বিভাগ: ভেতরের পাতা

ছাতকে আ’লীগের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি গঠন

ছাতক থেকে সংবাদদাতা :
ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের আ’লীগের ৯নং ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ইউনিয়নের রায়সন্তোষপুর গ্রামের খালিক মিয়ার বাড়িতে আ’লীগের এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউপি সদস্য আকল মিয়ার সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবলীগ নেতা আব্দুস শাকুরের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কালারুকা ইউনিয়নের আ’লীগের বিস্তারিত

ছাতকে মাতৃবন্ধন সমাজ কল্যাণ সংস্থার কমিটি গঠন

ছাতক থেকে সংবাদদাতা :
ছাতকের বিলপারে মাতৃবন্ধন সমাজ কল্যাণ সংস্থার কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সংগঠনের কার্যালয়ে মিলন মিয়ার সভাপতিত্বে ও রহিম উদ্দিনের পরিচালনায় এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা ডা: মুজিবুর রহমান, বিলাল আহমদ ফাহিম, সেলিম উদ্দন, কয়েছ আলী, জয়নাল আবেদীন, পারভেজ আহমদ, আক্কাছ আলী বিস্তারিত

জৈন্তাপুরে মতবিনিময় সভায় জেলা ও দায়রা জজ ॥ আইনগত সহায়তা দিতে সরকার লিগ্যাল এইড সহায়তা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে

JAINTAPUR PHOTO- 21-11-2014সিলেট জেলার দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের সুবিধা বঞ্চিত হতদারিদ্র জনগোষ্ঠী কে বিনা মূল্যে আইনগত সহায়তা দিতে লিগ্যাল এইড সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে সমাজের গরীব দু:খী মানুষের বিভিন্ন মামলার ব্যয় কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে এই সংস্থার কার্যক্রমকে আরো বেগমান করতে তিনি জনপ্রতিনিধি বিস্তারিত

লেখাপড়া করে মা বাবার কষ্টার্জিত অর্থ কাজে লাগাতে হবে – সমাজকল্যাণমন্ত্রী

Moulvibazar.Menestar.pic.1মৌলভীবাজার থেকে সংবাদদাতা :
সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী এমপি বলেছেন, শুধু রাজনীতি করলে চলবে না ভালোভাবে লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হয়ে দেশ গড়তে হবে। আর তাতেই স্বার্থক হবে মা বাবার পরিশ্রম। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিস্তারিত

জেলা ও মহানগর জিশিস‘র পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের বন্ধু বাংলা রাখার রাজা সার্ক‘র স্বপ্ন দ্রষ্টা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপির সহযোগী সংগঠন ‘জিয়া শিশু কিশোর সংগঠন’ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহ আলম রেজা ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিলেট জেলার সভাপতি হুমায়ুন কবীর শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বিস্তারিত

আজ জকিগঞ্জ মুক্ত দিবস ॥ একাত্তরের ২১ নভেম্বর শ্বাসরুদ্ধকর ১২ ঘণ্টা

জেড, এম, শামসুল

২১ নভেম্বর ১৯৭১ সালে এই দিনে জকিগঞ্জ থানা হানাদার মুক্ত হয় । দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্য দিয়ে ভারতীয় মিত্র বাহির সহযোগীতায় অসংখ্য আহত নিহতের মধ্য দিয়ে জকিগঞ্জ থানা সদর সহ আশ-পাশ এলাকা শত্র“ মুক্ত হয়। এই দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার কথা স্মরণ হলে এখন আঁতকে উঠতে হয়। ঈদের দিন সন্ধ্যার পূর্বেই জকিগঞ্জে সুরমা ও কুশিয়ার নদী পার হয়ে মুক্তিবাহিনী বাংলার গ্রামে গ্রামে প্রবেশ করে। দীর্ঘ ২২৩ দিনের মধ্যে নদীর তীর কি ? নিজের বসত বাড়ীতে শান্তিতে ছিলাম না কোন মুর্হর্তে বিপদ আসবে। তা নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে হয়েছে মাত্র কিছু দিন পূর্বে স্থানীয় লোহার মহল গ্রামের ১২ জনকে ধরে নিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে ঘাতক বাহিনী। এর ২/৩ দিন পরেই এক জুম্মাবার আমার পিতাকে স্থানীয় রাজাকার ও পাঞ্জাবী সেনাবাহিনীর কুখ্যাত বশরাত ক্যাপন্টেন ও তার সহযোগিরা ভূঁইয়ার মোরা জামে মসজিদে প্রবেশ করে নামাজরত অবস্থায় আটক করে মুসল্লীদের সামনে চরম নির্যাতন চালায়। এ সময় স্থানীয় দালাল চক্রের কথা মত ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দিয়ে ছাড়িয়ে আনলেও তবু শান্তি ছিল না। দালাল চক্র আমাকে বিচ্ছু নাম দিয়ে হত্যা করার চেষ্টা চালায়। তখন এলাকার  কয়েক জন রাজাকার আমাদের জীবন রক্ষায় এবং পাঞ্জাবী ও দালাল চক্রের হাত থেকে লুকিয়ে রাখতে  যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। এ সময় অন্যান্য দিনের মত ঈদের দিন বাড়ীতে কিছু সময় কাটিয়ে সন্ধ্যার পূর্বেই বাড়ী থেকে পালিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ আমার বাবার এক বিশ্বস্ত বন্ধুর ভাই জফি মিয়া, বাড়ীর উত্তর পাশে পেলে তিনি আমাদেরকে পালিয়ে না যাওয়ার জন্য উপদেশ দিলেন। এবং বললেন আজ যে ভাবেই হউক মুক্তিযোদ্ধারা জকিগঞ্জে অপারেশন চালাবে।
এই অপারেশন সফল হবে। সত্যি কিছুক্ষণ পর আমাদের বাড়ীর আশ-পাশে পরিচিত অপরিচিত ভিক্ষুক বেশি মুক্তি যোদ্ধাদের আনাগুনা দেখে বুঝতে দেরি হল না। যে মুক্তিযোদ্ধারা  গ্রাম গঞ্জে প্রবেশ করে ফেলছে, তাই আমরা বাড়িতে ফিরে আসার পথে আমার পাশের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ (হামিন্দ আলী), সহ কয়েক জন পেয়ে গেলাম। মনে অনেক সাহস হল। সন্ধ্যার সাথে সাথে বাড়ীতেই প্রবেশ করতেই দেখা হল স্থানীয় লোহার মহল, খাপনা, লামার গ্রামের, কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধা আমাদের নারিকেল গাছের নিচে বসে আমাদের অপেক্ষা করছেন।
রাত্রি ঘনার সাথে সাথে জকিগঞ্জের তিন দিক ভারত থেকে গুলি ও মর্টারের শব্দ ভেসে আসতে শুরু করল। নদীর তীরবর্তী বাড়ীগুলো থেকে লোকজন স্থাবর অস্থাবর জিনিসপত্র ফেলে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজতে শুরু করল। নদীর তীরে অবস্থিত ব্যাংকারগুলো ছেড়ে রাজাকার ও পাঞ্জাবীরা জকিগঞ্জ মুখি হয়ে স্থান ত্যাগ করতে শুরু করল।  এ সময় জকিগঞ্জে ভিতর ও বাহির থেকে মরণ পণ যুদ্ধে ভোর ৫ টায় জকিগঞ্জ থানা সদর শত্র“ মুক্ত হয়। বিকাল ৫টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এ ১২ ঘণ্টা হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের ডামাডোলে এবং জকিগঞ্জ এলাকা ভূমিকম্পের মত কম্পিত হয়ে উঠে ছিল। এ অবস্থায় জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধারা জকিগঞ্জ শত্র“ মুক্ত করে। এ সময় ভারতীয় মিত্রবাহিনী মেজর চমন লাল সহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা হতাহত হন। জকিগঞ্জ শত্র“ মুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশ প্রেমিক জনতা ঘর ছেড়ে নদী তীরবর্তী অসংখ্য ব্যাংকারে হানা দেয়। এবং পাঞ্জাবী রাজাকারদের আটক করে। স্বাধীনতা প্রেমিক জনতার ভিড় জমে উঠে থানা সদরে এদিন আটগ্রামে হানাদার বাহিনীর সাথে মুখোমুখি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে অনেক হানাদার ও মিত্র বাহিনী মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ হারান। ২২ নভেম্বর হানাদার বাহিনী কানাইঘাট এর দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। জকিগঞ্জ হানাদার মুক্ত হওয়ার পর ২২ নভেম্বর সকালে জকিগঞ্জ থানা সদরে প্রথম প্রবেশ করেন, তৎকালিন এম,পি, এম,এর লতিফ, ইছমত আহমদ চৌধুরী, আব্দুল মঈদ চৌধুরী, অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিন জকিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দাউদ হায়দারকে জকিগঞ্জের বেসামরিক প্রশাসক নিয়োগ করেন এবং শত্র“ মুক্ত এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে বীর মুক্তিযোদ্ধা স্পেশাল কমান্ডার এনাম চৌধুরী কে প্রধান করে মুক্তিযোদ্ধা স্পেশাল কমান্ডার মাসুক উদ্দিন আহমেদকে উপপাদান, ও খলিল উদ্দিনকে সহকারী কামান্ডার নিয়োগ করে প্রশাসনিক কর্মকান্ড শুরু করা হয়। এদিনে জকিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঘোষণা করা হয় মহান মুক্তিযুদ্ধে জকিগঞ্জই প্রথম মুক্ত অঞ্চল। এদিন আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও প্রশাসক নিয়োগ এভাবে সম্পূর্ণ হয়েছিল। এদিনই জকিগঞ্জ হানাদার বাহিনীর সাথে লড়াইয়ের শেষ ঘণ্টা বাজল।
লেখক পরিচিতি : মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক মুক্তিদিবস উদযাপন পরিষদ সিলেটের আহবায়ক। বিশিষ্ট সাংবাদিক।

মানবতার কল্যাণের মাধ্যমে পরিপূর্ণ আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় – ডিষ্ট্রিক্ট গভর্ণর এম এ লতিফ

রোটারী ডিষ্ট্রিক্ট গভর্ণর ইঞ্জিনিয়ার এম,এ লতিফ এমপিএইচএফ এমডি গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যা- ৭টায় নগরীর একটি রেষ্টুরেন্টে রোটারী ক্লাব অব সিলেট প্রিমিয়ার এর গভর্ণর ভিজিটে অংশ্রগহণ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন প্রচুর ও অতিরিক্ত ধন-সম্পদ কোন দিনই কল্যাণ বয়ে আনে না যদি না আপনি সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি রোটারিয়ানদের প্রতি আহবান বিস্তারিত

নয়াসড়ক শাহ্ চা›ঁদ গাজী জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

নয়াসড়ক শাহ্ চা›ঁদ গাজী জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন। গত সোমবার সকালে এই মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ, মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লী নজমুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, সহ- সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন শাহেদ, কোষাধ্যক্ষ জাকির হোসেন, বিস্তারিত

ইভটিজিং এর কারণ ও প্রতিকার

॥ মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান ॥

(পূর্ব প্রকাশের পর)
নারীদের রাস্তায় নম্রভাবে চলাচল : ইসলামী অনুশাসন হল নারীরা সাবধানতার সাথে রাস্তার একপাশ দিয়ে চলাচল করবে নম্র ও শালীন ভাবে। কিন্তু তারা যদি অহংকারের সাথে রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলাচল করে, তবে তাদের ইভটিজিং এর সম্মুখীন হওয়া অতি সাধারণ। তাই ইসলামী অনুশাসন মান্য করা জরুরী। মহান আল্লাহ বলেন, তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদাচারণা না করে। “আল-কোরআন,২৪: ৩১”
পোশাকের ব্যাপারে ইসলামী বিধানমালা অনুসরণ : নারীর পোশাকের ব্যাপারে ইসলামী বিধ-বিধানের কয়েকটি হলো-
* সতর পরিমাণ ঢেকে থাকে এমন ঢিলে ঢালা পোশাক পরিধান করা;
প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক না পরা; আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন: “তারা তাদেও সৌন্দর্যকে যেন প্রকাশ না করে। (আল-কুরআন, ২৪: ৩১)
* জাহিলিয়াতের ন্যায় নগ্নপোষাক না পরা; “মাহন আল্লাহ বলেন: “জাহিলী যুগের ন্যায় তোমরা সৌন্দর্যকে প্রদর্শন করো না।” (আল-কুরআন, ৩৩: ৩৩)
* পোষাক স্বচ্ছ পাতলা না হওয়া; “পর্দার উদ্দেশ্য আবৃত করা এবং তাদনুযায়ী সাফল্যের জন্য পাতলা স্বচ্ছ কাপড় দ্বারা পর্দা তৈরী করা ঠিক হবে না। নামে মাত্র পর্দা আর বাস্তবতায় অনাবৃত এ হতে পার না। মহানবী (সা.) বলেন, “আমার শেষ জামানার  উম্মতের নারীরা পোষাক পরিচ্ছদ ব্যবহার করলেও প্রকৃতপক্ষে তাদেরকে উলঙ্গ মনে হবে, তাদের চুলের খোপাকে মনে হবে যেন বুখ্ত উটের কুঁজোর মতো সুউচ্চ। তাদের অভিশাপ দাও, কেননা তারা অভিশপ্ত।” (আত-তাবারানী, মুজামুস সাগীর, অধ্যায়: বাবুল হা’, অনুচ্ছেদ: মান ইসমুহু হারুন, বৈরুত: মাকতাবাতুল ইসলামী, ১৪০৫ হি., হাদীস নং-১১২৫)”
* পোষাক আঁটসাঁট না হওয়া; “পর্দা ফেৎনা হতে বাঁচার রক্ষাকবচ। এটা আঁটসাঁট হলে নারী-পুরুষের দেহ গঠন প্রণালী প্রকাশিত হবে এবং তাতে পর্দার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। এ প্রসঙ্গে উসামা ইবনু যায়দ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলূল্লাহ (সা.) আমাকে একটি কুবতী মোটা আঁটসাঁট কাপড় পরার জন্য দিলেন, যা তাঁকে দাহ্ইয়া আল-কালবী (রা.) উপঢৌকন দিয়েছিলেন। আমি কাপড়টি নিয়ে আমার স্ত্রীকে পরার জন্য দিয়েছিলাম। রাসূলূল্লাহ (সা.) তা জানতে পেরে বললেন: কী? ব্যাপার, তুমি কুবতী কাপড়টি পরলে না? আমি জবাব দিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা.), আমি কাপড়টি আমার স্ত্রীকে পরার জন্য দিয়েছি। তখন রাসূল (সা.) বললেন: তোমার স্ত্রীকে এ নির্দেশ দেবে, যেন সে এর নিচে একটি অর্ন্তবাস পরে নেয়। কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, এতে তার হাড়গুলোর আকৃতি বাহির থেকে ফুটে ওঠতে পারে।” (ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদ, অধ্যায়: মুসনাদে আনসার, অনুচ্ছেদ: হাদীসে উসামা বিন যায়েদ হুব্বে রাসূল (সা.), দামেশক: মআস্্সাসাতুর রিসালাহ, ১৪২১ হি., হাদীস নং- ২১৭৮৬)
* নারী-পুরুষের পোষাকে সাদৃশ্য না হওয়া; “এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন: “যে নারী পুরুষের বেশ ধারণ করে আর যে পুরুষ নারীর বেশ ধারণ করে, তারা আমাদের দলের নয় অর্থাৎ তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়।” (ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদ, অধ্যায়: মুসনাদে মুকসিরীনা মিনাস সাহাবা, অনুচ্ছেদ: মুসনাদে আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.) প্রাগুক্ত, হাদীস নং-৬৮৭৫)
* মুসলিমের পোশাক বিজাতীয় পোষকের ন্যায় না হওয়া; “এ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্য (পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সংস্কৃতিতে) রাখে, সে তাদের অন্তর্ভূক্ত।” ( ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-লিবাস, অনুচ্ছেদ: বাবু ফি লুবসিস শুহরাতি, বৈরুত: মাকতাবাতুল আসরীয়া, তা.বি, হাদীস নং-৪০৩১)
* যশ-খ্যাতির উদ্দেশ্যে পোশাক না পরা; “এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি দুনিয়ার খ্যাতিজনক পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরিধান করাবেন, অতঃপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করে আগুনে জ্বালাবেন।” (ইমাম ইবনে মাজাহ, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-লিবাস, অনচ্ছেদ: বাবু মান লাবিসা শুহরাতান মিনা লিবাসি, বৈরুত: দারে ইহইয়া কিতাবুল আরাবীয়্যাহ, তা. ডব., হাদীস নং-৩৬০৭)
সর্বোপরি ইসলাম নির্দেশিত পোশাকের বিধান অনুসারে হিজাব অনুশীলনের মাঝেই নারীর সঠিক মর্যাদা ও কল্যাণ নিহিত। বেপর্দার কারণেই নারী নির্যাতন, ইভটিজিং সমাজে আজ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, কোরআনের এ সুন্দর বিধানকে উপেক্ষা করে আজকের সমাজে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চাকুরীজীবীদের কর্মস্থল ইত্যাদিকে শালীনতা বিবর্জিত ও ইসলাম বিরোধী পোশাকের প্রচলন করা হয়েছে। যা ইভটিজিং এর মতো অনভিপ্রেত অপরাধ বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সুতরাং ইভটিজিং বন্ধে ইসলামী পোশাক প্রচলন জরুরী। বাংলাদেশে সংঘটিত ইভটিজিং এর অধিকাংশই নারীদের সৌন্দর্য প্রদর্শন ও অশ্লীল পোশাক পরিধানের কারণেই হয়ে থাকে। “সারণি-৪ দেখুন।”
নারীদের সুগন্ধি ব্যবহার : যেহেতু সুগন্ধি ইন্দ্রিয়গুলোকে উত্তেজিত করে, তাই মহানবী (সা.) মহিলাদেরকে খোশবু লাগিয়ে বাইরে বের না হবার হুকুম দিয়েছেন। আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোন মহিলা যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর মানুষের পাশ দিয়ে হাঁটে, যাতে তারা তার সুঘ্রাণ পায়, তবে সেই মহিলা ব্যভিচারিণী। ‘‘আবু আব্দুর রাহমান আহমদ বিন শুআইন আন-নাসায়ী, আস-সুনান, হালব: মাকাতাবাতু মাতবাআতু আল-ইসলামীয়্যাহ, ১৪০৬ হিজরী, হাদীস নং = ৫১২৬”। সুতরাং ইভটিজিং বন্ধে ইসলামী অনুশাসন মেনে নারীর উচিত হবে সুগন্ধি ব্যবহার করে বাইরে বের না হওয়া।
পরপুরুষের সঙ্গে আবেদনময়ী স্বরে কথা না বলা : পরপুরুষের সঙ্গে নারীর কথা বলার ভঙ্গি ও ধরণ এমন হতে হবে, যাতে আলাপকারী পর পুরুষের মনে অশুভ চিন্তার উদয় না হয়। পরপুরুষের ক্ষেত্রে সর্বদা ইসলামের এই অনুশাসনটির কথা স্মরণ রাখতে হবে, যাতে করে কেউ নারীর কথার দ্বারা তার প্রতি আকর্ষিত না হয়। যার কুপ্রভাব হতে পারে ইভটিজিং এর মত জঘন্য কাজ। মহান আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে। “আল-কোরআন, ৩৩: ৩২”
ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন : ইভটিজিং একটি সামাজিক সমস্যা। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের মাঝে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তারা বাস্তবতার তুলনায় আবেগ তাড়িত হয়েই মূলত এ সকল ঘৃণ্য কাজ করে। তাই তাদের সামনে যদি ইসলামী অনুশাসন শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়, তাহলে ইভটিজিং বন্ধে তা হবে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। উদাহরণ স্বরূপ ঘঈঞই অনুমোদিত ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর সিলেবাসে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ইসলামী শিক্ষা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর প্রথম পত্র বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে  ‘ইভটিজিং প্রতিরোধের ধর্মীয় অনুশাসন’ অন্তর্ভুক্তি।
ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা : বর্তমান সমাজে প্রচলিত অপসংস্কৃতি মূলত ইভটিজিং এর প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষকের ভূমিকা পালন করে। সুতরাং ইভটিজিং বন্ধ করতে হলে পশ্চিমা ও ভারতীয় অপসংস্কৃতির বিপরীতে ইসলামী সংস্কৃতির উপর জো দেয়া জরুরী। বাংলাদেশে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা জোরদারকরণে‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ যথার্থ প্রতিষ্ঠান। ইসলামী সংস্কৃতি বাস্তবায়নে এ প্রতিষ্ঠানের আরো বলিষ্ঠ পদক্ষেপ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আমাদের কয়েকটি প্রস্তাবনা হলো-
* সরকারী উদ্যোগে ইসলামী টেলিভিশিন ও বেতার চ্যানেল প্রতিষ্ঠা;
* সরকারী ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চালু করা;
* দেশের চলমান টেলিভিশন ও বেতারগুলোকে ইসলামাইজেশন করার উদ্যোগ গ্রহণ;
* এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন ইসলামী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী গঠন।
পরিবার প্রথা ও পারিবারিক বন্ধন সদৃঢ়করণ : আধুনিক সমাজ যান্ত্রিক উন্নতিকে আত্মস্থ করতে গিয়ে নৈতিকতাকে সম্পর্ণ উপেক্ষা করছে। পশ্চাত্যের অধিকাংশ মানুষ ‘খরারহম ঃড়মবঃযবৎ’ পন্থাকে ‘গধৎৎরধমব’ এর বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করেছে। যা দেখে আমাদের কোমলমতী তরুণ-তরুণীরা ইভটিজিং-এ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। অথচ ইসলাম অভিভাবকদের নির্দেশ দিয়েছে পরিণত বয়সে ছেলে মেয়েদেরকে বিয়ের ব্যবস্থা করতে। মহান আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও। “আল-কোরআন, ২৪: ৩২”
আলক্বামাহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহ করতে সক্ষম, তারা যেন বিবাহ করে নেয়। আর যে ব্যক্তি বিবাহ করতে অক্ষম, সে যেন রোজা রাখে। কেননা, রোজা তার যৌন ক্ষুধাকে অবদমিত রাখে। ইমাম বুখারী, প্রাগুক্ত, হাদীস নং-৫০৬৫”
চারিত্রিক উন্নতি সাধন : মূলত চারিত্রিক অবক্ষয়ের করণেই সমাজে ইভটিজিং এর ন্যায় ভয়াল সামাজিক অপরাধ নেমে এসেছে। তাই ইভটিজিং প্রতিরোধে যে কাজটি সবার আগে করতে হবে তা হলো- ব্যক্তি চারিত্রের উন্নতি সাধন। ইসলামী জীবনাদর্শে চারিত্রিক উন্নতি সাধন একটি মহৎ গুণ। নবী মুহাম্মদ (সা.) চারিত্রিক উন্নতির পূর্ণতা সাধন করতেই এ পৃথিবীতে আগমন করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, মহান নৈতিক গুণাবলী পবিপূর্ণ করার জন্যই আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে। “আবু মুহাম্মদ আব্দল্লাহ বিন ওয়াহাব বিন মুসলিম, আল জামে, মিশর: দারে মাকতাবা হাসান হুসাইন, ১৪৬১., হাদসি নং-৪৮৩”
নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি গঠন : মানুষ নৈতিক জীব। নৈতিক জীবনবোধ মানুষকে ভালো-মন্দ, সৎ-অসৎ ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, নীতি-দুর্নীতি, পাপ-পুণ্য সম্পর্কে সচেতন করে, প্রেরণা যোগায়, ভালো হতে সাহয্য করে। ধর্মই নৈতিকতার “নৈতিকতার ইংরেজী প্রতিশব্দ গড়ৎধষরঃু, যা এসেছে গড়ৎধষং থেকে। এর অর্থ হলো: আচর-ব্যবহার, রীতি-নীতি বা ঈঁংঃড়সং প্রথা। আরবী প্রতিশব্দ হচ্চে খুলুক বহুবচন (কযঁষয়) বহুবচন (অশযষধয়) আখলাক।” আসল ও প্রকৃত উৎস। ধর্মের বাঁধন শিথিল হয়ে গেলে কিংবা ধর্মের শিক্ষা ও নির্দেশনা ভুলে গেলেও মানুষ তার সামাজিক পরিমন্ডলের উচিত-অনুচিত বোধ থেকে নৈতিক অবস্থান তৈরী করে নেয়; যা সর্বাত্মক ও পরিপূর্ণ নয়। কেননা, আল্লাহ প্রদত্ত তথা স্রষ্টার পক্ষ থেকে প্রেরিত নীতিমালা ও বিশ্বাসই মানব জীবনের সার্বিক কল্যাণের চালিকাশক্তি। ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কহীন মানব জীবনের সামগ্রিক কল্যাণ উন্নয়ন ও পরিত্রাণ সম্ভব নয়। এজন্যই সত্য ধর্মাশ্রিত নৈতিক শিক্ষা মানব জীবনের জন্য অপরিহার্য। ইসলাম ধর্মই নৈতিকতা শিক্ষার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। সুতরাং একজন মুসলিম হিসেবে আমাদেরকে নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, নৈতিকতার বিচারে যে ব্যক্তি উত্তম, মু’মিনদের মধ্যে সে ব্যক্তিই পূর্ণতম ঈমানের অধিকারী। “ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, অধ্যায়: আবওয়বুল রিদা, অনুচ্ছেদ: বাবু মা জাআ ফি হাক্কুল মিরআতি আলা জাওজিহা, মিশর: শিরকাতু মাকতাবাতু মাতবাআত মুসতফাি আল বালী আল হালী, ১৩৯৫ হি., হাদীস নং- ১১৬২”
ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই মূলত সমাজে ইভটিজিং-এর ন্যায় ভয়াল সামাজিক অপরাধ নেমে এসেছে। তাই জাতিকে এ নৈতিক অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে হলে যে কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে করতে হবে, তা হলো- জাতিকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলতে হবে। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) জাতিকে নৈতিক শিক্ষায় সুন্দররূপে গড়ে তোলতেই এ পৃথিবীতে মহান শিক্ষকরূপে আগমন করেছিলেন।
মাদকাসক্তি দূরীকরণ : মাদকাসক্তি মানব বিবেক-বুদ্ধি ও মস্তিষ্কের ওপর মারাত্মক ও ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। মস্তিষ্কের করটেক্স বা উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তির স্তর নিস্তেজ হয়ে যায় ফলে মদপানকারী মাতাল হয়ে পড়ে। লজ্জা-সংকোচ কমে যায়, কথাবার্তা বেশি বলে, এমনকি অনেক গোপন তথ্যও বের হয়ে পড়ে। কথাবার্তা জড়িয়ে যায়, এক পর্যায়ে চেতনা হারায়। মাদকাসক্তি মানুষকে শুধু মানবাত ও নৈতিকতাবিরোধী কার্যকলাপের দিকেই উদ্বুদ্ধ করে না, এটা মানুষকে যাবতীয় মন্দ ও ঘণ্যতর পাপ কাজের দিকেও ধাবিত করে। এটা মানুষকে চিত্তবিভ্রাম, অস্থির ও উচ্ছৃঙ্খল করে তোলে। ব্যভিচার, নরহত্যা ছিনতাই, রাহাজানি, সড়ক দুর্ঘটনা ও নির্যাতনের মত জঘন্যতম অপরাধের অধিকাংশই মাদকাসক্তিরই পরিণাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “মদ সকল অপকর্মের জননী।” “ইমাম দারাকুতনী, আল-সুনান, অধ্যায়: আল-আসরিবাতি ওগাইরিহা, বৈরুত: মুআস্সাসাতুর রিসালাহ,১৪২৪ হি., হাদীস নং- ৪৬১৩”
সুতরাং ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই সমাজ থেকে মাদকাসক্তি দূর করতে হবে।
ফলাফলমূলক পর্যালোচনা : ধর্ম বাংলাদেশের সমাজের চালিকাশক্তি, তাই ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে এদেশ থেকে ইভটিজিং এর প্রতিরোধ সম্ভব। আমরা উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, ইসলামী অনুশাসনের মাধ্যমেই ইভটিজিং প্রতিরোধ সম্ভব। এছাড়া ইদানীং কালে পত্রপত্রিকায়ও এ ব্যাপাওে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। “ইভটিজিং প্রতিরোধে প্রয়োজন ইসলামী অনুশাসন” এমন আলোচ্য ধারার আলোচিত কয়েকটি পত্রিকার নিবন্ধ হলো-দৈনিক প্রথম আলো, ২৮/১০/২০১০ শাস্তি হয় না উত্ত্যক্তকারীদের; দৈনিক নয়া দিগন্ত, ইভটিজিং বন্ধে আমাদের দায়িত্ব; দৈনিক নয়া দিগন্ত, ইভটিজিং নৈতিক অধঃপতনই মূল কারণ; দৈনিক নয়া দিগন্ত ইভটিজিং; আপন পাগল বেঁধে রাখি; দৈনিক ইত্তেফাক, ২৯/১০/২০১০, গুরুতর সামাজিক সমস্যা ইভটিজিং প্রতিরোধে ধর্মীয় শিক্ষা; দৈনিক নয়া দিগন্ত, হঠাৎ নারী নির্যাতন মহামারীর কারণ; ইত্যাদি।” ইভটিজিং এর শিকার অধিকাংশ নারীর মতামত হলো, ইভটিজিং প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন-প্রয়োগের পাশাপাশি ইসলামী অনুশাসন বাস্তবায়ন জরুরী। “সারণি- ৫ দেখুন।”
সুপারিশসমূহ ঃ ইভটিজিং প্রতিরোধে আইনী ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েকটি সুপারিশ হলো-
* আইন মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ ইভটিজিং প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন; অথবা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (২০০)’ এর সংশোধন করে ‘ ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলামের অনুশাসন’ বিষয়ক ধারা সংযোজন;
* তথ্য মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘ ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলামী অনুশাসন’ ধারণাটি ব্যাপকভাবে প্রচারকরণ;
* শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিক্ষার সর্বস্তরে ‘ ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলামী অনুশাসন’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণ;
* জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, পরিবারের প্রধান ব্যক্তিরা নিজ নিজ স্থান থেকে ‘ ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলামী অনুশাসন’ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ;
* অবাধ নারী স্বাধীনতায় গা ভাসিয়ে না দিয়ে নারী স্বাধীনতার মূল প্রত্যয় উপলব্ধি করে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা;
* ইসলামী ভাবধারা অক্ষুণœ রেখে শিক্ষাব্যবস্থা ও নারীর কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ;
* ইসলামে প্রদর্শিত ‘মানহানি প্রতিরোধ’ আইন মেনে চলা;
* পারিবারিক শৃংখলা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাষ্ট্রীয় আইনের বাধ্যবাধকতা ও ইসলামী অনুশাসন গ্রহণে যতœশীল হওয়া;
* নারীর প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর মানসিকতা সৃষ্টি;
* চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনে তৎপরতা বৃদ্ধি ইত্যাদি।
উপসংহার : আল্লাহ তাআলা নারীকে মা, স্ত্রী ও কন্যা হিসেবে সম্মান দিয়েছেন। অথচ আজ তারা আল্লাহর প্রদত্ত গৌরব ও মর্যাদা ভুলে গিয়ে মেকি ভোগ বিলাস, কামনা-বাসনা, অনৈসলামিক উম্মাদনায় আক্রান্ত। তারা আজ আদর্শ মা ও স্ত্রী হবার পরিবর্তে উচ্ছৃঙ্খল প্রেমিকা, রক্ষিতা, নায়িকা, মডেল ও খ্যাতি আর্জনে উদ্গ্রীব। উচ্ছৃঙ্খল, আঁটসাঁট পোশাক আর বেপরোয়া চলন-বলন অব্যাহত রেখে আইন প্রণয়ন অনর্থক। তাই আজকের সমাজ থেকে ইভটিজিং নামক কালো অধ্যায় দূর করতে হলে ইসলামী অনুশাসনের যথাযথ বাস্তবায়ন একান্ত প্রয়োজন।
লেখক : শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট। (সমাপ্ত)

জননেতা মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজী স্মরণে

v-on‡-এ. জেড. রওশন জেবীন (রুবা)

আজ আমার পিতা দেওয়ান ফরিদ গাজীর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী। যদিও তিনি আমার পিতা তবুও তাঁর সম্বন্ধে লিখতে বসে আমাকে অনেক কিছু চিন্তা-ভাবনা করে লিখতে হচ্ছে। তাঁর নামটা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাথে সিলেটের সকল সংগ্রাম আন্দোলন ও ঐতিহ্যের সাথে জড়িত। আমি যতটুকু পেরেছি বিভিন্ন বই-ইতিহাস পড়ে এবং আমার জানামতে তা শুদ্ধ করে লিখার চেষ্টা করেছি। তারপরও যদি কোন ভুল-ভ্রান্তি আপনারা পেয়ে থাকেন আমাকে বলে দিবেন, মাফ করবেন। এখনও বেঁচে আছেন আমার পিতার অনেক সহযোদ্ধা।
দেওয়ান ফরিদ গাজী ছিলেন হযরত শাহজালাল (রহ.) সহচর ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহ তাজউদ্দীন কোরেশী (রঃ) বংশধর। ১৯২৪ খৃঃ ১লা মার্চ বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানা দিনারপুর পরগণার দেবপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে। আমার দাদার নাম মরহুম দেওয়ান হামিদ গাজী ও দাদী মোছাম্মত ছলিমা খাতুন। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মা-বাবার ২য় সন্তান। আমার আম্মা মরহুমা আলম রওশন চৌধুরী (পুষ্প)। আমার আম্মা ছিলেন ফুলবাড়ী নিবাসী মরহুম আব্দুজ জহির চৌধুরীর মেয়ে, আম্মার নানা ছিলেন দেওয়ান একলিমুর রাজা (মরমী কবি হাছন রাজার ছেলে)। আমার পিতার রাজনৈতিক জীবনে সাফল্য ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা লাভের পিছনে আম্মার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। ১৯৯৫ সালের ৩রা নভেম্বর আমার আম্মা ইন্তেকাল করেন। আমরা ভাই-বোন ৭ জন।
দেওয়ান ফরিদ গাজী একটি সংগ্রামী জীবনের নাম। একটি ইতিহাসের নাম। তিনি ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় তাঁর বাবা মারা যান। উনার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় গ্রামের পাঠশালায়। ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন মৌলভীবাজার জুনিয়র মাদ্রাসায়। থাকতেন মোস্তফাপুর উনার আত্মীয়ের বাসায়। কৃতি ছাত্র হিসেবে বৃত্তিও লাভ করেন। পরে সিলেটে এসে সরকারী আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। কিছু দিন সেখানে লেখাপড়া করে মাদ্রাসা শিক্ষা পরিবর্তন করে ভর্তি হন রসময় মেমোরিয়াল হাই স্কুলে। রসময় থেকে ১৯৪৫ সালে কৃতিত্বের সাথে পাস করেন মেট্রিক পরীক্ষা। ভর্তি হন এম.সি. কলেজে (তখন কলকাতার অধীনে ছিল)। সেখান থেকে আই.এ. পাস করেন। তারপর ভর্তি হন মদন মোহন কলেজ, সিলেটে (তখন ঢাকা ভার্সিটির অধীনে)। সেখান থেকে বি.এ. পাস করেন। যদিও জমিদার পরিবারে জন্ম, তবুও জন্মের পর দেখেছেন আপন সমাজ ও দেশের পশ্চাৎপদতা দারিদ্র, হতাশায় নিমজ্জিত, শোষিত, নিপীড়িত মানুষের  বঞ্চনা ও বেদনার করুণচিত্র। তিনি ভোগ ত্যাগ করে জমিদারের আভিজাত্য ছেড়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাদের অধিকার আদায় করতে গিয়ে দেশ, জাতি ও সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তনে অতি অল্প বয়সে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
১৯৪২ খৃঃ দেওয়ান ফরিদ গাজী যখন স্কুলের ছাত্র তখন থেকেই ‘কুইট ইন্ডিয়া’ আন্দোলনের মাধ্যমে কংগ্রেসের সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট কংগ্রেস’ এর সাথে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে এম.সি কলেজে পড়া অবস্থায় শুরু হয় তাঁর ছাত্র রাজনীতির জীবন। মুসলিমলীগের অংগসংগঠন আসাম মুসলিম ছাত্র ফেডারেশন গঠিত হলে দেওয়ান ফরিদ গাজী আসাম প্রাদেশিক শাখার সহ-সম্পাদক এবং এম.সি. কলেজ শাখার সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ সময়ের আরো ছাত্রনেতারা ছিলেন মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, তছদ্দুক আহমদ চৌধুরী, এ.টি.এম. মাসুদ, পীর হাবিবুর রহমান প্রমুখ নেতাগণ। মৌলানা ভাসানীর আহ্বানে আসামে বাঙাল খেদাও অভিযানের প্রতিবাদ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই গাজী সাহেবের প্রতিবাদী রাজনৈতিক জীবনের শুরু।
১৯৪৬ সালে আসামের গোয়ালপাড়া শহরে আসাম মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের এক বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট জেলা ছাত্র ফেডারেশনের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এ সম্মেলনে যোগদান করেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। ১৯৪৬ খৃঃ নয়াসড়ক জামে মসজিদে সিলেটের সংগ্রামী মুসলিম ছাত্রজনতা ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সমর্থকদের মাঝে এক তুমুল সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে তখনকার ছাত্রনেতা ফরিদ গাজী মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হন এবং বেশ কিছুদিন লাগে সুস্থ হতে।
১৯৪৭ সালে সিলেটে গণভোটের সময় ছাত্রনেতা ফরিদ গাজী এডভোকেট আব্দুল হাফিজ সাহেবের (আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রীর পিতা) একখানা চিঠি  নিয়ে শিলং যান আসাম মুসলিমলীগ নেতা ও আসাম প্রাদেশিক সরকারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী স্যার মোহাম্মদ সাদুল্লাহর কাছে। স্যার সাদুল্লাহ নিজস্ব তহবিল থেকে গণভোটের আর্থিক অনুদান নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটা চিঠি দেন গাজী সাহেবের কাছে। শিলং থেকে ফেরার পথে সারী নদীতে ফেরি নৌকা পাহাড়ী ঢলে ভেসে আসা একটা গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। তিনি নদীর তীব্র স্রোতে ভাসতে ভাসতে অনেক দূর গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকেন। তখন চ.ড.উ এর উদ্ধারকারী দল তাঁকে উদ্ধার করে আনে এবং হরিপুর ডাকবাংলাতে উনার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। জ্ঞান ফেরার সাথে সাথে তিনি টাকা ও চিঠি খুঁজতে থাকেন। কোটের ভেতরের পকেটে একটি ছোট ব্যাগে টাকা ও চিঠি যেভাবে ছিল সেভাবেই আছে দেখে তিনি আল্লাহ্র কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। এই ২০ হাজার টাকা এখনকার ২০ লাখ টাকা। পরের দিন সুস্থ হয়ে শহরে পৌঁছে টাকা ও চিঠি আব্দুল হাফিজ সাহেবের কাছে দিলেন। গাজী সাহেবের দুর্ঘটনা ও দুঃসাহসিক অভিযাত্রার কথা শুনে সবাই অবাক হলেন। এমনি ভাবে দেশপ্রেমিক, নির্ভিক ছাত্রনেতা দেওয়ান ফরিদ গাজীর রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু। ১৯৪৭ সালে গণভোটে দেওয়ান ফরিদ গাজী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মুসলিমলীগ ও মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের নেতাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৯৪৭ সনে ৬ই এবং ৭ই জুলাই অনুষ্ঠিত গণভোটে জয়লাভ করে সিলেট জেলা পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হয়। গণভোটের সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ রাজনৈতিক নেতারা সিলেটে আসেন এবং তাঁদের সাথে ফরিদ গাজী ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত হন। একজন উদীয়মান, দক্ষ ছাত্রনেতা হিসেবে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বঙ্গবন্ধু যখন সিলেট আসেন অন্যান্য নেতাদের সাথে তখন তিনি ছিলেন ছাত্রনেতা ইসলামিয়া কলেজ, কোলকাতা ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। ঐ সময় বঙ্গবন্ধু ও দেওয়ান ফরিদ গাজীর পরিচয় হয়। এই তরুণ ছাত্রনেতার কর্তব্যনিষ্ঠা, অসীম সাহস, অমায়িক ব্যবহার ও বিচক্ষণতা বঙ্গবন্ধুকে আকৃষ্ট করে এবং তিনি হয়ে যান বঙ্গবন্ধুর প্রিয়পাত্র ও ঘনিষ্ঠ সহচর। কলকাতা থেকে আগত ছাত্রনেতারা থাকতেন শিবগঞ্জ সোনারপাড়া বখতিয়ার বিবি বালিকা বিদ্যালয়ে। নির্বাচনী কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে গাজী সাহেবের উপর বখতিয়ার বিবি বালিকা বিদ্যালয়ে মুসলিম ছাত্রনেতাদের দেখাশুনার দায়িত্ব অর্পিত হয়। তাই গাজী সাহেব প্রায় সব সময়ই থাকতেন শেখ সাহেবের সাথে। ফলে গাজী সাহেব শেখ সাহেবের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু কিন্তু সে স্কুলটির কথা স্মরণ রেখেছিলেন এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্কুলটির জন্য অনুদানও দিয়েছিলেন।
১৯৫০ খৃঃ হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। সে সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক স্বল্পতা দেখা দিলে তিনি কিছুদিন সিলেট গভঃমেন্ট হাই স্কুলে এবং রসময় স্কুলে শিক্ষকতাও করেন। ১৯৫২ইং থেকে ১৯৫৫ইং পর্যন্ত তিনি সিলেটের প্রাচীনতম ‘সাপ্তাহিক যুগভেরী’ পত্রিকার পাশাপাশি ইংরেজী পত্রিকা ‘ইস্টার্ন হেরাল্ড’ এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন  করেন। রাজনীতি, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা- তিনটি অঙ্গনে তিনি একসাথে বিচরণ করেছেন এক সময়। (চলবে)