বিভাগ: সাহিত্য

যেখানেই শেষ সেখানেই শুরু

নেছার আহমদ নেছার

মহাশূন্যের সীমাহীন রহস্য
গ্রহ নক্ষত্র চন্দ্র-সূর্য্য তারকারাশি ভুবন মোহন অস্তিত্ব
ভাবতে ভাবতে আপন সত্ত্বার শত অনুভবে ঝড় বয়ে যায়,
সৃজনী শক্তির অভাবনীয় কৌশল
কি জানি স্রষ্টার অস্তিত্ব ভেবে ভেবে

কোন সে সীমাহীন পথে মন চলে যায়
সৌরজগতের অসীম অনুভব
বস্তু জগতের কলাকৌশল মেধা আর চর্চার
উত্তরণ, নতুন নতুন আবিষ্কার আর উদ্ভাবনা

প্রগতির পথে সুখ সমৃদ্ধি প্রতিযোগিতার
পথে পাগল পারা পৃথিবীর মানুষ,
এভাবে চলবে মানুষের জীবন জীবনের জন্যে।
তবুও চিরকাল জড়িয়ে থাকবে সুখ-দুঃখ,

পাওয়া না-পাওয়ার অনুভব
আকাশ আর মাটির ভাবনা।
সাগর মহাসাগর, হ্রদ, পর্বত, বন বনানী
মহাবিস্তীর্ণ অদেখা ভুবন, অজস্র জীব-জন্তুর

বৈচিত্র্য জীবন জীবনের জন্যে।
অজস্র অনুভব অনুভবের জন্যে
সীমাহীন রহস্য রহস্যের জন্যে
তবুও মানুষ শৃংখলিত স্রষ্টার ইংগিতে
তাই যেখানেই শেষ সেখানেই শুরু।

জীবন রণাঙ্গনে

সৌমেন কুমার

রুক্ষ্ম মন চাঁদের হাসি দেখেও ভাবে ভেংচি
জ্যোৎস্নাস্নানে অতৃপ্ততার নখর প্রখর
যাতনার প্রলেপ লেপে দেয় নিদ্রাহীন অক্লান্ত
শ্রমীর।মমতাময়ী নাইটঙ্গেল তেরেসার

করস্পর্শ আকুল প্রাণ শুষ্ক অসাড়তায়
নির্জীব হয়ে পড়ে প্রৌঢ় বিজ্ঞের নিথর অঙ্গের ন্যায়
স্বপ্নালোকপ্লাবিত অসীম শূন্য আকাশ
অলস অভিশপ্ত ডানপিটে ছেলের মত শত্র“

সাজতে পছন্দ করে কেবল আমার জন্য
অসীম সুন্দর বিকলাঙ্গ পৃথিবীর নীরবতা
আমার মর্মাহত হৃদয় পীড়ায়
দেঁতো হাসির চেয়ে তীক্ষèবাণ বর্ষণ করে

আর ঐ জোনাকীর ক্ষুরধার নিষ্ঠুর ছুরি হাসি
আমার পৌরুষের শেষ টুকরো নিয়ে টানা হেঁচড়া
করে জিতে যায় অবশেষে। আর আমি মুখপোড়া
হনুমানের ন্যায় অসহায় চোখে খুঁজি এক টুকরো
সজীব সবুজ জীবন রণাঙ্গনে।
রানশূন্য থেকে যায় জীবনের ক্রিজ।

 

ক্যাপশন ফটো :

shawon 1

মায়ের-বাংলাদেশ

জালাল আহমেদ জয়

জন্ম মোর সোনার বাংলায়
গর্ব মায়ের আদর-মায়ায়,
কৃষাণের পরশ ছোঁয়ায়
সবুজ-মাঠে স্বপ্ন দোলায়।

হাজার দেশের রানী সে যে
মায়ের-বাংলাদেশ,
হৃদয়ের কোণে, একই সুর বাজে
মাটির-বন্ধনে, দিন কেটে যায় বেশ।

শাপলা-শামুক বিলের পাড়ে
বরষার জলে ভাসে,
হৃদয়ের পাণে সুখ নাড়ে
জ্যোৎস্না রাতে চাঁদ হাসে।

ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যায় বক
ঐ নীল আকাশের তীরে,
সোনালী রোদে করে চকচক
নদীর কূল জুড়ে ;
স্বপ্ন-ছোঁয়া আকাশ যেন হৃদয়ের নীড়ে।

প্রাণে-ভূমির মায়া যেন
হৃদয়ে ফুরায় না,
দূর দেশে যাব কেন
এ মাটির সাথে যেন
সারাজীবনের লেনাদেনা।

কতদিন আমি কষ্ট পাবো

নেছার আহমদ নেছার

আজও ভাবি কেবলি একাগ্রতায় ভাবি
নিবিড় করে মনের দুয়ার খোলে-
বাহিরের পৃথিবীতে চোখ মেলে রাখি
অনুভবে ছুঁয়ে যায় সারাটি অন্তর;

কেন যে শত কষ্টের কারণ হয়ে যায় আমি জানিনা!
উদাস এ-মনে শত আনন্দ প্রেম ভালোবাসায়
চাওয়া-পাওয়ার এই পৃথিবীটাকে ঘিরে
আমার অশেষ ভাল লাগা বয়ে যায়।

প্রতিদিন সূর্য্য উঠে-রাত হয়-
আবার সূর্য্য উঠে-এভাবে গতিময়তার
চিরন্তন পথে  আমার জীবন বয়ে চলে
নীরব নিভৃতে কোন এক জীবন কাননে,

অদেখায় অলক্ষ্যে আমার জীবন স্রোতে বয়ে গেলাম
সীমাহীন পথে অথচ–
প্রতিদিন সূর্য্য উদয়ের ভুবন মোহন উজ্জ্বলতায়
জীবনের কোলাহলে কোন তরুণীর মায়াবী মুখ,

কোন সুবেলা কন্ঠের নিবিড় আবেগের গান
কোন নৈসর্গিক দৃশ্যের প্রাণ ছোঁয়া আবেদন,
কারো স্নেহের স্মৃতি, প্রেমের আবেদন
আমাকে উতলা করে;

একাকী নীরবতায় বুকের ভেতর হাহাকার করে-
সারাক্ষণ ব্যকুলতায় হৃদয়ে ঝড় বয়ে যায়-
বড় কষ্ট পাই
এভাবে কতদিন আমি কষ্ট পাবো!!

ভোরবেলা

মিজানুর রহমান মিজান

বিধি এ কোন বিচার, যাদুকর চায় প্রাণে মারিবার
তুমি রাখ বাঁচাইয়া আবার, এ কোন নিষ্ঠুর খেলা।
বিনা অপরাধে, রাখলে সাধে
তব কেন বিষাদে, ভাসালে ভেলা।
অপরাধে শাস্তি, নয়ত মুক্তি
কেন চুক্তি, সত্য প্রতিষ্ঠার বেলা।
পুতুল সম ঘুরাও, শুধু অভিনয় করাও
কি আনন্দ পাও, সূর্য উঠে ভোর বেলা।

বিজয়

সৌমেন কুমার

দিয়ে তো গেলো আত্মদান
ত্রিশ লক্ষতাজা প্রাণ,
তাই তো পেলাম স্বাধীনতা
যার সুশোভিত ঘ্রাণ।

মায়ের কোল যে হলো খালি
সম্ভ্রম গেলো বোনের,
তাই তো পেলাম স্বাধীনতা
দুঃখ ঘোচে মনের।

পাক বাহিনী দিয়ে হানা
চালায় ধ্বংসলীলা,
বাঙালির প্রাণ জাগ্রত হয়।
আক্রমণ গেরিলা।

শুরু করে গুলিবর্ষণ
সব মায়া বিসর্জন,
হানাদার বাহিনী তবেই
করে আত্মসর্ম্পণ।

দকনোবাড়ীর ভাবীগো

নাজমুল ইসলাম মকবুল

দকনোবাড়ীর ভাবীগো তোমরা বাড়ীত বিছার লাগছেনি
বিছার লাগলে ঘুষ খাইয়া ভাউরে করইন ফুটানি।।
অনর কথা হনো লাগাইন বাড়ী বাড়ী গিয়া
এনরে দিয়া তানরে লাগাইন উল্টা ছাল্লা দিয়া
আলগা থাকি মাইর লাগাইয়া খবর লইন তাইন লাগছেনি।।
গিরছরে কইন হজাগ থাকিছ চোররে তাঙ্গি দিয়া
নিজে আবার বিছার মানাইন বেঙ্গা লাগাইয়া
টেখা লইয়া বিছার করইয়া বউরে গিয়া কইন দেখছনি।।
আনামতি টেখা খাটাইন বিছার লম্বা করি
তারিখমতো ঘুষ লইয়া পকেট করইন ভারি
গদা গরম দেখলে ভাগইন গরিবরে কইন মাতছনি।।

মনুষ্যত্বের আলো

জালাল আহমেদ জয়

মনের দরজা খুলো
ঈমানের আলো জ্বালো,
ছুঁড়ে দাও অন্ধকার কালো
ধরো যে পথ ভালো।

” আল্লাহর” দয়ায় এ দুনিয়া
নদীর স্রোত দেখো যায় বাহিয়া,
চন্দ্র-সূর্য তারা সবই তাহার দান
জিকিরে ” আল্লাহু” যেন এই প্রাণ।

আজি মনুষ্যত্ব হারানোর পথে
অপরাধ-রাহাজানি যে একসাথে,
এসো মানুষ সত্যের পথে
একতার মালা গেঁথে।

“ধর্ম” অবহেলা করিবার না
সত্য ছেড়ে দিলে,মনুষত্ব বাঁচে না,
জাগ্রত হও হে নাবিক
” ঈমানের আলোয়”
ভরে দাও চারিদিক।

সন্তানের হাতে পিতামহ খুন
“ধর্ম” না মানিলে, ইহাই হয় গুণ,
মা-বাবার পায়ে সন্তানের জান্নাত
মনুষ্যত্ব জাগ্রতে জ্বালাও মনের রাত।

” অবক্ষয়ী-সমাজে”
মনের আলো জ্বেলে ;
অশান্তি দূরে ফেলে,
” ইসলামের আহবানে”
মানবতার মহিমা নাও তুলে।

বিজয় তিলক

নেছার আহমদ নেছার

এই বঙ্গ জননীর কন্ঠ চিরতরে ধ্বংস করে দিতে।
একদিন যে পশ্চিমা চক্রান্তের ভূত জোর করে
কাঁদে এসে বসতে চেয়েছিল;
সেদিনের সচেতন সন্তানেরা অগ্নি প্রতিবাদের
ঝড় তুলে জীবন দিয়ে ভাষার স্বাধীকার
আদায় করেছিল।
আত্ম উৎসর্গের অমলিন ইতিহাস গড়ে-
বঙ্গ জননীর কৃষ্টি সত্ত্বা সাজিয়েছিল
তারা অনেক স্বপ্নের প্রেরণায়;
এই বাংলা ভাষার উৎকর্ষতায়
আজ যদি কোন জ্ঞানী গুণী সাহিত্যিকের
সৃষ্টিকর্ম সারা দুনিয়ায় কাঁপন জাগায়
এমন দিনের প্রত্যাশা শুধু অন্তরে পুষি;
যাদের জীবনের মূল্যে এই বাংলা ভাষা
স্বর্গ-সুখ আসুক তাদের আত্মার।
এ ভাষার গর্ব অনাদী অনন্ত কালের প্রতিদিন
জীবন প্রবাহে ভাষা শহীদের আত্মার
কপোল তলে অনুভবে একে দিতে চায়
গৌরব ও সৌরভের বিজয় তিলক।