বিভাগ: সাহিত্য

শরৎ এলো

নুশরাত রুমু

ষড়ঋতুর পালাবদল
এবার শরৎ এলো
সূর্যি মামা খুব সকালে
রোদের ঝিলিক দিলো।

কাশের বনে যাই হারিয়ে
সুনীল আকাশ হাসে
শিউলি ফুলে মন জাগিয়ে
শিশির ঘুমায় ঘাসে।

মেঘ ভেসে যায় দূর অজানায়
শিমুল তুলোর মত
ধানের ক্ষেতে ঢেউয়ের সাথে
ভাবনা আসে শত।

জোছনা রাতে স্নিগ্ধ সমীর
হিমেল পরশ ছাড়ে
পাকা তালের সুবাস পেয়ে
রসনায় মন কাড়ে।

সবুজ পাতার দেশ

কাব্য কবির

সবুজ পাতার দেশ
খাগড়াছড়ি, রাঙামাটির
রূপের নেই তো শেষ।

সবুজ পাতার ফাঁকে বসে
দোয়েল,শ্যামা ডাকে
পাখির ডাকে মুগ্ধ হয়ে
প্রজাপতি থাকে।

পাহাড়ের ঐ ঝর্ণাগুলো
দেখতে লাগে বেশ,
পাহাড়ের ঐ রমণীদের
দীঘল কালো কেশ।

পাহাড়ের ঐ রাস্তাগুলো
এঁকে বেঁকে চলে,
এসব দেখে উদাস মনে
মিষ্টি কথা বলে।

সবুজ পাতা মন মাতায়
দেয় অপরূপ হাসি,
সবুজ পাতার দেশটাকেই
আমি ভালোবাসি।

খোকা যাবে

মো. আরিফ হোসেন

খোকা যাবে নানার বাড়ি
রাত পোহাবে যখন
সবার মতো পরবে গায়ে
নতুন জামা তখন।

মায়ের হাতে হাতটা রেখে
চড়বে ঘোড়ার গাড়ি,
গল্প এবং শোলক বলে
পথটা দিবে পাড়ি।

নানার সাথে মিলেমিশে
খেলবে কত খেলা,
আনন্দ ও মিষ্টি কথায়
কাটবে শুধু বেলা।

কুরবানি

মাযহারুল ইসলাম অনিক

রহিম মিয়া রহিম মিয়া যাচ্ছো তুমি কই?
থলের মাঝে ভর্তি কেন চিড়ে, মুড়ি, খই?
চিরন চালে মাথার ধারে এত্তো কেন বেশ?
রাঙা দড়ি হাতে ধরে যাচ্ছো যে কোন দেশ?
কি যে হলো তখন থেকে বলছি এতো কথা,
জবাব দিতে শরীর মাঝে হচ্ছে নাকি ব্যথা?
না রে পাগল ব্যথা কেন যাচ্ছি আমি হাটে,
স্বপ্ন আশা গুনগুনিয়ে শুধু ছড়া কাটে।

তাইতো আমি এমন সাজে যাচ্ছি ওদিক পানে,
কেমন গরু পাবো রে ভাই মালিক খোদা জানে।
ভয়ে ভয়ে চুলগুলো আজ শুধু লাফাই ওঠে,
গরুগুলো কি জানি ভাই কেমন দামে ছোটে?
জোড় হাতে একটুখানি দোয়া দুরুদ পড়
বিশাল গরু এনে যেন পুরতে পারি ঘর।

কেমন কথা বললে তুমি ঠকাই সবার হক,
ফ্রিজ মাঝে মাংস রেখে মিটবে মনের শখ?
আল্লা কাছে প্রাণটা দিতে ইসমাইল না ভয় পায়,
দাঁতের ঘায়ে মাংসগুলো একলা কি কেউ খায়?
বিশাল গরু বিশাল গরু করছো কেন বলো?
এ সব কথা বাদ দিয়ে আজ সঠিক পথে চলো।
ওয়াজিবের ওই পথটা যদি ধরতে তুমি চাও,
সঠিক ভাবে নিয়ম মেনে কুরবানিটা দাও।

 

ঈদ মোবারক

সৌমেন দেবনাথ

আজকে ঈদ আজকে খুশির দিন
আকাশে ওড়ে বক,
দাঁত ঝকঝক পোশাকে চমক
সবাইকে ঈদ মোবারক !

ঈদের দিনে নতুন বেশে
মনটা সাজে রঙিন,
হাসি মুখে খুশির জোয়ার
খোলা দুয়ার দক্ষিণ !

শিশুদের মুখে হাসির ঝলক
পড়ে না চোখের পলক,
মায়ের আচল ধরে বকবক
সবাইকে ঈদ মোবারক !

বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে
ভালো মন্দ নেয় খোঁজ,
হিংসা বিদ্বেষ ক্রোধ যায় ভুলে
মনে ফোটে সরোজ !

ছোট্ট বাচ্চা খেলে খেলা
আনন্দ তার অশেষ,
খেতে বসে কাড়াকাড়ি
খাওয়া তো হয় জম্পেশ !

ওড়ে মাথার ফুরফুরে অলোক
ঈদে আকুল ভূলোক,
হাসির তালে নড়ে নোলক
সবাইকে ঈদ মোবারক !

শত শত শিশু- পার্কে
সবাই আত্মভোলা,
বাঘ দেখে সাপ দেখে চোখ বুজে
চড়ে নাগরদোলা !

খাওয়া দাওয়ায় পড়বে ধূম
হরেক রকম গোস্ত,
গোঁফ নেড়ে খাবো আর খাবো
স্বাদ যে পাবো মস্ত !

বস্তীবাসী, পথশিশু
ওদেরও নেবো খোঁজ,
ঈদের দিনে সবাই যেন
পায় খেতে ভূরিভোজ !

এ চ্যানেল সে চ্যানেল দেখে
দেখে
কাটে ঈদক্ষণ,
আনন্দকে কামড় দেয় যে
মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন !

গোস্ত খেতে ভারি মজা
ঈদে মনে দোলন,
খুশির এই আবহ যেন
থাকে গোটা জীবন !

তোমারই মতো

মো: আরিফ হোসেন

মাগো! তোমারই মতো
কেউ নেই আর,
আদর করে সাজিয়ে
দিবে বারে বার।

হাসি-মুখে কেউ আর
বলে নাতো খাও,
বই নিয়ে পাঠশালে
তাড়াতাড়ি যাও।

ঘুমপাড়িয়ে কখনো
বলে নাতো গান,
ঘুম গেলে এনে দিবো
আকাশের চাঁন।

পালকি চড়ে যেদিন
গেলে ঐ কবর
সেদিন থেকে কেউতো
রাখে না খবর।

স্বপ্ন ছড়া

জিল্লুর রহমান পাটোয়ারী

স্বপ্ন ছড়া নাড়ছে কড়া,
খুকির ঘুমের ঘরে –
বলছে খুকির ঘুম ভেঙ্গে আয়,
আসি একটু ঘুরে।

আগে যাব মাসির বাড়ি,
হাসি মেখে গায়-
একটু পরে নিয়ে যাব,
চড়িয়ে সোনার নায়।

স্বপ্ন বলে খুকিরে ডেকে,
অলস কোনো তুমি –
ঐ আসছে আকাশ থেকে,
রবির আলো নামি।

রবির বাড়ি নিয়ে যাব,
দেব তোমায় সবি –
ঘুম ভেঙ্গে আয় খুকুমনি,
আমায় নিয়ে যাবি।

কাকে ভালোবাসি ?

মোঃ আলাউদ্দিন তালুকদার

আমি কাকে – ভালোবাসি ?
নিজেও জানি না,
যাকে-ই আমি ভালোবাসি
ভুলতেও পারি না!

ভালোবাসি, ভালোবাসে
স্বজন চিত্তে সেও আসে,
কচুরিপানার মতো ঠেলে
দূরে গিয়ে কেন হাসে!

হাসে ভালো, মন্দ নয়
তার যদি ভালো হয়,
তবু ভালোবাসি তারে
আমার মনে দ্বন্দ্ব নয়!

ভালোবাসি, ভালোবাসে
এতে কোন ত্রুটি নাই,
যৌবন কালে সেই যে ছিলো
ভালোবাসার খুঁটি ভাই!

আজ হয়তো আছে কোথাও
আছে সুখের নীড়ে,
আসবে না আর কোনদিন
সুঁতাং নদীর তীরে!

 

কুরবানি

কবির কাঞ্চন

আল্লাহপাকের হুকুমে হয়
ঈদুল আযহার কুরবানি
ইব্রাহিম (আ:) পালন করলেন
আল্লাহপাকের সেইবাণী।

কুরবানি দাও খোদার নামে
কুরবানি দাও দিল খুলে
হিংসা বিভেদ ঝেড়ে ফেলে
মিশো এবার সব ভুলে।

কুরবানি দাও প্রিয় পশু
কুরবানি দাও মনেরটাও
সত্য হাওয়ায় পালটা তুলে
মিলনমেলায় নাও ভীড়াও।

সাধ্যমতো কুরবানি দাও
সাধ্যমতো দান করো
ধনী গরিব এক কাতারে
খোদাতায়ালার পথ ধরো।

ঈদের দিনে সবার সাথে
বুকের মাঝে রাখো বুক
আল্লাহপাকের সন্তুষ্টিতে
ধরায় পাবে স্বর্গসুখ।

ঈদের খুশি

রেজাউল রেজা

চাঁদ উঠেছে আকাশ পানে
বাজছে খুশির বীণ,
খোকার মনে খুশির জোয়ার
ভাবনায় ঈদের দিন।

ঈদ এসেছে ঈদ এসেছে
খোকার মনে খুশি,
নাচছে খোকা হাসছে খোকা
সাথে ছোট্ট লুশি।

লুশি-খোকা ঈদের মাঠে
কিনবে পুতুল, ঘুড়ি-
চাচ্চুর কাছে কিনে নিবে
লাঠিম, কাঁচের চুড়ি।

লাঠিম-ঘুড়ি খোকা বাবুর
পুতুল-চুড়ি লুশির,
খেলাধূলায় মাতবে তারা
বান উঠাবে খুশির।