মুজিবনগর দিবসের শপথ ॥ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার

0
4
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনে আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুব রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

কাজিরবাজার ডেস্ক :
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বুধবার রাজধানীসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। দেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের ৪৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঐতিহাসিক এ দিন স্মরণে রাজধানীর পাশাপাশি স্মৃতিবিজড়িত মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননেও জাতীয়ভাবে পালিত হয় নানা কর্মসূচী।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, গার্ড অব অনার প্রদান, কুচকাওয়াজ প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। দিবসটি পালনে ধানম-ির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবেও শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, মোহাম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম এনামুল হক শামীম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন নাহার লাইলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মির্জা আজম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। তারা সারিবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, যুবলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ ঢাকা কলেজ শাখা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
এর আগে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে সকাল সাড়ে ছয়টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানম-ির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার গ্রামের আমবাগানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচী পালিত হয়। মুজিবনগরের কর্মসূচীর মধ্যে ছিল সকাল ছয়টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল দশটায় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল সোয়া দশটায় গার্ড অব আনার প্রদান, সাড়ে দশটায় শেখ হাসিনা মঞ্চে মুজিবনগর দিবসের জনসভা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন সাবেক মন্ত্রী ও এমপি আমির হোসেন আমু।
বিএনপি মুজিবনগর পালন করে না- তথ্যমন্ত্রী : তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন করে না, তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বেই বিশ্বাস করে না। বিএনপিকে কখনও মুজিবনগর দিবস পালন করতে আমরা দেখিনি।
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ দিন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। অস্থায়ী এই সরকারের সফল নেতৃত্বে নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কিংবা তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নিয়ে কোন ধরনের সমঝোতা করছে না আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, আজকের এ দিনটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো পালন করে। বিএনপিকে কখনও এ দিনটি পালন করতে আমরা দেখিনি। যে সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে, যে সরকারের কর্মচারী হিসেবে জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং এ সরকারের কাছ থেকে তিনি প্রতিমাসে বেতনও পেতেন, তার দল বিএনপি এ দিনটি পালন করে না। কারণ তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে তারা বিশ্বাস করে না।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বারবার বিকৃত করা হয়েছে- রেলপথ মন্ত্রী : রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বারবার বিকৃত করা হয়েছে। এজন্যই তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বেশি বলতে হয়। আর বাংলাদেশেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বারবার ইতিহাসের কথা বলতে হয়। নতুনদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে হয়। কারণ বারবার ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করেছে। যারা মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছে, তারাই বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করেছে। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে মীমাংসিত ইতিহাস নিয়ে এত বিকৃতি হয়নি।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু একাডেমির সভাপতি নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, মহানগর আওয়ামী লীগের আবদুল হক সবুজ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু ও আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার প্রমুখ।
মন্ত্রী বলেন, এক সময় রেলওয়েকে ধ্বংস করা হয়েছে। ’৯১ সালে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী একদিনে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিএনপি সরকার রেলের কোন সংস্কার করেনি, কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ’১১ সালে পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করে। এরপর পর্যায়ক্রমে কোচ, ইঞ্জিন বাড়ানো হচ্ছে। নতুন নতুন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে রেলকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।