। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ বা প্রেম তাকে কোনক্রমেই মন্দ কাজে নিয়োজিত করতে পারে না।
নৈতিক উন্নয়ন : নৈতিক উন্নয়ন ছাড়া যে কোন উন্নয়নই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য। তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি প্রেরিত হয়েছি সুমহান নৈতিক গুণাবলির পূর্ণতা সাধনের জন্য। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন কাজ অধিকাংশ লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি উত্তরে বলেছেন, কিয়ামাতের দিন যে জিনিসটি মুমিনের পাল্লায় সবচেয়ে ভারি হবে তা হল ‘তাকওয়া ও উত্তম চরিত্র। রাসূলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, কিয়ামতের দিন যে জিনিসটি মুমিনের পাল্লায় সবচেয়ে ভারি হবে তা হল উত্তম চরিত্র। নাওয়াস ইবনে সামআন আল-আনসারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. কে বির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তরে বলেছেন, ‘সুন্দর ব্যবহারই পুণ্য। তিনি সত্যিকার ও পূর্ণ মুমিন হিসেবে সে ব্যক্তিকেই অভিহিত করেছেন যার চরিত্র সুন্দর। তিনি বলেছেন, চরিত্রের বিচারে যে উত্তম মুমিনদের মধ্যে সেই পূর্ণ ঈমানের অধিকারী। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাথে ছিলাম। এমন সময় জনৈক আনসারী ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ (রা.) কে সালাম করলেন, তারপর জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ মুমিনদের মধ্যে সর্বোত্তম কে? তিনি জবাব দিলেন, তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলো সেই ব্যক্তি যার চরিত্র সর্বোত্তম। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা মুমিনের অসংখ্য নৈতিক গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন : নিশ্চয় মুমিনগণ সফল, যারা তাদের সালাতে ভীত ও বিনয়ী, যারা নিজেদেরকে অর্থহীন কাজ থেকে বিরত রাখে, যারা যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে কর্মতৎপর হয় এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গ হিফাযত করে। বস্তুত ইসলাম যে বিষয়গুলোকে চরিত্রের সুন্দর দিক এবং অবশ্য অর্জনীয় গুণ হিসেবে ঘোষণা করে সেগুলোকে আত্মার গুণ হিসেবে আত্মস্থ করা, নৈতিক বৈশিষ্ট্যের পরিণত করা এবং জীবনাদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা গেলে স্বভাবতই মানুষ সম্পদে পরিণত হবে। যে সম্পদ দুনিয়ায় ব্যক্তির নিজের এবং অপরাপর সকলের কল্যাণ ও মুক্তি নিশ্চিত করবে। প্রসঙ্গত নৈতিক উন্নয়নে ইসলামের কিছু নির্দেশনা উল্লেখ করা যায়। যেমন- (অসমাপ্ত)

wek¦bv‡_ †Rj †_‡K †ewi‡q evw` c‡¶i Dci nvgjv, AvnZ 2

বিশ্বনাথ থেকে সংবাদদাতা :
জেল থেকে বেরিয়ে বাদি পক্ষের উপর হামলা চালিয়ে দুই ভাইকে গুরুতর আহত করেছে হারিছ আলী (২৭) নামের এক আসামি। এরা হলেন, হাবড়া (রমজানপুর) গ্রামের গৌছ উল্লা (৬০) ও নুর উল্লা (৫৫)। ঘটনার পরপরই তাদের দু’জনকে মুমুর্ষু অবস্থায় বিস্তারিত

২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চলতি মাসেই নবনির্মিত নগর ভবনের উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনির্মিত নগর ভবনের উদ্বোধন হচ্ছে চলতি মাসেই। আগামী ২২ ডিসেম্বর ভবনটি উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মিত ভবনটিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বিস্তারিত

জগন্নাথপুরে ঘোষগাঁও ব্রীজের এপ্রোচ ধসে গাড়ি চলাচল বন্ধ, জন ভোগান্তি চরমে

জগন্নাথপুর থেকে সংবাদদাতা :
জগন্নাথপুরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ঘোষগাঁও ব্রীজের পূর্ব দিকের এপ্রোচ ধসে পড়েছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জন ভোগান্তি চরমে পৌছেছে।
সরজমিনে স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুরে ব্রীজের প্রায় বিস্তারিত

এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলার ঘটনায় বাহুবল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্য গ্রেফতার

হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জে এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলা, সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া নারী ইউপি সদস্যকে মারধোর, শ্লীলতাহানি ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার মামলায় বাহুবল উপজেলার নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া ও জেলা পরিষদ সদস্য আলাউর রহমান সাহেদকে বিস্তারিত