বিভাগ: সাহিত্য

সুখ

মিজানুর রহমান মিজান

সুখের লাগি কেঁদ না মন
একদিন সুখি হবে জন্মের মতন।
নবীর কথা ভেবে দেখ হৃদয়ে তোমার
কত দু:খ করলেন তিনি সইলেন অত্যাচার
বৃথা যায়নি জীবন।
মায়ার বাঁধন টুটে লাগাও গলে ফাঁসি
অচিন পুরে নির্জন ডাকে বাজবে বাঁিশ
সহে মাটি শোষণ।
হৃদয়ে উঠিল ঝড় কালো মেঘ দেখি
সোনার অঙ্গে পড়বে কালি ডাকবে না পাখি
ঝরে পানি হয় বর্ষণ।

গোলাপের বিনিময়ে-বিষ

মুহাম্মদ আবুল কালাম

একযুগ আগে আমি তোমাকে
গোলাপ দিয়ে বলেছিলাম
অপেক্ষায় থাকবো
তোমার কাছ থেকে কিছু পাওয়ার জন্য

সে যুগ পার হলো অনেক প্রতীক্ষার পর
অবশেষে দাঁড়িয়ে ছিলাম
তোমার হরিণের মতো চোখের
মায়াবী দৃষ্টির জন্য

কোমল হস্তের ছোঁয়া পেয়ে
জীবন ধন্য করার জন্য
প্রতীক্ষার অবসান কাটিয়ে আগামী দিনের
সুখের রাজ্যে বাস করার জন্য

তোমার গোলাপি ঠোঁটের হাসি দ্বারা
অন্তরকে ধন্য করার জন্য
কিন্তু এমন পুরস্কার আমার জন্য তুমি রাখবে
যা কল্পানাতেও ভাবিনি

কারণ দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার নগণ্যত্বকে ভুলে
স্বর্গের তৈরি হীরা দ্বারা মোছা হয়
ধৈর্যের পুরস্কার প্রদানের জন্য
সে ধৈর্যের পুরস্কার আমাকে তুমি

এতো বিশাল ভাবে প্রদান করে
ইতিহাস তৈরি করবে
মনতো দূরে থাকুক স্বপ্নেও ভাবিনী
অবাক করে দিয়েছ আমাকে তোমার পুরস্কার দ্বারা

ধন্য করেছো তোমার স্বহস্তে দান দিয়ে
ভেবে ছিলাম আমার এতো প্রতীক্ষা হয়তো তোমাকে
বিরক্ত করে তুলবে
ভেবে ছিলাম আমার একযুগ আগে দেওয়া
তাজা গোলাপের সাথে এখন তুমিও সূক্ষ্ম হয়ে গেছ
অথচ সব কিছু ভুল করে সব যেন রচনার
কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রত্যেকটি মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল

এক একটি বিদায় নেওয়া দিনগুলোতে
হতাসার বিপরীতে লাবণ্যময়ী তিলোত্তমাতে
পরিণিত পরিপূর্ণ রূপ ধারণ করেছে
অপূর্ব অবিশ্বাস্য তোমার অঙ্গ

চোখ ঠোঁট হাসি
আর এক যুগ পর ডাক আমার শুনা মাত্র
তোমার উপস্থিতি
আমার অপেক্ষার ক্লান্তকে

শান্তিতে পরিণত করেছ
স্বপ্নকে দূরে ঠেলে বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছ
এত কিছু দেখা বুঝার স্বাদ উপলব্ধি
তোমার কাছ থেকে এক যুগ পূর্বের

গোলাপের বিনিময়ের ফলটাই
আমাকে নায়কে পরিণত করেছে
অবিশ্বাস্য তোমার উপহার
অবিস্মরণীয় আমার চাওয়ার ফল

বিশ্বও শুনলে তোমর দেওয়াটাকে
শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে গ্রহণ করবে
কে জনতো তুমি আমর জন্যে এত বিশাল
পুরস্কার নিয়ে ১২টি বছর অপেক্ষা করবে

এ আমি গ্রহণ করলাম তোমার উপহার
আমার শেষ দাবি তুমি তোমার ঐ
তিলোত্তমা দেহের পাগলকরা
সেই মিষ্টি হাসিটা আবার দেও

যা দেখে ১২ বছর পূর্বে আমি তোমার জন্য
পাগল হয়ে ছিলাম
আর তোমার পুরস্কারের শর্ত অনুযায়ী আমি তা পালন করবো
কারণ যার জন্য আমার ১২টি বছর আপেক্ষা

তা পেয়েও যদি গ্রহণ না করি
তবে তো আমার একযুগের সাধনা
নিমেষেই জল হয়ে নদীতে গড়াবে
তাই এই আমি তোমার ইচ্ছেমতই

গ্রহণ করে প্রমাণ করলাম
এক যুগ সাধনা করে তোমার কাছ থকো পাওয়া
ভালোবাসার উপহার
গোলাপের বিনিময়ে বিষ।

বেকার বাংলা জুড়ে

সৌমেন কুমার

বেকাররা মানুষ নয়, অচ্যুত
বেকাররা আজব জীব,
বেকারদের নাড়ে ইদ্রিস, কুদ্দুস
বেকার মানে নির্জীব,

বাংলা জুড়ে বেকার ঘুরে
কর্মের নাই নিশ্চয়তা,
যদিও সার্কুলার আসে
চান সবে অভিজ্ঞতা,

দরখাস্ত করতে লাগে টাকা
পরীক্ষা হবে ঢাকা,
গরীব সন্তান কেমনে কি করবে
পকেট যাদের হে ফাঁকা,

পচন বাংলার মেরুদণ্ডে,
বেকারের বোঝা গলে,
রাষ্ট্রের নেইতো মাথাব্যথা
বেকারদের নিয়ে খেলে।

নদীর পারে

জালাল আহমেদ জয়

নদীর পারে একেলা ঘাটে
থাকি যে বসিয়া,
বিলের পারে মাছ ধরিতে
আসে কতো রাখালিয়া

আজ সুরমার জল; করে টলমল
সারা নদী গেছে যে ভরিয়া
কত মাঝি নৌকা চালায়
বাউলা গান গাহিয়া।

নদীর জলে চাহিয়া
এই মনেরে বুঝাই,
জ্যোৎস্না রাতে নদীর জলে
আলো যে খুঁজাই।

সময়ের সাথে যেনো
নদীর স্রোত চলা,
নদীর কাছে হয় যেনো
মনের কথা বলা।

কোথায় হারিয়ে গেল?

নেছার আহমদ নেছার

আকাশে ঘন মেঘের ছুটাছুটিতে
নদীর অশেষ স্রোতের টানে
আমার নিবিড় স্বপ্নগুলো ভেসে যাক,
নিষ্ঠুর পৃথিবীর শত কষ্টের কারণ-অকারণে
বিনষ্ট হয়ে যাক।
চাঁদ তারায় ঝলমলে গভীর রাতের নীলিমা,
অপরূপ মনে হয়,
দু’টি মনের মিলন মোহনায় সংগোপনে উজাড়
করে দিয়ে প্রগাঢ় তৃপ্তি অনুভবে
ঝিমিয়ে থাকা অবসাদ;
ক্লান্ত হৃদয়ের ব্যাকুল বন্ধন অক্ষয় হয়ে রইল
দু’টি মন জুড়ে।
একদিন মহাপ্রলয়ের ঝড় বয়ে গেল
কোথায় যে হারিয়ে গেল স্বপ্নের পৃথিবী!!
যার অনুভবে আমি অনুভব করেছিলাম
যার চোখে অনেক স্বপ্নের রং মেখে চোখ মেলে
দেখেছিলাম- ভালোবাসার এই সুন্দর পৃথিবী;
কোথায়? কোথায় হারিয়ে গেল??
নেছার আহমদ নেছার

আকাশে ঘন মেঘের ছুটাছুটিতে
নদীর অশেষ স্রোতের টানে
আমার নিবিড় স্বপ্নগুলো ভেসে যাক,
নিষ্ঠুর পৃথিবীর শত কষ্টের কারণ-অকারণে
বিনষ্ট হয়ে যাক।
চাঁদ তারায় ঝলমলে গভীর রাতের নীলিমা,
অপরূপ মনে হয়,
দু’টি মনের মিলন মোহনায় সংগোপনে উজাড়
করে দিয়ে প্রগাঢ় তৃপ্তি অনুভবে
ঝিমিয়ে থাকা অবসাদ;
ক্লান্ত হৃদয়ের ব্যাকুল বন্ধন অক্ষয় হয়ে রইল
দু’টি মন জুড়ে।
একদিন মহাপ্রলয়ের ঝড় বয়ে গেল
কোথায় যে হারিয়ে গেল স্বপ্নের পৃথিবী!!
যার অনুভবে আমি অনুভব করেছিলাম
যার চোখে অনেক স্বপ্নের রং মেখে চোখ মেলে
দেখেছিলাম- ভালোবাসার এই সুন্দর পৃথিবী;
কোথায়? কোথায় হারিয়ে গেল??

অন্তর্দাহ

সৌমেন কুমার

মুদ্রাশূন্য মানুষের তালু তলে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড
কেঁপে কেঁপে নীল নীল জ্বালায় হতশ্রী।
অবিলম্বে আনন্দের মেয়াদ ফুরায় শ্রমীর
অথচ হাসি উবে যায় না হিংস্র স্বেচ্ছাচারীর।
বাঁধ ভাঙ্গা বিকৃত বিলাসে উন্মত্ত
কঙ্কলসার নিরীহ অবনতর সাথে যুদ্ধরাজ
যুদ্ধংদেহী বুদ্ধিমিয়া যুদ্ধরত অদ্যাবধি।
বিজ্ঞাপন সুন্দরী রম্ভা উর্বশীর অগ্নি হাসিতে
পয়সা, দিঘিচোখের দৃষ্টিতে মদের নেশা,
মাতাল হয়ে যাচ্ছে সংস্কৃতিপ্রেমী।
কামের আধারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট
হয়ে অজানা কালো গহ্বরে হারায়,
প্রাণের ফুয়েল ফুরায়, চেতনায় অশ্লীলতার আবাদ হয়।
আবাদ হয় না শীলতার, পবিত্রতার।
নিখাদ সারল্য মাখা মুখ গুলো ক্রমে ক্রমে
নির্জীব হয়ে যাচ্ছে যেন ঐশ্বরিক অভিশাপে।
উদাসী মেঘের নীরব অবজ্ঞা নির্বাক শূন্যের ঘাড়েÑ
বিবেকের বুকে হুল মারে অতীতের পুণ্য স্মৃতি।
নিষ্পাপ বৃক্ষরা পাপের পাহারদার
ধূলি মেখে অন্তর্দাহ থেকে বাঁচতে চায়।

কপাল

মিজানুর রহমান মিজান

আমি যা চাই
তা না পাই
যা পাই তা চাই না।
ভালো কাজে সফলতা
বুঝাইলে বুঝে না কথা
অবুঝ হলে অন্য কথা
ধৈর্য ধরতে পারি না।
আমি বন্ধু হারা কলংকীনি
তনুমন পোড়া জীবনখানি
ভাঙ্গা চালে ধরে না পানি
এ কি হল যাতনা ?
আমি নাকি কপাল পোড়া
ভাঙ্গা বাসন লয় না জোড়া
না বুঝার ভান করে থোড়া
জেনে শুনে দিলাম নাতো বেদনা।
কেমনে কাটাই দিবসযামী
ভাবনা শুধু সে হয় দামী
তুমি সবার অন্তর্যামী
মনের ব্যথা আছে জানা।

তোমরা হিংস্রদের চোখে দাবানল

মুহাম্মদ আবুল কালাম

তোমরা রক্ত দিয়েছ দিয়ে যাও
তোমাদের রক্ত তাদের ক্ষিপ্ত করে তুলছে
হায়েনার দলের বায়নার নেই কোন শেষ
তারপরও বিজয়ের পতাকা তুলে ধরছেই তোমার দেশ।

তারা লোভে পড়ে অন্ধ হয়ে
ক্ষমতার মহাশক্তির অহংকারে
তোমাদের পিছনে লেগে আছে
সত্য পরাজয়ের স্বাদ পেতে।

সত্যকে পরাজিত করে কেউ বীর হয় না
মিথ্যার রাজত্ব অসীম কাল টিকেনা
তারা বিজয় চোরের মতো মাথা নত
কখনো বা নগ্নতা।

তফাৎ তফাৎ তার সাহায্যকারী
তবুও তার পরাজয়ের গ্লানি
কখনো বা সাধারণের জুতোর হাতছানি
আবার ক্লান্ত হয়ে দেয় পরাজয়েরও বাণী।

তোমাদের আত্মঃবিশ্বাস তাদের দীর্ঘশ্বাস-
পরাজিত করে ছিনিয়েছও ধরায় তোমাদের জাত
তোমরা ধৈরজের আর্দশ নম্রতার প্রতীক
তোমরা হিংস্রদের চোখে দাবানল।

তোমরা নীতির নির্ধারক
আদর্শের মহান নায়ক
জীব মারার অস্ত্র ধবংসের
তোমরা মহান কারিগর।

তাদের থাকুক যত বুলেট বোমা
থাকুক বা ট্যাংক নগ্ন সাজে বিমান ও কষাই চোরা
তোমাদের রক্তে গড়া ঐ পতাকা তুলে ধরতে দেখে
রক্ত ঝরিয়ে হাসলওে তারা বিবেকের কাছে থাকে বোবা।

তোমাদের ঈমান ও ঐক্যবদ্ধতা জন্ম দিয়েছে পরমাণুর শক্তির দেশ
তাদের শত আক্রমণ কিবা পশুর মত করে তোমাদের নির্যাতন
কোন কিছুর ফল না পেয়ে মনে মনে পরাজয় মেনে নিয়ে
ছিটিয়ে যায় ছিঁড়িয়ে নিজেদের মাথার কেশ।

তারা বার বার আসবে তোমার মাটিতে বসত গড়তে
কিবা লুটে নিবে সোনা- গয়না, মুখের আহার
হয়তো কেড়ে নিতে চাইবে তাদের কুৎসতি মনে আমোদ দিতে ঘরে থাকা
তোমার তিলোত্তমার মতো স্ত্রী বা কন্যা সন্তান।

তাদরে এই নৃশংসতা ও ব্যভিচার
দেখে বিশ্ব মানবতার হৃদয়ে
জমেছে দয়ার হাহাকার
অথচ মানবাধকিার বা মালালা করিেন তার প্রতবিাদ।

যদিও পশ্চিমার পাওয়া সম্মান
তোমাদের শিশুর জন্যে করছে কিছু দান
এখানে যা দেখা গেলো উদারতা
এক মহিষীনি মালালার।

আছে আরও বহুজন বুঝলো তারা বিভাজন
অথচ তোমাদরে বেলায় এসে আজ
হারিয়েছে ন্যায়ের পক্ষে নেওয়া কণ্ঠস্বর
কারণ জুলুমদের মত নেই, তোমাদরে লুটের ধন।

তবুও তোমাদের পক্ষে বিশ্ব মানবতা
সর্মথন দিয়েছে তোমাদের স্বাধীনতা
তোমরা করবে বিশ্ব জয় ধরার বিশ্বাস
বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে এগিয়ে যাও আফগানস্তিান।

আমার শিক্ষা জীবন

সুমনা আক্তার সাথী
(পূর্ব প্রকাশের পর)
সবাই আমাকে এবং স্যারকে দিয়ে সন্দেহ করছে আসলে আমি বলবো স্যার আমাকে ওদের তুলনায় একটু বেশি ভালোবাসেন বলে ওরা বাজে মন্তব্য করছে। আমার দৃষ্টিতে স্যার এমনটা নয়। তিনি বেশ ভালো। অন্য মেয়েদের সাথে তিনি কিরূপ আচরণ করেন তা আমি জানিনা। জানতে চাইও না। আমি আমারটা জানতে চাই। এবং জানতে গিয়ে দেখেছি তিনি খুব স্বাভাবিক একজন মানুষ। আমার সাথে তিনি শিক্ষক সুলভ আচরণ ছাড়া খারাপ আচরণ কোনো দিন করেননি। সবাই আসলে মিছামিছি তাদের সন্দেহ করতো। বছর শেষে একদিন স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। স্কুলের পাশের লাইব্রেরী থেকে একটি ফুলের তোড়া ওই লাইব্রেরীর মালিক ছামিয়ার হাতে দিয়ে বললো ছামিয়া তুমি এটা নিয়ে যে কোন একজন শিক্ষককে দাও। ছামিয়া মাঠের মাঝে কোন শিক্ষককে না পেয়ে ওই বিএসসি স্যারের হাতেই তুলে দিল। গোটা স্কুলের ছাত্রছাত্রী ছাড়াও অন্যান্য লোকজন ওই দৃশ্য দেখল। কেউ কিছু বললো না। পরিশেষে ছামিয়ার ক্লাসের কিছু খারাপ মেয়ে এসে বললো কিরে ছামিয়া স্যার তোকে কি দিলেন, তুই তো খুব দাম দিয়ে স্যারকে ফুল দিয়েছিস। বিনিময়ে কি পেলে। ছামিয়া রেগে আগুন হয়ে বললো বিনিময়ে স্যারের এক বিন্দু ভালোবাসা পেয়েছি। তারপর এই খবর তার গ্রামেও ছড়িয়ে পড়লো। এতো বড় মিথ্যে অপবাদ ছামিয়া কিভাবে সহ্য করবে। তবুও সে ধৈর্য ধারণ করলো এবং আল্লাহকে সাক্ষী রাখলো এবং ভাবলো পৃথিবীতে ভালো হতে গেলে বুঝি এতো বড় বড় অপবাদের বোঝা মাথায় তুলে নিতে হয়। তারপর তার এক বান্ধবি ছনিয়া সে ছামিয়াকে একটি ছেলেকে ভালোবাসার জন্য উঠে পড়ে লাগল। ছামিয়া ভাবলো মিথ্যে কথা বলে সবাই আমাকে ভুল বুঝে। তবে এবার আমি ভুল করব এবং অপরাধ করে বাজে কথা শুনব, বলেই একটি ছেলের প্রস্তাব পেয়ে তাকে ভালোবাসে। যার নাম ছাকিব। দেখতে বেশ সুন্দর। তাকে যখন ভালোবসালো তখন থেকেই তার জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। লেখাপড়ায় ছামিয়ার মনোযোগ নেই। একদম অমনোযোগী। পড়ালেখা করতে তার ভালো লাগে না। সব সময় শুধু ছাকিব কে নিয়ে ভাবতে তার ভালো লাগে। ছাকিব এর প্রেমে একদম যেন পাগল হয়ে গিয়েছিলো। প্রতিদিন দু’জনার দেখা হতো। কথা হতো। ছাকিব বলতো প্রিয়া আমি তোমাকে যতবার দেখি মন চায় আরো দেখতে। অনেক সময় ছামিয়া বলতো পাগলামিরও একটা সীমা আছে, তুমি তো সেই সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছ ছাকিব। ছাকিব বলতো পৃথিবীতে তুমি একমাত্র মেয়ে, যার জন্য আমি মরতেও পারি। ছাকিবের ভালোবাসায় ছামিয়া এতো অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো কখনো বুঝতেই পারেনি ছাকিব তার সুন্দর জীবনের ভয়ানক দুশমন। সে তার জীবনে প্রবেশ করার অর্থই তার সুন্দর জীবনটা ধ্বংস করা। প্রেমের নামে এক মরণপণ তৈরী করা। ছাকিবের প্রেম ছিলো শুধুই অভিনয়। শুধু অবহেলা। ছাকিবের মতো এমন নরপশুর জন্যে ছামিয়াকে সবার চোখে একটি নষ্টা মেয়ের পরিচয়ে পরিচিত হতে হলো। মা-বাবা ভাই বোন সবার চোখে অপরাধী হতে হলো। সব হারিয়ে বাড়ির মধ্যে কারাগারের মতো একটি ঘরে তার স্থান হলো। জীবন গড়ার প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে হলো। তবু তার মতো নরপশুর সাথে হেসে খেলে দিন কাটাতে পারলো না। অবশেষে সেও ছামিয়াকে বুঝতে পারলো না। বললো তুমি সব সময় সুখে থেকো আমার থেকে মুক্ত করে দিলাম।
যে ছামিয়া সব হারিয়েও বলে ছাকিবকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। সেই ছাকিব নাকি বলে, যদি পার আমায় ক্ষমা করে দিও। এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়। তবুও বেঁচে আছে ছামিয়া। জীবন হেরে যায় মৃত্যুর কাছে। সুখ হেরে যায় দুঃখের কাছে। মিথ্যে ভালোবাসা হেরে যায় বিশ্বাসের কাছে। আর ছামিয়ার সত্য ভালোবাসা হেরে গেল ছাকিবের ছলনার কাছে। সব হারিয়ে আজ সে এক দুঃখে ভরা জীবনের উৎসমুখে সমবেত হয়েছে। বিধাতা যেন ছামিয়াকে এই দুঃখভরা জীবন থেকে সরিয়ে সুখভরা জীবনের উৎসমুখে দাঁড় করেন এবং সুখভরা জীবন দিয়ে তাকে শান্তিপূর্ণ করেন। এটাই আমার কামনা।
ছামিয়ার স্কুল জীবনের শেষ দিন। অর্থাৎ অন্যরকম একটি দিনের কথা লিখতে বসেছি। যে দিনটির কথা ছামিয়া আগে কখনো ভাবেনি। একদিকে দীর্ঘ ৯ বছরের অভ্যস্ত জীবন। পরিচিত পরিবেশের মায়া ছিন্ন করার কষ্ট। অন্যদিকে স্কুলের দেয়াল ডিঙ্গিয়ে কারাগারের মতো বিশাল বাড়ির ভেতরে আটকে থাকার দুঃখ। মনের মধ্যে এক পৃথিবী কষ্ট তৈরী হয়েছে। এই স্কুলের প্রতিটি ইট-কাঠের সাথে ছামিয়ার কেমন যেন মায়াময় সম্পর্ক অনুভব করেছিলো সেদিন। শ্রদ্ধেয় শিক্ষক-শিক্ষিকা মন্ডলী অগণিত ছাত্রছাত্রী পরিবেশের সঙ্গে এক ধরনের আত্মিক সম্পর্ক রচিত হয়েছিলো ছামিয়ার। এগুলো ছেড়ে যেতে হৃদয় হাহাকার করেছিলো তার। শিক্ষকদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় এক সাগর দুঃখে তার দু’চোখ গড়িযে অশ্র“ পড়ছিলো। ছামিয়া লেখাপড়া করতে চেয়েছিলো। কিন্তু পারিবারিক বাধা প্রদানে সে তার এই আশাটুকু পূর্ণ করতে পারলো না। তার শিক্ষকদের দেয়া অমূল্য উপদেশ আর দোয়া নিয়ে সে বাসায় ফিরল। ২৫/০৩/১৪ এই তারিখ ছিলো ছামিয়ার বিদ্যালয়ের শেষ দিন। স্কুলের শেষ দিনে ছামিয়ার মনের অবস্থা কাউকে ঠিক বুঝতে পারবে না। ছামিয়ার ক্ষুদ্র জীবনে এই দিন আসলেই স্মরণীয় একটি দিন। স্মৃতির এ্যালবামে পাতাঝরা দিনের মতো এই দিনটি গচ্ছিত থাকবে চিরদিন। সবশেষে কিশোর কিশোরী ভাই ও বোনদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ থাকবে কেউ যেন ছামিয়া এবং ছাকিবের মতো না হয়। জীবনে চলার পথে শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে নিজেকে জীবন যুদ্ধে জয়ী করতে হবে। সর্বদা মনে রাখতে হবে হেরে যাওয়ার নাম জীবন নয়, লড়াই করে বেঁচে থাকার নামই জীবন। আর জীবন মানেই যুদ্ধ। সেদিন যদি ছামিয়া বন্ধুদের সাথে বাজি না ধরে ছাকিবকে ভালো না বাসতো তাহলে হয়তো তার জীবনে এতো বড় দুঃখ নামতো না। সে আজও জানে না তার নিয়তি তাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে। তবু সে আশা করে সুন্দর স্বচ্ছলভাবে বেঁচে থাকবে। শান্তিপূর্ণ জীবনের অংশীদার হতে। জীবন বাস্তবতাই এভাবেই কেটে গেল আমার স্বাদের শিক্ষা জীবন। (সমাপ্ত)

স্মৃতি আয়নায় দেখা

মিজানুর রহমান মিজান

শৈশব কাটে সকলের মুক্ত স্বাধীন
ডানা মেলে নীল আকাশে আনন্দ অন্তহীন।
নাই দায়িত্ব, কর্তব্যবোধ শুধু বয়ে চলা
নদী সমতুল লক্ষ্য সাগরে মেলা
দুই তীরে জোগায় উর্বরতা তাড়ায় পুষ্টিহীন।
শৈশবে লজ্জা থাকে একটু বেশি পরিমাণে
যৌবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে সে জানে
বার্ধক্যে মিতব্যয়ী দুরদর্শী ধারণা সমীচিন।
শেষ বেলা স্মৃতি আয়নায় দেখা
কৈশোর কাল মধুরতম নয় অদেখা
যৌবন কাল যন্ত্রণাদায়ক রোগি পথ্যহীন।