বিভাগ: ভেতরের পাতা

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমাদের করণীয়

॥ আবু মালিহা ॥

প্র তি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় বহুলোক হতাহত হয়। এ ব্যাপারে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আমাদের দেশ জনবহুল দেশ। দেশের বহু সম্পদের মধ্যে মানব সম্পদ একটি বড় সম্পদ। তবে প্রশিক্ষিত মানুষগুলোই দেশ জাতির উপকারে আসে বেশী। অতএব এসব মানব সম্পদ রক্ষা করা জাতীয় ও সামাজিক দায়িত্ব। কিন্তু এ ব্যাপারে সর্বমহলের উদাসীনতা জাতিকে উৎকন্ঠায় ফেলে দেয়। যে কোন মানুষের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রীয় মূলনীতির অংশ এবং এ ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হয়। আমাদের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সড়কের সংস্কার ও বৃদ্ধির জন্য সরকার বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। তা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি এ ব্যাপারে অনিয়ম ও ব্যত্যয় যে ঘটে না, তা কিন্তু নয়। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে সত্য যে, প্রতি বছরই আমাদের দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় বহুলোক নিহত হয়। এবং আহত হয় অনেক লোক। বিশেষ করে যানবাহন চলাচলে এ সমস্ত লোকের প্রাণ সংহার সিংহভাগই হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে বেসরকারীভাবে একটি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য। অর্থাৎ মানুষ যাতে নিরাপদে সড়ক পথে চলাচল করতে পারে। এবং যারা যানবাহন পরিচালনা করেন তাদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্লাকার্ড বহন করে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রচারণার মাধ্যমে সকলের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অনেক কর্মসূচীও গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে প্রখ্যাত অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন বড়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিভিন্ন সেমিনার শিম্পোজিয়মের মাধ্যমে নিরাপদে সড়ক চলাচলে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে থাকেন।
অনেক সময় আমরা ছোট বড় অনেক গাড়ীর পিছনে বিজ্ঞাপনী আকারে অনেক লেখা পড়ে থাকি। এগুলোর মধ্যে হচ্ছে- একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না, নিরাপদে পথ চলুন, আপনার জীবন রক্ষা করুন, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশী, জেব্রা ক্রসিং দেখে রাস্তা পারাপার হউন, গাড়ী চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না, জীবন তো একটাই, বুঝে শুনে পথ চলুন, সত্যি কথা বলতে কী এ সমস্ত সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন আমাদের দৃষ্টিগোচর অহরহই পড়ে, কিন্তু এ ব্যাপারে কতটুকু সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে তা জাতীয় পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে! কিন্তু আমার ধারণা এ ব্যাপারে যতটুকু সচেতনতা বাড়ানো দরকার আমরা কিন্তু তেমনটি পাচ্ছি না। না সরকারীভাবে, না বেসরকারী ভাবে। তবে সচেতনতা একদম যে হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। তবে এ ব্যাপারে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা দরকার সমাজ সচেতন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে।
এ ব্যাপারে কিছু প্রস্তাবনা আকারে পেশ করা যেতে পারে, যেমন (ক) আধুনিক ডিজিটাল সিগনাল পোস্ট নির্মাণ করা (খ) ফিটনেস বিহীন কোন যানবাহন পথে না নামানো (গ) জনপথ ও সড়ক উন্নয়ন সংস্থায় দুর্নীতিহীন লোকজন বসানো (ঘ) ওভারব্রীজ পারাপারে লোকজনকে উৎসাহিত করা এবং আইন প্রয়োগে যথাসাধ্য চেষ্টা করা (ঙ) গাড়ী চালানোর সময় যাবতীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা (চ) ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে সতর্ক হওয়া (ছ) রাস্তার উভয় পাশে ফুটপাত নির্মাণ করা (জ) ছোট ও ভারী যানবাহনের আলাদা রুট তৈরী করা (ঝ) শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষদের আলাদা পরিবহনের ব্যবস্থা করা (ঞ) এবং প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর ফিটনেস চেকিং এর জন্য জনগণ ও সড়ক উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের অধীনে মোবাইল টীম বের করা।
এ সমস্ত উপরোল্লিখিত ব্যবস্থা যদি সরকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অনুশীলন প্রক্রিয়াতে আনা যায় তবে আশা করা যায় সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা যাবে এবং নিরাপদে সড়ক চলাচলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। এবং এভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আর যেন কোন মানুষ সারা জীবনের দুর্বহ বোঝা আর যন্ত্রণার শিকারে পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সকলে সচেতন হই এবং নিরাপদ সড়ক সৃষ্টির মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি।

পা’য়ে হাঁটার অবাধ সুযোগ নগরবাসীর প্রয়োজন

॥ নেছার আহমদ নেছার ॥

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষেই সুস্থ থাকার জন্যে হাঁটা, শারীরিক ব্যায়াম বা পরিশ্রম করা একান্ত অপরিহার্য একটি বিষয়। স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বা চিকিৎসা বিজ্ঞানে পৃথিবীর সর্বত্রই এই ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠিত ও প্রচারিত। কাজেই মানব জীবনে সুস্থ থাকার জন্যে শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটার বিকল্প নেই।
সিলেট মহানগরের লোক সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে-আর ডায়াবেটিকস হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনের পর দিন। ইচ্ছে থাকার পরও সময় ও সুযোগের অভাবে আমরা হাঁটতে পারিনা। তাই ডায়াবেটিকস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
সিলেট মহানগরের ৫৪০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ কিলোমিটার সড়ক ও জনপদের রাস্তা। বাকী ৫০০ কিলোমিটার ছোট বড় রাস্তা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অধীনে। এই রাস্তাগুলোর অবস্থা কেমন সেটা আমার চেয়ে সচেতন নগরবাসী বেশী করে অবগত আছেন। কিন্তু মুখ খুলতে বা রাস্তাগুলির সমস্যা নিয়ে কিংবা রাস্তার পাশ দিয়ে অবাধে হাঁটার ব্যবস্থার দাবিতে কোন আন্দোলন, সভা সমাবেশ করতে শুনা যায়নি। অলস নগরবাসী আয়েসী জীবন যাপনে ব্যস্ত আর নানান অসুখ ব্যাধি সহ ডায়াবেটিকসে ধুঁকে ধুঁকে ভুগছে। বিগত অনেক দিন থেকে লক্ষ্য করা গেছে রাস্তার পাশ দিয়ে জনসাধারণ অবাধে হাঁটার জন্যে কারো মাথা ব্যথা নেই। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও কোন দিনই এ নিয়ে কোন ভূমিকা দেখাতে পেরেছেন বলেও মনে হয় না। সিসিকের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচলের অবাধ কোন ব্যবস্থা নেই। ফেরীওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, অস্থায়ী দোকানপাট রাস্তার হাঁটার জায়গা সহ মূল রাস্তাই দখল করে যানজট সহ অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে থাকেন। অথচ কেউ কোন দিন প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি, এমনকি বিগত দিনের স্বনামধন্য মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মানুষের অবাধ হাঁটা চলার জন্যে কোন তাগিদই অনুভব করেননি। এই ভোগান্তির তাগিদ থেকে এবারের সিসিকের নির্বাচনে কামরান সাহেবের পরিবর্তনের হাওয়া এক সময় আয়লা হয়ে যায়। প্রচন্ড ক্ষোভ থেকে মানুষ কামরান সাহেব পরিবর্তনের প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে খুঁজে নেয় আরিফুল হক চৌধুরীকে। মেয়র আরিফ যানজট নিরসনে কিছু কাজ করেন। ফুটপাতের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। ওদেরকে পুনর্বাসনের চিন্তা ছিল উনার মাথায়। খালগুলি উদ্ধারে জোরালো ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। খালে এক্সেভেটর নামিয়ে খনন করে দেয়ায় বৃষ্টির পানি সহজে প্রবাহিত হয়ে সুরমা নদীতে মিশে যেতে পেরেছে। যার কারণে গত বৃষ্টির মৌসুমে সিলেটে জলাবদ্ধতা হয়নি, রাস্তায় সোয়ারেজ ও ড্রেনের  পানি উঠে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করেনি।
যাক প্রসঙ্গতে ফিরে আসি। দেখুন শহরের প্রধান বড় বড় রাস্তাগুলির পাশ দিয়ে হাঁটার কোন ব্যবস্থা আছে কি না? না থাকলে কেন আমরা কোর্ট পয়েন্টে সর্বস্তরের মানুষ জড় হয়ে হুংকার দিতে পারি না যে  আমাদের হাঁটার রাস্তা তৈরী করে দেয়া হউক। আমাদের হাঁটার রাস্তায় দয়া করে কেউ অস্থায়ী-স্থায়ী দোকান নিয়ে বসবেন না, যদি কেহ বসেন মানুষের পদপিষ্টে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাছাড়া আইন শৃংখলা বাহিনী সহ সিসিকের দায়িত্বশীলগণ ব্যবস্থা নেয়ার জোরালো  দাবী  জানাতে পারেন। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যান। জনগণের চেয়ে বড় কেউ নয়। সতর্কতার সহিত অরাজনৈতিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন।
মানুষ বেঁচে থাকার জন্যে জীবন যাত্রার  মান নিয়ে সব সময় সচেতন থাকে। আজ খুব বেশী প্রয়োজন সিলেট মহানগরবাসীকে তাদের অবাধে হাঁটার জন্যে একত্রিত হয়ে এ গিয়ে  আসতে হবে। ঘরে বসে আক্ষেপ হতাশা প্রকাশ না করে দাবী আদায়ের পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসুন। আম্বরখানা থেকে বন্দর বাজার পর্যন্ত জরুরী ভিত্তিতে রাস্তার উভয় পাশে বড় করে অবাধে হেঁটে চলাচলের জন্যে ফুট ওয়ে তৈরী করা হউক। প্রয়োজনে  ওভারব্রীজ তৈরী করা হউক যাতে রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে না হয়। বন্দর বাজার থেকে শেখঘাট কীন ব্রীজ পর্যন্ত অবাধে হাঁটার ব্যবস্থা নিতে হবে। চৌহাট্টা থেকে স্টেডিয়াম হয়ে রিকাবীবাজার, রিকাবী বাজার থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে অবাধে হাঁটার ব্যবস্থা করতে হবে। তেমনি বন্দর বাজার থেকে ধোপাদীঘির পার হয়ে নাইওরপুল, মিরাবাজার শিবগঞ্জ টিলাগড় পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে হাঁটার জন্যে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে হাঁটার রাস্তা তৈরী করে দিতে হবে। আর তার সঙ্গে সকল হাঁটার রাস্তাগুলি অবৈধ দখলদারদের থেকে এবং ফেরী ওয়ালাদের দখল মুক্ত রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। নাইওরপুল পয়েন্ট থেকে সোবহানীঘাট হয়ে শাহজালাল ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে অবাধে হাঁটার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। তাছাড়া সকল রাস্তাগুলোতে সাধারণ মানুষ যান চলাচল ছাড়াও হাঁটার অবাধ সুন্দর ব্যবস্থা রাখার  উদ্যোগ নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে জনবহুল রাস্তাগুলির যান চলাচলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার সাথে করে অবাধে হাঁটা চলার ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরী বিষয়।
লক্ষ্য করা গেছে সিলেট মহানগরের মধ্যে জনবহুল রাস্তাগুলি দিয়ে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। ছেলে-মেয়ে, পুরুষ-নারী, শিশু সহ সকল  পথচারী চলাচলে এক অবর্ণনীয় বিব্রতকর অবস্থা। মেয়েছেলেদের সম্ভ্রমহানী ধাক্কাধাক্কি নিত্যদিনের বিষয়। ভদ্রভাবে অবাধে চলাচলের উপায় নেই। এ অবস্থা কি চলতে থাকবে?
এর সমাধান কোথায়? আমরা কি পারি না এর সমাধানের জন্য জোরালো দাবী জানাতে। যদি সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে বন্দর থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত রাস্তার উভয় পায়ে হেঁটে চলার রাস্তা থাকে আমার মনে হয় অনেকেই রিক্সার চিন্তা না করে এই রাস্তাটুকু  হেঁটে যাতায়াত করতে পছন্দ করবেন।
প্রতিটি ব্যস্ত রাস্তার উভয় পাশে হাঁটার জন্যে লেন থাকলে অধিকাংশ মানুষই হেঁটে চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিকস রোগীরে হাঁটা অত্যন্ত অপরিহার্য একটি বিষয়।
অবাধে হাঁটার মত পরিবেশ আমরা কখন পাবো এই প্রশ্নটা অনেকেরই মনে জাগে; কিন্তু নীরবে শুধু সয়ে গেছেন। বাস্তবের জন্যে কী করা দরকার বা কী পদক্ষেপ সকলে মিলে নেয়া দরকার সে বিষয়টি উপেক্ষিত। সিসিকের ব্যস্ত ও জনবহুল রাস্তাগুলিতে অবাধে হাঁটার সুন্দর ব্যবস্থার জন্যে দলমত নির্বিশেষে সকল মহলের এগিয়ে আসা আজ বিশেষ প্রয়োজন। এর জন্য একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। হকার ও হাঁটার রাস্তা দখলকারীদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করে তাদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে রাস্তায় দোকান নিয়ে বসা থেকে বিরত রাখতে হবে। তবেই সুস্থ পরিবেশে নগর জীবনে  একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা সম্ভব হবে।
দৈহিক শ্রমে চলার বা হাঁটার অভ্যাস হবে প্রতিটি মানুষের। ডায়াবেটিকস হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও দিন দিন কমে আসবে বলে সচেতন মহল মনে করেন। কাজেই সিসিকের মাধ্যমে সিলেট মহানগরের অস্বস্তিকর পরিবেশের বর্তমান অবস্থা উত্তরণের মাধ্যমে নগরবাসীকে অবাধে সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে হাঁটার সুযোগ করে দিতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনা ও তার নির্মমতা

ছাদিকুর রহমান

বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর তথ্য মতে। বাংলাদেশে প্রায় ১০০টির বেশী জাতীয় মহাসড়ক আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা সড়ক রয়েছে। তার মধ্যে ৩৫৩৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৪২৭৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ১৩৬৩৮ কিলোমিটার জেলা সড়ক রয়েছে। সর্বমোট ২১৪৫৪ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রতিদিন শত শত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতি বছর এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের তাজা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আর হাজার হাজার মানুষকে করে দিচ্ছে স্থায়ী ভাবে পঙ্গু। তার ফলে অসংখ্য পরিবারে নেমে আসে কালো অন্ধকার হয়তোবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মানুষটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্থায়ী ভাবে পঙ্গু কিংবা নিহত হলে পরিবারে নেমে আসে চরম দরিদ্রতা ও দুর্বিষহ। ইতিপূর্বে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আমাদের দেশের অনেক প্রতিভাবান মানুষ তার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বৃহত্তর সিলেটের কৃতি সন্তান এম সাইফুর রহমান ২০০৯ সালে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ২০১১ সালে একই দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবি ড. মুনির চৌধুরীর ছেলে বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক মিশুক মনির। সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র কবি মমিনুল মউজদীন ২০০৭ সালে। সাবেক ছাত্রনেতা ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার হোসেন শামীম ২০১২ সালে। বর্তমান আইন মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হকের স্ত্রী ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর প্রতষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গত ২৯/১১/২০১৪ তারিখে বাংলাদেশের বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর সাবেক পরিচালক জগলুল আহমেদ চৌধুরী রাজধানী ঢাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। গত ০৮/০২/২০১৪ তারিখে রাগীব রাবেয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তার সাথে দেখা হয়েছিল। তিনি নিজেও এবছর রাগীব রাবেয়া একুশে পদক লাভ করেন। অল্প কিছু কথাও হয়েছিল। অল্প সময়ে যতটুকু বুঝেছিলাম তিনি অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ ছিলেন। আর অনেক প্রতিভাবান মানুষ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
হয়তো বা এসব মানুষের সমাজে আরো অনেক কিছু দেবার ছিল। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার অনেক কারণ রয়েছে তার মধ্যে অদক্ষ গাড়ি চালক, অকার্যকর ট্রাফিক আইন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, সড়কের বেহাল দশা, গাড়ি চলন্ত অবস্থায় চালক মোবাইলে কথা বলা, নসিমন, করিমন, টমটম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়া, রোড ডিভাইডার না থাকা, মাদকাসক্ত গাড়ি চালক, যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং ইত্যাদি।  এসব সমস্যা সমাধানে সামাজিক ভাবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা কার্যকারী ট্রাফিক আইন, সরকারের সুদৃষ্টি। সড়ক মহাসড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। তা না হলে আমাদের সড়ক মহাসড়কগুলো অদূর ভবিষ্যতে স্থায়ী মরণ ফাঁদে পরিণত হবে।

জগন্নাথপুরে আলোকিত সমাজ কল্যাণ সংস্থার কমিটি গঠন

জগন্নাথপুর উপজেলার ৭নং সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের যুবকদের উন্নয়নমূলক অরাজনৈতিক সংগঠন ‘আলোকিত সামাজ কল্যাণ সংস্থা’র কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিস্তারিত

সার্ক কলেজের ১ম স্থান অর্জন শ্রুতি পিঠা উৎসবে

52525pic copyগত শুক্রবার সিলেটের শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজ মাঠে শ্র“তি আয়োজিত পিঠা উৎসবে সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ বাংলাদেশ ১ম স্থান অধিকার করেছে। বিরাট উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে সারাদিন ব্যাপি অনুষ্ঠিত মেলায় ৩০টির মত স্টলে বাহারী পিঠার প্রসরা ছিল। সবদিক মিলিয়ে বিচারকদের বিচারে সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্টলটি ১ বিস্তারিত

দক্ষিণ সুরমা কাঠ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন ॥ সভাপতি কালাম, সাঃ সম্পাদক জুবায়ের

Cout Somete pic-- 07.01.15.--01গত ৫ জানুয়ারী সোমবার দক্ষিণ সুরমা কাঠ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচন ২০১৫-২০১৬ইং অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুবায়ের আহমদ। সমিতির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বদরুল মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিন তাপাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সেপন আলম। বিস্তারিত

রোটারী ক্লাব অব সিলেট সাউথের আলোচনা সভা ॥ রোটারিয়ানরা মানবসেবা করে বিশ্বের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে

রোটারিয়ানরা মানবসেবা করে বিশ্বের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এজন্য রোটারী ক্লাবগুলো আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।  রোটারিয়ানদের সেবামূলক কার্যক্রম দ্বারা সমাজের ব্যাপক উপকার সাধন হচ্ছে। রোটারিয়ানরা তাদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে  দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। রোটারী ক্লাব অব সিলেট সাউথের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন। বিস্তারিত

মানব সেবার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি স্থাপন করতে হবে ——– ইঞ্জিনিয়ার এম এ লতিফ

রোটারী ২০১৪-১৫ গভর্ণর ইঞ্জিনিয়ার এম এ লতিফ বলেছেন, মানব সেবার মাধ্যমে আমাদেরকে বিশ্বে শান্তি স্থাপন করতে হবে। মানবসেবার ব্রত নিয়ে রোটারী ক্লাব আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। রোটারীর সেবামূলক কার্যক্রম দ্বারা সমাজের অসহায় ও দুস্থরা উপকৃত হচ্ছে। রোটারী তার কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ বিস্তারিত

মিলাদে মোস্তফা (সা:)

শাহ মোঃ ইমাদ উদ্দিন নাসিরী

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাকের দরবারে যিনি দয়া করে, মেহেরবাণী করে আমাদেরকে তাঁর হাবীব (সাঃ) এর উম্মত হিসেবে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। অসংখ্য দুরুদ ও সালাম প্রেরণ করছি তাজদারে মদীনা নূরে মোজাচ্ছাম সরকারে দু’আলম হুজুরে পাক (সাঃ) এর উপরে। যাকে সৃষ্টি না করলে মহান আল্লাহ পাক কোন কিছু সৃষ্টি করতেন না বলে উল্লেখ করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক হাদীসে কুদসীতে এরশাদ করেছেন ‘লাওলাকা লামা খালাকতুল আফলাক।’ অর্থ হে হাবীব (সাঃ) আমি যদি আপনাকে সৃষ্টি করতাম না তাহলে কোন কিছুই সৃষ্টি করতাম না। সে জন্য মহান আল্লাহ পাক এ সৃষ্টি জগতে যত নবী ও রাসূল (সাঃ) পাঠিয়েছেন তাদেরকে রূহের জগতে তাঁর প্রিয় হাবীব (সাঃ) সম্পর্কে অঙ্গিকার নিয়েছিলেন। এমনিভাবে আমি আপনাদেরকে কিতাব হিকমত দান করবো, অতঃপর আপনাদের নিকট আমার প্রিয়তম হাবীব (সাঃ) যখন পৃথিবীতে আগমন করবেন, আগমন করে আপনাদের প্রতি নাযিলকৃত বিষয় সমূহকে সত্য প্রতিপাদন করবেন, তখন আপনাদের দায়িত্ব হলো আপনারা তাঁকে পেলে তাঁর প্রতি ঈমান আনিবেন এবং তাঁর খেদমত করবেন। এরপর আল্লাহপাক বলেন আপনারা আমার এ অঙ্গিকার স্বীকার করে নিলেন, তারা বললেন আমরা স্বীকার করে নিলাম। আল্লাহপাক বললেন আপনারা সাক্ষী থাকুন আমিও সাক্ষী রইলাম। (সূরা আল এমরান আয়াত নং-৮১) এ আয়াতে কারীমায় আল্লাহপাক তাঁর হাবীব (সাঃ) এর পৃথিবীতে আগমনের বিষয়টি বর্ণনা করেছেন এবং সেই সাথে সমস্ত নবী-রাসূল (সাঃ) গণের উপর তার শ্রেষ্ঠত্ব ও বর্ণনা করেছেন। মহানবী (সাঃ) এর পৃথিবীতে আগমন হচ্ছে সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত। মহান আল্লাহপাক এ সম্পর্কে এরশাদ করেন, হে আমার হাবীব (সাঃ) আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি (সূরাঃ আম্বিয়া আয়াত নং-১০৭)। আর রহমত প্রাপ্তি খুশী আনন্দ প্রকাশ করা আল্লাহ পাকের নির্দেশ। বলা হয়েছে হে আমার হাবীব (সাঃ) আপনি বলে দিন আমার ফজল ও রহমত লাভ করার কারণে তারা যেন খুশি আনন্দ প্রকাশ করে, (সূরাঃ ইউনুস আয়াত নং-৫৮)। উক্ত আয়াতে কারিমাদ্বয়ের প্রকাশ্য নিদর্শন হচ্ছে ৫৭০ ঈসায়ী ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার দিন। এ মহান পবিত্র দিনে শান্তি ও মুক্তির বার্তা নিয়ে সর্বকালের মানুষের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেন মহানবী (সাঃ)। যার আগমনের মধ্যদিয়ে অন্ধকার আচ্ছন্ন পৃথিবী ভরে উঠল আলোর রৌশনীতে, পৃথিবীর বিভ্রান্ত পথভ্রষ্ট মানুষগুলো পেল সত্যের সন্ধান মুক্তির পথ। এই তাৎপর্যমন্ডিত দিনটি হচ্ছে মানব জাতির নিকট স্মরণীয় ও বরণীয় দিন। বিশেষ করে মুসলমানদের নিকট মহিমান্বিত গৌরবাম্বিত কাক্সিক্ষত প্রিয় দিন। এ দিনটি প্রকৃত মুসলমানদের নিকট ঈমানী মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক চেতনার দিন। এটি এমন একটি গৌরবময় দিন যে দিনের বদৌলতে আমরা ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, শবে বরাত, শবে ক্বদর তথা ইসলামী জীবন ধারায় প্রতিটি আনন্দ ও উৎসবের দিন লাভে ধন্য হয়েছি। এ পবিত্র দিনটি মহানবী (সাঃ) এর শুভাগমনের খুশী নিয়ে যদি পার্থিব জগতে সমাগত না হতো তবে পবিত্র কাবা শরীফ হতো না, ক্বোরআন শরীফ অবতীর্ণ হতো না, দ্বীন ইসলাম হতো না এমনকি কোন মুমিন মুসলমানদের অস্তিত্বও হতো অকল্পনীয়। যে পবিত্র দিনে পবিত্র মহানবী (সাঃ) পৃথিবীতে শুভাগমন সে মহিমান্বিত দিনতে উপলক্ষ করে খুশী আনন্দ প্রকাশ করা শরিয়তে কোন বাধা নিষেধ করেনি বরং খুশি আনন্দ প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনপাকে নবী রাসূল (সাঃ) এর আগমনের দিন খুশী প্রকাশ করা সম্পর্কে বলা হয়েছে, “তাঁর প্রতি সালাম (রহমত, বরকত ও সাকিনা) যে দিন তিনি আগমন করেন এবং যে দিন তিনি বিদায় নিবেন এবং যে দিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন। (সূরাঃ মরিয়ম আয়াত নং-১৫)। সালাম আমার প্রতি যে দিন আমি আগমন করেছি, যে দিন বিদায় নেবো ও যে দিন পুনরুত্থিত হবো, (সূরা মরিয়ম আয়াত নং- ৩৩)। বর্ণিত আয়াতে কারিমাদ্বয়ে হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) এর আগমন, বিদায় ও পুনরুত্থান প্রত্যেকটাই সালাম, রহমত ও বরকত সাকিনার কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়ীন রাহমাতুল্লিল আলামীন মহানবী (সাঃ), যাকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ পাক কিছুই সৃষ্টি করতেন না, তাঁর আগমন বিদায় ও পুররুত্থান যে কতটুকু ছালাত সালাম রহমত বরকত ও সাকিনার কারণ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মহানবী (সাঃ) নিজেও নিজের আগমন দিনকে স্মরণ করে গুরুত্ব দিয়েছেন মূল্যায়ন করেছেন। তিনি নিজেও নিজের আগমন দিনের উপর খুশি হয়ে নিজের আকিকা নিজেই দিয়েছেন এবং মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেছেন তোমরা সোমবার দিন রোযা রাখ। কারণ ঐ দিন আমার জন্ম হয়েছে (মুসলিম শরীফ), এমন কি মহানবী (সাঃ) এর প্রিয়তম অনুসারী সাহাবায়ে কেরামগণ তার আগমনের দিনকে স্মরণ করে পবিত্র মিলাদ শরীফ আয়োজন করতেন বলে বিভিন্ন হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে। যেমন একটি হাদীস শরীফ বর্ণিত আছে যে, একদিন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) পাড়া প্রতিবেশীদেরকে দাওয়াত করে আনলেন তার ঘরে। অতঃপর তিনি মহানবী (সাঃ) এর জন্ম দিনের আগমনের মহাত্ম্য সম্পর্কে আলোচনা করলেন। যা শুনে উপস্থিত সকলেই অত্যন্ত খুশী আনন্দ চিত্তে মহানবী (সাঃ) এর উপর সালাত সালাম পাঠ করতে থাকেন। ঠিক সে সময় মহানবী (সাঃ) সেখানে উপস্থিত হলেন এবং তা দেখে সমবেত সকলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন- তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল, সুবহানাল্লাহ, (সুবুলুল হুদা ফী মাওলুদি মোস্তফা)। মূলত এ কারণেই হযরত উমর (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) বিশেষ মর্যাদা সম্মান প্রদান করলো সে যেন পবিত্র দ্বীন ইসলামকেই পুনরুজ্জীবিত করলো (আন নিয়ামাতুল কুবরা আলাল আলম)। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে আল্লাহপাক তাঁর রহমতের দরজা তোমাদের জন্য উন্মুক্ত করেছেন এবং সমস্ত ফেরেস্তাগণ তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং যে কেউ তোমাদের মতো এরূপ করবে তোমাদের মতো তারাও নাযাত প্রাপ্ত হবে, সুবহানাল্লাহ। মাছাবাতা বিসসুন্নাহ কিতাবে বর্ণিত আছে যে, ব্যক্তি আল্লাহ পাক এর হাবীব (সাঃ) এর বিলাদাত শরীফ এর দিনকে সম্মান করবে এবং সাধ্য সামর্থ্য অনুযায়ী পালন করবে এবং বিনিময়ে সে জান্নাত লাভ করবে, সুবহানাল্লাহ। এছাড়া ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) পালনে গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করে ইমাম হাসান বসরী, হযরত জুনাইদ বোগদাদী, হযরত মারুফ কারখী, ইমাম ফখর উদ্দিন রাযি, ইমাম শাফেয়ী, হযরত সারবী সাক্কতি, হযরত জালাল উদ্দিন সুয়ূতি, হযরত আব্দুল হক মুহাদ্দীস দেহলভী ও দেওবন্দী উলামা হযরতদের পীর হাজী এমদাদুল্লাহ মহাজীরে মক্কী সহ দ্বীন ইসলামের অসংখ্য অগণিত মহান বুজুর্গ হযরতগণ তাদের স্ব স্ব কিতাবগুলোতে এ ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন এবং বড় নেয়ামত বলে উল্লেখ করে মুসলিম উম্মাকে তা যথার্থভাবে উদযপন করার নসিহত করে গেছেন। এ জন্য উপমহাদেশের প্রকৃত উলামা হযরত, আশেকে রাসুল, মুমিন বান্দারা এ পবিত্র দিনটিতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল, মিলাদ মাহফিল, তাফসীর মাহফিল, সুন্নী সম্মেলন, বর্ণাঢ্য র‌্যালী, সভা সেমিনার সেম্পোজিয়াম ইত্যাদি অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালন করে আসছেন। আর এসব মহতি অনুষ্ঠানের ব্যাপক প্রসারতা লাভ করে ছয়শত চার হিজরী ইরাকের মষূল শহরে আরবাল নামক স্থানে। সেখানকার তৎকালীন দ্বীনদার আল্লাওয়ালা বাদশা মালিক মুজাফফার আবু সাঈদ বিন জয়নুদ্দীন (রঃ) রাষ্ট্রীয় ভাবে এই সুমহান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সকল মুমিন মুসলমানকে সামিল করেন। অনুরূপভাবে মিসরে আরো ব্যাপক ভাবে ইসলামের বীর সিপাসালার সুলতান গাজী সালাউদ্দিন আইয়ুবী (রঃ) মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিলের আয়োজন করেন। এ প্রক্রিয়ায় মিশর থেকে পর্যায়ক্রমে পবিত্র মক্কা শরীফে বিস্তৃতি লাভ করে। পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে সারা বিশ্বব্যাপী মিলাদুন্নবী (সাঃ) রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচলিত নিয়ম আরম্ভ হয়। বর্তমানে অনেকে অজ্ঞাতসারে বলে থাকেন যে বাংলাদেশেই শুধু মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন করা হয়। অথচ সৌদি আরবে তো মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল উদযাপন করতে দেখা যায় না। আসলে দেখা যাবেই বা কি করে, কারণ ইহুদী মদদে ক্ষমতাসীন হয়েই বাতিল ওয়াবী মতবাদের ধ্বজাধারী সৌদি রাজ গংরা শত সহস্র বছরব্যাপী চলে আসা এই মহান পবিত্র আনন্দ উৎসবকে বিদয়াত শিরক ইত্যাদি ফতওয়া দিয়ে সেখানে বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে তারা মুসলিম বিশ্ব থেকেও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন বন্ধ করার জন্য পাঁয়তারা করছে। তারা ভাড়াটিয়া কিছু আলেমদের মুসলিম বিশ্ব নামিয়ে দিয়েছে, যাতে করে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন বন্ধ করা যায়। তার জন্য হাজার হাজার কোটি রিয়াল খরচ করছে। সৌদি রাজগংরা আজ বিদআত শিরিকের ভয়ে একে একে ইসলামের হাজার হাজার বছরের নির্দশনগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য তাদেরকে একদিন মুসলিম বিশ্বের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সে দিন বেশী দূরে নয়। অনেকে কথায় কথায় সৌদি আরবে উদাহরণ তুলে ধরেন। সৌদি আরবের উদাহরণ দিলে এখানে হবে না। সৌদি আরব কিন্তু ইসলাম মুসলমানদের দলীল নয়। ইসলাম মুসলমানদের দলীল হচ্ছে কোরআন সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস এটা আমাদেরকে ভাবতে হবে। কিছু ইতিহাসে প্রচলিত মিলাদ মাহিফলের প্রবর্তক বাদশা মালিক মজাফফরকে উল্লেখ করলেও প্রকৃত পক্ষে তিনি ছিলেন এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। মূল প্রচারক ও পুনঃপ্রবর্তক ছিলেন শায়েখ হযরত ওমর ইবনে মুল্লা মুহাম্মদ মাওসেলী (র.), অপর দিকে মালেক মুজাফ্ফর বাদশা ছিলেন মিসরের প্রখ্যাত সুলতান গাজী সালাউদ্দিনের ভাই, বাদশা ছিলেন নেককার আল্লাহওয়ালা। মিলাদ বিরোধীরা তাকে অন্যায়ভাবে ফাসিক বানিয়েছে। অথচ ঐতিহাসিক ভাবে সত্য যে সপ্তম শতাব্দীতে কুখ্যাত জালিম গর্ভণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পৃষ্ঠপোষকতায় কুরআন শরীফে হরকত যুক্ত করা হয়। আর আজকে মিলাদুন্নবী (সাঃ) বা মিলাদ বিরোধীরা ও জাহিল হাজ্জাজের হরকত দেয়া কোরআন শরীফই পড়ে যাচ্ছে। যদিও যুদ্ধের ময়দান ছাড়াই হাজ্জাজ অন্যায়ভাবে একলাখ বিশ হাজার লোককে হত্যা করেছে, অতএব নেককার হওয়া সত্বেও মালিক মোজাফফর বাদশাহর প্রবর্তিত মিলাদ শরীফ বা মিলাদুন্নবী (সাঃ) অস্বীকার করতে চায়। তাহলে, কোরআন শরীফে এ মহা জালিম হাজ্জাদের দেওয়া হরকত তারা গ্রহণ করে কিভাবে, হাজ্জাদের দেওয়া হরকত গ্রহণ করেই তারা নিজেরা ইলম শিখছে এবং তাদের ছাত্রদেরকেও ইলম শেখাচ্ছে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী তাহলের মিলাদের আগে কোরআনের শরীফের হরকত বাদ দিতে হবে। ইসলামী নামের আরো অনেক কিছু বাদ দিতে হবে। যা রাসূল (সাঃ) এর যামানা সহ ছালাছার যামানাও ছিলনা। এ সকল যামানায় ছিলনা বলেই ভালো সব কিছুই বেদআত শিরিক হয়ে যাবে। এর দলীল তারা কোথা থেকে পেল। একথা স্পষ্ট যে সব আউলিয়ায়ে কেরাম অনুস্মরণীয় মুহাক্কিক আলেম তথা আশেকে রাসূলগণ সবাই মিলাদুন্নবী (সাঃ), মিলাদ মাহফিল উচ্ছসিতভাবে গ্রহণ করেছেন। আর কিছু সংখ্যক লোক মিলাদুন্নবী, মিলাদ শরীফ ও কিয়ামের বিরোধিতা করছেন। কেহ বিরোধিতা করুক বা নাহি করুক আল্লাহপাক তাঁর প্রিয় হাবীব (সাঃ) উচ্চ শান-মান বুলন্দ করে রেখেছেন। পবিত্র কোরআনের ভাষায় ওয়ারাফাগ না লাকা জিকরাক। অর্থাৎ ও আমার হাবীব আপনার মর্যাদা, মর্তবা উচ্চ আসনে সমাসীন করেছি। উপরোক্ত আলোচনা প্রেক্ষিতে এ কথা প্রতীয়মান হচ্ছে যে মহানবী (সাঃ) এর জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা করা তাঁর সানা-সিফত বা প্রশংসা তথা মিলাদ শরীফ পাঠ করা আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব (সাঃ) এর নাযাত ও শাফায়াত এবং চির সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম। তাই মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে জনৈক কবি কত সুন্দর না বলেছেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ আমরা আপনার প্রশংসা কি করবো আপনিতো এ রূপ সে রূপ আপনার প্রশংসা স্বয়ং আল্লাহপাক করেছেন। আল্লাহপাক আমাদের সকলকে তাঁর প্রিয় হাবীব (সাঃ) সত্যিকার প্রশংসা করার তৌফিক দান করুন।

জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ফেঞ্চুগঞ্জে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা সম্পন্ন

গত ২৯ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে “শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম (৪র্থ পর্যায়)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা সম্পন্ন হয়। কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার শুভ উদ্বোধন বিস্তারিত