বিভাগ: ভেতরের পাতা

মুক্তিযুদ্ধ ভূ-খন্ড দখল করার জন্য হয়নি – সুলতানা কামাল

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভূ-খন্ড দখল করার জন্য হয়নি। দেশের মানুষের মানুষের, ধনী-গরীব বৈষম্য দূর করতে। দেশের মানুষের নিজেদের পরিচয়ে পরিচিত হতে, মান মর্যাদা নিয়ে বাস করার জন্য আন্দোলন করা হয়েছিল। বিস্তারিত

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব আয়োজিত খেলাধূলার পুরস্কার বিতরণ

শ্রীমঙ্গল থেকে সংবাদদাতা :
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব’ আয়োজিত সদস্যদের পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রবিবার সন্ধ্যার দিকে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব বিস্তারিত

সিলেট মুক্ত দিবসে দক্ষিণ সুরমা সমাজ কল্যাণ সমিতির আলোচনা সভা

দক্ষিণ সুরমা সমাজকল্যাণ সমিতির কেন্দ্রিয় কমিটির উদ্যোগে ১৫ ডিসেম্বর সিলেট মুক্ত দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা গত ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে স্টেশন রোডস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সমিতির সভাপতি ডা. মইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিস্তারিত

রোটারী ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের হুইল চেয়ার বিতরণ

রোটারী ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের উদ্যোগে পঙ্গু শিশুকে হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। গত ১৪ ডিসেম্বর বহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর তালতলাস্থ একটি হোটেলের সম্মেলনকক্ষে এ হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিস্তারিত

বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ১নং মোল্লারগাঁও ইউপি কাউন্সিল সম্পন্ন

উপমহাদেশ এর প্রখ্যাত মুহাদ্দিসীন শামসুল উলামা আল্লামা ছাহেব কিবলা ফুলতলী ( র:) (আ) হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ দক্ষিণ সুরমার ১নং মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন শাখার ২০১৮-২০১৯ সালের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। গত ১৩ ডিসেম্বর বুধবার, বিস্তারিত

বিজয়ের নিশান ওড়ছে ঐ ওড়ছে

আল-আমিন

মহান বিজয় দিবস। ৪৬ বছর আগে এই দিনে ৩০ লাখ তাজা প্রাণের বিনিময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে লাল-সবুজ পতাকার আশ্রয়স্থল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের যেমন অর্জন রয়েছে তেমনি রয়েছে ব্যর্থতা। এরপরও সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ। বিশ্বের বুকে এ কথা বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। বাংলাদেশও সেই সম্ভাবনাটুকু কাজে লাগাতে যথোপযুক্তভাবে চেষ্টা করছে। যদিও অশিক্ষা, দুর্নীতি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, জঙ্গিবাদসহ নানা সমস্যার ফলে কাক্সিক্ষত উন্নতি হয়নি আমাদের প্রিয় এ মাতৃভূমির। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রচেষ্টা, নারীর অধিকার সংরক্ষণ, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ এবং দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাসহ সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করার মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের কাংখিত স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারব। দুর্নীতির মূল উৎখাত করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ সে পথে এগিয়েছে বহুদূর। এদেশে জঙ্গিবাদ তথা স্বাধীনতাবিরোধী চক্র প্রতিনিয়ত দেশবিরোধী কর্মকান্ডে যুক্ত থাকলেও এদেশের শান্তিকামী জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে তা প্রতিনিয়ত প্রতিহত করে আসছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর যে স্বপ্ন দেখেছিল তা সময়ের আগেই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশ। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও এদেশের অর্থনীতির বিকাশ ক্রমবর্ধমান। গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। রোগ-ব্যাধির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে মানুষের গড় আয়ুও বেড়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর পদাচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাক্ষরতার হার বেড়েছে, ৬৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ হয়েছে, দরিদ্রতা হ্রাস পেয়েছে, স্থায়ী হয়েছে বহুদলীয় ব্যবস্থা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মাধ্যমে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করছে, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ করা হয়েছে। এসব আমাদের বিজয়ের সাফল্য। আজকের এই বিজয় জাতিকে নতুন ভাবে বাঁচতে শেখায়, অত্যাচার ও শোষণের জবাব দিতে সাহস জোগায়, অধিকার আদায়ে আত্মসচেতন হতে শিক্ষা দেয়। এই বিজয় মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির এক বড় প্রাপ্তি। মুক্তিযুদ্ধ না হলে আমরা স্বাধীনতা পেতাম না, পালন করতে পারতাম না বিজয় দিবস।
বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। তারপরও ’৭১-এর সেই ভয়াল দিনগুলোর ইতিহাসকে লালন করে।আমরা বিশ্বাস করি, দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধে বহু ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের সূর্য ছিনিয়ে এনেছে বীর বাঙালির সন্তানেরা। বাঙালি জাতির বহু আকাংখিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ সম্পন্ন হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদেরকে ফাঁসিতে ঝোলানো বাঙালি জাতির জন্য এক বড় প্রাপ্তি। আমরা আশা করব, অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করে বাংলাদেশ কলঙ্ক মোচনে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
২.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকে এখনো পাকিস্তানিরা বাংলাদেশকে নিয়ে চক্রান্ত করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে প্রেতাত্মাদেরকে উস্কানি দিয়ে ষড়যন্ত্রের চক্রান্ত করছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে চক্রান্তে এখনো সক্রিয়। সেই চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে এবং বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে রূপান্তর করছে এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্য। পঁচাত্তরের পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রথমবার যখন ক্ষমতায় আসে তখন পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে নি। এবার দীর্ঘমেয়াদে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের হাতে সেই সুযোগ এসেছে। আমরা আশা করব এই বাংলার মাটিতে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি আর কোনোদিন মাথা তুলে যেন দাঁড়াতে না পারে সেজন্য সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে।
বিশেষ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ইহাতে বাংলার ইতিহাস থেকে নতুন কলঙ্ক মোচন হওয়ার পথে। তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলেছে। এই অর্জনগুলো আমাদের ভবিষ্যতের পথ চলার পাথেয়।
বাংলাদেশ এখন স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। বেকার যুবকরা যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন উদ্যোক্তা হয়ে নিজের বেকারত্ব দুর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। কৃষি, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, সংস্কৃতিসহ সবক্ষেত্রে নিজেরাই নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে।
বাংলাদেশ যে স্বপ্নের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিরা দেশকে ভিন্ন পথে প্রবাহিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস তার সঠিক ধারায় ফিরে এসেছে। বিশ্বের বুকে বাঙালি জাতি তার স্বকীয়তা ধরে রেখে এগিয়ে চলেছে।
৩.
বিজয় দিবসের আনন্দ অন্য কোনো আনন্দের সঙ্গে মেলানো যায় না। এই দিনে নতুন একটি দেশ পাওয়ার আনন্দ সত্যিই গর্ব করার। এক ধরনের অস্বাভাবিক সাহসিকতায় আমাদের বীর যোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন। বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে মাতৃভূমিকে পবিত্র রেখেছেন। তাদের সেই সাহসিকতার অনন্য অর্জন আমাদের কে শিহরিত করে। তরুণ প্রজন্ম আবেগ আপ্লুত হয়। নিজের মধ্যে শক্তি খুঁজে পায়।
আমাদের সেই বীরের জাতি,দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে নিজের অধিকার আদায় করেছে। দেশকে শত্র“মুক্ত করেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনবদ্য অবদানের কারণে এবং নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছে। এখন তার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজের হাল ধরেছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা। এই বিজয় দিবসের লাল-সবুজের পতাকাটা নতুনভাবে ভাবায় নতুন প্রজন্মকে। মনে করিয়ে দেয় এই দিনে পতাকাটা তার নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে তখন এক ধরনের শক্তি পাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করে। এই লাল সবুজের পতাকাটাও পতপত করে বাতাসে উড়ে ঘোষণা দেয় আজ আমার আনন্দের দিন। তখন বিজয়ের আনন্দের মাত্রা বেড়ে যায়।
৪.
তথ্যপ্রযুক্তির নতুন দুনিয়ায় অনেক পরিবর্তন হচ্ছে।তেমনি আমাদের বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। কৈশোর থেকে তারুণ্যে রূপান্তরের বয়সে ইতিহাস বিকৃতির যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল তা বদলাতে শুরু করেছে। তরুণ প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারছে। এটা আমাদের জাতীয় জীবনে অনেক বড় পাওনা। যদিও ইতিহাস তার সত্য কক্ষপথ কখনও ত্যাগ করে না।
১৯৭৫ থেকে শুরু করে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ বছর ধরে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতির এক মহাযজ্ঞ সাধিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূ-লুণ্ঠিত করা, গণতন্ত্রকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত করা, যুদ্ধাপরাধীদের এদেশে পুনর্বাসন করা সহ তাদের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত বানিয়ে সকল প্রকার অপকর্ম সাধন করা হয়। ’৭৫ সালে যখন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয় তখন বিশ্ববিবেক হতভম্ব হয়ে ধিক্কার দিয়েছিল এই বাঙালি জাতিকে।
এরপর বহু চড়াই-উৎরাই পার হয়ে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করে। কিন্তু এত কিছুর পরও খুনিরা তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি। তরুণ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জেনেছিল। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের কাজ শুরু করে। বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। যদিও ২০০১ সাল থেকে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে উড়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। ২০০৪ সালের নির্বাচনে প্রায় ২ কোটি তরুণ ভোটার যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে তাদের বিচার করা। আর এই ইস্যুতে আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছিল তরুণ প্রজন্ম। এরপর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু হয়। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে যেদিন ফাঁসির আদেশ না দিয়ে আদালত যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করে সেদিন প্রথম ফুঁসে উঠেছিল তরুণ প্রজন্ম।তরুণ প্রজন্মরাই সেদিন কসাই কাদেরের ফাঁসির দাবিতে সারাদেশকে একাট্টা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করেই নিজেদের উজ্জীবিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আগামীর বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্পে তরুণ প্রজন্ম অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এটা নিঃসন্দেহ প্রমাণিত হয়েছে।
৫.
প্রজন্মের চোখে মুক্তিযুদ্ধ বিজয়, মুক্তিযুদ্ধ মানে ৭ মার্চের উত্তাল ময়দানে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ। “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” সেই ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কো পৃথিবীর সেরা ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ তৎকালীন নিরস্ত্র বাঙালির মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির জন্য রক্তদানের সাহস, পাকিস্তানের শোষণের প্রতিবাদে বাঙালির স্বাধিকারের আন্দোলন এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে স্বাধীনতাকে অর্জন করার প্রেরণা। মহান মুক্তিযুদ্ধ একাত্তর আর বিজয় বীর বাঙালির এক অনন্য ইতিহাসও। বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর এক বীরত্বগাঁথা কাহিনি এই ভাষনের মাধ্যেমেই অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ত্রিশ লক্ষ প্রাণ নিবেদন করেছিল একটি স্বাধীন মানচিত্র বিশ্ব ভূ-খন্ড অঙ্কনের জন্য। স্বাধীনতার রক্তমিছিলে সেদিন যারা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন আমাদের ধমনিতে তাদের রক্ত। সব শহীদের রক্তঋণ শোধতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এই প্রজন্ম। পবিত্র মাতৃভূমিকে কলঙ্কমুক্ত করার লড়াইয়ে রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় মহান ’৭১-এর চেতনা ধারণ করে লড়াই করবে তরুণ প্রজন্ম। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশের বিনিময়ে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে শিক্ষায়, প্রযুক্তিতে, স্বাস্থ্যে, শিল্পে, ব্যবসা-বাণিজ্যে এক অন্যন্য দৃষ্টান্ত রাখার লক্ষ্যে পূর্বসূরিদের সাথে কাজ করার প্রয়াস প্রজন্মযোদ্ধাদের। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদের ভিত্তির ওপর যে রাষ্ট্র কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে তাকে সমুন্নত রাখতে চাই সঠিক নেতৃত্ব। ’৭১-এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ প্রতিটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সেই লড়াইয়ে অংশ নিয়ে পবিত্র মুক্তিযুদ্ধকে স্বার্থক করে তুলতে হবে।
পূর্বপুরুষরা যেভাবে রক্তনদী পাড়ি দিয়ে আমাদের একটি স্বাধীন ভূখন্ড উপহার দিয়েছেন। সেভাবেই মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ইতিহাস থেকে জেনে আমরা আমাদের দেশের কল্যাণ করার প্রত্যয় করব। আর সব কিছুই উৎসর্গ করব বিজয় দিবসকে। কেননা এই সব কিছুর প্রাপ্তি মুক্তিযুদ্ধের কারণেই হয়েছে। এখন আমি একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে গর্ব করতে পারি, নির্ভয়ে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি গাইতে পারি, বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে পারি, বাংলা ভাষায় অবাধে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা করতে পারি, গল্প-উপন্যাস লিখতে পারি, স্বাধীনভাবে পত্র-পত্রিকায় লিখে নিজের মত প্রকাশ করতে পারি, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করতে না পারলে আমরা থেকে যেতাম পাকিস্তান নামক একটি উদ্ভট রাষ্ট্রের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে। যে রাষ্ট্রধর্মের কারণে বিভাজিত, যে রাষ্ট্র আমার মায়ের ভাষা বাংলাকে অপমান করে রফিক-সালাম-বরকত-জব্বারের মতো দেশপ্রেমিককে হত্যা করেছে। যে রাষ্ট্রে মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, মানিক, তারাশঙ্কর, বিভূতিভূষণরা উপেক্ষিত। যে রাষ্ট্রের পরিচালকরা চর্যাপদ বোঝে না, রামায়ণ, মহাভারত, মঙ্গলকাব্য, গীতগোবিন্দ, রবীন্দ্রসংগীত, জারি-সারি-ভাটিয়ালি বোঝে না। তারা আমাদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে খাটো করে দেখেছে, আমার হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছে।
আমার মতো তরুণ প্রজন্মের কাছে মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধ এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব। আমাদের সংস্কৃতিই প্রমাণ করে আমি বাঙালি আর তারা অবাঙালি। ঐ অবাঙালিরা বাঙালির সংস্কৃতিকে অপমান করতে পারে না। এই আধিপত্যবাদী, প্রতিহিংসাপরায়ণ, লুটেরা, নিপীড়ক অবাঙালিদের সঙ্গে আর যৌথ বসবাস নয়। ওদের শাসন মানা বাঙালিদের পক্ষে অসম্ভবই ছিল। শেষ পর্যন্ত বাঙালির বিদ্রোহ যথাযথ ছিল।। অকুতোভয় বাঙালির এই গণবিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যেন এক বাঘের গর্জন। ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব’, ‘বাঙালিকে তোমরা দাবায়ে রাখতে পারবা না’। শেখ মুজিবের সেই সাহসী কণ্ঠ আমাকে সর্বদাই অনুপ্রাণিত করে।
সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেছা।
লেখক :কথা সাহিত্যিক ও কলামিস্ট।

৪৬ বছরে বিজয়ের হিসাব নিকাশ

॥ সুলায়মান আল মাহমুদ ॥

১৬ ডিসেম্বর জাতীয় জীবনের গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালে এই দিনে মুক্তির স্বাদ লাভ করে বাংলাদেশের মানুষ। এ মাসের সাথে জড়িয়ে আছে কোটি মানুষের আবেগময় স্মৃতি। বিশেষ করে যারা বিজয় দেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। গোটা বিজয়ের মাসই তাদের কাছে একটি পরম পাওয়ার মাস। বাঙালি জাতির বীরত্ব, সাহসিকতা এবং ত্যাগের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর এ মাসটি। এ দিনে জাতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে সেইসব বীর সেনানীর সমাধিতে যারা শোষণ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেয়ার জন্য প্রাণের মায়া ত্যাগ করে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তাদের।
১৯৭১ সালে এ অঞ্চলের বঞ্চিত শোষিত মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী বন্দুকের নলের ক্ষমতাবলে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। আলোচনার টেবিলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ পরিত্যাগ করে তারা বন্দুকের নল আর কামানের গোলা বেছে নেয় সমাধানের উপায় হিসেবে। তারা যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় বাঙালির ওপর। ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষকে নির্বিচারে হত্যায় মেতে ওঠে অস্ত্রের জোরে বলীয়ান পশ্চিম পাকিস্তানের তৎকালীন হঠকারী সামরিক শাসকশ্রেণী। শুরু হলো মুক্তির সংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে দেশের আপামর সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা নামক পরম পাওয়া ধরা দেয় এ দেশের মানুষের কাছে।
বিজয়ের মাস এলে পাওয়া না পাওয়ার নানা হিসাব-নিকাশ আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। এ অঞ্চলের মানুষের চাওয়া খুব বেশি ছিল না পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে। আমাদের যেটুকু পাওনা সেটুকুই আমাদের বুঝিয়ে দেয়া হোক। বৈষম্য এবং শোষণ বন্ধ করা হোক। কিন্তু যে স্বপ্ন আর আকঙ্খা নিয়ে একটি স্বাধীন দেশের জন্য সেদিন মুক্তিকামী মানুষ জীবনের মায়া তুচ্ছ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তা যেন আজ অনেক ক্ষেত্রে স্লান।
একাত্তরের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর এই নয় মাসের লড়াই ও ত্যাগের বিনিময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে নতুন একটি দেশের জন্ম হলো বাংলাদেশ। আমরা স্বাধীন হয়েছি। একটি পতাকা, সার্বভৌমত্ব, একখন্ড স্বাধীন ভূমি পেয়েছি। কিন্তু স্বাধীনতার আজ ৪৬ বছর পর এসে একটা কথা শুধু, প্রকৃত যে স্বাধীনতা তা আজও পাইনি! লাখ লাখ মানুষের রক্তের ¯্রােত বেয়ে যে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে, যে দেশের স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীন করেছে তা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। এর কারণ কী? আসুন আজ সকল ভেদাভেদ ভুলে সুখী, সমৃদ্ধিশালী, সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় নিই। ইনশাআল্লাহ আমরা বিজয়ী হবো।
আমরা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চাই, প্রতিহিংসা নয়। ক্ষমতা সব সময় ধরে রাখার বস্তু নয়। স্থান কাল পাত্রভেদে ক্ষমতার পালা বদল হয়। তবে কেন এত হানাহানি, এত খুনোখুনি। কেন সীমান্তের কাটাতারে আমার বোন ফেলানীর লাশ ঝুলে থাকবে। কেন সীমান্তে আমার দেশের নিরীহ মানুষকে গুলী করে হত্যা করা হবে। ওরা যদি অবৈধভাবে অন্য দেশে প্রবেশ করে তাহলে আইন আছে। তাই বলে গুলী করে হত্যা করতে হবে। এটা কি কোন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি তাচ্ছিল্য আচরণ নয়। বিজয়ের ৪৬ বছরে আমরা স্বাধীনতার একটু সুফল চাই। আমরা বাঁচতে চাই। বিশ্বের মানচিত্রে লাল সবুজের পতাকা উড়াতে চাই।
বিজয়ের দিবসের এই দিনে জাতির সূর্য সন্তান মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। বাংলা মায়ের দামাল ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জানাচ্ছি বিন¤্র শ্রদ্ধা।
পরিশেষে কবির ভাষায় বলতে চাই-
এদেশের জন্য যদি করতেই হয়
আমার এ জীবন দান,
তবু দেবনা দেবনা লুটাতে ধুলোয়
আমার দেশের সম্মান।

লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

কাউন্সিলর প্রার্থী গুলজার আহমদ‘র নির্বাচনী মতবিনিময় সভা

কাউন্সিলর পদপ্রার্থী গুলজার আহমদ বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই জনগণের সাথে ছিলাম। মানুষের দুঃখ দুর্দশা, হয়রানি, অসহায়ত্ব খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিল হিসাবে দায়িত্ব পেলে মানুষের জন্য কাজ করার ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারিত বিস্তারিত

স্মরণ ॥ এক জ্যোতির্ময় তারকার আকস্মিক বিদায়

জয়ব্রত দেব

অসময়ে মরিতে চাই না আমরা কেউই, পরিণত বৃদ্ধ বয়সে সকলেরই মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, স্বাভাবিক কিন্তু অপরিণত বয়সে অসময়ে মৃত্যু এসে ডাক দিলে কে তা মেনে নেবে ? ১০০ বছর পর্যন্ত জীবিত না থাকলেও মাত্র ৫০ বছর বয়সে মরতে চাইনা আমি, কেউই চায় না। কিন্তু কারো কারো জীবনে মৃত্যু হঠাৎ করেই দ্বারে এসে কড়া নাড়ে, নিষ্ঠুরভাবে, নির্মমভাবে। ভাগ্য নিতান্ত ভালো থাকলে রক্ষা না হয় অকালে বিদায়। এমন করুণ নিষ্ঠুর ঘটনা আজকাল আমাদের চারিদিকে অহরহ ঘটেই চলেছে। একটা মৃত্যু একটা পরিবারে বিরাট প্রভাব ফেলে, বদলে যায় অনেককিছু কিংবা সবকিছু।
সিলেট জেলাধীন ফেঞ্চুগঞ্জ থানার মৌরাপুর পরগনার বড়বাড়ি বলে পরিচিত জে এন দেব চৌধুরী পরিবারের এ রকমই এক বেদনা বিধুর ঘটনা এটি। ১৯৯৫ সালের জুন মাসে আমার বাবা (উকিল, জিতেন্দ্র নারায়ণ দেব চৌধুরী) মারা যাওয়ার পর থেকে পরিবার সবকিছু যখনই আমরা কিছুটা সামলে উঠেছি ঠিক তখনই আমাদের পরিবারে ঘটে গেল বিরাট এক মর্মান্তিক অঘটন, বড় ভাই জ্যোতির্ময়কে হারাতে হল নিতান্ত অকালে। চোখের সামনে আমাদের সকলের মাঝ থেকে একজন পিতৃতুল্য নির্ভরযোগ্য দায়িত্বশীল বুদ্ধিমান সুশিক্ষিত রুচিশীল প্রিয় আপন একজন কাছের মানুষের অকাল মৃত্যুটা কেন জানি এখনো মেনে নিতে পারছি না আমি।
ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৬ ইং, মাত্র ৫২ বৎসর বয়সে অকালে প্রাণ হারাতে হল বড় ভাই (বিচারপতি, বাংলাদেশ হাইকোর্ট) জ্যোতির্ময় নারায়ণ দেব চৌধুরীকে। বড়ভাই মানুষ হিসাবে সাধারণ অসাধারণ যে রকমই হোক না কেন, বেশ কিছু বিষয়ে বহু সামঞ্জস্য ছিল সবার কাছে সবার মাঝে। স্কুল, কলেজ জীবনের অনেক সহপাঠী বন্ধুদের সাথে তার ছিল নিবিড় যোগাযোগ সম্পর্ক। ঘুরে বেড়াতে ভীষণ পছন্দ করতো আমাদের বাবার মতই সে, মানুষ জন নিয়ে আড্ডা গল্প খাওয়া দাওয়া খুব ভালো লাগতো তার, বয়সে ছোট বড় অনেকেই ছিল তার প্রিয় তালিকায়। সে ছিল সদালাপী গল্প পিপাসু মানুষ, একা থাকা বা চুপ করে থাকা তার একদম ভালো লাগতো না, খুব সৌখিন রুচিশীল ছিল তার জীবন যাপন। ইউরোপ আমেরিকা কানাডা এশিয়ার অনেক দেশ শহর সে কখনো পরিবার পরিজন নিয়ে কখনো দলবল নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। বসে থাকার পাত্র সে মোটেও ছিল না।
কর্মক্ষেত্র ঢাকায় থাকলেও মায়ের সাথে তার ছিল সার্বক্ষণিক যোগাযোগ, প্রবাসে থাকার কারণে মাকে আমরা নিয়মিত ফোন বা খোঁজ খবর না নিতে পারলেও বড় ভাইয়ের ছিল নিয়মিত সার্বক্ষণিক যোগাযোগ। বিশেষ কোন সমস্যা না হলে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর তার ছিল সিলেটের বাসায় আসার রুটিন। বড়ভাই ছিল বড়ত্ব নিয়ে একজন আদর্শ বড় ভাইয়ের মতোই। নিজের যোগ্যতা বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা দিয়ে সে অনেক সম্মানিত আসন অর্জন করতে পেরেছিল, বাবার পদাঙ্ক এবং পেশা অনুসরণ করে সে একজন সফল উকিল থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতির আসন অলংকৃত করে ২০১৪ সালের ফেব্র“য়ারী মাসে। ঢাকায় তার নিজস্ব ল চেম্বার বা ফার্ম সে প্রতিষ্ঠা করেছিল বেশ কয়েক বছর আগেই, সেখানে এখনো তরুণ অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন আইনজ্ঞ তার প্রতিষ্ঠিত ল’ ফার্মটি দেখাশুনা এবং পরিচালনা করছেন। পরিশ্রম, বুদ্ধিমত্তা আর জ্ঞান দিয়ে ঢাকায় একাধিক বাড়ি গাড়ি নিজস্ব প্রভাব প্রতিপত্তি বিত্ত গড়ে তুলতে পেরেছিল।
যতদূর মনে পড়ে ২০১০ সালের দিকে তার গলার স্বর ক্রমশ ভাঙতে শুরু করে এবং আস্তে আস্তে তা বাড়তে থাকে। অনেক ডাক্তার কবিরাজ চিকিৎসা নিয়েও তেমন কোন ফল পাওয়া যাচ্ছিলো না। এমতাবস্থায় ২০১৪ তে অবস্থা বেগতিক দেখে আত্মীয়স্বজন বন্ধু ও ডাক্তারদের পরামর্শে ক্যান্সারের পরীক্ষা করে গলায় ধরা পড়ে ক্যান্সার। সেই থেকে সিঙ্গাপুর, বোম্বে, ঢাকা লক্ষ লক্ষ টাকা আর সময় ব্যয় করেও কোন কিছুতেই ঘাতক ব্যাধিটি কে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হল না। অসুখ ধরা পড়ার মাত্র দুই বছরের মধ্যে নিষ্ঠুরভাবে নিয়তি কেড়ে নিল তাকে। কেন এমনটি আমাদের সাথেই ঘটলো, আক্ষেপ আর অনুতাপ আমাদের সারাজীবন তাড়া করে ফিরবে।
ওর মৃত্যুর পূর্বের শেষ কয়েকটা দিন এখনো ছবির মত আমার চোখের সামনে ভাসছে। ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালের বেডে শয্যাশায়ী চলাফেরার কোন ক্ষমতা নেই, মেরুদন্ডতে ক্যান্সার ছড়ানোর কারণে কিন্তু মানসিক শক্তি তখনো তীব্র এবং প্রখর একজন সুস্থ সবল মানুষের মত। বিছানায় বসে বসে আমাদের সকলকে নানা দিক নির্দেশনা দিচ্ছে বৈষয়িক নানা বিষয়ে। তার সন্তানদের পড়াশুনা-ভবিষ্যৎ ইত্যাদি নানা বিষয়ে সে যে সব প্রস্তুত এবং চিন্তা করে রেখেছে তা যেন অনুসরণ করা হয়, উপস্থিত আমাদের সকলকে উদ্দেশ্য করে। একজন মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের এ রকম মানসিক শক্তি আমি এই প্রথম হয়তো শেষ দেখলাম। তখন সে জেনে গেছে তার হাতে আর সময় বেশি নেই। পাঁচ মাসের ব্যবধানে আবার আমি ৯ই ডিসেম্বর ২০১৬ ইং বাংলাদেশে পৌঁছার পর থেকে ওর কাছে ওর সাথেই ছিলাম মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত হাসপাতালে কিন্তু তার এভাবে চলে যাওয়াটা কেন জানি সহজ স্বাভাবিক ভাবে আমি মোটেও মেনে নিতে পারছি না। ক্যান্সার রোগের তার মূল চিকিৎসক বোম্বের ডাক্তার আদভানি এর ভাষ্য অনুযায়ী তার আরো ছয় থেকে আট মাসের মত বেঁচে থাকার কথা। কিন্তু বোম্বে থেকে ফিরে আসার দুই সপ্তাহের মধ্যেই তার না ফেরার দেশে চলে যাওয়া! এ কেমন মৃত্যু? মানসিক ভাবে সুস্থ সবল থাকা অবস্থায় এভাবে মানুষের মৃত্যু হয় নাকি? ক্যান্সার নো আনসার এমন প্রচলিত বাক্য আমাদের সবাইকে হতবাক হতাশ বাকরুদ্ধ করে দিল। শারীরিক কিছুটা জটিলতা যে ছিল না তা নয় কিন্তু চোখে পড়ার মত এমন কোন কষ্ট বা যন্ত্রণা দেখিনি আমরা কিংবা সে নিজেও তেমন কোন অভিযোগ করতে শুনিনি বা দেখিনি। উচ্চমাত্রার পেইন কিলার খেতে হত তাকে কোমরের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। ক্যান্সার পর্যায়ক্রমে গলা, মেরুদন্ড হয়ে কোমরের হাড়ে, ফুঁসফুঁসে ছড়িয়েছে। একটা একটা করে শরীরের প্রতিটি অর্গানকে ক্যান্সার শেষ করে দিচ্ছে আর মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একেবারে শেষের দিকে নিঃশ্বাসের সমস্যায় অক্সিজেন মাঝে মাঝে নিতে হত তাকে কিন্তু মৃত্যু এসে একেবারে দ্বারে অপেক্ষা করছে বাহ্যিকভাবে এমনটি ভাবার অবকাশ ছিল না। ১৪ই ডিসেম্বর মধ্য রাত থেকে হঠাৎ করেই তার অবস্থার চরম অবনতি ঘটতে শুরু করে। হার্টবিট, পালস, ব্লাড প্রেসার সব অস্বাভাবিক ভাবে উঠানামা করতে শুরু করে, এটাসেটা অনেক বৈজ্ঞানিক ডাক্তারি আধুনিক যন্ত্র লাগানো অবস্থায় ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৬ বিকালে জীবন মৃত্যুর লড়াইয়ে পরাস্থ হতে হল তাকে। চলে গেল বড়ভাই চিরতরে আমাদের ছেড়ে, কিছু কি বলতে চেয়েছিল আমাকে, আমাদের? মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে। কেন জানি তার মৃত্যুর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আমি হাসপাতালের বাইরে ছিলাম। শরীর খুব খারাপের খবর পেয়ে হাসপাতালের পাশেই ঢাকার পান্থপথ এ ট্রাফিক জ্যাম থাকায় গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় দৌড়াচ্ছি হাসপাতালে দ্রুত পৌঁছার জন্য। কিন্তু আমি এসে পৌঁছার অল্প কিছু আগে সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে চলে গেল, এই নশ্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। কেমন জানি শান্ত স্তব্দ অন্ধকার হয়ে গেল আমার আমাদের চারিদিক। প্রাণহীন শরীরটা নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে হাসপাতালের বিছানায়, আর একটি বাক্য তার মুখ থেকে শুনা হবে না। আর কারো উপর রাগ করবেনা, আর আমাকে দেশে আসার কথা বলবেনা কোনদিন সে, দলবেঁধে তার সাথে বেড়ানো খাওয়া দাওয়া গল্প আড্ডা এখন শুধু ছবি আর স্মৃতি হয়ে রইবে। তার প্রাণহীন নীথর শরীরের সামনে স্তব্দ হয়ে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম পাথরের মত, ডাক্তার এলো কনফার্ম করলো সে এখন মৃত। তার দিকে তাকিয়ে আমি দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম অনেকক্ষণ, কতক্ষণ কি জানি। মনের মধ্যে তখন ভাসতে লাগলো এলোমেলো হাজারো সব চিন্তা।
বারবার একই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়, ক্যান্সারটা আসলে কি ? কেন এমন হয়, কেন? পৃথিবী যতই আধুনিক উন্নত হোক না কেন চিকিৎসা বিজ্ঞান এখনো পরাস্থ ঘাতক এই মরণ ব্যাধির কাছে। আজকাল এই ক্যানসার রোগ এতই বেড়েছে যে মহামারীর আকার ধারণ করতে আর বেশী বাকি নেই বলেই মনে হচ্ছে। আমাদের খাদ্য, জীবন যাত্রা, নানা ধরনের যন্ত্রের আর ডিভাইসের প্রভাব এর মূল কারণ বলেই গবেষকদের বক্তব্য। আসলে এ এমন এক রোগ অনেকটা বিনা কারণে বিনা নোটিসে শরীরে বাসা বাঁধে, তারপর তিলে তিলে শেষ করে আমাদের দেহকে! বড় ভাইয়ের বাজে কোন অভাস ছিল না, পান, মদ, ধূমপান এসব গতানুগতিক বদঅভ্যাস তাকে স্পর্শ করেনি, তবুও তার গলনালিতেই প্রথমে ক্যান্সার ধরা পড়ে। বড়ভাই(জ্যোতির্ময়) ক্ষণজন্মা একটা নক্ষত্রের মত জ্বলে উঠে পরক্ষণেই আবার নিভে গেল। এতো তাড়াতাড়ি সে চলে যাবে আমরা কেউই ভাবতে পারিনি, বড়ভাইও ভাবতে পারেনি। মায়ার এই সংসার, ভিটে মাটি, আপন-পর সবকিছু ছেড়ে কিভাবে একজন মানুষ বিদায় নেয়, বাধ্য হয়েই বিদায় নিতে হয় সকলকে। মানুষের জীবনটা আসলে যে কি? কিসের পিছনে আমরা এতো দৌড়াদৌড়ি ছুটোছুটি টানাটানি করে কাটিয়ে দিয়েছি, আরো কাটাবো যে কতকাল ! আমরা কত অসহায় কত তুচ্ছ কত ক্ষুদ্র এই নশ্বর পৃথিবীতে, জীবন-মৃত্যুর এই ঘূর্ণিপাকের খেলায় আমরা জুড়ে আছি আদি থেকে অনন্তকাল। শূন্য হাতে পৃথিবীতে এসে আবার আমাদের শূন্য হাতেই ফিরে যেতে হয়। হায়রে এ সাধের মানব জীবন।

করিম উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন

করিম উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন (২০১৮-২০২০) গত ৯ ডিসেম্বর শনিবার ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক বিস্তারিত