দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতিতে স্থবির জীবনযাত্রা ॥ বেপরোয়া শ্রমিক, নীরব প্রশাসন

0
57
পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় অসুস্থ শিশুকে রিক্সায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের লোকজন। ছবি- মো: করিম মিয়া

স্টাফ রিপোর্টার :
সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে সিলেটসহ সারাদেশে গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো সব ধরনের গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
এমনকি নগরীর প্রবেশ পথ শাহজালাল সেতু ও হুমায়ূন রশীদ চত্বর এলাকাতে রিক্সা যাত্রীদের সাথে বাজে আচরণ করছে শ্রমিকরা। তারা রিক্সা চালকদের মারধরও করছে। পাশাপাশি রিক্সা থেকে যাত্রীদের নামিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে বাধ্য করা হয়। এতে জনগণের ভোগান্তির মাত্রা আরো চরমে পৌঁছে। কিন্তু এর বিপরীতে প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করে। শ্রমিকদের অ্যাকশনের কাছাকাছি দূরত্বে পুলিশ অবস্থান করলেও তাদেরকে কোন ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে অতিরিক্ত রিকশা ভাড়া নিয়েও যাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।
পরিবহন শ্রমিকদের এই কর্মসূচির কারণে গত রবিবারের মতো গতকাল সোমবারও ভোর থেকে নগরীর দক্ষিণ সুরমা কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ কোনো বাস টার্মিনাল থেকে কোনধরনের বাস ছেড়ে যায়নি। এছাড়া নগরীতে সিএনজি অটোরিক্সা, মাইক্রোবাসসহ ছোটখাটো যান চলাচলও ছিল সীমিত। এতে দূরপাল্লার যাত্রীদের মতো ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিস, স্কুল-কলেজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী যাত্রীরা।
সরজমিনে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীরা বাস টার্মিনাল গুলোতে গেলেও ফিরে আসতে হয়েছে বাস না পেয়ে। এদিকে বাসের সাথে সাথে নগরীতে পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানও চলাচল করতে দেয়া হয়নি। অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির প্রভাব পড়েছে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে। বাস টার্মিনাল থেকে ফেরা যাত্রীরা ছুটেন রেলপথে গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।
এর আগে রবিবার পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির প্রথম দিনে প্রায় সব জায়গাতেই সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ছিল লাঠি হাতে শ্রমিকদের মহড়া। কোথাও কোথাও শ্রমিকরা ব্যক্তিগত বিভিন্ন যান চলাচলেও বাধা দেয়। প্রাইভেটকার, অটোরিক্সার চালক এবং যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে তাদের মুখে ও জামাকাপড়ে মাখিয়ে দেওয়া হয় পোড়া মবিল ও থুথু।
এদিকে, কর্মবিরতির দুই দিনই নগরীর সবগুলো সড়কে লেগুনা, সিএনটি অটোরিক্সা না থাকায় ভোর থেকেই রিক্সা নিয়ে নগরবাসীকে যার যার গন্তব্যে যেতে রিক্সার রাজত্ব দেখা যায়। নগরীর সবগুলো সড়কেই রিক্সা ও মোটরসাইকেল ছাড়া কোনো যানবাহন চলতে দেখা যায়নি। কর্মবিরতির জন্য কদর বেড়ে যায় রিক্সার সংখ্যা। ফলে টানা দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠে। অপরদিকে রিক্সা ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের বিড়ম্বনার পড়তে হয়। রিক্সা ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সাথে চালকদের বসচাও হয়। বিশেষ করে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন অতিরিক্ত রিক্সা ভাড়া নিয়ে। যাত্রীদের কেউ ঝুট-ঝামেলা করেন, কেউ বা আবার গন্তব্যে যাওয়ার তাগিদে কথা বলেননি।
নগরীর বন্দরবাজার, রিকাবীবাজার, মদিনা মার্কেট, বাগবাড়ি, ওসমানী মেডিকেল, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, চৌখিদেখি, শাহী ঈদগাহ, বালুচর, টিলাগড়, শিবগঞ্জ, মিরাবাজার, নাওয়রপুল, সোবহানীঘাট, রোজভিউ হোটেলের সামনে, উপশহর, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, কীনব্রিজ, রেলস্টেশন, সুরমা মাকের্ট পয়েন্ট, লামাবাজারসহ ৫১টি পয়েন্টে ভাড়ার তালিকা টাঙ্গিয়েই দায় সাড়ছে সিটি কর্পোরেশন। তাই ভাড়া নির্ধারণের পরও এ-সংক্রান্ত বিড়ম্বনা ফুরায়নি। রিক্সা ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে ঝুট-ঝামেলার চিত্র এখনও নৈমিত্তিক।
বন্দরবাজার এলাকার রিকশা চালক সাবুল মিয়া বলেন, সব কিছুর দাম ও বাসা ভাড়া যেভাবে বাড়ছে তাতে করে ওই ভাড়ায় সারা দিনে যা রুজি হয় তা দিয়ে সংসার চালানো যায় না। তাই এ সুযোগে একটু বেশি ভাড়া যাত্রীদের কাছে নিচ্ছি।
রিক্সা ভাড়া নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার টিলাগড়ের আফরেজ মিয়া বলেন, অতিরিক্ত রিক্সা ভাড়া দিতে হয় প্রতিদিন। ধর্মঘটের কারনে রিক্সাওয়ালারা অতিরিক্ত ভাড়া চায়।
মিরাবাজারের আবুল কালাম বলেন, রিক্সা ভাড়া নিয়ে তাদের ঝামেলা পোহাতে হয় প্রায়ই। কর্মবিরতির কারণে ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা দিতে হয়েছে।