বিভাগ: সম্পাদকীয়

প্রচন্ড গরম মোকাবেলায় সচেতনতা

এ বছর গ্রীষ্মকালে গরম তুলনামূলকভাবে কমই অনুভূত হয়েছে। পুরো গ্রীষ্মকালই কমবেশি বৃষ্টিপাত ছিল। কিন্তু শ্রাবণ মাসে এসে হঠাৎ করেই বৃষ্টিপাত কমে গেছে। গত এক সপ্তাহ বৃষ্টিপাত ছিল খুবই কম। বরং কাঠফাটা রোদ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সারা দেশেই রীতিমতো দাবদাহ বিরাজ করেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি ছিল আরো বেশি, ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছিল, সামান্য বৃষ্টি হতে পারে, তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে এবং তাতে গরম অনেকটাই কমে আসবে। কিন্তু শুক্রবারও মানুষ গরমে হাঁসফাঁস করেছে। সেই সঙ্গে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় দুর্ভোগ অনেক বেড়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়েই আবহাওয়া ক্রমে চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠছে। ঠাণ্ডা ও গরমের তীব্রতাও বাড়ছে। বাস্তবেও বিজ্ঞানীদের এমন দাবির সত্যতা মিলছে। উত্তর মেরুর কাছাকাছি থাকা শীতপ্রধান অনেক দেশেই এ বছর রেকর্ড গরম পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও সুইডেনে দাবানলে হাজার হাজার একর বন পুড়ে গেছে। আগুন এখনো জ্বলছে। কানাডায় তাপপ্রবাহে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জাপানে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, মারা গেছে দুই শতাধিক মানুষ। কিছুদিন আগে ভারতে ধূলিঝড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদহানি হয়েছে। উত্তর ভারত ও নেপালে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আরো অনেক দেশেই এ রকম পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আমরাও এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের বাইরে নই। যেকোনো সময় যেকোনো দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে পড়তে পারি। শ্রাবণ মাসের এই অস্বাভাবিক গরম তেমনই একটি ঘটনা। তাই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রতিক্রিয়া বা দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সক্ষমতা ক্রমে আরো বাড়াতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা রুখতে পারব না; কিন্তু তার ক্ষয়ক্ষতি যেন কম হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই প্রচেষ্টায় আমাদের ঘাটতি সীমাহীন। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। অনেক নিচু এলাকা বা দ্বীপদেশ এরই মধ্যে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে তলিয়ে গেছে। আমাদের অনেক উপকূলীয় এলাকা এবং প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রবল হুমকির মুখে। একটু অস্বাভাবিক জোয়ার হলেও অনেক এলাকা তলিয়ে যায়, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
দাবদাহ বা গরমে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়াসহ বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। সেসব সমস্যার ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণা বেড়ে যায় বলে মানুষ যেখানে-সেখানে পানি পান করে। অবিশুদ্ধ পানি পান করে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ জন্য বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্তি সহজ করতে হবে। পাশাপাশি অস্বাভাবিক গরম মোকাবেলায় মানুষকে সচেতনও করতে হবে।

মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। পাসের হার ও জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবারও কমেছে। সার্বিকভাবে পাস করেছে ৬৬.৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮.৯১ শতাংশ, জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৩৭ হাজার ৭২৬ জন। সেই হিসাবে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার কমেছে ২.২৭ শতাংশ। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে আট হাজার ৪৬৪ জন। দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে মোট ২৯ হাজার ২৬২ জন। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও এবার কমেছে। এবার ৪০০ প্রতিষ্ঠান থেকে সবাই পাস করেছে। গতবার এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫৩২। তবে কেউ পাস করেনি, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। গতবার ৭২টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেনি। এবার এমন প্রতিষ্ঠান ৫৫টি। আটটি সাধারণ বোর্ড এবং মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে সারা দেশে দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে এবার মোট ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় পাসের হার সামান্য বেড়েছে। তবে কমেছে জিপিএ ৫ পাওয়ার সংখ্যা।
বেশ কয়েক বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস হলেও এবার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতার পর প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় যে পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে, তার প্রশংসা করে পুরো পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনার কথা ভাবতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এখন পরীক্ষা শেষ করতে যে রকম প্রায় দুই মাস সময় লেগে যায়, তা কমিয়ে আনতে পারলে শিক্ষার্থীদের আরো বেশি মনোযোগী করা যাবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর যে চেষ্টা চলছে তা আরো জোরদার করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারলে এ দেশে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। যেসব প্রতিষ্ঠান খারাপ ফল করেছে, সেগুলোর দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারলে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যাবে না। আমরা আশা করি সেদিকে সরকার দৃষ্টি দেবে। শতভাগ পাস এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কেন কমেছে, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কেউ পাস করেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকেও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারলে শিক্ষার মান যে উন্নত হবে না, এ উপলব্ধি সবারই থাকা দরকার।
এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন। তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ সুন্দর হোক। যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের হতাশ হলে চলবে না। মনে রাখতে হবে, জীবনের অনেক পথ এখনো চলার বাকি। একবার হোঁচট খাওয়া মানে জীবন থেমে যাওয়া নয়।

কোটা সমস্যা সমাধান

আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ ব্যবস্থার পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের এ জন্য ধৈর্য ধরতেও বলা হয়েছিল। পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়, যা সচিব কমিটি নামে পরিচিত। তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনার জন্য কমিটিকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি কমিটি। তারা আরো সময় চায়। কমিটির মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ানো হোক এ মর্মে সরকারের কাছে আবেদন করতে যাচ্ছে তারা, এ বিষয়ক প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করা হয়েছে।
কোটা সংরক্ষণ ব্যবস্থা পর্যালোচনাসংক্রান্ত সচিব কমিটির আহ্বায়ক হলেন মন্ত্রিপরিষদসচিব।
সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটাব্যবস্থার পর্যালোচনা ও সুপারিশ করার জন্য গত ২ জুলাই সাত সদস্যের ‘সচিব কমিটি’ গঠন করে সরকার। কমিটিকে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়। এ হিসেবে আগামী ২৩ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। কমিটি এ পর্যন্ত একটি সভা করেছে। গত ৮ জুলাইয়ের সভায় কোটাসংক্রান্ত দেশি-বিদেশি তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়। যা হোক, কমিটি কাক্সিক্ষত মাত্রায় অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি, তার প্রমাণ মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রণয়ন।
অন্যদিকে গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী এ কোটা রাখতেই হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দিতে হলে সরকারকে আগে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করে অনুকূল রায় পেতে হবে। আপিল বিভাগের এক আদেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা কোটা থেকে পূরণ করার সুযোগ দেওয়া হলেও ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে বাধ্যবাধকতা রয়ে গেছে। এটা অগ্রাহ্য করা হলে আদালত অবমাননা হবে।
মন্ত্রীর ভাষ্য ও সচিব কমিটির সময় বাড়ানোর প্রস্তাব প্রণয়নের ফলে কোটা সংস্কার বিষয়ে সরকারের তৎপরতা নিয়ে সন্দেহের মাত্রা আরো বাড়ল। এখন প্রশ্ন দেখা দেবে, সরকার কোটা বিষয়ে যা বলেছে তা কি ভেবেচিন্তে বলেনি? মন্ত্রী কি আদালতের রায়ের বিষয়গুলো আগে জানতেন না? মন্ত্রী-এমপিরা কি সরকারপ্রধানকে ভুল বুঝিয়েছিলেন? আমলাতন্ত্র কি দায়িত্ব পালনে আন্তরিক নয়? তারা কি টালবাহানা করে কোটা সংস্কারের বিষয়টিকে ঝুলিয়ে দিতে চাচ্ছে? তারা কি সরকারকে বিপদে ফেলতে চাইছে? এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা চাই, সরকার প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে আন্তরিক থাকুক এবং স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পর্যালোচনাপূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক।

মানসিক স্বাস্থ্য সনদ আইন

দেশে শারীরিক চিকিৎসার বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার তুলনায় মানসিক চিকিৎসার সুযোগ খুবই কম। যাও আছে তার গুণ-মান নিয়ে রয়েছে অজস্র প্রশ্ন। আর তার সুযোগ নিচ্ছে স্বার্থান্বেষী মহল ও নৈতিকতাহীন এক শ্রেণির মানুষ। সম্পত্তির অধিকার পেতে নিকটাত্মীয়কে চিকিৎসকের মাধ্যমে ‘পাগল’ সাব্যস্ত করা, খুনের মামলার আসামিকে ‘পাগল’ দেখিয়ে শাস্তির হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টাসহ অনেক অপচেষ্টাই দেখা যায় এই ক্ষেত্রে। অভিযোগ আছে, চিকিৎসক নামধারী কিছু ব্যক্তি এ ধরনের অন্যায়ে সহযোগিতাও করেন। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ‘পাগল’-এর সনদও দিয়ে থাকেন। এ ধরনের অপতৎপরতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা সনদ প্রদান রোধ করার জন্য জেল-জরিমানার বিধান রেখে আইন করা হচ্ছে। গত সোমবার ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন ২০১৮’-এর খসড়াটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাভ করেছে। এরপর এটি জাতীয় সংসদে অনুমোদনের পর পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে কার্যকর হবে। ধারণা করা যায়, সনদের এ ধরনের দুঃখজনক অপব্যবহার কিছুটা হলেও কমবে।
সম্পত্তির লোভে নিকটাত্মীয়কে ‘পাগল’ সাব্যস্ত করার এই নিষ্ঠুর চক্রান্ত নতুন নয়। গল্প-উপন্যাস বা চলচ্চিত্রে এ রকম বহু ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। কিছু মানুষের লোভের শিকার একজন ব্যক্তির করুণ পরিণতি দেখে অনেকে চোখের জলও ফেলেছে। বাস্তবে দেখার অভিজ্ঞতা হয়তো আছে অনেকের। খসড়া আইন অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কোনো পেশাজীবী মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মিথ্যা সনদ দিলে তাকে তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। এ ছাড়া অভিভাবক বা ব্যবস্থাপক মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও সম্পত্তির তালিকা প্রণয়নে অবহেলা করলে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অনেকেই মনে করেন, এ শাস্তি আরো কঠোর করা প্রয়োজন। আইনে মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসাবিষয়ক হাসপাতাল স্থাপন, পরিচালনা ও মানসম্মত সেবা প্রদান সম্পর্কেও বেশ কিছু বিধান রয়েছে খসড়া আইনটিতে। এমন একটি আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা অনেক দিন ধরেই আলোচিত হচ্ছিল। অতি প্রয়োজনীয় এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।
শারীরিক সুস্থতার মতোই জরুরি মানসিক সুস্থতা। শরীর ও মন একটিকে ছাড়া আরেকটির সুস্থতা সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্যের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবহেলা কোনো ক্রমেই কাম্য নয়। আমরা চাই, অনুমোদনের পর দ্রুত আইনটি কার্যকর করা হোক। উপযুক্ত বিধি-বিধান প্রণয়নের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হোক।

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল

১৯৩০ সালে ১৩টি দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার ২১তম আসর বসেছিল রাশিয়ায়। গত মাসের ১৪ তারিখে শুরু হওয়া আসরের পর্দা নেমেছে ১৫ জুলাই রাতে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে। নানা কারণে এবারের বিশ্বকাপ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফুটবলে চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইতালি এবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বাদ পড়েছে তিনবারের ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডস। আফ্রিকার ঝড় তোলা দেশ ক্যামেরুন ছিল না। বাদ পড়ে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা জেতা দল চিলিও। আফ্রিকার আরেক দেশ আইভরি কোস্ট ছিল না রাশিয়া বিশ্বকাপে। খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ঘানা ও চীন। রাশিয়া বিশ্বকাপের ঢেউ এসে লেগেছিল বাংলাদেশেও। এখানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকই বেশি। দুই দেশের পতাকার রঙে বাড়ি রং করা হয়েছে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ভক্তদের হতাশ করেছে উভয় দেশই। নিজেদের তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন মেসি-নেইমার। প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। চেনা তারকাদের অনেকেই জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হলেও অনেক নতুন তারকা খুঁজে পেয়েছে ফুটবল বিশ্ব। রাশিয়া বিশ্বকাপে উদীয়মান সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিনি হচ্ছেন বিশ্বে কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বিতীয়, যিনি বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেছেন। পুরো বিশ্বকাপে তাঁর গতিময় ফুটবল সবার দৃষ্টি কেড়েছে। এবারের আসরে চারটি গোল করেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন একই দলের আন্তোনিও গ্রিয়েজমান ও পল পগবা। সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ। বেলজিয়ামের তারকা ফরোয়ার্ড এদেন আজার পেয়েছেন সিলভার বল, ফ্রান্সের আন্তোনিও গ্রিয়েজমান পেয়েছেন ব্রোঞ্জ বল। সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট জিতেছেন ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। গ্রিয়েজমান পেয়েছেন সিলভার বুট, ব্রোঞ্জ বুট পেয়েছেন বেলজিয়ামের লুকাকু।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপ ছিল নাটকীয়তা আর উত্তেজনায় ভরা। ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দেওয়া এমন টুর্নামেন্ট নাকি নিকট অতীতে হয়নি। শুরুতেই বাদ পড়েছে জার্মানি। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে বিদায় করে দেয় ইউরোপের নতুন ফুটবল শক্তি বেলজিয়াম। তারকাসমৃদ্ধ স্পেন রাশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়। এবার ফাইনালে গোল হয়েছে ছয়টি। বিশ্বকাপে মোট আত্মঘাতী গোল হয়েছে ১২টি। এর মধ্যে ফাইনালে একটি আত্মঘাতী গোল হয়েছে। গোলরক্ষকের অদ্ভুত ভুলে গোল হয়েছে। যথেষ্ট নিরাপত্তা কড়াকড়ি থাকার পরও মাঠে লোক ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে রবিবারের ফাইনালটি শুধু অল ইউরোপিয়ান লড়াই ছিল না। ছিল অল নাইকি লড়াইও। স্পন্সর কম্পানিগুলোর মধ্যে এবার বিশ্বকাপের ৩২ দলের মধ্যে ১২টির স্পন্সর ছিল অ্যাডিডাস, ১০টির স্পন্সর নাইকি। শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিল নাইকি।
যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। শক্ত রক্ষণভাগ, আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠ ও ফরোয়ার্ডদের বোঝাপড়া দলকে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছে। অভিনন্দন ফ্রান্স।

মেয়েদের ক্রিকেট সাফল্য

মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ৮ নম্বর থেকে ৯ নম্বরে নেমে যাওয়ার খবরটা ঢেকে দিল দেশের নারী ক্রিকেটাররা। মেয়েদের এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ দল এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। নেদারল্যান্ডসের উট্রেক্টে বাছাই পর্বের ফাইনালে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে ২৫ রানে। অবশ্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এটাই প্রথম জয় নয় বাংলাদেশের মেয়েদের। কয়েক দিন আগেই সেখানে সিরিজ জিতেছে আমাদের মেয়েরা। এশিয়া কাপ শিরোপা ও আয়ারল্যান্ডে সিরিজ জয়ের পর এখন বলা যেতেই পারে নতুন গতি পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের সাফল্যের রথ। ক্রিকেটে মেয়েদের নিকট-অতীতের খেলাগুলোর দিকে তাকালেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ছেলেরা দুটি এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে। খেলেছে তিনটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল। কিন্তু ট্রফি জেতা হয়নি তাদের। মেয়েদের ক্রিকেটেও সাফল্যখরা ছিল। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ফাইনাল খেলায় এই আয়ারল্যান্ডের কাছেই মেয়েরা হেরেছিল ২ উইকেটে।
মেয়েদের ক্রিকেটে সাফল্য তো আরো কম। অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের মেয়েদের পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। আইসিসি মেয়েদের ক্রিকেটে জোর দেওয়ায় বিসিবিও মেয়েদের ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে ২০০৬-২০০৭ সাল থেকে। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব চলাকালে দেশের মেয়েরা পায় ওয়ানডে স্ট্যাটাস। প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় পায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই প্রথম টি-টোয়েন্টির জয় ২০১২ সালে। জয়ে যাত্রা শুরু হলেও তা নিয়মিত হয়নি। মেয়েদের ক্রিকেটকে বরাবরই অবহেলার চোখে দেখা হয়েছে। অনেক সময় নিয়মিত খেলাও ছিল না। হতাশার সঙ্গেই বলতে হয়, মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে খুব বেশি ভাবা হয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচি দায়সারা। আছে মাঠের সংকট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সুনির্দিষ্ট কোনো সূচি নেই। ট্রেনিং, ক্যাম্প, অনুশীলনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয়। জাতীয় লিগে মাত্র ৬০০ টাকা ম্যাচ ফি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও তা বাড়েনি। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা মেয়ে ক্রিকেটারদের বেতনও উল্লেখ করার মতো ছিল না। এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের সংবর্ধনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
পারিবারিক বাধা, সামাজিকতার চোখ রাঙানি, শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতা সব মিলিয়ে এক কঠিন বাস্তবতাকে সঙ্গী করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মেয়েরা। ক্রিকেটে মেয়েদের এই সাফল্য ধরে রাখতে হবে। তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে উৎসাহ দিতে হবে। বিশ্বকাপেও তাদের সাফল্য কামনা করি আমরা।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প

আধুনিক বিশ্বের প্রতিটি দেশেই পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। যেকোনো দেশের অর্থনীতিতে পর্যটনের আয় ব্যাপক অবদান রাখতে পারে। অথচ বাংলাদেশে পর্যটনশিল্প একটি অবহেলিত খাত; যদিও শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। অপার সম্ভাবনার এই খাত নানা অবহেলায় বিকশিত হতে পারছে না। পর্যটনশিল্পকে আকর্ষণীয় ও উন্নত করে তুলতে সরকারি পর্যায়েও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেসব দেশে সমুদ্রসৈকত আছে, সেখানে সারা বছর পর্যটকের আধিক্য থাকে। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত বাংলাদেশে। সমুদ্রসৈকত শুধু নয়, আমাদের দেশে পাহাড়ও আছে, আছে দর্শনীয় অনেক ঐতিহাসিক পর্যটন স্পট। তার পরও আমরা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারছি না।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশ কেন আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারছে না সে বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট বা টিএসএর মাধ্যমে পর্যটন খাতের আন্তর্জাতিক মান, ধারণা ও সংজ্ঞা অনুযায়ী পণ্য ও সেবার মূল্যায়ন করা হয়। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডাব্লিউটিও) নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ টিএসএ তৈরি করলেও বাংলাদেশে গত চার দশকেও এর জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। এই একটি কাজ করা সম্ভব হলেই আমাদের জিডিপিতে পর্যটন খাত ও প্রতিটি উপখাতের অবদান সম্পর্কে জানা যাবে। পর্যটন নিয়ে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করা আরো সহজ হবে। একই সঙ্গে পর্যটনে আমাদের কোন খাতটি দুর্বল, কোনটি সবল তা-ও চিহ্নিত হবে। শুধু বিদেশি পর্যটক নয়, বাংলাদেশের নাগরিকরা প্রতিবছর অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতে কত ব্যয় করে এবং প্রতিবছর কতজন দেশের ভেতরে ভ্রমণ করে, তা বের করা যাবে। বাংলাদেশের কোনো পর্যটন তথ্যভাণ্ডার নেই। নেই পর্যটন কাঠামো। নতুন অর্থায়ন যেমন হচ্ছে না, তেমনি নেই সঠিক পরিকল্পনা। ব্যবস্থাপনাও দুর্বল। সেবার মান নিয়ন্ত্রণ নেই। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান করণীয় হচ্ছে, পর্যটন স্পটগুলোকে প্রডাক্ট হিসেবে তৈরি করতে হবে। বিপণনের আগে পর্যটন পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলা। তা ছাড়া পর্যটন ব্যবস্থাপনা অতি গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যথাযথ উন্নয়ন করা সম্ভব হলে বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি দেশের পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করা সহজ হবে।
আমরা আশা করব, পর্যটনশিল্পের অবকাঠামো ও পর্যটন প্রডাক্ট উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারাও এগিয়ে আসবে।

শেয়ার বাজারে স্থিতিশীলতা

পুঁজিবাজার তথা শেয়ারবাজার এখনো এ দেশে ফাটকা বাজার হিসেবেই পরিচিত। অবশ্য অর্থমন্ত্রী এ কথা মানতে রাজি হবেন না। তাঁর মতে, যারা পুঁজিবাজারকে ফাটকা বাজার বলে তারা পুঁজিবাজারের শত্রু। তিনি যা-ই বলুন, মানুষ তো মন্ত্রীদের পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী শব্দ বা পরিভাষা ব্যবহার করে না, তারা এসব ব্যবহার করে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যবস্থার স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য দেখে। এ দেশে পুঁজিবাজারের যে আচরণ তাতে একে ফাটকা বাজার বলাই যুক্তিযুক্ত মনে হয় সাধারণ মানুষের কাছে। এর ক্রেতা-বিক্রেতা কারো আচরণই ‘ব্যাকরণসম্মত’ নয়; কোনো রীতিই এখানে ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে বাজার কাঠামোতে হস্ত সঞ্চালনে পটু ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ (সিন্ডিকেট বলাই শ্রেয়) যেকোনো সময় শেয়ারবাজারে লাভের জোয়ার বইয়ে দিতে পারে, আবার একে লোকসানের চরায় পরিণত করতে পারে। বছর কয়েক আগের অভিজ্ঞতা এ কথাই বলে।
সেই মহা ধসের পর ক্রেতাদের আর ওই মাত্রায় আগ্রহী করা সম্ভব হয়নি। বাজার চলছে; কিন্তু পুঁজির লেনদেনে জোয়ার এখনো আসেনি। এর মধ্যে শেয়ারবাজার চাঙ্গা করার, নিয়মনিষ্ঠ করার কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতিনির্ধারক সংস্থার পক্ষ থেকে। সেসবের প্রভাব যে নেই, তা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেনে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, তবে উৎফুল্ল হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। সম্প্রতি দেশের এ বাজারে যুক্ত হয়েছে চীন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এ সংশ্লিষ্টতার ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
সর্বশেষ খবর হলো, শেয়ার কেনার চাপে পুঁজিবাজারে লেনদেন ও মূল্যসূচক বেড়েছে। বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের দামও বেড়েছে। মঙ্গলবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়ায়। প্রকৌশল খাতের কম্পানির শেয়ারের দামে উল্লম্ফন ঘটেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মূল্যসূচক ও লেনদেন বেড়েছে। ওই দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৮৮ কোটি টাকা। আর সূচক বেড়েছে ৩০ পয়েন্ট। দিনশেষে সূচক দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৩৭১ পয়েন্টে। লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে বসুন্ধরা পেপার মিলস; লেনদেন হয়েছে ৪৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আগের দিন সোমবার ডিএসইতে লেনদেন ছিল ৯০১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। সূচক কমেছিল ২৪.৭ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৯১১ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ২৭১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। লেনদেনের ৩৩৯টি কম্পানির মধ্যে দাম বাড়ে ১৮৩টির, কমে ৯৯টির আর অপরিবর্তিত থাকে ৫৭টি কম্পানির শেয়ারের দাম। প্রকৌশল খাতের ৮৩ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। সূচক বেড়েছে ৫৩ পয়েন্ট। লেনদেনের ২৫০টি কম্পানির মধ্যে দাম বাড়ে ১৫২টির, কমে ৭৩টির আর অপরিবর্তিত থাকে ২৫টি কম্পানির শেয়ারের দাম।
দামের, সূচকের উত্থান-পতনই শেয়ারবাজারের বৈশিষ্ট্য। তবে কোনোটিই যাতে অস্বাভাবিক হারে না হয়, সেদিক খেয়াল রাখাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ। মহা ধসের পর তারা সচেতন হয়েছে। এ সচেতনতা ও নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে; শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। তবেই মানুষ আবার আগ্রহী হবে।

সিটি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হউক

তিন সিটি করপোরেশন রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। গত মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মেয়র, সংরক্ষিত নারী আসন ও সাধারণ বিস্তারিত

আধুনিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ছোট্ট একটি ভূখণ্ড, অথচ রয়েছে বিপুল জনসংখ্যা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, জনসংখ্যার ভারে দেশ আজ ন্যুব্জপ্রায়। বিপুল বেকারত্ব। ভাগ্যের অন্বেষণে কিংবা কাজের খোঁজে বৈধ-অবৈধ নানা উপায়ে তরুণরা ক্রমাগতভাবে দেশ ছাড়ছে। বিপজ্জনক যাত্রায় অনেকেই মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। তবু থামছে না দেশ ছাড়ার কাফেলা। বিদেশে গিয়েও অনেকের ঠাঁই হচ্ছে জেলখানায় কিংবা রাস্তার ধারে, বনবাদাড়ে। অথচ চিত্রটা ঠিক তার উল্টোও হতে পারত। যথাযথ শিক্ষার মাধ্যমে এই জনসংখ্যাকে যদি জনশক্তিতে রূপান্তর করা যেত, তাহলে এই জনসংখ্যাই হতে পারত বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ, দেশের জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। দেশে যেমন তাদের কর্মসংস্থান হতো, বিদেশেও তারা সমাদরে গৃহীত হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সেই প্রত্যাশাই করেছেন। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের নতুন প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ‘সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ২০১৮’-এর আওতায় জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা মেধাবীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আবারও তিনি সেই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
বেকারত্বের এত উচ্চ হার সত্ত্বেও এখনো লাখ লাখ বিদেশি বাংলাদেশে কাজ করছে। নিয়োগদাতা সংস্থাগুলো বাধ্য হচ্ছে বিদেশিদের নিয়োগ দিতে। সমপর্যায়ের দক্ষতা তৈরি করা গেলে অবশ্যই তারা বাংলাদেশি তরুণদেরই নিয়োগ দিত। বর্তমান বিশ্ব আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। সেখানে শুধু কায়িক শ্রমের সুযোগ নেই বললেই চলে। অনেক দেশেই প্রযুক্তির নানা দিকে দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে। কিন্তু আমরা সেসব স্থানে প্রতিযোগিতা করতে পারছি না। কারণ আমাদের তরুণরা এখনো ব্যাপক হারে সেসব প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত বা দক্ষ নয়। চেষ্টা চলছে। দক্ষ জনশক্তির পরিমাণও বাড়ছে। কিন্তু যে হারে বাড়ার প্রয়োজন ছিল, তা হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রদত্ত শিক্ষার মান নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। উন্নত দেশের শিক্ষার মান বিচারে আমাদের শিক্ষা এখনো অনেক পিছিয়ে আছে বলেই মনে করেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ফলে উচ্চতর শিক্ষার সনদ নিয়েও আমাদের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক একটি জাতি আমরা গড়ে তুলতে চাই। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।’ প্রধানমন্ত্রীর উক্তির আন্তরিকতায় কারো কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তা বাস্তবায়নপ্রক্রিয়ার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার আমলানির্ভর উন্নয়ন প্রচেষ্টা ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যে চিত্র অতীতে দেখা গেছে, তারও অনেক সমালোচনা আছে। শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষাবিদদের তত্ত্বাবধানে ধারাবাহিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে বলেই মনে করেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হোক। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নতুন প্রজন্ম সঠিক পথে এগিয়ে যাক। যেকোনো উন্নত দেশের শিক্ষার সঙ্গে আমাদের শিক্ষা সমতুল্য হোক।