বিভাগ: সম্পাদকীয়

এসএসসি পরীক্ষার্থীরা আতঙ্কিত

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ যেমন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন, তেমনি এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম আতঙ্কিত। এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবক মহল দুশ্চিন্তায় ভোগছেন।
বিরোধীদের টানা অবরোধ আর হরতালের ফলে দেশের অর্থনীতির সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়েছে। অবরোধ আর টানা হরতালের কবলে পড়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যা সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষার গতিপথে সংকট সৃষ্টি করা হলে একটি জাতি ধ্বংসের পথে এগুতে থাকে। দেশ পুড়লে হিরোদের কিছু আসে যায় না। দেশের কোমলমতি প্রায় ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী হরতাল-অবরোধের কারণে পরীক্ষা দিতে ভয়ভীতিগ্রস্ত এবং বিরোধীদের ডাকা হরতাল অবরোধের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ২ ফেব্র“য়ারীর স্থলে ৪ ফেব্র“য়ারী এসএসসি পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দিলেও পরীক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। বিরোধীদলের ডাকা অবরোধের ২৯ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। এ সময়ে সহিংসতার শিকার হচ্ছে অবুঝ শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নিরীহ জনসাধারণ। সহিংসতার শিকার পেট্রোল বোমা আগুনে পুড়ে প্রায় ৫২ জন। সংঘর্ষে ১০ জন অন্যান্যভাবে ১৬ জন ছাড়াও গত ২৯দিনে প্রায় ৮শ’২টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ঘটেছে। এসব সহিংসতার ফলে কোমলমতি শিশুরা আতঙ্কিত। সুস্থ মনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না তাই নিয়ে সচেতন মহল চরম দুশ্চিন্তায় ভোগছেন।
বিরোধদলের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যে হরতাল আহবান দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য মরণফাঁদ। দেশের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সাথে তাদের অভিভাবক মহল উৎকন্ঠায় আতঙ্কিত। শিক্ষামন্ত্রী বার বার আল্লাহর ওয়াস্তে হরতাল বন্ধ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থাকল্পে অনুরোধ জানালেও কোন কাজ হচ্ছে না। বিরোধী দলের নেতারা কোন কর্ণপাত করছেন না। তারা তাদের হরতাল ও অবরোধের নামে চালাচ্ছেন সহিংস কর্মকান্ড। এসব সহিংস কর্মকান্ডে দেশবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এ সব অপরাজনীতির কারণে শিক্ষা ব্যবস্থাসহ গ্রামীণ অর্থনীতি চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ২ ফেব্র“য়ারীর স্থলে ৪ ফেব্র“য়ারী এসএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা ঘোষণা করলেও বিরোধীদল আরো ৭২ ঘন্টার হরতাল ঘোষণা দিয়ে প্রমাণ করছে তাদের অপরাজনীতির মুখোশ। ৪ ফেব্র“য়ারী পরীক্ষা কি শুরু হবে? তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল চরম উদ্বিগ্ন।
দেশবাসীর প্রত্যাশা বিরোধীদল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় অন্ততপক্ষে হরতাল প্রত্যাহার করে ১৫ লাখ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথ চলাকে সুগম করার সুযোগ দিক। এটাই সকলের কাম্য।