কুলাউড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ!

0
10

কুলাউড়া থেকে সংবাদদাতা :
কুলাউড়া উপজেলার প্রায় অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০১৯ সালের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত নীতিমালা না মেনে অতিরিক্ত ফরম ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে লিখিত একটি অভিযোগপত্র কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল লাইছ বরাবরে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন কুলাউড়া সমস্যা ও সম্ভাবনা গ্র“পের সদস্যরা প্রদান করেছে। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে,সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফরম ফি (কেন্দ্র ও ব্যবহারিক ফি) সহ মানবিক বিভাগের একজন নিয়মিত পরীক্ষার্থীর মোট ফি ১ হাজার ৭৩০ টাকা, বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীর ফি ১হাজার ৮২০ টাকা ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীর ফি ১হাজার ৬৭০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালাকে না মেনে কুলাউড়ার অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম ফি ছাড়াও কোচিং, মডেল টেস্ট ও বকেয়া বেতনের নামে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। একসাথে সব টাকা পরিশোধ করা অনেক শিক্ষার্থীদের পক্ষে দুষ্কর হয়ে পড়েছে বলে এমনটি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে প্রশ্ন তুলেছেন। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ফরম ফি’র সাথে বকেয়া বেতন, কোচিং, মডেল টেস্টের নামে বাড়তি কোনো টাকা আদায় করা যাবে না। বকেয়া বেতন আদায় করতে হলে নির্বাচনী পরীক্ষার আগে করে নিতে হবে। কিন্তু এই নিদের্শনা না মেনে কুলাউড়া চলছে তার উল্টো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৪০/৫০ জন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এই অভিযোগ করেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুলাউড়া নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কাছ থেকে ফরম ফি বাবদ ৩০০০ থেকে ৩১৫০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে না কোন রসিদ। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমির হোসেন বলেন, বোর্ড ফি অনুযায়ী মানবিকে ২২১০ টাকা, ব্যবসায় শিক্ষায় ২২১০ টাকা ও বিজ্ঞান বিভাগে ২৩০০ টাকা করে নিচ্ছি। সাথে কোচিং ফি বাবদ আরো ৫০০ টাকা ও দুইমাসের বেতন ২৪০ টাকা করে মোট ৪৮০ টাকা নিচ্ছি। কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যালয়ের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার পরও আমাদের কাছ থেকে ফরম ফি বাবদ ২৮০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, বোর্ডের নির্ধারিত ফি ছাড়া আমরা অতিরিক্ত কোন ফি নিচ্ছি না। মানবিকে ১৮৫০ টাকা, ব্যবসায় শিক্ষায় ১৮৫০ টাকা ও বিজ্ঞান বিভাগে ১৯৫০ টাকা করে নিচ্ছি। তবে কোন শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় কোচিং করলে পরবর্তীতে সে ৫শত টাকা করে দেবে। কোচিং না করলে আমরা কোনো টাকা নিবো না। মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কাছ থেকে ২৯০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান ছুরুক বলেন, বোর্ড নির্ধারিত ফরম ফিসহ কোচিং ও বকেয়া বেতন বাবদ ২৯০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছি। কোচিং ফিস এখন নিতে হচ্ছে কারণ পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিং ফি আদায় করা সম্ভব হবেনা। এছাড়া কুলাউড়ার ভূকশিমইল স্কুল এন্ড কলেজ, ছকাপন স্কুল এন্ড কলেজ,অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়, কর্মধা উচ্চ বিদ্যালয়, আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয়, হিংগাজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় সহ উপজেলার প্রায় সবক’টি বিদ্যালয়ে এই নিয়মে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। তাছাড়া কুলাউড়ার মনসুর মোহাম্মদীয়া মাদরাসা,কুলাউড়া জালালিয়া দাখিল মাদরাসা,চৌধুরী বাজার জিএস কুতুবশাহ মাদরাসা, শ্রীপুর জালালীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায়ও রেজিস্টেশন বাবত বাড়তি টাকা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উত্তর কুলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুর রহমান কবির বলেন, আমার বিদ্যালয়ে বোর্ড নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে না। তবে কোচিং ফি বাবদ ৫শত টাকা করে নিচ্ছি। আর আমার বিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ১৫ জন গরীব শিক্ষার্থীকে ১হাজার টাকা করে ফরম পূরণ মানবিক কারণে করিয়েছি। অভিভাবক রফিকুল ইসলাম,রেজাউল আম্বিয়া রাজু ও নাসির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বোর্ড নির্ধারিত ফি থেকে আমাদের কাছ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। অনেকের ২/৩ জন পরীক্ষার্থী থাকায় অভিবাবকদের অতিরিক্ত দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার বলেন, বোর্ডের নির্ধারিত ফি প্রত্যেক বিদ্যালয়কে নিতে হবে। এর বাইরে কোনো টাকা আদায় করা যাবে না। যে পরিমাণ টাকা আদায় করা হোক না কেন, জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে কুলাউড়ায় অনেক কম টাকা আদায় করা হচ্ছে। এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, আমি এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ কবির আহমদ বলেন,বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র সাথে অতিরিক্ত ফি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় না করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে প্রতিবছর নির্দেশনা দেওয়া হয়। একসাথে যদি অতিরিক্ত ফি আদায় করার কোন অভিযোগ থাকে তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে তদন্তক্রমে আমরা ব্যবস্থা নেবো।