বিভাগ: ভেতরের পাতা

মাছের পেট থেকে ৬১৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর ব্যস্ততম বন্দরবাজারে রুই মাছের পেটের ভেতর থেকে ৬১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিট এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)’র সদস্যরা। গতকাল সোমবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেডের বিস্তারিত

দক্ষিণ সুরমায় ৫ জুয়াড়ী আটক

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকার একটি হোটেল থেকে ৫ জুয়াড়ীকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল সোববার সন্ধ্যায় কদমতলী বাস টার্মিনালের হোটেল কাশমীর থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটকৃত জুয়াড়ীরা হচ্ছে- দক্ষিণ সুরমা থানার বিস্তারিত

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস, নিরক্ষরমুক্ত সোনার বাংলা চাই

অধ্যাপক জ্যোতিষ মজুমদার

আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ১৯৬৫ সালের ৮ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা বিষয়ক সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কোর উদ্যোগে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিশ্ব সাক্ষরতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৬৫ সাল থেকে ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বর সাক্ষরতা দিবস পালন করে আসছে। ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সমাজের মধ্যে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য তুলে ধরার জন্য এ দিবসটি নির্ধারণ করা হয়।
দেশে দেশে সাক্ষরতর সংজ্ঞা অনেক আগ থেকেই প্রচলিত থাকলেও ১৯৬৭ সারে ইউনেস্কো প্রথম সাক্ষরতার সংজ্ঞা চিহ্নিত করে এবং পরবর্তীসময়ে প্রতি দশকেই এই সংজ্ঞার রূপ পাল্টেছে। এক সময় কেউ নাম লিখতে পারলেই তাকে সাক্ষর বলা হতো। কিন্তু বর্তমানে সাক্ষর হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য অন্তত তিনটি শর্ত মানতে হবে। ১) ব্যক্তি নিজ ভাষায় সহজ ও ছোট বাক্য পড়তে পারা, ২) সহজ ও ছোট বাক্য লিখতে পারা এবং ৩) দৈনন্দিন জীবনে সাধারণ হিসাব-নিকাশ করতে পারা। ১৯৯৩ সালে ইউনেস্কো এই সংজ্ঞাটি নির্ধারণ করে তবে বর্তমানে অনেক আন্তর্জাতিক ফোরাম বা কনফারেন্স থেকে সাক্ষরতা সংজ্ঞা নতুনবাবে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। সাক্ষরতাকে এখন সরাসরি ব্যক্তির জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।
সাক্ষরতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবীয় অধিকার হিসেবে বিশ্বে গৃহীত। সাক্ষরতার মাধ্যমে শুধু অর্থনৈতিক মুক্তি নয়, বরং সামাজিক সাংস্কৃতিক ও মানসিক মুক্তি আনয়নের মাধ্যমে প্রত্যাহিক জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এর লক্ষ্য। এটি ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ও মানবীয় উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণযোগ্য। দারিদ্র্য হ্রাস, শিশু মৃত্যু রোধ, সুষম উন্নয়ন এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি বিকশিত করণের ক্ষেত্রে সাক্ষরতা প্রয়োজনীয় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন মা-বাবা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে প্রেরণে উৎসাহিত হন।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে প্রথম সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ধ্বংস স্তুপে পরিণত হওয়া দেশটিকে টেনে তুলতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতির বাইরেও শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে খুবই মনোযোগী ছিলেন। তিনি (বঙ্গবন্ধু) জানতেন নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ এবং জাতির উন্নতির চাকার প্রধান প্রতিবন্ধক। তাই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরত-এ-খুদা’র নেতৃত্বে শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্য তিনি ১৯৭৩ সালে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একযোগে জাতীয়করণ করেন। এই পদক্ষেপের কারণেই দারিদ্র্যের পর্ণকুটির থেকে জীর্ণ বস্ত্র পরিধান করা শিশুরা প্রাইমারি স্কুলে ছুুটে এসেছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে রাজনৈতিক ও সার্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়ে গেলে উক্ত কমিশন আর আলোর মুখ দেখেনি।
২০০৮ সারে জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় গেলে ২০১ সালের মধ্যে দেশে সাক্ষরতার হার শতভাগ উন্নীত করর যে অঙ্গীকার করেছিল তা এখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও পিতার পদাংক অনুসরণ করে ২০১৩ সালে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেন যা প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাসে মাইলফলক। বাংলাদেশকে তথ্য নির্ভর পৃথিবীর সামনে মাথা উঁচু করে দাড়াতে হলে আগামী প্রজন্মকে সাক্ষর ও ডিজিটাল প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে। আর এ বিষয়টিকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, দারিদ্র্যের কারণে ঝড়ে পড়া রোধে উপবৃত্তি প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচীসহ বহুভিত্তিক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
সরকার কিংবা কোন প্রতিষ্ঠান কিন্তু প্রতি বছরই জরিপ কাজ চালিয়ে সাক্ষরতার হার নির্ধারণ করেনা। সাক্ষরতার হার নিয়ে ২০১০ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যা ব্যুরো (বিবিএস) জরিপে দেখা যায় দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৫৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, ২০১১ সালে ৫৮ দশমিক ০৮ শতাংশ, ২০১২ সালে ৬০ দশমিক ০৭ শতাংশ, এ্যাসেসম্যান্ট সার্ভে নামের একটি সংস্থার ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে সাক্ষরতার হার ৫১ দশমিক ০৩ শতাংশ, (এখানে বয়স ১৫ থেকে ৪৫ বছর)। ইউএনডিপির (জাতি সংঘের উন্নয় কর্মসূচী) সর্বশেষ ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রাপ্ত বয়স নিরক্ষর জনগোষ্ঠী হচ্ছে ৫৭ দশমিক।
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফছারুল আমীন বলেছিলেন, দেশে সাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে। ঠিক এর পরের বছর (২০১৪ সাল) একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে ৬৫ শতাংশ মানুষ স্বাক্ষর, আবার ২০১৪ সালে জুলাই মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটির পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, দেশে সাক্ষরতার হার ৬৭ শতাংশ। গত বছর (২০০৭ সাল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে ২০১৬ সালের তথ্যানুযায়ী দেশে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ০৩ শতাংশ। যদি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যাটি সঠিক বলে ধরে নেওয়া হয় তাহলে এটা খুব আনন্দের বিষয় এবং এতে সরকারের কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু অন্যদিক থেকে দেখলে একটু অবাকই হতে হয় যে, এই আধুনিক যুগেও প্রায় ২৮% মানুষ নিরক্ষর। স্বপ্নে ভরা একটি উন্নয়নশীল দেশের বুকে ২৮% নর-নারী নিরক্ষর এটা ভাবাই যায় না। নিরক্ষর লোক এক ধরনের প্রতিবন্ধী। নিজের নামটা লিখতে না পারার মতো এতো লজ্জা এবং গ্লানি আর কী হতে পারে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও হাই স্কুল জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা মনে করি গোটা শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণা প্রদান করে শিক্ষাক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূর করে আমাদের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতা প্রদানসহ তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করে সরকারের রুপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এটাই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

সারাদেশে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১শ’টি মামলা তদন্তাধীন

কাজিরবাজার ডেস্ক :
সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ক্যাডারের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১শ’ মামলা তদন্তাধীন। খুন, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, অস্ত্রলুট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা, সহিংস সন্ত্রাসের অভিযোগ মাথায় নিয়ে ৫০ হাজার আসামি প্রকাশ্যে ও গোপনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিস্তারিত

“উন্নয়নের মাঝে বেঁচে আছেন এম. সাইফুর রহমান”

ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক

মৃত্যুর একদিন আগেও তিনি বলেছিলেন “আমি সিলেটের মাটি দেখে মরতে চাই”। শীর্ষক সংবাদটি দেখে মনে হয়েছিল এম. সাইফুর রহমান যে কতটা সিলেট প্রেমিক ছিলেন। জীবনের শেষ জুম্মার নামাজ বন্দর বাজার মসজিদে আদায় করে সাইফুর রহমান বলেছিলেন, “সিলেট আসলে আমি লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারি আর মৌলভীবাজার গেলে আমাকে লাঠি নিয়ে হাঠতে হয়”। তিনি বলেছিলেন, “যত দিন বেঁচে থাকব সিলেটকে নিয়েই বাচতে চাই-সিলেটই আমার শেষ ঠিকানা”।
আজ ৫ সেপ্টেম্বর সিলেট তথা বাংলাদেশের জন্য একটি দুঃখ গাঁথা দিন। ২০০৯ সালের এ দিনেই মায়াময় পৃথিবী ছেড়ে চলে যান শতাব্দির শ্রেষ্ঠ সিলেট প্রেমিক, বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, উন্নয়নের বরপুত্র সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ”সিলেট বন্ধু” এম. সাইফুর রহমান। যাকে আজও খোঁজে বেড়ান বৃহত্তর সিলেটের মানুষ। সুনামগঞ্জের ভাটির জনপদ সেই তাহিরপুর ধর্মপাশা থেকে হবিগঞ্জের আজমীরিগঞ্জ পর্যন্ত বৃহত্তর সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ খোঁজে বেড়ান তাদের প্রিয় নেতাকে।
এম. সাইফুর রহমানের জীবদ্দশায় দেখিয়ে গেছেন বড় মনের অনুপম দৃষ্টান্ত। যিনি নিজ হাতে মরহুম স্পীকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর নামে ”হুমায়ুন রশীদ চত্বর” নামকরণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
সিলেটের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আপোষহীন সাইফুর রহমান ছিলেন প্রচলিত রাজনীতিবিদদের চেয়ে ব্যতিক্রম চরিত্রের। সরকারী দলে থাকেন আর বিরোধী দলে থাকেন সব সময়ই তিনি ছিলেন হরতাল বিরোধী। সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছ থেকে শুনা সাইফুর রহমান সম্পর্কে একটি ঘটনা মনে পড়ছে। অর্থমন্ত্রী থাকাবস্থায় তিনি একদিন সিলেট সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন। খাবার মেনুতে ছিল ছোট মাছ আর সাতকরা। দুপুরে সুস্বাদু খাবার খেয়ে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের বলেছিলেন উদ্বৃত তরকারী রেখে দিতে যেন রাতেও খেতে পারেন। পরে রাতে খাবার টেবিলে বসে সাতকরার তরকারী না পেয়ে তিনি জিজ্ঞেস করণে সাতকরার তরকারী কোথায় ? একজন বললেন, স্যার সাতকরা শেষ হয়ে গেছে। সে সময় অর্থমন্ত্রী অনেকটা রাগত সুরে বললেন, “সবতা খাইতে খাইতে আমার হাতখরাও খাইলিছ নি” ? চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেছিলেন “তোমাদের হলো শুরু-আমাদের হলো সারা”।
বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের সফল অর্থ মন্ত্রী, সিলেট বিভাগের উন্নয়নের রূপকার, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার জাতীয় বাজেট পেশ করার গৌরব অর্জন করেন এম. সাই্ফুর রহমান। তিনি অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে তলা বিহীন ঝুড়ি থেকে অর্থনীতির চাকাকে করেছিলেন সচল। এম. সাইফুর রহমানের পেশ করা সর্বশেষ বাজেটে বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে আনার যথা সাধ্য চেষ্টা চালান। তাই তো ঐ বাজেটে মাত্র ১২% বৈদেশিক সাহায্য আর ৮৮% দেশীয় বা আভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যাবহারের গুরুত্বারোপ করেন। আর এরই লক্ষ্যে বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে তার খোলামেলা কথা হত। তিনি স্বপ্ন দেখতেন- গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, বেকার সমস্যা দূরকরণ, দেশের আভ্যন্তরীণ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, মানব সম্পদকে দক্ষ করে গড়ে তোলা। তার প্রবর্তিত অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন নীতিমালার কারণেই আজ পোল্ট্রি, হ্যাচারী, দুগ্ধ খামার, গরু মোটা তাজা করণ, যুব প্রশিক্ষণ সহ অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ দেশের অর্থনীতির বেহাল দশা, সোনালী ব্যাংক কেলেংকারী, শেয়ার বাজার কেলেংকারী, পদ্মা সেতু, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে যখন বিতর্ক হচ্ছে তখন অনেকেই একজন সাইফুর রহমানের জন্য আফসোস করেন।
সিলেটের উন্নয়নে সাইফুর রহমান ছিলেন এক আপোষহীন পুরুষ।একনেক থেকে শুরু করে কেবিনেটেও ছিলেন স্টেইট কাট। “এই কাজ এ ভাবে হবে, হওয়া উচিত-অনুমোদন সমর্থন দিলে দেও না দিলে নাই, “সব ছেড়ে ছুড়ে মৌলভীবাজার গিয়া বরী বাইমু”। প্রায় প্রোগ্রামেই তিনি সিলেটবাসীর উদ্দেশ্যে বলতেন, “যা চাইবার চাইলাও, আর আমিও যা দিবার দিলাইয়ার”। একনেক থকে কেবিনেট আর সংসদ যেখানেই যে প্রকল্প পাশ হোক ঐ সংশ্লষ্ট সিলেটের একটি প্রজক্টে থাকতেই হবে। এটিই ছিল তাঁর সংগ্রাম। সিলেট শহর তথা সিলেট বিভাগের যে দিকে তাকাই সে দিকেই দেখি সাইফুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক উন্নয়নের বাস্তব নমুনা।
যে সিলেট নগরীর প্রবেশ পথে সুরমা পারে ছিলো ঝুপড়ি ঘর আর পুরনো সার্কিট হাউস। সেগুলো সাইফুর রহমানের বদৌলতে পাল্টে গেছে সেখানকার পুরো দৃশ্য। ‘পুলের তল’ বলে যে স্থান সিলেটের মানুষের কাছে সবচেয়ে নিন্দিত ছিলো সেই পুলের তলে এখন থাকে ভ্রমণ পিয়াসী মানুষের ভিড়। তার ইচ্ছায় সুরমা নদীর উভয় তীরে টেমস নদীর তীরের প্রকল্পে কীনব্রীজের নিচে দু’ধারে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দৃষ্টিনন্দন স্পট গড়ে তোলা হয়েছে। ভিভিআইপি সার্কিট হাউস নির্মাণ, সংস্কারকৃত সারদা হল, কীনব্রীজ ও আলী আমজাদের ঘড়ি, পাঠাগারের পাশে সুরমা নদীর তীর এখন সিলেটবাসীর জন্য এক আকর্ষণীয় স্থান।
শুধু এখানেই নয় সিলেট নগরীর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সংস্কার, মানিক পীর (রহ.) মাজার সংস্কার, ভিভিআইপি সার্কিট হাউস থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি, সোডিয়াম বাতি, সিলেট-তামাবিল সড়ক নির্মাণ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এর উন্নয়ন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠা, সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর এর উন্নয়ন, এসএমপি প্রতিষ্ঠা, নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপন, টিএন্ডটির নতুন এক্সচেঞ্জ স্থাপন, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমী, মডেল স্কুল, বিভাগীয় সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা উল্লেখযোগ্য। শিক্ষার প্রসারে তার আন্তরিকতার কারণে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ ছাত্রী নিবাস ও নতুন ভবন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হোস্টেল নির্মাণ, বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ, বিভাগীয় স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠা, শাহপরান ব্রীজ, তৃতীয় শাহজালাল সেতু, কাজিরবাজারে সুরমা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, দক্ষিণ সুরমা টার্মিনালের পরিকল্পনা গ্রহণ ছিলো যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এছাড়া শত বছরের ঐতিহ্যের স্মারক প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণ সহ সিলেটের অধিকাংশ উন্নয়ন এর মাঝে অম্লান হয়ে আছেন এম. সাইফুর রহমান।
মৌলভীবাজারের একটি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতধরে রাজনীতিতে অভিষেক হওয়ার পর শুধু বাংলা দেশের সফল অর্থ মন্ত্রীই নন এমনকি আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন এম. সাইফুর রহমান। সিলেটবাসীর প্রিয় নেতা এম. সাইফুর রহমানের মৃত্যু সংবাদটি সেদিন যেন কেউ মেনে নিতে পারছিলেন না। মনে হচ্ছিল আকাশ যেন ভেঙ্গে পড়েছে মাথায়। কারণ তিনি ছিলেন সিলেটবাসীর আত্মার আত্মীয়। সিলেটের মানুষ সাইফুর রহমানকে কতটা আপন করে নিয়েছিলেন তার প্রমাণ তাঁর নামাজে জানাযা। লক্ষাধিক মানুষ, শিশু কিশোর, আবাল বৃদ্ধ বনিতার চেখের পানি আর কান্নার আওয়াজে সিলেটের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল সেদিন। গোটা সিলেট শহর যেন যাদুর ছোয়ায় ছবির মত নিশ্চল থেমে গেল। জানাযার নামাজের পর সাইফুর রহমানকে চির বিদায় জানিয়ে হাজারো প্রশ্ন আর হিমালয় সমান বেদনা নিয়ে ধিরে ধিরে ঘরে ফিরে যান সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় ¯¦র্ণাক্ষরে লিখা থাকবে, যাকে হারিয়ে হৃদয়ের মাঝে এক শূন্যতা আজও অনুভব করছে, তিনি সিলেটবাসীর আপনজন মরহুম এম. সাইফুর রহমান। আর কোন দিন ফিরে আসবেন না। কোর্ট পয়েন্ট কিংবা আলীয়া মাদ্রাসা মাঠ আর সংসদে দাঁড়িয়ে খাটি সিলেটি, শুদ্ধ বাংলা আর ইংরেজী ভাষা একত্রিত করে বক্তব্য দিবেন না। আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। এম. সাইফুর রহমানের মৃত্যু জাতির অপূরণীয় ক্ষতি।
মরহুম এম. সাইফুর রহমান উন্নয়নের যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় সিলেটকে এগিয়ে নিতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী সিলেটের আরেক কৃতি সন্তান এ.এম.এ মুহিত। এম. সাইফুর রহমানের শুরু করা কাজিরবাজার ব্রীজ, সুনামগঞ্জ সুরমা নদীর উপর ব্রীজের কাজ সহ উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী। অত্যাধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মাণ করেছেন রিকাবী বাজার-মিরের ময়দান সড়ক সহ অসংখ্য উন্নয়নের মহাযজ্ঞ।
যানজট নিরসনের জন্য জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা-আম্বরখানা সড়ক প্রশস্ত করা হোক। কোন ছুঁতোয় বন্ধ নয়, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে প্রমাণ হোক উন্নয়নই সিলেটের রাজনৈতিক দর্শন। উন্নয়নই হোক সিলেটের রাজনীতির মূল শক্তি। এগিয়ে নেয়া হোক মরহুম স্পীকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ও এম. সাইফুর রহমান এর অসমাপ্ত কাজ। তবেই তাঁদের প্রতি জানানো হবে সঠিক সম্মান। আজকের এই দিনে মরহুম এম সাইফুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। সকলের প্রিয় এই মানুষটি যেন পরপারে সুখে থাকেন।
মরহুম স্পীকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, মরহুম অর্থ মন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরীয়া. মরহুম পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, এম. সাইফুর রহমানের মৃত্যু সিলেটবাসীকে অভিভাবক শূন্য করে দিয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের মাঝে স্মৃতির পাতায় অম্লান হয়ে থাকবেন এম. সাইফুর রহমান। তাই তো বলতে হয় “যত দিন রবে সুরমা,মনু,খোয়াই নদী বহমান-তত দিন তুমি বেঁচে থাকবে এম. সাইফুর রহমান”।

যুক্তরাজ্যে বিয়ানীবাজারবাসীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হুইপ সেলিম উদ্দিন ॥ দল চাইলে দু’টি আসন থেকে নির্বাচনে প্রস্তুত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদষ্টো আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন এমপি বলেন, ২০০৬ ও ২০০৮ সালে আমি সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টি থেকে বিস্তারিত

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে ————- কামরুল হাসান শাহীন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে বিয়ানীবাজার উপজেলার ১নং আলীনগর ইউনিয়ন বিএনপি। গত শনিবার সন্ধ্যায় রামধাবাজারস্থ তেমুখি দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়। বিস্তারিত

মহালয়া উদযাপন পরিষদ শ্রীহট্টের ১৪২৫ বাংলার কার্যকরী পরিষদ গঠন

মহালয়া উদযাপন পরিষদ শ্রীহট্ট-১৪২৫ বাংলার কার্যকরী পরিষদ গঠন উপলক্ষে এক সাধারণ সভা গত ৩১ আগষ্ট শুক্রবার নগরীর মীরাবাজারস্থ শ্রীশ্রী বলরাম জিউর আখড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহালয়া উদযাপন পরিষদ শ্রীহট্টের যুগ্ম সমন্বয়কারী বিস্তারিত

খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশে কোন নির্বাচন হবে না – ফয়সল চৌধুরী

সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অন্তরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম গেঁথে আছে। ফ্যাসিবাদ সরকারের কোন ষড়যন্ত্রেই বাংলাদেশ থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুঁছে ফেলা বিস্তারিত

কানাইঘাট মুশাহিদ সেতুর বাইপাসকে শহীদ নজরুল চত্বর করার দাবী

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
কানাইঘাট আল্লামা মুশাহিদ (র.) সেতুর বাইপাসকে সরকারী উদ্যোগে শহীদ নজরুল চত্বর করার দাবী জানিয়েছেন কানাইঘাট উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা তৃণমূল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মুশাহিদ সেতু বিস্তারিত