বিভাগ: সাহিত্য

চল না সে পথে

মিজানুর রহমান মিজান

অন্ধকার আলো
মন্দ ভালো
সুপথে চলো
জীবন মহিয়ান।

এ ভূ-মন্ডলে
দু’চক্ষু মুদিলে
কিছু না মিলে
বেতালে চলমান।
কবর দেশে
অন্ধকারে মিশে
রবে অবশেষে
ভয় ডর কুলমান।

আজ ভাবিলে
সঞ্চয় করিলে
বাণিজ্যে লভিলে
খেল তামাশায় আগুয়ান।

ফিরে পাবে না
রবে অজানা
শেষ ঠিকানা
মাটিতে ভাসমান।

স্বাধীনতা

মু. আব্দুল কাদির জীবন

স্বাধীন তুমি
স্বাধীন আমি
স্বাধীন বাংলার সবাই
স্বাধীন থাকবে দেশ যত দিন
শান্তি পাব আমরাই।

ত্রিশ লক্ষ শহীদ হলো
দেশ স্বাধীন হওয়ার জন্য
অনেক মা-বোনের ইজ্জত হয়েছিল
ভোগ বিলাষী পণ্য।

আজো কি দেশ স্বাধীন রয়েছে
আমার মনে কত প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে
কবে কাটবে আঁধার
এখনো রয়েছে শত বাধার পাহাড়।

স্বাধীনতা তুমি কার?
যে তোমায় ডাক দিয়েছিল
আর বন্দুক তাক করে বসেছিল?
কেউ যদি বলে এটা তার একা
আমি বলি সে অনেক বোকা
যদি বলে স্বাধীনতা সবার
থাকবো আমি তার সাথে অঙ্গীকার।

বিজয় এলো

মিজানুর রহমান মিজান

নয় মাসের যুদ্ধ শেষে
বিজয় এলো বাংলাদেশে
অগণিত জীবন দিয়ে বলিদান।

বায়ান্নতে হল বীজ বপন
জয়ের ধারায় বাঙালির স্বপন
একাত্তরের পূর্ণতায় যার প্রমাণ।

বহু কষ্টের এ স্বাধীনতা
গাই আমরা জয় বারতা
নৈতিকতায় রয়েছে পরিত্রাণ।

হাতে হাত রাখিয়া
গেলে তরী বাইয়া
বাঁধা কোথায় উড়াইতে নিশান।

কাজ কর্মে অগ্রগতি
দুর্নীতিতে হলে সুমতি
নিশ্চিত মোরা মনে বলিয়ান।

সবাই মিলে করি কাজ
পরিশ্রমে হয় না লাজ
বাড়ে মর্যাদা ও সম্মান।

স্বপ্নের পরী

জালাল আহমেদ জয়

নীল নয়না আঁখি দুটি
চাঁদনী জ্যোৎস্নায়,
অধর আকাশে ভেসে যায়
যে তোমার মুখটি।

ঘুমের ঘোরে ডাকি তোমায়
মনের ও বাগানের মোহনায়;
মায়াবরণ মুখটি তোমার
ভূষণ কালো চুল,
রূপের ছায়া দেখে তোমার
স্বপ্ন আমার হারায় যেন কূল।

জনম জনম ধরে স্বপ্ন এঁকে যাই
পরীর মত মুখটি তোমার;
দেখতে যেন পাই,
আর কিছু না চাই।

পরী হয়ে এ জীবনে চলে আসো না,
আপন হয়ে থেকো পাশে
দূরে যেও না।

নীল নয়না আঁখি দুটি
চাঁদনী জ্যোৎস্নায়,
অধর আকাশে ভেসে যায়
যে তোমার মুখটি।

যে দিন প্রথম দেখি

মোঃ এমদাদ আলী

তোমাকে যে দিন প্রথম দেখি
সে দিন থেকে
আমার লেগেছে ভালো।

নিজের অজান্তে তোমাকে নিয়ে
দিনভর সারাক্ষণ স্বপ্ন দেখি।
নিজেই জানি না,

কখন যে তোমায় ভালবেসেছি!!
তোমাকে বলতেও পারি না
অজানা ভালোবাসার কথা,
সইতেও পারি না এখন?
কি করি আমি? বলে দাও তুমি?

ভর্তা

নাজমুল ইসলাম মকবুল

ভর্তা খাবেন ভর্তা
সিদল শুটকির ভর্তা
ঝালটা একটু বাড়িয়ে দিলে
ঠিকই পড়বে পর্তা।

আলু ভর্তা বেগুন ভর্তা
মাছের ভর্তা আর
কলার থুরের ভর্তা খেতে
মন চায় বারে বার।

মগজ ভর্তা আমের ভর্তা
জলপাই ভর্তা মজা
সাতকরা আর রসুন ভর্তা
শরির রাখে তাজা।

আমড়া কিংবা বরই ভর্তা
তেঁতুল ভর্তা জানি
মনে হলে এসব ভাইরে
জিবে আসে পানি।।

ভালোবাসি, বড্ড ভালোবালি

সৌমেন কুমার

তোমায় বড় বাসি ভালো
আছো স্বপ্ন সুরে,
কভু যদি যাও গো ছেড়ে
যাবো তবে মরে !

তুমি আছো সুখে দুখে
থাকবে বুকের মাঝে,
তুমি থাকো ভাবনা জুড়ে
সকাল সন্ধ্যা সাজে !

তুমি যদি খারাপ থাকো
উবে যায় সব সরব,
তুমি পাশে থাকলে সদা
আর চাই না আর যা সব !

আপন তুমি স্বজন তুমি
তুমি জীবন মরণ,
করলে তুমি স্বপন হরণ
থাকো সদা স্মরণ !

দুলে দুলে হৃদয় কূলে
আর না মর্মমূলে,
জীবন দিলে ভরে ফুলে
হেলে দুলে এলোচুলে !

আকুল তোমার ভাবাদর্শে
জীবন থাকে হর্ষে,
সতেজ থাকি তোমার স্পর্শে
তোমার কণ্ঠ বর্ষে !

তোমার রূপে আমি তন্ময়
হয়ে থাকি বিস্ময়
তোমার এতো আত্মপ্রত্যয়
হয় না তাতে ব্যত্যয়।

আমার কষ্টে বুকের মাঝে
থাকো হয়ে সেবী
কেবল আমার জন্য তুমি
সেজে হও তো দেবী।

তুমি আমার জীবন বিন্যাস
তুমি নিঃশ্বাস বিশ্বাস
করি মোরা সুখেতে বাস
পেয়ে তোমার আশ্বাস।

আসলে ঝড় বা আসলে ঝঞ্ঝা
হবু না কভু ভাগ
জীবন চলতে থাকে এমন
থাকে রাগ অনুরাগ।

আমার তুমি হৃদয় কণা
ভাবি ক্ষণে ক্ষণে
বাসি ভালো বড্ড বেশি
নিত্য বাস এই মনে।

তুমি জীবন তুমি মরণ
তুমি ভাবনা জুড়ে
তুমি বিনা এই না ভবে মরবো পুড়ে পুড়ে।

ভেবে ভেবে বিভোর হয়ে যাই

নেছার আহমদ নেছার

যেদিন আকাশটা অন্ধকারে ঢেকে যায়
ঝর ঝর অবিরাম বৃষ্টি ঝরে-
পাখিরা কলরবে ছুটে আসে হাওর বিলডোবা থেকে
তখন আমার উদাস আঁখি মেলে
জীবনের সমস্ত স্মৃতির ভীড়ে রূপায়িত একটা
স্বপ্নময় জীবনের সাড়া খুঁজে পাই।

নীলাভ আকাশটা যখন কালো হয়ে আসে
কেন জানি স্রষ্টার নিগূঢ় কৌশল ভেবে ভেবে
বিভোর হয়ে যাই-
বুকের মাঝে ঝড়ো হাওয়ার মতো
শিহরণ আসে– হাহাকার আসে
এই পৃথিবীর কান্না হাসির অজস্র অনুভবে।

সত্ত্বায় জড়িয়ে থাকা অনেক স্বপ্নের প্রাচুর্যতায়
চাওয়া-পাওয়ার একাগ্রতায়
কেবলি শিহরণ অনুভবে আর ভেবে ভেবে
বিভোর হয়ে যাই।

লেখক আড্ডার বন্ধু হলেন যারা

বন্ধু নং-১২৯৮
নাম : মোঃ সুরুজ মিয়া
পিতার নাম : আলাউদ্দিন খাঁ
ঠিকানা : নবাব রোড, সিলেট।

মানব দানব

ছাদিকুর রহমান

রক্তের নেশায় হয়েছে উম্মাদ হয়েছে দিশেহারা
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে করেছে ছারখার সোনার অঙ্গখানা
হায়নার মত ছিঁড়ে খাচ্ছে মানুষের মাংস
একবারও কি বলতে পারবে এটা কোন মানবতার অংশ
চোখের সামনে ভেসে উঠে আর্তনাতের ছবি

ত্রিশ লক্ষ শহীদের স্বাধীন দেশে এখন একি দেখি
নাকের মাঝে লাগে শুধু পোড়া মানুষের গন্ধ
কেউ কি জান কবে হবে এই নির্মমতা বন্ধ
মায়ের চোখে অশ্র“ ঝরে বধূর হাহাকার
বাবা কাঁদে বোবা কান্না সয় না যে আর

আসুক যত বাধা বিপত্তি যতই বঞ্চনা
যতই কষ্ট হোক যত যন্ত্রণা
সব কিছু ঝেড়ে ফেলে
মুক্ত আলিঙ্গনে জয় হোক মানবতা
মানব কোন দিন হয় না দানব
দানব হয় না মানব
মানব দানবের এ লড়াইয়ে জিতবে মানব।