বিভাগ: সাহিত্য

শুচি মাধবী

সৌমেন দেবনাথ

মানুষ বড় বিচিত্র ভাই
চলো মানুষ চিনে,
ক্ষতি তোমায় করতে পারে
সন্ধ্যা, রাত বা দিনে।

মধুর আলাপ মিষ্টি হাসি
বুঝতে করো না ভুল,
অতল তলে যাবে পড়ে
মানুষের মনে ধূল ঝুল।

ফাঁক খোঁজে ফাঁপরে ফেলতে
সামনে সতী সাধ্বী,
আলতা দিদি পুলতা দিদি
সবাই শুচি মাধবী ।

মুহূর্তের মাঝে রং বদলায়
পর করবে কাল গেলে,
মানুষ চিনতে ভুল করলে ভাই
খাবোল খাবে গালে।

হৃদয়ের ঋণ

হেলাল হাফিজ

আমার জীবন ভালোবাসাহীন গেলে
কলঙ্ক হবে কলঙ্ক হবে তোর,
খুব সামান্য হৃদয়ের ঋণ পেলে
বেদনাকে নিয়ে সচ্ছলতার ঘর

বাঁধবো নিমেষে। শর্তবিহীন হাত
গচ্ছিত রেখে লাজুক দু’হাতে আমি
কাটাবো উজাড় যুগলবন্দী হাত
অযুত স্বপ্নে। শুনেছি জীবন দামী,

একবার আসে, তাকে ভালোবেসে যদি
অমার্জনীয় অপরাধ হয় হোক,
ইতিহাস দেবে অমরতা নিরবধি
আয় মেয়ে গড়ি চারু আনন্দলোক।

দেখবো দেখাবো পরস্পরকে খুলে
যতো সুখ আর দুঃখের সব দাগ,
আয় না পাষাণী একবার পথ ভুলে
পরীক্ষা হোক কার কতো অনুরাগ।

গাঁয়ের পাশে অজয় নদী

লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

গাঁয়ের পাশে অজয় নদী বইছে চিরকাল,
শাওন মাসে বান ডেকেছে উথাল পাথাল।
ঝমা ঝম বৃষ্টি পড়ে মাঝিরা নাইকো ঘাটে,
পথেঘাটে জল জমেছে জল জমেছে মাঠে।

আকাশ হতে বৃষ্টি নামে অঝোরধারায় ঝরে,
কালো করে মেঘ করেছে মেঘ গর্জন করে।
আকাশপারে বিজলি হাসে নদী ওঠে ফুলে,
মড়মড় করে গাছটি ভেঙে পড়ে নদীর কূলে।

শাওন মাসের বাদলা দিনে রাঙা মাটির পথে,
জল কাদায় পথ চলা দায় হাঁটছে কোন মতে।
বাঁশের ছাতা মাথায় নিয়ে চলছে কৃষক ঘরে,
রাখাল ছেলে ঘরে ফেরে, গাঁয়ের পথটি ধরে।

গাঁয়ের পাশে অজয় নদী কানায় কানায় বান,
শাওন মাসের বাদল ধারায় মেতে ওঠে প্রাণ।

 

অভিমান

অনিক শিকদার

চতুঃপার্শ্ব ধ্যানলব্ধ,
সমীরণে বিদ্রোহিণী গন্ধ,
খদ্যোতিকার পদে শিকলের টান,
ততোধিক তব অভিমান।।

মেঘ-মাঝে গতি শব্দ,
ভূতল ঢিবি তরে আবদ্ধ,
তারি ‘পরে অন্বিত মাধ্যাকর্ষণ,
ততোধিক তব অভিমান।।

ইচ্ছে

জাকির হোসাইন

আমার যদি ডানা থাকতো
কতোই না ভালো হতো-
এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতাম
পাখিদের মতো।

মাটি ছেড়ে দিতাম পাড়ি
আকাশের পানে
দেখতাম গিয়ে পৃথিবীটা
কোথায় গেছে থেমে।

সুরুজটাকে বলতাম গিয়ে
কে তুমি ভাই?
দিনের বেলায় এতো আলো
পাও তুমি কোথায়।

চাঁদের সাথে দেখা হলে
বলতাম আমি হেসে
পৃথিবীর মানুষ কেনো
তোমায়? এতো ভালোবাসে।

মেঘের সাথে বলতাম কথা
তুমি এমন কেনো!
যখন-তখন অযথা
ঝরে পড়ো কেনো।

আকাশটাকে বলতাম গিয়ে
কিসের এই মেঘের ভেলা?
চাঁদ-তারা তোমার বুকে
কেনো করে খেলা।

ভালোই কাটতো সকাল বিকাল
আমার সারাদিন
সকাল থেকে শুরু করে
এভাবে প্রতিদিন

 

ছোটদের ছড়া

মোঃ মুসা ইসলাম

আমি হব সবার প্রিয়
সবার আপনজন,
ফুটাব আমি মুখে হাসি
থাকবে না ক্রন্দন।

ভালো কাজ করে সদাই
হব সবার প্রিয়,
গরিব দুখির সঙ্গী হব
দেব তাদের শ্রেয়
সকল তরে কাজ করব
ভুলবে আমায় কেবা,

ভাল মানুষ হয়ে আমি
করবো দেশের সেবা।
স্বপ্ন দেশে দুলব আমি
আঁকব হরেক ছবি,
ভাবছি তখন ফুটাব আমি
জ্বলবে আলোর রবি।

বর্ষার রূপ

রেজাউল রেজা

কখনও আসে সেজে গুজে
কখনও আসে আচমকা!
কখনও আসে একলা একা
কখনও নিয়ে ঝড় দমকা!

মাঝে মাঝে দিন-দুপুরে
সূর্যটা দেয় ডুব,
বর্ষাকালে তাল বেতালে
বৃষ্টি আসে খুব।

ঝির ঝির কিংবা মুষল ধারায়
বৃষ্টি দেখায় নাচ,
নাচের তালে শহর-পাড়ায়
বন্ধ থাকে কাজ।

নদী-নালা পুকুর ডোবা
পানিতে যায় ভরে,
চারিদিকে কোলা ব্যাঙে
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর করে।

 

শরৎ এলে

কবির কাঞ্চন

নদীর চরে ফুটে যখন
সাদা কাশফুল
তখন বুঝি শরৎ এসে
করে ব্যাকুল।

ব্যাকুলতা বাড়ে আবার
বৃষ্টি হলে
ফুলপরীরা নৃত্যে মাতে
মিষ্টি জলে।

বৃষ্টি ফোটা ঘাসের বুকে
তুফান তুলে
প্রজাপতি পাখি উড়ে
ফুলে ফুলে।

ফুলের মধু আহরণে
অলি ছুটে
সৃষ্টি সুখের জোয়ার আসে
দুঃখ টুটে।

বাংলা সাজে রূপের রানী
শরৎ এলে
অপার সুখে ফড়িং নাচে
ডানা মেলে।

 

 

 

 

 

 

বন্ধু মানে

আবু আফজাল সালেহ

বন্ধু মানে উন্মাদনা
নেই তো বাছবিচার
বন্ধু মানেই হাসিখুশি
আড়াল হয়ে আচার।

কঁচিকাঁচা বুড়াবুড়ি
বন্ধুই চরম কথা
খেলার সাথী সহপাঠি
বন্ধু হয় যথা।

বন্ধু মানেই হারিয়ে যাওয়া
অন্যরকম ফ্লেভার
সুখেদুখে পাশাপাশি
সব করে কাভার।

 

ব্যাঙ বৃষ্টির খেলা

মাযহারুল ইসলাম অনিক

বৃষ্টি দিনে মন ছুটে যায়
অচিন কোন গাঁয়,
বাঙের সাথে করছি খেলা
তাধিন তাধিন পায়।

ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ডাকে তারা
করছে এসে ভিড়,
পোকা মাকড় খাবার আশে
হচ্ছে যে অস্থির।

পানির তোড়ে বাসা ভেঙে
পোকা মাকড ছোটে,
উভচরী ওই প্রাণীটি
অস্থির হয়ে ওঠে।

রেগে-মেগে তেড়ে গিয়ে
যেই না ধরে পোকা,
রৌদ্র এসে হঠাৎ করে
বনে গেলো বোকা।

রৌদ্র এলো মানুষ এলো
পোকা গেলো বেঁচে,
বৃষ্টি শেষে একলা আমি
যাচ্ছি তাধিন নেচে।

পোড়া কপাল সাথে নিয়ে
ব্যাঙের বাবা লাফাই,
বৃষ্টি শেষে একলা আমি
পুকুর পানে ঝাপাই।

এইভাবে যে ব্যাঙ বৃষ্টির
চললো বিশাল খেলা,
পোকার আশে ব্যাঙের ব্যাটা
কাটাই সারাবেলা।