বাজারী ব্যাগে ঝুলানো সেই নবজাতক কন্যা শিশুটির চিকিৎসা চলছে!

0
17

মৌলভীবাজার থেকে সংবাদদাতা :
বাজারী ব্যাগে ঝুলানো সেই নবজাতক কন্যা শিশুটিকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে। ৭ দিনেও শিশুর কোনো অভিভাবক খোঁজে পায়নি পুলিশ। তবে থানা পুলিশ বলেছেন সঠিক অভিভাবক খোঁজে বের করার জন্য তদন্ত করছেন।
গত ১৩ জানুয়ারী রবিবার সকালে রাজনগরের মনসুরনগর ইউনিয়নের বড়কাপন গ্রামে ক্ষেতের জমির বেড়ায় বাজারী ব্যাগে ঝুলানো নবজাতক শিশুটির উদ্ধার করেন রোকেয়া বেগম।শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে অনেকেই যোগাযোগ করছেন থানা পুলিশের কাছে।
রাজনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু মোকসেদ পিপিএম জানান, শিশুটি উপজেলার বড়কাপন গ্রামের এক সবজি ক্ষেতের বেড়ায় ব্যাগে ঝুলানোবস্থায় পাওয়া যায়। সেই দিন রাজনগর থানায় করা জিডি মূলে এ বিষয়ে মৌলভীবাজার শিশু আদালতে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
শিশু আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমার সঙ্গে অনেকেই যোগাযোগ করছেন শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য তবে, আমরা এভাবে দিতে পারি না। আদালত থেকে শিশুটিকে নিতে হবে। আদালত যে ভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন সেভাবেই হবে। যারা নিতে চায় আদালতে আবেদন করতে হবে। নবজাতক শিশুটি কন্যা সন্তান।
নবজাতকে কি ভাবে পেলেন বড়কাপন গ্রামের রোকেয়া বেগম জানান, তিনি অন্যান্য দিনের মতো সকালে ঘুম থেকে ওঠে বাড়ি পাশের সবজি ক্ষেতে গিয়েছিলেন। ক্ষেতে সবজি উঠানোর সময় বাশের বেড়ায় ঝুলানো একটি বাজারী ব্যাগ দেখতে পান। সেই ব্যাগে নড়া চড়া করছে ও শিশুর শব্দও হচ্ছে দেখতে পান। বিষয়টি দেখার জন্য বাশের বেড়ার দিকে এগিয়ে যান। ব্যাগ হাতে নেয়ার পর দেখতে পান ভেতরে একটি নবজাতক শিশু। নড়াচড়া করছে স্বাভাবিক ভাবে।
পরে শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যান। খবর দেন শহরের বাসায় থাকা তার দেবর মকদ্দুস মিয়াকে। খবর পৌঁছে যায় রাজনগর থানায়ও।
রাজনগর থানার উপ-পরিদর্শক আবু মোকসেদ পিপিএম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। শিশুটির অবস্থা দেখে চোখে জল এসে যায়। ঠান্ডায় শীতল হয়ে যাওয়া শিশুটিকে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করি। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে শিশুটির সু-চিকিৎসা চলছে। কিনে দিয়েছি নতুন জামাও। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে বলে জানান।’
শিশুটি ব্যাগে পাওয়া রোকেয়া বেগমের দেবর ডিডরাইটার মকদ্দুস আলী বলেন, শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা শিশুটির যথাযথ দেখাশুনা করছি। শিশুটি সুস্থ আছে।