বিভাগ: ভেতরের পাতা

টেকসই উন্নয়নে বহির্বিশ্বের অংশীদারিত্ব

॥ মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান ॥

আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশকে অবিবেচ্য রেখে একটি সুন্দর পৃথিবীর অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। এই দুয়ের যথাযথ সমন্বয় সাধানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ সংরক্ষণ করে যে উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যায় তাকে টেকসই উন্নয়ন বলে। বিষয়ে গুরুত্ব বিবেচনায় জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (২০১৫-২০৩০) প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০১০-২০২১) প্রণয়ন করেছে। এই অধ্যয়নের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত টেকসই উন্নয়ন কৌশলের বিশ্লেষণ এবং এ ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। প্রবন্ধটি প্রণয়নে বর্ণনা ও বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি অনুসৃত হয়েছে। তবে ক্ষেত্র বিশেষে তুলনামূলক পদ্ধতিও প্রয়োগ করা হয়েছে। গবেষণাকর্মটি থেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, ইসলামে টেকসই উন্নয়ন ব্যাপক অর্থবোধক ও বিস্তৃত এবং তা নৈতিক দিকসহ আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত দিকগুলোর অন্তর্ভুক্ত করে। এ কারণেই একে পশ্চিমা উন্নয়ন মডেলের বৈশিষ্ট্য থেকে সহজেই পৃথক করা যায়। পুঁজিবাদী সমাজ শুধু মুনাফাকামিতা ও বস্তুগত চাহিদা পূরণকেই টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করে, কিন্তু ইসলাম গঠনমূলক উৎপাদানের পাশাপাশি মানবীয় মূল্যবোধ রক্ষা করাকেও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষ পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। পরিবেশ ব্যতীত মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় ও মানুষ পরিবেশের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারেনি। বিগত শতকের শুরুতে মানুষের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, পরিবেশ যতই দূষিত হোক না কেন প্রকৃতির নিয়মে তা আবার পরিশোধিত হবে। বিংশ শতকের ৬০-৭০ এর দশকে পরিবেশের দূষণ নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে, পরবর্তীতে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে,পরিবেশ তাঁর নিজস্ব নিয়মে পরিশোধন হতে অক্ষম, মানুষকেই পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে। ২০১৫ সালে শেষ হতে যাওয়া সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের অগ্রগতির ধারা আরো বেগবান করার অভিপ্রায়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০ তম অধিবেশনে গৃহীত হয়েছে ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য বা ঝঁংঃধরহধনষব উবাবষড়ঢ়সবহঃ এড়ধষং (ঝউএ)। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশল পত্র (২০১০-২০২১) প্রণয়ন করেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে উন্নয়ন শুধু বস্তুগত বিষয় নয় বরং নৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করে। এ উন্নয়ন সম্পর্কে ইসলাম নির্দেশনাকে অন্যসব টেকসই উন্নয়ন মডেল থেকে সহজেই পৃথক করা যায়।
টেকসই উন্নয়ন : টেকসই উন্নয়ন একটি সামাজিক পরিভাষা। স্থিতিশীল উন্নয়ন বা উন্নয়নের স্থিতিশীলতা উভয় ক্ষেত্রে শব্দটির প্রয়োগ করা হয়। এর ইংরেজী প্রতিশব্দ ঝঁংঃধরহধনষব উবাবষড়ঢ়সবহঃ এবং আরবী প্রতিশব্দ আত্তানইনয়্যাতুল মুস্তাদালাহ। পরিবেশকে ভিত্তি করে সংঘটিত আর্থ সামাজিক উন্নয়নই হলো টেকসই উন্নয়ন। অর্থ্যাৎ উন্নয়ন গুরুত্ব দিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন হলো টেকসই উন্নয়ন। টেকসই উন্নয়ন বলতে শুধু ভবিষ্য প্রজন্মের চাহিদা পূরণের জন্য বর্তমান প্রজন্মের ভোগ সীমিতকরণকেই বোঝায় না, বরং এটি সংখ্যালঘিষ্ঠের অটেকসই ভোগের কারণে বর্তমান প্রজন্মের অবশিষ্ট জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণের প্রক্রিয়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয় তা ও নিশ্চিত করে। অতএব টেকসই উন্নয়নের আরেকটি মাত্রা হচ্ছে আন্তপ্রজন্মগত সমতা। অন্যকথায়, টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সমবন্টন।
টেকসই উন্নয়ন প্রসঙ্গে এস. শচিমেডেইনি বলেন: ঝঁংঃধরহধনষব উবাবষড়ঢ়সবহঃ রং ধ হবি পড়হপবঢ়ঃ ড়ভ ফবাবষড়ঢ়সবহঃ ঃযধঃ বসঢ়যধংরংবং ঃযব রহঃবমৎধঃরড়হ ড়ভ বহারৎড়হসবহঃধষ পড়হংবৎাধঃরড়হ ধহফ বপড়হড়সরপ মৎড়ঃিয. চৎবারড়ঁংষু, ঃযব পড়হপবঢ়ঃ ড়ভ ফবাবষড়ঢ়সবহঃ ধিং ংুহড়হুসড়ঁং রিঃয বপড়হড়সরপ মৎড়ঃিয যিরপয পধহ নব য়ঁধহঃরভরবফ নু পবৎঃধরহ ঢ়ধৎধসবঃবৎং ংঁপয ধং মৎড়ংং ফড়সবংঃরপ ঢ়ৎড়ফঁপঃ (এউচ). ওহ ভধপঃ ঃযব পড়হপবঢ়ঃ ড়ভ গধষধুংরধহ ঔড়ঁৎহধষ ড়ভ ঝপরবহপব ধহফ ঃবপযহড়ষড়মু ঝঃঁফরবং ফবাবষড়ঢ়সবহঃ যধং ধ রিফবৎ সবধহরহম ঃযধহ ঃযব পড়হপবঢ়ঃ ড়ভ মৎড়ঃিয নবপধঁংব ফবাবষড়ঢ়সবহঃ সবধহং রহপৎবধংব ড়ভ য়ঁধষরঃু ড়ভ ষরভব যিরষব মৎড়ঃিয ড়হষু বসঢ়যধংরংবং রহপৎবধংব ড়ভ ঃযব বপড়হড়সু.
টেকসই উন্নয়ন হলো উন্নয়নের এমন এক নতুন ধারণা, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সমন্বয় সাধনে গুরুত্ব আরোপ করে। পূর্বে উন্নয়নের ধারণাটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সমার্থবোধক হিসেবে বিবেচিত হতো, যা মূলত সুনির্দিষ্ট পরামিতি যেমন জাতীয় উৎপাদন (এউচ) এর ভিত্তিতে পরিমাপ করা হতো। প্রকৃতপক্ষে, মালয়েশিয়ান জার্নাাল অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি স্টাডিজ’। এর দৃষ্টিতে উন্নয়নের ধারণা প্রবৃদ্ধির চেয়ে ব্যাপকতর । কেননা উন্নয়ন অর্থ হলো, জীবন মানের উন্নয়ন পক্ষান্তরে প্রবৃদ্ধি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপর গুরুত্বরোপ করা।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে: টেকসই উন্নয়ন মূলত একটি প্রক্রিয়া, যা দ্বারা জনগণ তাদের চাহিদা মেটায়, তাদের বর্তমান জীবন যাত্রার মানের উন্নতি ঘটায় এবং সেই সাথে ভবিষৎ প্রজন্ম যাতে তাদের আপন চাহিদা পূরণ করতে পারে তাদের সেই সামর্থ্যরে সুরক্ষা করে। আর.ই.মুন টেকসই উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন: ঞযব সবধহরহম ড়ভ ফবাবষড়ঢ়সবহঃ রং ংঁংঃধরহধনষব উবাবষড়ঢ়সবহঃ ৎবভবৎং ঃড় ঢ়ষধু য়ঁধষরঃু বহযধহপবসবহঃ ড়ভ যঁসধহ ধহফ ড়ঃযবৎ ংঢ়যবৎবং নু ধপযরবারহম ঃযবরৎ নধংরং হববফং. ঈষবধৎষু ঃযব পড়হপবঢ়ঃ ড়ভ ফবাবষড়ঢ়সবহঃ যবৎব যধং ধ সড়ৎব পড়সঢ়ৎবযবহংরাব সবধহরহম ঃযধহ বপড়হড়সরপ মৎড়ঃিয.
টেকসই উন্নয়নে উন্নয়নের পরিভাষাটি মানব জাতির মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তাদের জীবন মান ও অন্যান্য সূচকের বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে। বস্তুত এখানে উন্নয়নের ধারণাটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে ব্যাপক অর্থবোধক। মানুষের বাঁচার ন্যূনতম প্রয়োজন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, পানি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার প্রয়োজন মিটানো এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করা; জনসংখ্যাকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ধরে রাখা; আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পুনবন্টনের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ; খনিজ সম্পদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে তার আবর্তনের উপর জোর দেয়া; প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যমে ভোগ; পানি ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা; আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার উপর জোর দেয়া; গ্রাম উন্নয়নের উপর জোর দেয়া, যাতে গ্রামের লোকেরা শহরের দিকে না আসে; সুষম ভূমি ব্যবহার এবং তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আনা; শক্তি তথা এনার্জির ক্ষেত্রে পুনর্নবায়নযোগ্য উৎসের উপর নির্ভর করা। অতএব বলা যায়, পরিবেশকে ভিত্তি করে সংঘটিত আর্থ সামাজিক উন্নয়নই হলো টেকসই উন্নয়ন। অর্থাৎ পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে সংঘটিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অর্জিত হয়। যার লক্ষ্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, যেখানে প্রতিটি মানুষ উন্নয়নে অবদান রাখার ও এর সুফল ভোগের সুযোগ লাভ করে এব একই সময়ে তারা প্রাকৃতিক ইকোসিষ্টিমের সুরক্ষা সহ সংরক্ষণ করে থাকে।
টেকসই উন্নয়নের ধারণা : জাতিসংঘ পরিবেশের বিষয়ে মুখ্য অধিবক্তা এবং টেকসই উন্নয়ন এর নেতৃত্বস্থানীয় প্রচারকের দায়িত্ব পালন করছে। আন্তর্জাতিক আলোচ্যসূচিতে অথ্যনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশের অবনতির বিষয়টি প্রথমে উপস্থাপিত হয় ১৯৭২ সালের ৫-১৫ জুন সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মানব পরিবেশ সম্মেলন (টহরঃবফ ঘধঃরড়হং ঈড়হভবৎবহপব ড়ভ ঃযব ঐঁসধহ ঊহারৎড়হসবহঃ) এ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক বিশ্ব কমিশন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে এ কমিশনের ১৯৮৭ সালের প্রতিবেদই উন্মুক্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিকল্প পথ হিসেবে টেকসই উন্নয়নের ধারণা উপস্থাপিত হয়। এ প্রতিবেদন বিবেচনা করে সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘ পরিবেশ ও উন্নযন সম্মেলন আহবান করে।
১৯৯২ এর ইউএনসিইডি-তে রিও ঘোষনায় টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য মোট ২৭টি নীতিমালার অনুমোদন করা হয়। ২০০২ সালের ২৬ আগষ্ট ৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্যিকার জোহনসর্বাগে অনুষ্ঠিত বিশ্ব টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে (ডড়ৎষফ ংঁসসরঃ ড়হ ংঁংঃধরহধনষব উবাবষড়ঢ়সবহঃ-ডঝঝউ) রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা এজেন্ডা ২১ বর্ণিত টেকসই উন্নয়নের নীতি এবং অন্যান্য বিধিমালার বিষয়ে পুনরায় ঐক্যমত্য হয়। সম্মেলনে মোট ৩৭টি ঘোষণার কথা বলা হয়। সিউলে ২০০৫ এ অনুষ্ঠিত “এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিবেশ ও উন্নয়ন শীর্ষক পঞ্চম মিনিষ্টেরিয়াল কনফারেন্স মন্ত্রী পর্যায়ের ঘোষাণা গৃহীত হয়, যেখানে পরিবেশগত ভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (সবুজ প্রবৃদ্ধি) অর্জনের কর্মকৌশলের ওপর আলোকপাত করা হয়। (অসমাপ্ত)

সিলেট-৬ আসনের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দিন সুন্দর এলাকা উপহার দেব ————–জাকারিয়া আহমদ পাপলু

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র, উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক সিলেট ৬ আসনের এমপি প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলু বলেছেন, সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ট ভাবে কাজ করার সুবাধে আমার জানার সুযোগ হয়েছে কিভাবে উন্নয়ন করতে হয়, কিভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়। বিস্তারিত

১নং ওয়ার্ডকে আলোকিত করাই আমার মূল লক্ষ্য —————–কাউন্সিলর তৌফিকুল হাদী

সিলেট নগরীর দরগাহ মহল্লা, পায়রা ও দর্শন দেউড়ী এলাকার প্রধান রাস্তায় এলইডি লাইটিং এর উদ্বোধন করেছেন ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দরগাহ ঝরণার পাড়ে সুইচ টিপে এই লাইটিং কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। বিস্তারিত

মহানগর জাতীয় পার্টির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও সিলেট মহানগর আহ্বায়ক এহিয়া চৌধুরী এহিয়া এমপির বাসভবনে সোমবার (১৬ এপ্রিল) রাত ৮টায় মহানগর জাতীয় পার্টির উদ্যোগে আগামী ২২ এপ্রিল সিলেট বিভাগীয় জাতীয় পার্টির মতবিনিময় সভায় পার্টির মহাসচিব বিস্তারিত

মেরাজ : মহানবীর (স.) বিস্ময়কর মো’জেজা

এহতেশামুল আলম জাকারিয়া

লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ , হচ্ছে যে রাতে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) আল¬াহপদত্ব উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ এবং আল¬াহর সাথে সাক্ষাৎ করেন সেই রাত। মুসলমানরা এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি উদযাপন করেন। ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামাজ মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক অর্থাৎ (ফরজ) নির্ধারণ করা হয় এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নির্দিষ্ট করা হয়। হযরত মুহাম্মদের (সা:) নবুওয়াত প্রকাশের একাদশ বৎসরের (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম সশরীরে সজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় হযরত জিবরাইল (আ.) এর সঙ্গে বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা অতঃপর প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ; জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন এবং মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করে ফিরে আসেন । মেরাজের একটা অংশ হলো ইসরা। ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ। যেহেতু নবী করিম সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল¬ামের মেরাজ রাত্রিকালে হয়েছিল, তাই এটিকে ইসরা বলা হয়। বিশেষত বায়তুল¬াহ শরিফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফরকে ইসরা বলা হয়। এই সফরে ফেরেশতা জিবরাইল তার সফরসঙ্গী ছিলেন। কুরআন শরিফের সুরা বনি ইসরাঈল এর প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে :
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنْ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّه هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِير
অর্থ : ‘তিনি পবিত্র (আল্লাহ) যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি। যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা-বনি ইসরাইল, আয়াত: ১)
মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল নবুওয়াতের ১১তম বছরের ২৭ রজবে। তখন নবীজীর বয়স ৫১ বছর। মেরাজ হয়েছিল সশরীরে জাগ্রত অবস্থায়। এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো কাফের, মুশরিক ও মুনাফিকদের অস্বীকৃতি ও অবিশ্বাস। যদি আধ্যাত্মিক বা রুহানিভাবে অথবা স্বপ্নযোগে হওয়ার কথা বলা হতো, তাহলে তাদের অবিশ্বাস করার কোনো কারণ ছিল না। মেরাজের বিবরণ পবিত্র কোরআনের সুরা নাজমে সুরা ইসরায় বিবৃত হয়েছে। হাদিস শরিফ, বুখারি শরিফ, মুসলিম শরিফ, সিহাহ সিত্তাসহ অন্যান্য কিতাবে এই ইসরা ও মেরাজের বিষয়টি নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ সূত্রে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। আল্ল¬াহ তাআলা বলেন: ‘শপথ নক্ষত্রের যখন তা বিলীন হয়। তোমাদের সাথি (মুহাম্মাদ সাল¬াল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম) বিপথগামী হননি এবং বিভ্রান্ত হননি। আর তিনি নিজে থেকে কোনো কথা বলেন না। (বরং তিনি যা বলেন) তা প্রদত্ত ওহি (ভিন্ন অন্য কিছু) নয়। তাকে শিখিয়েছেন মহাশক্তিধর (জিবরাইল আ.)। সে (জিবরাইল আ.) পাখাবিশিষ্ট, সে স্থিত হয়েছে দূর ঊর্ধ্বে। অতঃপর নিকটবর্তী হলো, পরে নির্দেশ করল। তারপর হলো দুই ধনুকের প্রান্তবর্তী বা আরও নিকট। পুনরায় তিনি ওহি করলেন তাঁর বান্দার প্রতি যা তিনি ওহি করেছেন। ভুল করেনি অন্তর যা দেখেছে। তোমরা কি সন্দেহ করছ তাকে, যা তিনি দেখেছেন সে বিষয়ে। আর অবশ্যই দেখেছেন তিনি তাকে দ্বিতীয় অবতরণ স্থলে; সিদরাতুল মুনতাহার কাছে; তার নিকটেই জান্নাতুল মাওয়া। যখন ঢেকে গেল সিদরা যা ঢেকেছে; না দৃষ্টিভ্রম হয়েছে আর না তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন; অবশ্যই তিনি দেখেছেন তাঁর রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ।’ (সুরা-নাজম, আয়াত: ১-১৮)।
মুহাদ্দিসীনগণ বলেছেন-দুনিয়ার রাজা-বাদশাহদের আগমনে যেমন জনতা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে, তার সম্মানে সব যানবাহন, মানুষের কর্মকান্ড বন্ধ থাকে তেমনিভাবে মহানবী (স)-এর আগমনে তামাম ব্রহ্মান্ডের কর্মকান্ড সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এখানে স্বাভাবিক প্রশ্ন হতে পারে যে, মেরাজের এমন মর্যাদাপূর্ণ সফরে দুনিয়ার সময়ের গতিকে থামানো হলো কেন? তাফসীরবিদরা এর যৌক্তিক জবাব দিয়েছেন এভাবে যদি দুনিয়ার সময়কে চালু রেখেই আল¬াহতায়ালা তার প্রিয় হাবিবের ২৭ বছরের মেরাজের সফরের সময় পার করতেন, তাহলে এই সুদীর্ঘ সময়ে জাতি সম্পূর্ণভাবেই খোদাবিমুখ হয়ে যেত এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার আগেই ফেতনা-ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়তো। কারণ, হযরত মুসা (আ.) মাত্র ৪০ দিন তুর পর্বতে সাধনা করতে গিয়ে উম্মতের কাছ থেকে দূরে থাকার সময় তার উম্মতেরা বাছুর পূজার ফেতনায় জড়িয়ে ঈমানহারা হয়ে যায়। মহানবী (স)-এর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে মুশরিকদের পক্ষে ও ইসলামের বিপক্ষে হয়তো এমন জনমত গড়ে উঠতো, যা’ পরে আর কাটিয়ে ওঠা মুসলমানদের পক্ষে সহজ হতো না। এ ধরনের ঘটনা মহানবীর উম্মতের জীবনে ঘটুক, তা’ আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেননি বলেই তিনি দুনিয়ার সময়ের গতি বন্ধ করে দিয়েছেন।
শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ কোনো আমলের কথা শরীয়তে উল্লেখ করা হয়নি। তারপরও এ রাতে এতদঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মানুষ বিশেষ ইবাদত বন্দেগিতে লিপ্ত থাকতে পছন্দ করে থাকেন। বিশেষত এ রাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মসজিদে কিংবা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রথা বহুদিন যাবৎ চলে আসছে। অনেকে এ উপলক্ষে নফল রোজা রাখেন। তাসবীহ-তাহলীল পাঠ করেন। এর কোনোটিকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ আল্লাহতায়ালার কাছে বান্দার যে কোনো আমলই মূল্যবান। তবে খেয়াল রাখতে হবে এ ক্ষেত্রে যেন বাড়াবাড়ী না হয়, মৌলিক ঈমান -আকিদার পরিপন্থী কোন কাজ না হয়। আমাদের প্রিয়নবী (সা.) এর মোজেজাগুলোর মধ্যে পবিত্র মেরাজ অন্যতম। এটি এমনই একটি ঘটনা, যার সঙ্গে রয়েছে ঈমানের গভীরতম সম্পর্ক। কাজেই মেরাজের বৈজ্ঞানিক যুক্তি খুঁজতে যাওয়া একটি অবান্তর চিন্তা। বলা বাহুল্য, যুক্তি কোনো দিনই ঈমানের ভিত্তি নয়, ঈমানই হচ্ছে যুক্তির ভিত্তি। বরং যুক্তির মাত্রা যেখানে শেষ ঈমানের যাত্রা সেখান থেকেই শুরু। তারপরও কোনো কোনো মহৎ ব্যক্তির এ ব্যাপারে যুক্তির অবতারণাÑ শুধু ঈমানের স্বাদ অনুভব করার জন্যই। বিজ্ঞানের এ চরম উৎকর্ষের যুগে আমরাও তাই মেরাজকে বিজ্ঞানের আলোকে বিশে¬ষণ করে দেখতে চাই। মহানবী (সা.) এর সশরীরে মেরাজের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধবাদীদের প্রধান যুক্তি হলো জড় জগতের নিগড়ে আবদ্ধ স্থূলদেহি মানুষ কীভাবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ভেদ করে আকাশলোকে বিচরণ করে? তাছাড়া পৃথিবীর আকর্ষণীয় শক্তি যেখানে শূন্যে অবস্থিত স্থূল বস্তুকে মাটির দিকে টেনে নামায়, সেখানে কী করে প্রিয়নবী (সা.) সশরীরে মেরাজে গমন করেন? , গতিবিজ্ঞান (উুহধসরপং), মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব (খধি ড়ভ এৎধারঃু) এবং আপেক্ষিক তত্ত্বের (খধি ড়ভ জবষধঃরারঃু) সর্বশেষ বিশে¬ষণ ও পর্যালোচনার আলোকে মেরাজের ঘটনাকে বিচার করলে এর সম্ভাব্যতা সহজেই আমাদের কাছে বোধগম্য হয়ে ওঠে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতে পারেননি যে, মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ভেদ করা সম্ভব। যেমন স্যার আইজাক নিউটনের সূত্র অনুসারে, ষধি ড়ভ সড়ঃরড়হ ধহফ ঃযব রফবধ ড়ভ ঁহরাবৎংধষ মৎধারঃধঃরড়হ বা মাধ্যাকর্ষণ নীতি যা ডিঙানো অসম্ভব। কিন্তু সত্তরের দশকের বিজ্ঞানীরা চাঁদে পৌঁছার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ডিঙানো সম্ভব। এ সম্পর্কে আধুনিক বৈজ্ঞানিক অৎঃযবৎ এ ঈষধৎশ তাঁর ঞযব বীঢ়ষড়ৎধঃরড়হ ড়ভ ংঢ়ধপব গ্রন্থে বলেছেন, অং ঃযব ফরংঃধহপব ভৎড়স ঃযব বধৎঃয ষবহমঃযবহং রহ ঃড় ঃযব ঃযড়ঁংধহফ ড়ভ সরষবং ঃযব ৎবফঁপঃরড়হ (ড়ভ এৎধারঃু) নবপড়সবং ংঁনংঃধহঃরধষ ঃবিষাব ঃযড়ঁংধহফ সরষবং ঁঢ়, ধহ ড়হব-ঢ়ড়ঁহফ বিরমযঃ ড়িঁষফ বিরমযঃ ড়হষু ধহ ড়হব ড়ঁহপব. ওঃ ভড়ষষড়ংি, ঃযবৎবভড়ৎব, ঃযধঃ ভঁৎঃযবৎ ধধিু ড়হব মড়বং ভৎড়স ঃযব ঊধৎঃয. ঞযব বধংরবৎ রঃ রং ঃড় মড় ড়হধিৎফং. তিনি অন্যত্র বলেছেন, ‘এৎধারঃু ংঃবধফরষু বিধশবহং ধং বি মড় ঁঢ় ড়িৎফং ধধিু ভৎড়স ঊধৎঃয, ঁহঃরষ ধঃ াবৎু মৎবধঃ ফরংঃধহপবং রঃ নবপড়সবং পড়সঢ়ষবঃবষু হবমষরমরনষব. এভাবে আকর্ষণ ক্ষমতা যখন মোটেই বোঝা যায় না, সে অবস্থাকে তবৎড় এৎধারঃু বলা হয়। গতিবিজ্ঞানীরা আরো জানিয়েছেন, ঘণ্টায় ২৫ হাজার মাইল বেগে ঊর্ধ্বালোকে ছুটতে পারলে পৃথিবীর আকর্ষণ থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব। এ গতিমাত্রাকে তারা মুক্তিগতি (ঊংপধঢ়ব াবষড়পরঃু) নামে আখ্যায়িত করেন। আমরা জানি, মহানবী (সা:) ‘বুরাক’ নামক এক অলৌকিক বাহনের ওপর বসে ঊর্ধ্বালোকে গমন করেছিলেন। আরবি শব্দ ‘বারকুন’ অর্থ বিদ্যুৎ। বুরাক বলতে মূলত বিদ্যুৎ থেকে অধিক গতিসম্পন্ন বাহনকে বোঝায়। অতএব দেখা যাচ্ছে, মাধ্যাকর্ষণ যুক্তি দ্বারা মেরাজের সম্ভাবনাকে নিবারিত করা যাচ্ছে না। আপেক্ষিক তত্ত্বের প্রবক্তারা বলেছেন, সময়ের স্থিরতা বলতে কিছুই নেই, ওটা আমাদের মনের খেয়াল মাত্র। বস্তুত সময় সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান ও ধারণা আপেক্ষিক। সময়ের প্রভাব সবার ওপর সমান নয় বলেই আইনস্টাইন বলেছেন, ঞযবৎব রং হড় ংঃধহফধৎফ ঃরসব, ধষষ ঃরসব রং ষড়পধষ. দর্শকের গতির তারতম্যে বস্তু বা ঘটনার স্থান নির্ণয়ে তারতম্য ঘটে। আবার একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সঙ্ঘটিত দু’টি ঘটনা দর্শকের গতির তারতম্যে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত হচ্ছে বলে মনে হয়। গতির মধ্যে সময় অস্বাভাবিকভাবে খাটো হয়ে যায়। সময় সম্বন্ধে আমাদের ধারণার এই আপেক্ষিকতা গতি সম্বন্ধীয় স্বতঃসিদ্ধের ওপর আপতিত হলে যে ফলাফল দাঁড়ায় তা হল, স্থান ও কাল সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধিটা একটা গোলক ধাঁধার মধ্যে আপতিত বলে মনে হতে পারে; কিন্তু প্রকৃত অবস্থা তা নয়। আলোক বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে এটা আজ সবার জানা যে, আলোকরশ্মি সেকেন্ডে ১,৮৬,০০০ মাইল অতিক্রম করে। আলোর গতিই সর্বোচ্চ- এ ধারণাও ইদানীং আবার ধ্রুব সত্য হিসেবে স্বীকৃত নয়। ঐবৎড়ষফ খবষধহফ এড়ড়ফরিহ তার ঝঢ়ধপব ঞৎধাবষ গ্রন্থে বলেছেন, ‘আলোর গতি অপেক্ষা মনের গতি ঢের বেশি।’ যাইহোক, আলোর গতির সাথে কোনো বস্তুর গতির সামঞ্জস্যের তারতম্যই (উবমৎবব ড়ভ উরংঢ়বৎংরড়হ) সময়ের তারতম্য ঘটার অন্যতম কারণ। ওপরের বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলোর আলোকে মেরাজের ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বোরাক আরোহী মহানবী (সা)-এর গতির মাত্রা এত বেশি ছিল যে, সব ঘটনাই পৃথিবীর দর্শকের কাছে কয়েক মুহূর্তের ঘটনা বলে মনে হলেও কালের প্রবাহে তা ছিল দীর্ঘ সময়। মেরাজের ঘটনাবলি আমাদের চিন্তা ও কল্পনাকে ঊর্ধ্বমুখী করে। বিজ্ঞানের নভোচারিতায় অভূতপূর্ব সাফল্য তার বাস্তব প্রমাণ। বস্তুত যেদিক দিয়েই দেখি না কেন, মেরাজ সত্যিই এক বিস্ময়কর মোজেজা। এ সম্বন্ধে চিন্তা করলেও হৃদয় পবিত্র হয়, মনের দিকচক্রবলী সম্প্রসারিত হয়ে যায়। মূলত মেরাজ মানবজাতির জন্য সামাজিক, বৈজ্ঞানিক, আধ্যাত্মিক- এক কথায় ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ সাধন করেছে। আল¬াহ তায়ালা তার প্রিয় হাবিবের মাধ্যমের মেরাজের পবিত্র রজনীতে উম্মতের কাছে তুলে দিয়েছেন সালাত নামক বেহেস্তের চাবি। মুসলিম উম্মার দায়িত্ব সেই সালাত সম্পর্কে গাফিল না থেকে তার প্রতি গভীর মনোযোগী হওয়া। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামায়াতের সাথে আদায়ের পাশাপাশি গভীর রাতে তাহাজ্জুদের সালাতের সিজদায় অশ্রুকণার মাধ্যমে চাবি কে মরিচামুক্ত রাখতে চেষ্টা চালাতে হবে নিরন্তর । তবেই মুমিন জীবনে আসবে সাফল্য, তবেই খুলে যাবে জান্নাতের দুয়ার।

বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব

আল-আমিন

মাঠ-ঘাট চৌচির করে চারদিকে ঝড় বৃষ্টি নিয়ে হাজির হয় বৈশাখ। কারো বুঝতে অসুবিধা হয় না বৈশাখের প্রলয় নৃত্যের কথা। মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। নতুন বছরের শুরুর লগ্নে ধুয়ে মুছে পবিত্র হোক ধরণী, কবিগুরুর এমন আকুতি আমাদের বাঙালি সত্ত্বাকে প্রতি বছর নিয়ে যায় ঐতিহ্যের দিকে। পহেলা বৈশাখ উদযাপন আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রবাহকে বাঁচিয়ে রাখে। পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের সবচেড়ে বড় সার্বজনীন উৎসব। এদিন সবাই পেছনে ফেলে আসা শোক, দুঃখ, হতাশা সবকিছু ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে প্রত্যাশা করে আসন্ন বছর যেন হয় সুখের, সবকিছু যেন হয় সৌন্দর্যময়।
২.
বাংলা নববর্ষ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত হয়। একুশে ফেব্র“য়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালনের সঙ্গে রয়েছে আমাদের জাতিসত্ত্বার পরিচয় এবং স্বতন্ত্র জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের ইতিহাস। পহেলা বৈশাখ নববর্ষ পালনের পেছনে রয়েছে আমাদের হাজার বছরের লোক সংস্কৃতি ও লোক ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন এবং অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাঙালি সংস্কৃতির পুননির্মাণের প্রয়াস।
পাকিস্তানি শাসকরা বাংলা নববর্ষকে কোনোদিন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়নি। বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে তারা মনে করেছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব। বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শহর এবং গ্রামে মেলা ও অন্যান্য আনন্দ উৎসব হয়। শুভদিন হিসেবে দিনটিতে ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের হিসাবের খাতা চালু করেন। পহেলা বৈশাখকে ‘হালখাতা’ খোলার দিন হিসেবেও পরিচিত।বাংলা নববর্ষের সাথে আমাদের গ্রামীণ জীবন, লোক উৎসব এবং গ্রামীণ নানা খেলা দাড়িয়াবান্ধা, কাবাডি, গোল্লাছুট, জারিগান, সারিগান, ভাটিয়ালি গান, বাউল গান এবং বাঙালির সংস্কৃতি পুতুল নাচ, পান্তা ইলিশের বৈশাখী মেলা হয়। বাংলা নববর্ষের দিনটি কখনো কোনো ধর্মের ধর্মীয় উৎসবের দিন ছিল না, বাংলা নববর্ষ সর্বজনীন বর্ষবরণের দিন ছিল।
৩.
বাঙালির নববর্ষ পালন, বাংলা নববর্ষকে বাঙালির স্বতন্ত্র জীবনধারাকে জঙ্গিবাদ এবং মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের হাতিয়ার এবং আধুনিক নাগরিক জীবনে নববর্ষ পালন জাতীয় গৌরববোধের। পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা সর্বজনীন বিশাল জাতীয় উৎসবে পরিণত করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ, শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ তরুণী এবং সবধর্মের মানুষের সমাবেশ ও সর্বজনীন উৎসব। বাংলা নববর্ষ শহর ছাড়িয়ে এখন দেশের সর্বত্র, গ্রাম-গঞ্জ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা আয়োজনের ভেতর দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান পালিত হয়। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পহেলা বৈশাখের দিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন। এখন বাঙালির আত্মপরিচয় ও অসাম্প্রদায়িক জাতীয় উৎসব হিসেবে পহেলা বৈশাখ, বিশেষত বাংলাদেশে নতুন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।
৪.
পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের বাঙালির শ্রেষ্ঠ চিরায়ত জাতীয় উৎসব। আর এ কারণে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তিগুলোর বর্ষবরণ উৎসবকে টার্গেটে করে রমনার বটমূলের ছায়ানটের অনুষ্ঠানে বোমাবর্ষণ করে প্রাণহানি ঘটিয়েছিল। কিন্তু জঙ্গি-মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর এই হিংস্র আক্রমণ পহেলা বৈশাখ নববর্ষ পালনকে বন্ধ করতে পারেনি। বরং মানুষের অংশগ্রহণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে এই উৎসব। পহেলা বৈশাখ নববর্ষ উদযাপন কোনো রাষ্ট্রীয় আদেশ-নির্দেশ বা অর্থানুকূল্যের ওপর নির্ভর করে না। একুশে ফেব্র“য়ারি যেমন ভাষা শহিদদের আত্মদানের ভেতর দিয়ে বাঙালির সর্বজনীন শোক ও গৌরবের দিন হিসেবে পালিত হয় তেমনি পহেলা বৈশাখও বাংলার সংস্কৃতি বাঙালির উৎসবে পরিণত হয়।
বাংলা নববর্ষের সংগীত, নৃত্য, সাহিত্য, নাট্য, সামাজিক সম্পর্ক, ইত্যাদি অভিব্যক্তি করে সংস্কৃতি। মানুষের সার্বিক জীবনকে নিয়েই সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। প্রত্যেক শিশুই সর্বপ্রথম তার সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয় পরিবার থেকে। পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, রাষ্ট্র থেকে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের সংস্কৃতি আজ হুমকির মুখে। বাংলা সংস্কৃতির চর্চা থেকে দূরে সরে যেন না যায় আমাদের তরুণ প্রজন্ম। তরুণ প্রজন্ম যেন বাংলায় ভালো করে কথা বলে, বাংলা উচ্চারণ ভালো জানে, বাংলা গান শোনে। তাদের পোশাকেও যেন দেশের সংস্কৃতির ছোঁয়া দেখা যায়। যেন পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ছায়া আমলে না নেয়। বাংলা সংস্কৃতিকে বিদায় জানিয়ে ভিনদেশি সংস্কৃতি চর্চাতেই অভ্যস্ত না হয়ে তরুণদের দেশি সংস্কৃতির বন্দনা বাঙালিয়ানা উৎসবে পরিণত হোক। পুরো একদিনের জন্য আমরা সবাই যেন মনে-প্রাণে বাঙালি না হই।
৫.
বৈশাখ উদযাপনে প্রাণের সাড়া দিয়ে হৃদয়ের টানে ছুটে এসে এ দেশ, এ মাটি ও এ বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং বাংলা সংস্কৃতিকে ধরে রাখা ও তার বিকাশে তরুণ প্রজন্মে কে অবদান রাখতে হবে। বাংলা সংস্কৃতির উন্নতি জন্য, নতুন প্রজন্মের কাছে বারংবার তুলে ধরতে হবে। বাংলাকে সাজাতে হবে, আত্মস্থ করতে হবে এবং সেভাবেই নতুন প্রজন্মের কাছে তা উপস্থাপন করতে হবে। বাংলা নববর্ষের হাজারও মানুষের এ মিলনমেলাকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। এখান থেকেই বীজ বপন করতে হবে বাংলা সংস্কৃতি কে ভালোবাসার। তবেই প্রকৃত প্রাণের স্পন্দন মেলানো যাবে প্রাণের মেলায়, জনতার এই ঢল আর এ উৎসব শুভ-সুন্দর ও কল্যাণময় হোক।
সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।

বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন ——- ড. আব্দুল মোমেন

জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. এ.কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন দলের নয়। তিনি সারা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাঁর সফল অর্জন স্বাধীনতা বিস্তারিত

নারী ও শিশু নির্যাতনের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

জেরজিজ ফাতেমা রেখা

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারী ও শিশুর প্রতি নানারকম নিষ্ঠুর নির্যাতন-নিপীড়ন, লাঞ্ছনা-গঞ্জনার খবর প্রতিদিন খবরের কাগজের অবিচ্ছেদ্যে অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেসব ঘৃণিত অপরাধের আলোচিত সংবাদ হচ্ছে ‘ধর্ষণ’। ছিন্ন ভিন্ন লাশের টুকরো, মেরে ফেলে রাখা ধর্ষিত শিশু, বিচার চাওয়ার কারণে খুন হতে দেখি। ৫৯৩ জন শিশু ধর্ষিত হয়েছে শুধু এক বছরেই। যে দেশের মুক্তিযুদ্ধে লাখো নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যে দেশের মুক্তিযোদ্ধারা এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, শহীদ হয়েছে, সেই দেশের স্বাধীনতার চেতনা মানে তো ধর্ষণবিরোধী চেতনাও।
গত ৩১শে মার্চ মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হচ্ছে গত তিনমাসে সারাদেশে ১৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তারমধ্যে ১৯ জনকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষিত দুজন নারী আত্মহত্যা করেছে। গত চার বছরের মধ্যে ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। সারা দেশে ধর্ষণ মামলা হয়েছে ৩ হাজার ৯শত ৯৫টি। পুলিশ সদর দপ্তরের ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তুলনামূলক এক অপরাধ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সমাজ সচেতন নাগরিকরা যারা সমাজিক অনাচার, সহিংতার বিরুদ্ধে কথা বলে, লিখে বা চিন্তা করে, তারা সবাই বর্তমানে ভীষণ বিষণœ, ক্ষুব্ধ। যদিও আমাদের দেশের আইনানুযায়ী ধর্ষণ একটি ফৌজদারি অপরাধ। যেখানে নারীদের বহুমাত্রিক সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে এবং অপরাধীর কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দন্ডবিধি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সুস্পষ্টভাবে এই সম্পর্কে বলা আছে। তারপরেও চারপাশে নিত্য নতুন কায়দায় ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারীরা। এমনকি বর্বরোচিত ধর্ষণের পর পৈশাচিক কায়দায় ধর্ষিতাকে হত্যা করা হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণের খবর অনেক সময় মিডিয়ায় আসে না। ধর্ষণের পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিবার সামাজিকতার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য হয়। যার কারণে অনেকেই আইনের আশ্রয় নেন না। নিলেও মামলার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেকেই মামলা করতে চান না। আবার সঠিকভাবে আইন ও অধিকার সম্পর্কে না জানার কারণেও অনেক নারী পাচ্ছে না তাদের ন্যায্য আইনগত অধিকার। অনেকেই আবার এসব জানলেও অধিকার আদায়ে সোচ্চার কিংবা আইনের আশ্রয়ে যেতে চান না বিভিন্ন ঝক্কি-ঝামেলার কারণে। মূলত ধর্ষিতা নারীর আত্মসম্মান বা পারিবারিক মর্যাদা রক্ষা, লোকলজ্জা, সমাজে রটে যাওয়ার ভয়, ভবিষ্যৎ জীবনের চিন্তা, জীবননাশের হুমকি বা নিরাপত্তাহীনতা, হয়রানিসহ বিভিন্ন কারণ এর পেছনে কাজ করে।
আমাদের দেশে বিদ্যমান ধর্ষণসংক্রান্ত আইনগুলো পর্যালোচনা করে বলা যায়, যদি কোনো পুরুষ বৈধ বিবাহবন্ধন ছাড়া ষোল বছরের বেশি বয়সের কোনো নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন করে বা প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি আদায় করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে অথবা ষোল বছরের কম বয়সের কোনো নারীর সম্মতিসহ বা সম্মতি ছাড়া শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে উক্ত নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১৩ বছরের কম বয়সের বিবাহিত নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলেও ধর্ষণ হবে। অন্য ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়েছে, উল্লেখিত ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণের জন্য শারীরিক সম্পর্কে প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট বিবেচিত হবে। এখানে ‘ইচ্ছার বিরুদ্ধে’ বলতে সরাসরিভাবে অনিচ্ছুক বা আগ্রহী না হওয়া। আরো বোঝাবে, নিদ্রিত অবস্থায় বা কোনো প্রকারে নেশাগ্রস্ত করে বা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করা। আর ‘সম্মতি ছাড়া’ বলতে, স্বাধীন বা স্বেচ্ছাকৃতভাবে শারীরিক সম্পর্কে নারীর অনুমতি না দেয়া। ‘ভীতিপ্রদর্শন’ বলতে, নারীকে কোনোভাবে মৃত্যু ভয় বা মারাত্মক বা হালকা শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে কোনো প্রকার আঘাত করা বা হুমকি প্রদর্শন করে সম্মতি আদায় করে শারীরিক সম্পর্ক করা। প্রতারণামূলক সম্মতি আদায় বলতে, বিয়ে হয়েছে বা বিয়ে কার্যকর আছে তথা পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটির স্বামী নয় এবং স্ত্রীলোক পুরুষলোকের সঙ্গে বৈধ বিবাহ হয়েছে বলে বিশ্বাস করে। বিবাহিত স্ত্রীর বয়স যদি তেরো বছরের বেশি হয় তাহলে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে না।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ ধারায় ধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু ইত্যাদির কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ধর্ষণের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগকারী ধর্ষিতাকেই প্রমাণ করতে হয় এবং আদালতের কাছে সংশ্লিষ্ট সব সাক্ষ্য যথাসম্ভব সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হয়। কিন্তু পেশাগতভাবে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত কোনো নারী যদি ধর্ষণের অভিযোগ করে তাহলে সেই বিষয়ে তার নিজের বিবৃতি যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয় না। তাকে ধর্ষণের অভিযোগ অত্যন্ত জোরালো সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হয়। সাধারণত একটি ধর্ষণের মামলায় ধর্ষিতাই একমাত্র সাক্ষী এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি তার চরিত্র নিয়ে কোনো ইঙ্গিত করেন, তাতে তার একান্ত সাক্ষ্য সহজেই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারায় ‘চরিত্রবিশ্লেষণ’ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘একটি ধর্ষণ মামলার বাদী যদি সাধারণভাবেই একজন অনৈতিক চরিত্রের অধিকারিণী হন, তাহলে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ধর্ষণকারীর বা হরণকারীর পক্ষে আদালতে ব্যবহার করা যাবে অর্থাৎ ওই বিধানে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে বিচার কাজে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এই আইনি বিধানের সুযোগ নিয়ে বিচারে প্রায়ই ভিকটিমের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়ে থাকে আদালতে। সেই সুযোগ আসামির পক্ষের কৌসুঁলিরা অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ভিকটীমের অতীত যৌন অভিজ্ঞতা নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এজলাসে অভিযোগকারী নারীকে যখন নিজের ধর্ষিত হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে হয়, তখন চারপাশে উৎসুক চোখের চাহনি আর মুচকি হাসি-তামাশা ও ঠাট্টা-বিদ্রƒপ দেখা যায়। ভিকটীমকে ‘দুশ্চরিত্রা’ প্রমাণ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনায় স্বেচ্ছায় সম্মতি দিয়েছে মর্মে আদালতে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন আসামী পক্ষের আইনজীবী। অবশ্যই একজন ধর্ষিতার ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে এসব আইন কঠিনভাবে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দুশ্চরিত্র বা ‘চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য’ ধারণাটি আইনে আছে বলেই আদালত ধর্ষণের মামলাকারিণীর চরিত্র এবং তার আগের শারীরিক সম্পর্কের ইতিহাসকে প্রাসঙ্গিক বলে ধরে নেন।
ভিকটিমের অতীত যৌন ইতিহাস নিয়ে কথোপকথন ও জিজ্ঞাসাবাদের সংস্কৃতি চালু থাকার কারণে বেশিরভাগ নারী ধর্ষণ মামলার অভিযোগ আনতে ভয় পান। অনেকেই মামলা মাঝপথে বন্ধই করে দেন। অনেক সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় ভিকটিম নারী মানসিক, সামাজিক ও শারীরিকভাবে ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েন। যার কারণে ধর্ষণের অভিযোগ বিচারের বাইরে থেকে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো আইনি ভাষায় ব্যবহৃত ‘দুশ্চরিত্রা’ শব্দের কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায়ন আইনেই নেই। আইনে সুনির্দিষ্ট নেই যে একজন নারী কী কী করলে তাকে দুশ্চরিত্রা বলা যায়। ২০০০ সালে বিচারপতি বিপি জীবন রেড্ডির নেতৃত্বাধীন আইন কমিশনের সুপারিশক্রমে ভারত সরকার ২০০৩ সালে এই ধারা বাতিল করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারা আমাদের দেশেও সম্পূর্ণ বাতিল করার দাবি তুলেছেন অনেকেই। এসব কারণেই কথিত আছে যে বর্তমান বিচারব্যবস্থায় ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে ধর্ষিতাকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ হতে হয়। ধর্ষণ মামলায় নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। কারণ ডাক্তারি পরীক্ষা থেকে শুরু করে তদন্ত কর্মকান্ডে এবং বিচার চলাকালীন সাক্ষী জবানবন্দী ও জেরায় নানা উপায়ে একজন ধর্ষিতাকে বারবার প্রমাণ করতে হয় সে ধর্ষিত।
তবে সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫১ ও ১৫২ যে কোনো মামলায় অভিযোগকারী সাক্ষীকে অশোভন, লজ্জাজনক, আক্রমণাত্মক ও বিরক্তিকর প্রশ্ন করা থেকে সাধারণ সুরক্ষা দিয়েছে। ভয় বা লজ্জামুক্ত সাক্ষ্যের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মামলায় আদালত/ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনে রুদ্ধদ্বার কক্ষে (ঃৎরধষ রহ পধসবৎধ) বিচার কার্যক্রম চালাতে পারেন। এতে ভুক্তভোগী বা সাক্ষী বিরূপ কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন, যা জনাকীর্ণ উন্মুক্ত আদালতে তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে।
দেশের আদালতগুলোতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অনির্দিষ্টকাল বিচার চলছে। এমনও অনেক নজির আছে যে বছরের পর বছর ধরে মামলা চলছে। যদিও ১৮০ দিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করার আইনি বিধান রয়েছে। কিন্তু আইন মেনে কাজ করছেন না বা করতে পারছেন না নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা। এতে আসামিরা যেমন সীমাহীন কষ্টে ভুগছেন, তেমনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অভিযোগকারিণী। দীর্ঘদিনেও মামলার সুরাহা না হওয়ায় দুই পক্ষেরই আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে আদালতে বিচার চালাতে গিয়ে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নির্ধারিত ১৮০ দিন সময়ের মধ্যে মামলা শেষ না হলে কী করতে হবে, বিধানে তা বলা নেই। তবে আইনে আছে, কোনো মামলা নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে সেটা ফৌজদারি কার্যবিধিতে বিচার হবে। কিন্তু ফৌজদারি মামলায়ও কোনো সময়সীমা উল্লেখ নেই। আইনের এসব ফাঁকফোঁকরে পড়েই উভয়পক্ষ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা-১৪ অনুযায়ী ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশে রয়েছে বিধি-নিষেধ তথা বিশেষ নির্দেশনা। যা ভিকটিমের পারিবারিক সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্মানে সুরক্ষা দেয়।
একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ধর্ষণের সংবাদ এমনভাবে খবরটা প্রকাশ বা প্রচার করছে, তাতে বিষয়টিতে অন্যদের আরও বেশি করে সুড়সুড়ি দেওয়ার মতো। এ প্রবণতা থেকে বের হতে হবে। আইনে বলা হয়েছে কোন নারী বা শিশুর ব্যাপারে সংঘটিত অপরাধ বা সে সম্পর্কিত আইনগত কার্যধারার সংবাদ বা তথ্য বা নাম-ঠিকানা বা অন্য তথ্য কোনো সংবাদপত্রে বা অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে এমনভাবে প্রকাশ বা পরিবেশন করা যাবে যাতে উক্ত নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ না পায়। এবং এই বিধান লঙ্ঘনকারী দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের প্রত্যেকে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন। কিন্তু খবর কিভাবে পরিবেশন করবে সে সম্পর্কে বলা হয়নি।
আমি ধর্ষণের বা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের কোনো বিশেষজ্ঞ নই। তবে দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলতে পারি, আইনের নিরবচ্ছিন্ন দ্রুত ও সুষ্ঠু প্রয়োগ ও ব্যবহার ধর্ষণ প্রতিরোধে সামাজিক সুরক্ষা বহুলাংশে নিশ্চিত করবে।

ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ থাকলে চাঁদাবাজরা লেজ গুটিয়ে পালাবে ——আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ব্যবসায়ীদের কোন দল নেই। রাজনীতির উর্দ্ধে থেকে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। আমরা কোন দল বুঝিনা। আমরা বুঝি ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব। নিজেদের সংগঠনকেই দল মনে করতে হবে। বিস্তারিত

এখন চোখ উন্নত বাংলাদেশের দিকে ————————মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বনেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অনুন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নয়নশীল দে বিস্তারিত