বিভাগ: সম্পাদকীয়

জাল নোট প্রতিরোধ জরুরী

রমজানের শেষ প্রান্তে এসে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। দেশের বিপণী বিতানগুলোতে গত কয়েক দিন থেকেই লক্ষ করা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। সাধ্যমতো ঈদের বাজার সেরে নিচ্ছে ক্রেতারা। অভিজাত শপিং মলের পাশাপাশি ফুটপাতেও কেনাকাটা বেড়েছে। ক্রেতাদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, গাউন, জুতা ও স্বর্ণালংকার বিক্রি হচ্ছে দোকানে দোকানে। ঈদের আগের স্বাভাবিক চিত্র ফিরে এসেছে রাজধানীসহ দেশের সব এলাকার শপিং মল ও ঈদের বাজারে। আবার এই ঈদ এলেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাল টাকার কারবারিরা তৎপর হয়ে ওঠে। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জাল টাকার কারবারি পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও থেমে থাকে না জাল টাকার কারবার। এবার ঈদের আগেও রাজধানীতে জাল টাকার কারবারিদের তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজধানীর কদমতলীর বউবাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে কোটি টাকার জাল নোট, জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম, নিরাপত্তা সুতা, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, কাগজ, কালিসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ঈদ সামনে রেখে বাজারে পাঁচ কোটি টাকার জাল নোট ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। বাজারে টাকাগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের আরো ৮-৯টি জাল নোট তৈরির চক্র আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
জাল টাকার ব্যবসা সারা বছর ধরেই চলে। ঈদের সময় জাল টাকার কারবারিদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। ঈদুল ফিতরের আগে বিভিন্ন বিপণিবিতানে ছড়িয়ে দেওয়া হয় জাল টাকা। অন্যদিকে ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর বাজারে জাল টাকার বিস্তার লক্ষ করা যায়। মূলত রাজধানী ঢাকা এই জাল টাকার কারবারিদের কেন্দ্র হলেও তাদের নেটওয়ার্ক সারা দেশে বিস্তৃত। জাল নোট সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ কারবারিদের ফাঁদে পড়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়। অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংকের বুথেও ঢুকে যায় জাল টাকা। জাল নোট ও আসল নোটের পার্থক্য সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে এর আগে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসংবলিত বিজ্ঞাপন পত্রিকায় প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে। এটিএম মেশিনে টাকা ঢোকানোর আগে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিনে পরীক্ষা করতে হবে। বিভিন্ন শপিং মলে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন কাজে লাগানোও জরুরি।
জাল নোট প্রতিরোধ করা না গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের অর্থনীতি। তাই জাল নোটের কারবারিদের রুখতে হবে। জাল নোটের কারবারিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একটি চক্র আটকের পর আরো ৮-৯টি চক্রের কথা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে। আমরা আশা করব, পুরো জালিয়াতচক্রকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

দক্ষতার সাথে বাজেট বাস্তবায়ন

জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থছরের বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নির্বাচনের বছরে বাজেটে নতুন কর আরোপের মতো অজনপ্রিয় পথে হাঁটেননি তিনি। বিপরীতে জনপ্রিয় কয়েকটি খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব রেখেছেন। সার্বিকভাবে সব মহলকে সন্তুষ্ট রাখার প্রয়াস চালিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট তিনি প্রস্তাব করেছেন, তা গত অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশ এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। নতুন করে ১১ লাখ গরিব মানুষকে যোগ করে প্রায় এক কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ ভাতার ঘোষণা রয়েছে; অসচ্ছল যুদ্ধাহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চাল আমদানি নিরুৎসাহ করতে আমদানি শুল্ক আবার আগের মতো ২৮ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। পরীক্ষামূলক হলেও সরকারি-বেসরকারি চাকুরেদের পেনশন দেওয়ার একটি পরিকল্পনাও বাজেটে রয়েছে। শহুরে মধ্যবিত্তের ওপরও নতুন করে কোনো কর বসাননি অর্থমন্ত্রী। করমুক্ত আয়ের সীমা আগের মতোই রেখেছেন। করপোরেট করে ছাড় দিয়েছেন। এবারের বাজেটে মাথাপিছু আয় এক হাজার ৯৫৬ ডলারে নিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করা হয়েছে। নারী উন্নয়নে বরাদ্দ বেড়েছে। ভর্তুকি বেড়েছে কৃষিতে। বলা হয়েছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা। মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ ৩২ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিবছর বাজেট প্রস্তাবের পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া যেমন হয়ে থাকে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নতুন অর্থবছরের বাজেটকে ‘গণমুখী’ ও ‘উন্নয়নমূলক’ বলছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘নির্বাচনী বাজেট’ আখ্যায়িত করে বিএনপি বলেছে, এই বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা সরকারের নেই। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এই বাজেটকে অবাস্তব বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সিপিবি বলেছে, ধনিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষার গণবিরোধী দলিল এই বাজেট গরিব ও মধ্যবিত্তকে আরো দরিদ্র করে দেবে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে নতুনত্ব তেমন কিছু দেখছেন না অর্থনীতির বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলেছেন, বিগত বাজেটগুলোর ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য একটি সম্প্রসারণমূলক বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অবশ্য দরিদ্র মানুষের জন্য বিভিন্ন ভাতা ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোকে ভালো দিক হিসেবেই বিবেচনা করছেন অর্থনীতিবিদরা। করপোরেট ট্যাক্স কমানোর ঘোষণাকেও এই বাজেটের ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটের বৃহৎ আকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর নেতারা। বাজেট বাস্তবায়নকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ মনে করছে, বাজেটে পোশাক খাতে করপোরেট ট্যাক্স বৃদ্ধি নতুন বিনিয়োগ ও রপ্তানি খাত সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
প্রতি অর্থবছরের শেষে দেখা যায় অনেক প্রকল্পই বাস্তবায়িত হয় না। কাজেই বাজেট প্রস্তাব বা পাস নয়, দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।

দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত

বৈশ্বিক শান্তিসূচক ২০১৮-তে বাংলাদেশ ১০ ধাপ পিছিয়েছে। সূচক তৈরিতে বিবেচিত অন্যান্য শর্তে বাংলাদেশের উন্নতি হলেও বাংলাদেশের এমন অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মিয়ানমারে হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়ে সাত লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকে। ১৬৩টি দেশের মধ্যে এবার বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৯৩তম। গত বছর এ অবস্থান ছিল ৮৩তম। তালিকা অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ওপর রয়েছে ভুটান (১৯), শ্রীলঙ্কা (৬৭) ও নেপাল (৮৪) এবং বাংলাদেশের নিচে রয়েছে ভারত (১৩৬), পাকিস্তান (১৫১) ও আফগানিস্তান (১৬২)।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস প্রতিবছরই এ সূচক তৈরি করে। এতে বিদ্যমান অপরাধপ্রবণতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা, অস্ত্রের বিস্তারসহ ২৩টি বিষয় মূল্যায়ন করা হয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জঙ্গি-সন্ত্রাস দমানোসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন ভালো হলেও ‘বাহ্যিক সংঘাতের’ কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়াকেই মান অবনমনের প্রধান কারণ বিবেচনা করা হচ্ছে। অবশ্য এতে বাংলাদেশের করারও কিছু ছিল না। মানবিক কারণেই হত্যা-নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দিতে হয়েছে। সারা দুনিয়া বাংলাদেশের এই অবস্থানের প্রশংসাও করছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংকট সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর চলতি সপ্তাহে মিয়ানমার জাতিসংঘের সঙ্গেও চুক্তি সই করেছে। আশা করা যায়, শিগগিরই প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া শুরু হবে। এর পরও বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা নিতে হবে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। মিয়ানমারে অব্যাহত নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পালিয়ে আসার ঘটনা নতুন নয়। চার দশক ধরেই বিভিন্ন সময়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। গত বছর আসা সাত লাখ রোহিঙ্গা ছাড়াও আগে বিভিন্ন সময়ে আসা প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়ে গেছে। ফলে বাংলাদেশে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এবারও অনেক রোহিঙ্গা ফিরে যেতে চাইবে না এবং বাংলাদেশে থেকে যাবে। এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের অনেকে সীমান্ত এলাকা ছাড়িয়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে কক্সবাজার ও বান্দরবনের প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বিপুল ক্ষতি হয়েছে ও হচ্ছে। এসব এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ক্রমে খারাপ হচ্ছে। মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বেড়ে গেছে। তাই এ সংকট মোকাবেলায় ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে।
সব উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য থাকে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাড়ানো এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ভালো। আমরা আশা করি, সামনের দিনগুলোতেও বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং আগামী বছর শান্তির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ওপরে উঠে আসবে।

আইসিটি প্রকল্পের উদ্যোগ প্রশংসনীয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ নামের প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ হলো, কমিশন বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে প্রথম দরপত্রে ইচ্ছামাফিক শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এতে অংশ নেয়নি নামি কোনো প্রতিষ্ঠান। প্রথমে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান না করে সরাসরি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা উপকরণ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট অনেকের অভিযোগ, এর উদ্দেশ্য ছিল পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া। পরে এ পরিকল্পনা বাদ দিয়ে ‘ই-জিপি’ (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) ব্যবস্থায় দরপত্র আহ্বান করা হয়।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযুক্ত তিন হাজার ৩৪০টি স্কুল এবং বিদ্যুৎ সংযোগহীন আরো প্রায় পাঁচ হাজার বেসরকারি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। পরিচালনার জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। স্কুলগুলোকে আধুনিক করার জন্য, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিসচেতন ও প্রযুক্তিঋদ্ধ করার জন্য এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের সমস্যা খুবই পরিচিত, সরকারি প্রকল্পে বরাবর যা হয়ে থাকে অনিয়ম, দুর্নীতি।
গত এপ্রিলে ই-জিপি ব্যবস্থায় চারটি প্যাকেজে ১৩ হাজার মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে দরদাতার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়নি। অথচ এটি দরপত্রের অন্যতম শর্ত। ১৪ মে দরপত্র খোলা হয়। দেখা যায়, দুটি প্যাকেজের জন্য কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। বাকি দুটি প্যাকেজের জন্য দুটি দরপত্র জমা পড়েছে। যারা জমা দিয়েছে তাদের পণ্য সরবরাহের অভিজ্ঞতা নেই; দরও অনেক বেশি ধরেছে। ফলে ১০০ কোটি টাকার এ দুই প্যাকেজে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ক্ষতি হতে যাচ্ছে। প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) ব্যাপারে অভিযোগ হলো, তিনি নিয়োগ পেয়েই পছন্দের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার তৎপরতা শুরু করেন। এখনো ওই সব প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যেই একটি প্যাকেজে পাঁচটি শিক্ষা উপকরণ একসঙ্গে কেনার কথা থাকলেও তিনি আলাদা প্যাকেজে উপকরণ কেনার দরপত্র আহ্বান করেন। এতে উপকরণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। খরচও বেশি হবে। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বাবদ খরচ কমার কথা। সে বিবেচনায় প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের চেয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্লাসপ্রতি খরচ ৩০ হাজার টাকা বেশি ধরা হয়েছে। এর পেছনেও কমিশন বাণিজ্যের উদ্দেশ্য রয়েছে।
শিক্ষার প্রসার ও আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিসচেতন ও প্রযুক্তিঋদ্ধ করার যেকোনো উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে তার বাস্তবায়ন সুষ্ঠু হতে হবে। সংশ্লিষ্টরা সেদিকে নজর দেবেন বলে আশা করি।

 

স্থিতিশীল পুঁজিবাজার সৃষ্টি হউক

পুঁজিবাজারে একধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে মোট ২১ কার্যদিবসের মধ্যে ১৮ দিনই দরপতন হয়েছে। মাত্র তিন দিন সূচক সামান্য বেড়েছে। ফলে গত মাসে মোট সূচক কমেছে ৩৯৫ পয়েন্ট। সূচকের এমন নিম্নগতির জন্য দায়ী বিস্তারিত

বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন

রোজার আগে থেকেই নানা অজুহাতে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিবছরই এই প্রবণতা লক্ষ করা যায়। অন্যান্য দেশে উৎসবের আগে জিনিসপত্রের দাম কমানো হয়, আমাদের দেশে দেখা যায় এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। এখানে প্রতিবছর উৎসবের আগে বিস্তারিত

সুপরিকল্পিত, সুসমন্বিত ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট

সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ। বাজেট উপস্থাপন করা হবে আগামী বৃহস্পতিবার। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন বাজেটের আকার হবে চার লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো। অর্থাৎ আগের বাজেটের তুলনায় প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা বেশি। বিস্তারিত

ঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ভোগ

আর মাত্র কয়েক দিন। এর পরই শুরু হবে ঈদ যাত্রা। সড়কপথে বাসের টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। নৌপথে লঞ্চের টিকিটও বিক্রি শেষ। বরাবরের মতো এবারও ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরবে মানুষ। ঈদ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবে নিকটজনদের সঙ্গে। ঈদ যাত্রা বরাবরই এক ভোগান্তির নাম। এবারও তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটবে না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানী থেকে বের হওয়ার প্রায় সব পথেই থাকবে বড় ধরনের যানজট। উত্তরের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে টাঙ্গাইল মহাসড়কে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অবস্থাও ভালো নয়। গত বছরের জুনে মেরামত শেষ হওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ২০ বছর টেকসই হওয়ার কথা থাকলেও এক বছর পার না হতেই বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভগ্নদশা। এরই মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর রক্ষণাবেক্ষণের নতুন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়ে। অন্যান্যবারের মতো এবারও খানাখন্দে ভরা রাস্তা মানুষকে ভোগাবে। ঈদের সময়ের স্বাভাবিক চিত্র হচ্ছে, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি চলে আসবে। পথে পথে যানজট ভোগাবে। তার সঙ্গে এবারও যুক্ত হচ্ছে ক্ষতবিক্ষত সড়ক-মহাসড়ক। পথে পথে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো ও গাড়ি পার্কিং, রাস্তার মাঝখানে যেকোনো যানবাহন নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে যানবাহনের গতি শ্লথ হয়ে যায়। অন্যদিকে এ সময় মহাসড়কে শ্লথগতির যানবাহনও উঠে আসে। অধিক লাভের আশায় আন্ত জেলা বাস কম্পানিগুলো তাদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
সড়কপথে ঢাকা থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে যানজট থেকে শুরু করে নানা দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রেল ভ্রমণকেই পছন্দ করতে শুরু করেছে মানুষ। গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে রেলের আগাম টিকিট বিক্রি। মহাসড়কের যানজট ও নৌপথের বিড়ম্বনার কথা মাথায় রেখে এবার বেশির ভাগ ঈদের যাত্রী ট্রেনকেই ঈদ যাত্রার বাহন হিসেবে চিন্তা করতে শুরু করে। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি। এবারও চাহিদার চেয়ে ট্রেনের টিকিট কম। কৃত্রিম সংকট এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। অসাধু কর্মকর্তাদের আশকারায় এবারও দালালরা টিকিট বাণিজ্য শুরু করেছে বলে প্রথম দুই দিনেই অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার ঈদ যাত্রায় প্রতিদিন দুই লাখ ৭৫ হাজার যাত্রী চলাচল করবে। এবারের ঈদ যাত্রায় পূর্ব রেলে ৯০টি অতিরিক্ত বগি সংযোজনের কথা বলা হচ্ছে। কারখানায় বগি মেরামত চলছে।
ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ঈদের আগেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কগুলো যাতে মেরামত করা হয়ে যায়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। ফিটনেসবিহীন যানবাহন যাতে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগকে দৃষ্টি দিতে হবে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করতে হবে।

মাধ্যমিক পর্যায় পরীক্ষা

শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে চাপ কমাতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় তিনটি করে বিষয়ের পাশাপাশি পরীক্ষার নম্বর ২০০ কমানো হয়েছে। জেএসসি-জেডিসিতে এত দিন বাংলা ও ইংরেজির দুটি করে পত্রে ১৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হতো। এখন বাংলা ও ইংরেজিতে আর আলাদা পত্র থাকবে না। একেকটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। অষ্টম শ্রেণি বা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় আগে ১০টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হতো। এখন বাংলা ও ইংরেজির দুটি এবং চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে না। পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেএসসিতে এখন ৮৫০ নম্বরের পরিবর্তে ৬৫০ নম্বর এবং জেডিসিতে ১১৫০ নম্বরের পরিবর্তে ৯৫০ নম্বরের পরীক্ষায় বসতে হবে শিক্ষার্থীদের। ঐচ্ছিক বিষয়ে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে।
বাংলাদেশে শিক্ষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা অতীতে কম হয়নি, এখনো কম হচ্ছে না। একটি জাতীয় শিক্ষানীতি থাকার পরও সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য স্থির করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম হয়নি। এমনিতেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব আছে বলেও মনে হয় না। শহরাঞ্চলের বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের ব্যাগে বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারাকেই তাদের সাফল্য বলে মনে করে। অভিভাবকদের অনেকেই এই বইয়ের বোঝাকে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদাহরণ হিসেবে মনে করে থাকেন। অথচ এর ফল কখনো ভালো হয়নি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই ও পরীক্ষা ভীতি দেখা দেয়। অন্যদিকে পরীক্ষার ব্যাপারেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়। এমনিতেই এখন দেশের বেশির ভাগ অভিভাবককে পেয়ে বসেছে জিপিএ ৫ প্রবণতা। এই প্রবণতাকে অনেকটা সামাজিক ব্যাধিও বলা যেতে পারে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। জিপিএ ৫ নামের মরীচিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে শৈশব-কৈশোর হারিয়ে যাচ্ছে বদ্ধ ঘরে আর প্রাইভেট টিউশনিতে। যেকোনো শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও এটা অস্বাভাবিক। জিপিএ ৫ ও পাসের হার আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার যে ক্ষতি করেছে, তা বলার নয়। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। আমাদের দেশে গত বেশ কয়েক বছর সরকার সুনির্দিষ্ট সময়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই বিতরণ করছে। বর্তমান সরকারের এটাও একটি বড় সাফল্য। কিন্তু জিপিএ ৫ লক্ষ্য হয়ে পড়ায় লেখাপড়ার মান কতটুকু রক্ষা করা যাচ্ছে, সে প্রশ্নটা এখন প্রকট হয়েই দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া পিইসি, জেএসসি, জেডিসি ও এসএসসি প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে কি এত পরীক্ষার প্রয়োজন আছে? বিশেষজ্ঞরা বারবারই বলেছেন, পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অনুকূল নয়। অথচ পরীক্ষার চাপ কম থাকলে বা প্রাথমিকের পর যদি শুধু জেএসসি বা জেডিসি পরীক্ষা হতো, তাহলে শিক্ষার্থীরা চাপমুক্ত থাকতে পারত। আমরা আশা করব, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি সঠিক সিদ্ধান্তে যেতে পারবে।

মাদক বিরোধী অভিযান সফল হউক

মাদকের বিস্তার এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে তা নিয়ে সমাজের সচেতন অংশ চরমভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিল। যুবসমাজের একটি বড় অংশই ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। সমাজে অস্থিরতা বাড়ছিল। মাদকের কারণে ছেলে-মেয়ের হাতে মা-বাবা খুন, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন হওয়াসহ খুনখারাবির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছিল। সেই সঙ্গে বাড়ছিল মাদকের অর্থ জোগাড়ের জন্য চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো নানা অপরাধও। আগে মাদক আসত সীমান্ত পেরিয়ে। এখন দেশের ভেতরেই একের পর এক মাদক তৈরির কারখানা গড়ে উঠছে। ইয়াবা তৈরির বেশ কিছু কারখানা ধরাও পড়েছে। মাদক পরিবহনেও নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। বরিশালে গত বুধবার এক ব্যক্তির পেটে অস্ত্রোপচার করে এক হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের এই বাড়বাড়ন্ত নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখির অন্ত ছিল না। এ ব্যাপারে সরকারের নিষ্ক্রিয়তারও কড়া সমালোচনা হচ্ছিল। অবশেষে গত ৪ মে থেকে সরকার মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি। গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোথাও কোথাও মাদক কারবারিদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। তারা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি চালিয়েছে। পুলিশও তখন পাল্টা গুলি চালিয়েছে। এভাবে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে শতাধিক অভিযুক্ত মাদক বিক্রেতা। এরই মধ্যে কেউ কেউ মাদকবিরোধী অভিযানের নানা দিক নিয়ে সমালোচনাও শুরু করেছেন। এসব সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদকবিরোধী এ অভিযান মোটেও অপরিকল্পিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দারা মাদক কারবারিদের তালিকা করেছে। সেই তালিকা ধরেই অভিযান চলছে। বড়-ছোট কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকেও জানা যায়, দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থাই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এখানে গডফাদার যেমন আছে, তেমনি খুচরা বিক্রেতাও আছে। এমনকি কয়েকটি থানার ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তারও নাম এসেছে এই তালিকায়, যাঁরা কোনো না কোনোভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, ‘আমি যখন যেটা ধরি, ভালোভাবেই ধরি। যে যেই অবস্থানেই থাকুক না কেন, তালিকার কেউই ছাড় পাবে না।’ আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ়তার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। আশা করছি, বর্তমান মাদকবিরোধী অভিযান সর্বাঙ্গীণ সাফল্য লাভ করবে। দেশের তরুণ সমাজ যেভাবে ধ্বংসের পথে পা বাড়িয়েছিল, তা থেকে রক্ষা পাবে। তাদের হাত ধরেই দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।