বিভাগ: সাহিত্য

উদ্ধার

মিজানুর রহমান মিজান

বিদায় হজ্বে যাইয়া, আরাফাতে দাঁড়াইয়া
বলেছেন রাসূল (সা:) আল্লাহর।
শুনহে মুসলমান, ঠিক রাখ ঈমান
থাকিও না ভুলে রাখ স্মরণ করে
ধোঁকা দিবে শয়তান বারে বার।

মুসলিমের প্রমাণ, রেখে গেলাম কোরআন
কর তার হেফাজত, বর্ষিবে আল্লাহর রহমত
হাশরে দেখা পাবে আমার।
অন্যায় অবিচার, কর তার প্রতিকার
হইও না নাদান, পাবে পরিত্রাণ
তুমি পাবে দীদার।

পড়ে মায়াজালে, ভুলে গেলে, যাবে রসাতলে
কর অন্বেষণ, দেয়া নিদর্শন
সংকটে পাবে উদ্ধার।

পাটা পুতাইল

নাজমুল ইসলাম মকবুল

পাটা এবং পুতাইল দ্বারা
মরিছ হতো ঘষা
গৃহিণীদের হাতের তখন
বেহাল হতো দশা

ধীরে ধীরে শিল পাটা সব
হচ্ছে উধাও ভাই
আগের মতো স্বাদ লাগেনা
তরকারী যা খাই।।

চাই না আর

মো: এমদাদ আলী

চাই না যা
করতে মনে।
সেগুলো এসে
পড়ে সামনে।

চাই ভুলে যেতে
সেই স্মৃতিগুলো।
অন্য কিছুর মাঝে
চাই হারিয়ে যেতে।

চাই নতুন কিছু নিয়ে থাকতে
নতুন কিছু নিয়ে ভাবতে।
বার বার পড়ে যায় মনে
সেই স্মৃতিগুলো।

আর মনে করিয়ে দেয়
আমার পাশের মানুষগুলোই।

সন্ধ্যা হলে

সৌমেন কুমার

ওরে নেরে কাজ গুছিয়ে
যেতে হবে সন্ধ্যা হলে,
সোনালী সকাল তো এখন
তাই তো চলিস গায়ের বলে।

দেখছিস ঘন অমানিশা
আসছে দিতে হানা সামনে,
আছিস বলে সুখ সাগরে
খেলিসনে খেলা আনমনে।

জীবনে তোর আসছে ভাটা
পাল্টে যাবে বেশ আর ভূষা,
যাসনে আর অপকর্মতে
হোসনে শান্তি সর্বনাশা।

পুণ্য কর না, কর না পুণ্য
তাতে শান্তি পরকালে,
ওরে নেরে কাজ গুছিয়ে
যেতে হবে সন্ধ্যা হলে।

ছোট গ্রাম

জালাল আহমেদ জয়

আঁকাবাঁকা মেটো পথে
সবুজ মায়ার সাথে,
আঁকা বাংলার হাটে
চিরচেনা গ্রামের ওই ঘাটে।

রাখালে দৌড়ায় গরু নিয়ে
কৃষাণী আসে আল বেয়ে,
ধানের খেতে সোনালি আবেশে
প্রাণ জুড়ায়
অধরা বিকাল শেষে।

মাঝি চালায়
গানের সুরে নৌকা
কাক ডেকে যায় কা কা ,
বর্ষার জলে সাঁতার কাটে
ওই গ্রামের খোকা খুকি
যাবে না আজকে হাটে
মূষল ধারাতে

গাছে গাছে ভরে গেছে পাড়া
বাংলার বুকে পড়ে গেলো সাড়া,
উঠান ভরা ধান
আর পুকুর ভরা মাছ,
এ যেনো বাংলা রূপের সাজ।

এলোমেলো জীবন

মো: লোকমান হাসান

সব কিছু এলোমেলো মনে হয়,
অগোছালো জীবন আমার।
আমার সাথে কেন এমন হয়?
জীবন যুদ্ধে  পরাজিত মনে হয়।

এই পরাজয় আমি মানি না
মানব না, মানতেও চাই না।
পরাজিত হবই না কেন?
আমি যা চাই তাই যেন

এলোমেলো হয়ে যায়।
সব কিছু ঘুছিয়ে শেষ প্রায়।
তখনি আবার সেই এলোমেলো-ই হয়ে যায়।।

হারিয়ে যাও

মো: এমদাদ আলী

পাখি হারিয়ে যায়
আকাশে।
ধূলি-কণা হারিয়ে যায়
বাতাসে।

মেঘ হারিয়ে যায়
পদদেশে।
আর, তুমি হারিয়ে যাও
এমন কিছুর মাঝে,

যেখানে খোঁজে পাবে
“বিশ্বাস” আর “ভালবাসা”।

বিহনে

জালাল আহমেদ জয়

শ্রাবণে আকাশে যেন বিরহের বাতাস,
তুমি দূরে গেলে চলে
নেই যেন জীবনের আশ্বাস;
নদীর জল সাগর পানে বয়ে যায়,

আমার প্রাণ যেন তোমায় ভেবে মরে হায়।
রৌদ্র মাখা জলে, নদীর ওই পাড়ে,
কে যেন ডাকে আমায় রাখতে তাহার কোলে;
বিরহ ব্যথায় যেন মরি,

প্রাণ সখি তুমি বিহনে
এই পথ নাহি খুঁজে ফিরি
অন্য কাহার পানে।
নিশিকালো আঁধার রাতে দেখেছি তোমার মায়াবি মুখ,

বৈশাখী ঝড়ে যেন ভাংগে আমার দুখ;
এক পলক দেখলেই তোমায় প্রাণে আসে তৃপ্তি,
তুমি ছাড়া এই ভুবনে
আমি যেন অতৃপ্ত

শ্রাবণে আকাশে যেন বিরহের বাতাস,
তুমি দূরে গেলে চলে
নেই যেন জীবনের আশ্বাস;
নদীর জল সাগর পানে বয়ে যায়,
আমার প্রাণ যেন তোমায় ভেবে মরে হায়।

খুঁজবো না তোমায়

নেছার আহমদ নেছার

আমি খুঁজবো না তোমায়
মহাসমুদ্রের সৈকতে দাঁড়িয়ে
প্রতীক্ষায় হবোনা ক্লান্ত-অবসন্ন দেহ
পড়ে থাকবে না বালুকা বেলায়,

অস্ফুট স্বরে ডাকবো না তোমার নাম।
যদি বলিÑ
আজ তুমি সাগর কন্যা, তোমাকেই নিবিড়
করে ভালোবেসে বিশালতায় মিশতে চেয়েছি,
এ-শুধু কল্পনা, আর আমার অজস্র অনুভব
ছুঁয়ে যায় আকাশ সাগরের সীমাহীনতা।

সাগরের বহু রূপ আছে, আছে ছোট বড়
বিশাল প্রাণীর রহস্যময় জগত,
সকলের মাঝে আমার অস্তিত্ব বিলীন করে দেব না।
তাই আর খুঁজবো না তোমায়-

আমার নিবিড় ভালোবাসা অসীমের
মাঝে থাক, যতটুকু অনুভবে রেখেছি ভরে
সেটুকুই থাক অম্লান হয়ে,

তোমার বিশালতায় হারাবো না আমি
আর খুঁজবো না তোমায়।

সন্ধ্যা হলে

সৌমেন কুমার

ওরে নেরে কাজ গুছিয়ে
যেতে হবে সন্ধ্যা হলে,
সোনালী সকাল তো এখন
তাই তো চলিস গায়ের বলে।

দেখছিস ঘন অমানিশা
আসছে দিতে হানা সামনে,
আছিস বলে সুখ সাগরে
খেলিস নে খেলা আনমনে।

জীবনে তোর আসছে ভাটা
পাল্টে যাবে বেশ আর ভূষা,
যাসনে আর অপকর্মতে
হোসনে শান্তি সর্বনাশা।

পুণ্য কর না, কর না পুণ্য
তাতে শান্তি পরকালে,
ওরে নেরে কাজ গুছিয়ে
যেতে হবে সন্ধ্যা হলে।