বিভাগ: সাহিত্য

স্বপ্ন যায় হারিয়ে

আবু আফজাল সালেহ

একটি স্বপ্ন বেড়ে উঠেছিল।
ফানুস উড়িয়ে ডালপালা বেড়ে ডানামেলে উড়ছিল।
লক্ষ্যহীনভাবে, নিজের ওজন ভুলে।
তবুও তা স্বপ্ন তো!
স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিল রোকন
একটু একটু করে বৃদ্ধ পিতা-মাতার
সাথে ছোট্ট ভাই-বোনেরও।

একদিন দেখা গেল উৎসুক জনতার জটলা
লালশার্ট পরা রোকনের নিথর দেহ ভাসছে বুড়িগঙ্গায়!
সংসার গেল বুড়োবুড়ির,
ভাই-বোনের চোখ তাদের ঝাপসা আজ-
গতকালের অহংকার গেল ধুয়ে
স্বপ্ন গেল গুঁড়িয়ে- হারিয়ে গেল দূর অজানায়।

ঈদ এলো ভাই

রমজান আলী রনি

ঈদ এলো ভাই ঈদ এলো ভাই
খুশিরই ঈদ এলো
ঈদ এলো ভাই ঈদ এলো ভাই
ত্যাগেরই ঈদ এলো।

ত্যাগের নজির বুকে নিয়ে
মুসলমানের ঘরে
আসে খুশির ঈদের বাণী
দেখি পরাণ ভরে!

কিশোরেরা দীপ্ত প্রাণে
বাজায় খুশির বাঁশি
ছোট-বড়ো সবার মুখে
একই চাঁদের হাসি!

বছর ঘোরে দুইটি ঈদে
বাজে খুশির শানাই
হিন্দু-মুসলিম বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান
ঈদের দাওয়াত জানাই।

বড় প্রয়োজন ছিল

নেছার আহমদ নেছার

সাথী-
পথে হলো দেখা কতকাল পর
হয়তো কোনদিন ভাবনি কেমন আছি
কোথায় আছি-
মরে গেছ না বেঁচে আছি-
হয়তো জানতে পারনি;
জানিনা কত রাত কাটিয়েছি চোখের জলে
না-পাওয়ার নিদারুণ হাহাকারে।

কতদিন কত কাল পরে-
এভাবে তোমাকে পেয়ে
আমি বিমুঢ় কোন কথাই বলতে পারিনি,
বিরহ শোক অনল আমার হৃদয় সত্ত্বা
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নিঃশেষ করে দিয়েছে;
অথচ তোমার সেই নিবিড় ভালবাসায়
জড়ানো স্নেহ মমতার একটু
স্নিগ্ধ পরশ জীবনে বড় বেশী প্রয়োজন ছিল।

 

প্রবাস এসে করেছিলাম মস্ত ভুল

তা-রে-ক-লি-ম-ন

কতটা দিন হয়নি ঘুরা চারিপাশ
হয়নি দেখা দু’চোখ মেলে দূর আকাশ
বন্দি খাঁচার পাখির মতো জেলখানায়
জেলের ভেতর আজ আমাদের বেশ মানায়,

বয়স কুড়ি হবার আগেই, পরিবারের হাল ধরে
প্রবাস এসে নিত্যদিন-ই- কষ্টের সাথে যাচ্ছি লড়ে
জীবন যুদ্ধে লড়তে গিয়ে, মরছি ধুঁকে
স্বপ্ন তবু আপনজন-রা -থাকুক সুখে,

ময়লা কাপড়, ছেড়া জুতো, থেকে নোংরা বেশে
মাস শেষে জমিয়ে টাকা,পাঠাতে হয় দেশে
তার পরও খুশি থাকেনা,পরিবারের মন্টা
যাদের জন্য খেটে মরি, রাতদিন
চব্বিশ ঘন্টা,

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,ভেঙ্গে শক্ত পাথর
আগের মত হয়না চলা,দেহটা বেশ কাতর
পরিবারের কথা ভেবে,হয়নি করা বিয়ে
বুড়ো বলে মশকারা তাই,করে লোকে নিয়ে,

হারিয়ে যাওয়া দিন গুলোতে হবেনা আর ফেরা
মরণটা আজ চারিপাশে করছে শুধু তাড়া
জীবনের এই করুণ দশা, কিসের জন্য
জীবন নামের পরীক্ষায় আজ শূন্য শূন্য,

প্রবাস এসে স্বাধীনতা হরণ হলো
টাকার পিছু ছুঁটতে গিয়ে,সকল সুখের মরণ হলো
দেহ গেলো, যৌবন গেলো,মাথায় আজ পাকনা চুল
প্রবাস এসে করেছিলাম মস্ত ভুল…..।।

 

জয় মুজিবের জয়

কবির কাঞ্চন

বাংলা মায়ের দামাল ছেলের
‘মুজিব’ প্রিয় নেতা
মায়ের ডাকে লাখে লাখে
জাগে স্বাধীনচেতা।

পাকিস্তানি হানাদারের
রক্তচক্ষু দাগে
প্রিয়নেতা ঝাঁপিয়ে পড়েন
কঠিন আত্মত্যাগে।

স্বপ্ন দেখেন সোনার বাংলা
স্বপ্ন দেখেন জাতি
মুজিবরে বাঙালি পায়
স্বাধীনতার বাতি।

নয় মাসেরই যুদ্ধ লড়ে
বাংলা স্বাধীন হয়
‘মুজিব’ হলেন জাতির পিতা
জয় মুজিবের জয়।

 

যেখানেই শেষ সেখানেই শুরু

নেছার আহমদ নেছার

মহাশূন্যের সীমাহীন রহস্য
গ্রহ নক্ষত্র চন্দ্র-সূর্য্য তারকারাশি ভুবন মোহন অস্তিত্ব
ভাবতে ভাবতে আপন সত্ত্বার শত অনুভবে ঝড় বয়ে যায়,
সৃজনী শক্তির অভাবনীয় কৌশল
কি জানি স্রষ্টার অস্তিত্ব ভেবে ভেবে
কোন সে সীমাহীন পথে মন চলে যায়
সৌরজগতের অসীম অনুভব
বস্তু জগতের কলাকৌশল মেধা আর চর্চার
উত্তরণ, নতুন নতুন আবিষ্কার আর উদ্ভাবনা
প্রগতির পথে সুখ সমৃদ্ধি প্রতিযোগিতার
পথে পাগল পারা পৃথিবীর মানুষ,
এভাবে চলবে মানুষের জীবন জীবনের জন্যে।

তবুও চিরকাল জড়িয়ে থাকবে সুখ-দুঃখ,
পাওয়া না-পাওয়ার অনুভব
আকাশ আর মাটির ভাবনা।
সাগর মহাসাগর, হ্রদ, পর্বত, বন বনানী
মহাবিস্তীর্ণ অদেখা ভুবন, অজস্র জীব-জন্তুর
বৈচিত্র জীবন জীবনের জন্যে।
অজস্র অনুভব অনুভবের জন্যে
সীমাহীন রহস্য রহস্যের জন্যে
তবুও মানুষ শৃংখলিত স্রষ্টার ইংগিতে
তাই যেখানেই শেষ সেখানেই শুরু।

 

 

 

পতাকা-মানচিত্র

আবু আফজাল মোহা. সালেহ

আমার আবেগ মিশে আছে
টিয়ে পাতার রঙে
আমার চেতনা তোমার প্রেরণা
লাল রঙের ঢঙে।

আমাদের জয় অনুপ্রেরণা
লাল-সবুজে আঁকা
গ্রাম-গ্রামান্তর শহরজুড়ে
ওড়ে প্রাণের পতাকা।

আবেগমাখা এই পতাকা
থাকুক উচ্চ সবসময়
মানচিত্র ছিড়ুক শকুনেরা
হবে না, আমরা ঐক্যময়।

মানচিত্র কিংবা পতাকা
আমাদের আবেগ, মুক্ত
আমাদের রক্ত-লাল রক্ত
ধমনী-শিরায় প্রবাহিত!

 

জাতির পিতা

মাযহারুল ইসলাম অনিক

একটি পাখি হঠাৎ এসে বলছে নানান কথা,
দেশের থেকে দূর হয়েছে সকল দুঃখ ব্যথা।

সেই পাখিটি গুনগুনিয়ে গাইছে কতো গান,
গুলি থেকে বাঁচছে নাকি হাজার হাজার প্রাণ।

মুক্ত মনে এখন নাকি চলতে সবাই পারে,
স্বাধীনতার ঘোষক যিনি সালাম জানাই তারে।

সেই পাখিটি হঠাৎ করে ফেলছে দেখি জল,
কান্না কাটি বন্ধ করে কি হয়েছে বল?
ভোর বেলাতে ঘোষক বাড়ি আসছে যেন কারা,
গুলির ঘায়ে শরীরগুলো করছে জারাজারা।

জীবন নিলো পিতা নিলো নিলো তারা সব,
শরীর ঘেমে রক্তগুলো করছে যে ধবধব।

তাইতো আমি অমন কেঁদে আবার এলাম ফিরে,
মুখের কথা চুপটি করে আছিস কেন কিরে?
আর্তনাদে বুকটি আমার শুধু ফেটে যায়,
অমন পিতা আর কি বলো কভু ফিরে পায়?
জোড় হাতে করছি দোয়া শত্রু পাবে সাজা,
গদির পরে বসে ওরা হোক না যতোই রাজা।

 

 

মায়ের শোক

রমজান আলী রনি

বর্ষাকালে ডোবানালা
পানিতে যায় ভরে
এমন দিনে খোকা আমার
ফিরে না যে ঘরে!

দাদির সাথে ঘুরতে গিয়ে
শ্রাবণ মাসের শেষে
খোকা আমার হারিয়ে যায়
না ফেরার ঐ দেশে!

সাত রাজার ধন চলে গেলো
আমায় ছেড়ে দূরে
মা,মা,বলে ডাকবে না কেউ
মিষ্টি মধুর সুরে।

ছায়া হয়ে বুকের মানিক
কোথায় চলে গেলো
মায়ের শোকে গাছের পাতা
সেও ঝরে এলো।

 

বর্ষার রূপ

রেজাউল রেজা

কখনও আসে সেজে গুজে
কখনও আসে আচমকা!
কখনও আসে একলা একা
কখনও নিয়ে ঝড় দমকা!

মাঝে মাঝে দিন-দুপুরে
সূর্য্যটা দেয় ডুব,
বর্ষাকালে তাল বেতালে
বৃষ্টি আসে খুব।

ঝির ঝির কিংবা মুষল ধারায়
বৃষ্টি দেখায় নাচ,
নাচের তালে শহর-পাড়ায়
বন্ধ থাকে কাজ।

নদী-নালা পুকুর ডোবা
পানিতে যায় ভরে,
চারিদিকে কোলা ব্যাঙে
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর করে।