নবীগঞ্জে ঋণ দেয়ার নামে অর্ধকোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে ওএসএস নামে হায় হায় কোম্পানি

0
43

হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক গ্রামে ঋণ দেয়ার নাম করে কয়েক শতাধিক লোকজনের সাথে প্রতারনা করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে পালিয়ে গেছে ওএসএস নামে একটি এনজিও। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। সোমবার সকালে ভুক্তভোগী পারভিন রহমান শিউলিসহ ১২জন লিখিতভাবে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে গ্রামে গ্রামে প্রচারণা চালিয়ে গ্রামাঞ্চলের সহজ সরলমনা মানুষকে স্বাবলম্বী করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১মাস ধরে ওএসএস এনজিও’র নাম করে আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারের মা শপিং সিটির ৩য় তলায় একটি অফিস খুলে। উক্ত অফিসে জিম্মাদার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মা শপিং সিটি মার্কেটের মালিক এনামুল হক চৌধুরী। ওএসএস কোম্পানির অফিসের কর্মকর্তা শামসুনাহার, সহকারী মাসুদা বেগম, বকুল বেগম ও মাঠকর্মী আউশকান্দি ইউনিয়নের ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পাহারপুর গ্রামের মৃত আব্দুল করিম এর স্ত্রী রুজিনা বেগমসহ ৭ সদস্যের একটি চক্র মহিলা ও পুরুষদের স্বাবলম্বী করার লক্ষে ঋণ প্রদানের কথা বলে আউশকান্দি এলাকার বিভিন্ন গ্রামে প্রচারনা চালায়। গরীব অসহায় ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পুরুষ ও মহিলাদের ঋণ দেওয়ার জন্য সঞ্চয় বাবদ ১ লক্ষ টাকা ঋণ নিলে ওএসএস এনজিও ফান্ডে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিতে হবে। এভাবে তিন লক্ষ টাকা নিলে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। সাধারণ লোকজন এ খবর পেয়ে মা শপিং সিটিতে আসলে ওই মার্কেটের মালিক এনামুল হক চৌধুরী অনেকের নিকট বলেন, আমি উক্ত এনজিও’র জিম্মাদার আপনারা আগে সঞ্চয়ের টাকা অফিসে জমা দিন, আপনাদের টাকা কোন কিছু হলে এর ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব আমি নিবো। এরপর মিছকিনপুর গ্রামের বাসিন্দা পারভিন রহমান শিউলি ও শিবলি বেগম সহকারে ওই গ্রামের ২০জনের কাছ থেকে আগ্রিম সঞ্চয় হিসেবে জনপ্রতি ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। পারকুল গ্রামের ২৬ জনের কাছ থেকে একই হারে টাকা নেয়া হয়। এ রকম অত্র এলাকার বনগাঁও, পাহাড়পুর, দক্ষিণ দৌলতপুর, পিঠুয়া, আজলপুর, উমরপুর, দীঘরব্রাহ্মণ, আমুকোনা, বেতাপুর, ফরিদপুর, আউশকান্দি, কারখানা, দেওতৈল গ্রামসহ এলাকায় প্রচারণা করে গণহারে সঞ্চয় বাবদ টাকা নেয়া হয়। প্রতিটি গ্রাম থেকে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার, ৩০ হাজার, ৪০ হাজার ও লক্ষাধিক টাকা করে হাতিয়ে নেয় অর্ধকোটি টাকা।
এর পূর্বে ডায়মন্ড নামীয় আরেকটি এনজিও প্রতিষ্ঠান আউশকান্দি মাদ্রাসা পয়েন্টের মারফত উল্লাহ ভবনের ২য় তলায় একটি অফিস খুলে গ্রামগঞ্জের নিরহ লোকজনকে নানান প্রলোভন দেখিয়ে রাতের আধাঁরে প্রতিষ্ঠান সহ তাদের মালামাল নিয়ে গা ঢাকা দেয়। অপর আরেকটি সূত্রে জানাযায়, এরপর এ রকম আরেকটি অফিস পানিউমদায় খুলা হয়েছে। এতে এ এলাকার নিরীহ হাজারো লোকজনের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।
এব্যাপারে গত ৩ নভেম্বর শনিবার সকালে ভুক্তভোগী জনগণ মা শপিং সিটিতে এসে দেখতে পান অফিসে তালা ঝুলছে। পরে ভুক্তভোগীরা মার্কেটের মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসের তালা ভেঙ্গে অফিসে রক্ষিত কাগজপত্র ও মালামাল বাড়িতে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীদের মালিক পক্ষ জানান, তারা কোথায় চলে গেছে আমি জানিনা আপনারা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। ভুক্তভোগীরা স্থানীয় আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মুহিবুর রহমান হারুন ও ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার খালেদ আহমেদ জজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করে কোন সুরাহা না হওয়াতে অবশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে মা শপিং সিটির মালিক এনামুল হক চৌধুরী সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি এই কোস্পানির সাথে জড়িত নই,কয়েক দিন হয়েছে তারা ভাড়া নিয়েছে,এক প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, যারা ভাড়া নিয়েছে তারা বলেছিল ঢাকা থেকে এসে তাদের সম্পূর্ণ ঠিকানা দিবে তার মধ্যেই তারা পালিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ-বিন হাসান বলেন, এব্যাপারে খোজখবর নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।